ডিজিটাল ইমরান ভাই


এক.
ঝুম বৃষ্টি হচ্চে সেই সকাল থেকেই। রাত ঘনিয়ে এল প্রায় তবু একটুকু ধরে আসার কোন লক্ষন নেই।
একটা ছোট ছাতার নিচে দাড়িয়ে কাকের মতো ভিজছে ডিজিটাল ইমরান ওরফে ইমু ।
ছেলেটা কেন যেন আজকাল অন্যমনষ্ক টাইপের হয়ে গেছে
ক’দিন আগেও সব ঠিকঠাক চলছিল । আসলে লুনাকে দেখার আগে পর্যন্ত তার জীবনটা অনেক স্বাভাবিক ছিল। লুনা নিজেই কিভাবে ঝড়ের মতো এসেছিল ইমরানের জীবনে কিন্তু আবার হটাত করে ডুব দিল ।যা ডিজিটাল ইমরানকে বন্ধুদের ভাষায় রোমিও ইমরান বানিয়ে দিল
যে বেচারার পেটে বোমা মারলেও কখনো কবির ভাব প্রকাশ পেতো না। কখনই তারা ভরা আকাশের দিকে হা করে তাকিয়ে নিজের অজান্তেই কিছু বলতে চাইতো না। আর তার মাথায় বন্দুক তাক করা হলেও সে এই ঝুম বৃষ্টিতে দাড়িয়ে ভিজতো না । তার এখানে আসার কোন কারণ নেই এই সময়টায় লুনা বারান্দায় আসে আর নিচে তাকায় আশপাশে চোখ বুলায় । তার পারিবারিক বাধার কারণে নিচে নামা অনেকটাই বারণ ।লুনার আম্মা পৃথিবীকে আলবিদা করেছেন কিছু দিন হলো।
মায়ের মৃত্যু আসলে তার মনের উপর দিয়ে একটা টনের্ডো বইয়ে দিল । যেন সবকিছুই তোলপাড় করেদিয়েছে এক দানবীয়ন শক্তি। তারপর সে বারান্দার রেলিং ধরে দাড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলতো।
আর এলাকার বখাটে গুলো তার দিকে অনেকটা হা করেই তাকিয়ে থাকতো । তার মানসিক অবস্থার কারণে এসব দিকে কখনই দৃষ্টি দেয়নি
দুই
তার বাবা ছিলেন না বাসাতে । জামিল সাহেব হয়তো কোন এক জরুরী কাজে সিংগাপুর গেছেন।ধীর পায়ে লিফটে না নেমে সিড়ি ভেংগে নিচে নামল লুনা। ড্রাইভারকে ডাকল। এ্যাই শরীফ ভাইয়া !!! গাড়ি বের করো।
বেচার শরীফ অনেকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েই গাড়ি নিয়ে সামনে দাড়াল। ম্যাডাম আসেন। কিন্তু যাবেন কোথায়। লুনা কোন কথা বলে না। শরীফ ভাবলো হয়তো বান্ধবী নিপার বাসার দিকেই যেতে হবে তাই সে বিনা বাক্য ব্যায়ে গাড়ি ঘোরালো ।
লুনাদের এর আগের ড্রাইভার মাসুদ ছিল একটু টাউট টাইপের। সে গাড়ি চালাতে গিয়ে মিররে বারবার চুপিচুপি মিররে তাকিয়ে লুনাকে দেখতো। আসলে তার কি দোষ। এই একই ঘটনা ঘটে ও ক্লাসে গেলেও।
প্রায় চল্লিশোর্ধ নির্মল সেন, নুরুল হক, আবুল হাসান যে সময় ক্লাসের পড়া পড়ান, অর্ধেক সময় লুনার দিকেই বাঁকা চোখে তাকিয়ে থাকেন ।আর গত বই মেলাতে আমাদের দেশের প্রখ্যাত লেখকের বই কেনার পর তার কাছে অটোগ্রাফ নিতে গিয়েই কি বিপত্তিতেই না পড়েছিল সে । বুইড়া বয়সে মেয়ের বান্ধবীকে বিয়ে করার পরও অনেকটা নাতনীর বয়সী লুনার হাতটা যেন আর ছাড়তেই চাচ্ছেননা ।অনেকটা কাতুকুতু দিয়েই তার হাত ছাড়িয়েছিল লুনার খালাত বোন অরিন। সেই স্কুল জীবন থেকেই অনেকটা অভ্যস্ত লুনা কিছুই মনে করেনা। আসলে কবি নজরুলের গানটাই মনে হয় লুনার ক্ষেত্রে বাস্তব হয়ে যায় অনেকাংশে। শরীফ হটাত জানতে চাইলো ম্যাডাম কই যাব??
