একদিকে পানিকষ্ট অন্যদিকে সীমান্তে বারংবার গর্জে ওঠে বন্দুক , এই আজগুবি বন্ধুত্বের বলি হবে আর কতো ফেলানী আর কতো মিরাজ হোসেন????


ফারাক্কা ইস্যুতে অনেকটাই মাথা পাগল অবস্থা অধিকাংশ বাংলাদেশীদের। তারপর আসছে টিপাইমুখ । আর দেশের প্রাণ বুদ্ধিজীবীরা তাদের প্রভুদের পদযুগলে একের পর এক চুম্বনে চুম্বনে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। কিন্তু বন্ধুত্বের দাম মেটাতে আর কতদিন এই দুঃসহ যাতনা ভোগ করতে হবে। আর কত ফেলানী, আর কতো মিরাজ হোসেনের প্রাণ অকালে ঝরে যাবে তা হয়তো একদিন পরিসংখ্যানের পাতাকে অতিক্রম করে যাবে।  গত পরশু ফারাক্কা দিবসে অনেকটা মনের খেদ মেটাতেই পরীক্ষার পড়া অনেকটা চুলোয় দিয়ে একটা দানবীয় পোস্ট রেডি করতে বসি। আজ সকাল অবধি সেটা লটকানো ছিল। কিন্তু যতবার নিজের লেখাটা নিজেও পড়েছি আমি একটি বারের তরেও বুঝতে পারিনি এটা কেমন বন্ধুত্ব। পাকিস্তানি তস্কররা আমাদের
মাত্র ত্রিশ লক্ষ মা, বাবা, ভাই বোন আর একান্ত স্বজনদের ছিনিয়ে নিয়ে গেছে । কিন্তু এই প্রিয় বন্ধু ভারত সেই একাত্তরের পর থেকে আমাদের ভাতে মেরেছে পানিতে মেরেছে, যুব সমাজকে নেশায় বুদ করে ঘুনপোকার মতো কুরে কুরে খেয়েছে, আমাদের সংস্কৃতিকে ছেলেখেলায় পরিণত করে বৈশাখের দিনেও শিলার যৌবনের উচ্ছালতায় নাচিয়ে ছেড়েছে। আমদের দেশের চ্যানেলগুলোর মাথা মারার পর তাদের টিভি চ্যানেলে দেশের স্যাটেলাইট বাজার পুরোটাই দখল করে রেখেছে। এক কথায় বলতে গেলে পাকিস্তানি হায়েনাদের থাবার নিচ থেকে বের হওয়ার পর আর এক শকুনির ঠোট বা কুমিরের মস্ত হা এ মধ্যে পড়েছি আমরা।

আমার মস্তিক অনেক ক্ষুদ্র । আমি বুঝি কম তাইতো মাথায় আসেনা, সেই কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলন্ত নিরীহ কিশোরী ফেলানীর রক্তাত্ত্ব লাশ , তারপর পাশবিক নির্যাতনে মিরাজ হোসেন এর মতো মানুষের অকালে প্রাণ ঝরে যাওয়া, অন্যদিকে ফারাক্কার রক্তচোষা দাপটে তৃষ্ণার্ত বাংলাদেশীদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা থেকে আবার টিপাইমুখ, এ ইতিহাসের অগ্নিস্বাক্ষী কেমন এক আজব বন্ধুত্ব।

https://i0.wp.com/www.odhikar.org/images/stat/border.gif
২০১০ সালে হায়েনা বিএসএফ এর পাশবিক বর্বতার স্বীকার বাংলাদেশীদের অগস্ত যাত্রার একটি লেখচিত্র *

আসলে কয়েকদিন আগে পত্র পত্রিকা সহ ব্লগদেশ মাতোয়ারা হতে দেখেছিলাম দেশের মডেল অভিনেত্রী প্রভার সাবেক বন্ধু রাজিব তার বান্ধবী প্রভার সাথে একান্ত কিছু সময়ের অশ্লীল ভিডিও চিত্র প্রকাশ করেছিল। যা ছিল তাদের বিশ্বস্ত সময়ের মাখামাখি আর নোংরা ঘনিষ্টতার চিত্র। যেটা রাজিবকে ছেড়ে বিপথগামী প্রভার অপূর্ব সঙ্গকে হারাম করে দিয়েছে। আর এখন আরেক বন্ধুত্বের অনুপম নিদর্শন দেখছি এটা কোন নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক নয়। এটা কোন প্রেমের কাহিনী না। এটা সেই একান্তর থেকে আজ অবধি বাংলাদেশের সাথে ভারতের রোমান্টিকতার এক রোমহর্ষক ইতিকথা।

অলনাইন নিউজপেপারের খবরে প্রকাশমহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে বাংলাদেশি নিহত, লাশ হস্তান্তর

খবরের সুত্র ধরে বিচার করলে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার চাঁপাতলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী কুখ্যাত বিএসএফ এর পাশবিক নির্যাতনের মুখে পড়ে মিরাজ হোসেন (২৫) নামে বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। সেই নির্মম কাঁটাতারের বেড়া যেমন কিশোরী ফেলানীর আর্তচিৎকার শুনে আজও দুঃস্বপ্ন দেখে যার সমাপ্তি হয়েছিল এক শ্রেণীর নোংরা মানুষের জঘন্য আচরণের তোপের মুখে একটি মাত্র মানব বন্ধনে। তখন আমার বর্ণমালা সবে যাত্রা শুরু করলেও এখানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু ফলাফল কতবড় শূন্য তা আজ এই মিরাজ হোসনের মৃত্যু প্রমান করলো।

https://i2.wp.com/amarbornomala.com/uploadedimage/11821.jpg
২০১০ সালে বি এস এফ শকুনীর ওষ্ঠে পিষ্ঠ বাঙলাদেশীদের পুর্ণাংগ লেখচিত্র *

একটি জবরদস্ত ষাড়ঁকে খোজাকরণ করার পর যেমন সেটি ধুঁকতে থাকে আমাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এর সাথে সেই দোর্দণ্ড প্রতাপ বিডিআরেরও তেমনি যোজন যোজন তফাৎ। তাদেরই সাথে পতাকা বৈঠকের পর আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএসএফ নিহত যুবকের লাশ ফেরত দেয়। কিন্তু আর কত লাশ দেখতে হবে?
আর কত মায়ের বুক খালি হবে তার কোন স্থায়ী সমাধান হবে না? শুধু মুখের বুলি , আশ্বাস , পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতায় দেশের নামকরা কলামিস্টরা টাকার বিনিময়ে জ্বালাময়ী বাণী প্রসব করবেন,আর কিছু প্রতিবাদী ব্লগারের মনের সমস্ত রাগ দুঃখ ও প্রতিবাদ ঝাড়া পোস্ট স্টিকি করা হবে। এতে কোন লাভ নেই। দেশের মাণুষ আজ স্থায়ী কোন সমাধান চায়।

বাংলানিউজের তথ্যমতেবিজিবি মহেশপুরের শ্রীনাথপুর ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার নজরুল ইসলাম জানান, মহেশপুর উপজেলার চাঁপাতলা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মিরাজ হোসেন পিতামাতর ওপর অভিমান করে বুধবার রাতে ভারতে ছুটিপুর গ্রামে তার ফুফুর বাড়ি যাচ্ছিলেন।