হুট করেই যেন লুনা খেকিয়ে ওঠে। যাও জাহান্নামের চৌরাস্তায়। শরীফ লুনাকে অনেকদিন হলো গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায় কিন্তু এহেন ব্যবহার কখনও লক্ষ্য করেনি।
তিন:
এইতো সেদিন! তাদের ক্লাসের এক বন্ধু ইমু আনমনে বসে তার ছোট নোটপ্যাডে ব্লগিং করছে । এটা তা পেশা নয় নেশা। কিন্তু যদি আমাদের দেশের সরকারি কর্মচারীরা তাদের কাজের এই রকম ধরনের শতকরা পাচ ভাগও নেশা ধরতো অনেকটা নিশ্চিত আমাদের দেশ উন্নত দেশের তালিকাতে চলে যেত। রুমা বলে, এই লূনা । মহাপণ্ডিতকে একবার দেখ। তুইতো এই যাবত গোটা পনের অফার পেয়েছিস চাইকি আমাদের লুলু মামা নুরুল হক স্যার পারলে তোর জন্য মরতে রাজি। লুনা বিরক্তি ভরে বলে ধ্যাত, নিরীহ বেচারা কি সুন্দর খুটখাট কাজ করছে। কিন্তু লুনা নিজেও জানে না ইমু কিভাবে তার মনের মাঝেও খুটখাট শুরু করেছে। এর পরের দিন লুনা এমন একটা পজিশণ নিয়ে বসেছে । সে খেয়াল করেছে ক্লসের সময় পুরোটাই মনযোগী ইমরান ডানে বায়েও তাকায় না। তবে ক্লাস শেষ হলেই সাথে সাথে মডেম সেট করে স্টাট করতে যতোক্ষন লাগে। তারপর আবার খুটখুট। যাহোক এভাবেই অনেকটা ভাললাগার শুরু।
চার:
বারান্দার রেলিং ধরে ভাবছে লুনা
ইমু ইমু ইমু, ইমরান ইমু !!!!!!!!!!!!
কিন্তু এ কি করলে তুমি? তোমার ওই নিরীহ আবুল টাইপের মুখ। কেমন যেন জলহস্তীর মতো চোখটাকে কেন যে বারবার আমার দেখতে মন চাইছে সেটা আমি যেন নিজেই জানিনা । মনের অজান্তেই অনেকটা ক্লান্ত লুনা তার ভাবনার আঙ্গিনায় চাপা বেদনার সাইরেন বাজতে শুনছে । দেখতে পাচ্ছে তার ভাবনার সামনে থেকে ক্রমশ মাটি সরে যায়; স্পষ্ট কাটা তারের বেড়ায় আটকে যাচ্ছে তার চিন্তার সীমানা।
তার চিন্তাধারার কোন খেই ছিল না এইতো গতকালও । কিন্তু আজ তার সবকিছুই কেমন যেন ইমরান ইমরান মনে হয় । কি এক ঘোরের মধ্যে যাচ্চে তার দিন। লুনা শুনেছে ভালবাসা নাকি এক নেশা ? আজ সে হাড়ে হাড়ে বোঝে এ কেমন নেশা ?

পাঁচ:
ক্লাস শুরুর পূর্ব মুহুর্ত। সবাই নুরুল হকের বিরক্তির ক্লাসের জন্য মুখ বাংলা পাঁচের মতো করে আছে। নাপিতের আসার কিছুটা দেরি আছে তাই যে যার মতো রিলাক্স মুডে অনেকেই বেসুরো হেড়ে গলায় গান গাইচে অনেকে গল্প করছে। হটাত লুনা গিয়ে ইমরানের সামনে দাড়ায়। বলে ইমু আমি কি দেখতে পারি তুমি কি নিয়ে সারাদিন এতো ব্যস্ত থাক। ইমরান মাথা গুরিয়েই বলে ওহ শিওর। আমি একটু বসি তোমার পাশে। ইমরান মুখে কোন জবাব না দিয়ে একটু সরে আসে।ইমরান তখন একটা লেখা পোস্ট করে তার উপর অনেকটা হামলে পড়া ব্লগারদের কমেন্টের জবাব দিচ্ছিল।
হটাত করে স্বশব্দে হেসে ওঠে লুনা। জোস তো!!!!