ভারতীয় সীমান্তের ৬১ নম্বর মেইন পিলার পার হয়ে ভারতে প্রবেশকালে ফতেপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করে। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে বুধবার ভারতীয় কৃষ্ণনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান। মিরাজ হোসেনের মৃত্যুর খবর মহেশপুর উপজেলার চাঁপাতলা গ্রামে পৌঁছুলে এলাকার লোকজন তার লাশ ফেরত আনার জন্য শ্রীনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পে আবেদন করে। মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত (ইউএনও) আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীনাথপুর বিজিবি ক্যাম্প ও ফতেপুর বিএসএফ ক্যাম্পের মধ্যে পতাকা বৈঠকের পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে লাশ ফেরত দেয় বিএসএফ। লাশ হস্তান্তরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে বিজিবি কুসুমপুর ক্যাম্পের সুবেদার মোস্তফা কামাল, মহেশপুর থানার সেকেন্ড অফিসার আব্দুল আজিজ এবং ভারতের পক্ষে বিএসএফ ফতেপুর কোম্পানি কমান্ডার ধর্ম প্রকাশ, রামনগর ক্যাম্পের কমান্ডার আর কে এস চ্যাটার্জী ও হাসখালী থানার এসআই শান্ত পোদ্দার চ্যাটার্জি উপস্থিত ছিলেন।

ফিরে তাকাই আজ থেকে প্রায় বছর খানেক আগে সেই ফেলানী হত্যার সময়ের কথায়। প্রথমত ভেবেছিলাম ঝুলে থাকা এই হতভাগী কিশোরীর লাশের ছবি দেখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা এর প্রতিবাদ করবেন। নিদেনপক্ষে ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে কিছু একটা বলবেন। না, তেমন কিছুই ঘটেনি। আমাদের মতো গাধাদের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত করে দাদাদের এই কুকর্মের তেমন কোন প্রতিবাদই করা হয়নি। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো সমবেদনার বক্তব্যও আমরা পেলাম না পত্রপত্রিকায়। আমি অবাক হই এই ফেলানি হয়তো কোনো জনগুরুত্বপূর্ণ কেউ ছিলনা তাই ক্ষমতাবানদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছিল । অথচ আমাদের দেশের কর্তাব্যক্তিরা কিভাবে ভুলে যান এই ফেলানি, ফেলানির বাবারা, চাচারা আর তার বাকি আত্মীয়স্বজন বা এদের মতোই পদযুগলে চিড় ধরা হতভাগ্য বাংলাদেশীদের ভোট নিয়েই আপনাদের ক্ষমতায় আসতে হয়। এদের প্রতি কি আপনাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই।

https://i2.wp.com/a6.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-snc6/168241_190589427620229_189776434368195_721787_4418981_n.jpg
ফেলানি হত্যায় প্রথম প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল তরুণ সমাজ, সেখানে ব্লগের ভুমিকা ছিল মুখ্য, আর এই সাইবার আন্দোলন অবশেষে গড়ায় রাজপথে

আমি মনে করি বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব এখন ওই কাঁটাতারের বেড়ার মতোই প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় ট্রানজিট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশে এই ট্রানজিট নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সরকার ওই চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছে। আমার ধারণা ছিল ট্রানজিট চুক্তির বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে, যাতে করে আমরা বিস্তারিত জানতে পারব। কিন্তু সেটা হয়নি। ভারত আর্থিক সুবিধা দিয়েছে। তাও দেয়া হয়েছে শুধু ট্রানজিটের অবকাঠামোগত সুবিধার জন্য। এতে লাভটা ষোলআনা ভারতেরই। বাংলাদেশ এতে লাভবান কোন ক্ষেত্রেই হয়নি হবেও না।

ভারতের পানিসম্পদ সচিব এসেছিলেন বাংলাদেশে। বৈঠক করলেন আমাদের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে। আমার বন্ধু পানিসম্পদ সচিব বিবিসির বাংলা বিভাগকে দুরন্ত এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন , একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে জেআরসির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি জানালেন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে। কিন্তু বিবিসির ওই অনুষ্ঠানেই আমার শ্রবণশক্তি বিশ্বাসঘাতকতা না করলে ঠিকই শুনেছিলাম পশ্চিমাদের পানিসম্পদমন্ত্রীর আপত্তির কথা। তিনি স্পষ্টই জানিয়েছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এই চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গ একটি অংশ—কথাটাও তিনি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার করেছিলেন। আমরা হতভাগ্য আমজনতা !! কোনটাকে আমরা সত্য বলে ধরে নেব?

https://i0.wp.com/a4.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-snc6/180068_192683590744146_189776434368195_734379_783607_n.jpg
ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সুবিশাল মানববন্ধনের একাংশ।

অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য তিস্তার পানিচুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বারবার বাংলাদেশ একটি চুক্তির কথা বলে আসছে। কিন্তু চরম সুকৌশলে এই ক্ষেত্রে চুক্তির বেড়াজালে আষ্টেপিষ্ঠে বেঁধে দিয়ে আমাদের অন্ধকারেই রাখা হলো। আর যখন আমাদের প্রাপ্তির খাতায় অনেক হিসাব শেষ করা হয় তখন দেখা যাচ্ছে সেখানে একমাত্র বড় একটা শূন্য ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।আমরা গঙ্গার পানিচুক্তি করেছিলাম পদ্মায় কিছু্টা পানি পাব বলে। কিন্তু সেই পানি হতভাগা বাংলাদেশীদের ভাগ্যে জোটেনি। প্রবল প্রমত্তা সেই পদ্মা শুকোতে শুকোতে এখন মরা খাল। পানি নেই, সেখানে বাসা বেধেছে চর আর হচ্চে চাষাবাদ , কোন কোন ক্ষেত্রে কাশবনের মাঝে শেয়ালদের সুখের আবাস। দেশের প্রায় সবকয়টি সংবাদ পত্রের অন্তত শিরোনাম এর পাশাপাশি প্রধান দুটি দৈনিক পত্রিকা ভালমতো দেখা আমার দীর্ঘ দিনের অভ্যাস। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী যে পানি পাওয়ার কথা, সেই পরিমাণ পানি আমরা গত ক’বছর ধরে একটি বারের তরেও পেয়েছি এমন কোন সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। কিন্তু এর প্রতিবাদ আমরা কার কাছে করব?
আমরা বাংলাদেশীরা কেবল দিতেই শিখেছি। নিজেদের প্রাপ্য আদায় করতে পারিনি আজও। আমাদের পূর্বপুরুষরা একাত্তরের সংগ্রামে আত্নাহুতি দিয়েছিলেন, আমরা চোখের সামনে একরের পর একর উর্বর ভূমির মরুকরণে করুণ মৃত্যুর নীরব সাক্ষী হতে যাচ্ছি। কিন্তু এর প্রতিদানে পাচ্ছি কী? এই সব মিরাজ হোসেন আর ফেলানির লাশ!
কিন্তু আমার মনে প্রশ্ন জাগে এই মেকী বন্ধুতের খোলসে চেপে আর কতদিন। আর কতো তাজা প্রাণকে এই বিএসএফ এর হায়েনাদের বলি হতে হবে। আর জাতি কতদিন মুখে কুলুপ এটে বসে থাকবে।?

আমরা ভারত থেকে আমদানি করি বেশি, রফতানি করি কম। অথচ বাংলাদেশী পণ্যের যথেষ্ট চাহিদা থাকলেও ভারতে তার বাজারজাতকরণের কোন সুযোগ বাংলাদেশ পায়না । এখানে নানা রকম ট্যারিফ, প্যারাট্যারিফ, শুল্ককর, নেগেটিভ লিস্টের জন্য আটকে আছে বাংলাদেশী পণ্য। একদিকে বাংলাদেশী পণ্য ভারতের বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না অন্যদিকে বাংলাদেশ বড় ধরনের ‘জ্বালানি ফাঁদ’-এ বেফাঁসভাবে ফেঁসে গেছে।জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির ফলে জনগণের সংকট চরমে উঠেছে।

বাংলাদেশে অবস্থানরত অনেক ভারতীয় সন্ত্রাসীকে এরই মধ্যে আমরা ভারতীয়দের হাতে তুলে দিয়েছি। কিন্তু ভারতে অবস্থানরত একজন বাংলাদেশী সন্ত্রাসীকেও কি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হাতে তুলে দিয়েছে? অনেক শক্তিশালী গণণাযন্ত্রে হিসেব করেও সেই সংখ্যাটাকে শূণ্যের থেকে বেশি করার সাধ্য কারো নাই।

অন্যদিকে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আমাদের যে শঙ্কা বেশ কিছুদিন আগে থেকেই শুরু হয়েছিল , তা এখনও দূর হয়নি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ভারত এমন কিছু করবে না, যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়। বক্তব্যটি নিঃসন্দেহে ভালোই ছিল । কিন্তু খোকাদের কাছে ঘুমপাড়ানি গান ততক্ষনই মজার যতক্ষন না তাদের ঘুম আসে।
কয়েকদিন পূর্বেও আসামে এই বাঁধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে যার ছবি বাংলাদেশী পত্রপত্রিকায় ছাপাও হয়েছে যেটা প্রমান করে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়নি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যা বলেছিলেন, তা কথার কথা। সীমান্ত এখনও চিহ্নিত হয়নি। তিন বিঘা করিডোরের ওপর দিয়ে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দিল্লি। সেই প্রস্তাবও কার্যকর করেনি ভারত। তাহলে ব্যাপারটা কী গড়াচ্ছে? ভারত যা চাইছে, তাই তারা পাচ্ছে বা আদায় করে নিচ্ছে। আর আমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে এবং অবশ্যই তা কোন দিন পালন করা হবে না এই শর্তেই দেয়া হচ্ছে।

বছর খানেক আগে কাটাতারে নির্মমভাবে ফেলানীকে ঝুলিয়ে রেখে যে নারকীয় যজ্ঞের শুরু আজ এই মিরাজ হোসেনের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো ভারত তার কথা রাখেনি কোনদিন তারা রাখবেও না । আর আমরাও নিজের পৃষ্ঠদেশের সুরক্ষা করতে এইসব নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিবাদ তো দূরের কথা, দুঃখ প্রকাশ করতেও ভয় পাব। কিছুদিন পূর্বে প্রকাশিত হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মানবাধিকার পরিস্থিতি গাজা-ইসরাইল সীমান্তের চেয়েও ভয়াবহ।

কিন্তু প্রাণের দায় যেখানে বড় দায়ের সেখানে বন্ধুত্বের অজুহাত কিভাবে টিকে থাকে। এই রকম আজব বন্ধুত্ব কোন কল্পকাহিনীতে বিচার করা হলেও অনেকটাই নজিরবিহীন অবাস্তব। তবুও এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে খাটি তেলের পাশাপাশি ঘি ঢালা হবে। এই ঘৃতাহুতিতে আনন্দিত হয়ে দিনের পর দিন আমাদের ভাগ্যদেবী ভারত একের পর এক ফেলানী, মিরাজ হোসেনদের মতো মানুষকে পাখির মতো দুনিয়ার ওপারে পাঠাতে থাকবে । আমরা কোন প্রতিবাদ করার সাহসই দেখাবো না হয়তো কোন বুদ্ধিমান মন্ত্রী বলেই বসবেন। আমাদের জনসংখ্যা সমস্যা একটা বড় সমস্যা । বন্ধুরাষ্ট্র ভারত আমাদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে কিছু জনগণ কমিয়ে বাংলাদেশের মারাত্বক উপকার করে চলেছে।

* মানবাধিকার সংস্থা “অধিকার” এর ওয়েভ থেকে নেয়া
মানববন্ধন এর ছবি সুত্র- Click this link

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
ব্লগার ও কলামিস্ট
Archaeology Of Humankind

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s