ইমরান মাথা না তুলেই বলে হুহ!! তোমরা দেখনা তাই। দেখলে বুঝতে এটা আসলেই কতো মজার একটা কাজ। যাহোক লুনা অনেকটা মন্ত্রমুগ্ধের মতোই ইমরানের পাশে বসে তার পোস্ট এর নিচের মন্তব্যগুলার আর তার জবাব পড়ছে উকি দিয়ে।তার খেয়াল যতটা না পোস্ট আর কম্পিউটার মনিটরে তার থেকে ঢের বেশি ইমরানের দিকে । কিন্তু ইমরানের এদিকে কোন খেয়াল নেই। লুনার একটা বাজে স্বভাব আছে সে অনেকটা মনের অজান্তেই বান্ধবীদের ঘাড়ে হাত দেয়। এর মাঝে সে বেশ কয়েকবার ইমরানের কাধের উপর হাত দিয়ে অনেকটা কাছাকাছি চলে এসেছিল।
কিন্তু সেই উত্তেজনার তুলানায় ব্লগিংটা ইমরানকে অনেক বেশি পায়। যে কারণে ইমরান তার কাজে অসুবিধার হেতু দুই একবার লুনাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়েছে। লূনাও অনেকটা নড়ে চড়ে বসার সম্বিত ফিরে পেয়েছে। এদিকে লুল মামু খ্যাত নুরুল স্যার ক্লাস নেয়নি। তাই সবাই যে যার মতো চলে গেছে। শুধু নড়েনি দুটি প্রাণি। একটা অদ্ভুত জীব বরাবরই এমুনটা করে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কয়দিন সময়মতো লাঞ্চ করেছে তা অনেকটা হাতে গুনলেই পাওয়া যাবে। আর অন্যজন আজ নতুন যে অনেকটা কাউকে জানান না দিয়েই অনেকটা তার মাঝেই হারিয়ে গেছে।
আসলে এতটাই নিমগ্ন ছিল লুনা বাড়ি ফিরবে এইটুকু ভাবার সময় পায়নি।ক্ষুধা রাক্ষস তাকে ভালমতোই চেপে ধরেছে। হটাত মাথা তুললো ইমরান। অনেকটা অবাক চোখে এই প্রথম লুনার দিকে তাকাল। কিন্তু বেশ কিছুক্ষন কেন যেন আনমনা হয়ে গেছে। এর আগেও সে লুনাকে দেখেছে কিন্তু আজকের এই অনুভুতি কেন যেন একটু অন্যরকম। একটু যেন কেমন কেমন।
ওদিকে লুনাও ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে ওর মাঝেই ডুবে গেছে ।

হটাৎ করেই নীরবতা ভাঙে লুনা ।
ইমরান ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড
একটু যাবে আমার সাথে
চলনা একটু খানি ঘুরে আসি
আসলে ইমরান না করতে গিয়েও লুনার চোখে চোখ পড়ার পর অনেকটা থেমে গেল। কেমন যেনো সম্মোহিত করে ফেলেছে তাকে।তারা দুইজনই ধীর পায়ে এগুতে লাগলো ক্যাফের দিকে। কিন্তু দেরি হওয়াতে ক্যাফের ওয়েটার বললো মামা আজ তো খাবার শেষ। অগত্য কি আর করা ইমরার ভাবছে আজকের মতো বন আর মিস্টি ভালই চলবে

ছয়:
ইমরান হটাৎ পিছনে ঘুরে বললো বাইই লুনা
আমি তাহলে আসি । কিন্তু এতো সহজে মুক্তি মেলে কি । তাইতো ভালবাসার রং নাকি নীল অনেকটাই বেদনার রঙের মতো, ইমরান এতক্ষনে বুঝতে পারছে তার জীবনে কি ঘটতে যাচ্ছে। তবুও অনেক ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তাকারী ইমরান নিজেকে বোঝাতে গিয়ে হার মানলো
সবে হলে ফিরতে পা বাড়িয়েছে।কিন্তু কিসের যেন একটা টান অনুভব করে ইমরান। তার হাত শক্ত করে চেপে ধরেছে লুনা। প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকা সত্ত্বেও লুনার কাছ থেকে হাত ছাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হলো সে। যদি জানতো যে এই হাত ছাড়াতে না পারার কতো যন্ত্রণা তাকে সারাটি জীবন বয়ে বেড়াতে হবে তাহলে ইমরান অনেকটা খিচে দৌড় লাগাতো
সাত:
বিকাল চারটা । এই প্রথম কোন মেয়ের সাথে ইমরানকে কে এফ সিতে দেখা গেল । অনেকটাই ইতস্তত বোধ করছে। ব্যাপারটা লুনার কাছে নতুন কিছু না হলেও সে নিজেও খানিকটা আনমনা হয়ে গেছে। কাজিনদের সাথে হৈ হল্লা করে অনেক আনন্দ করেছে এক সময় কিন্তু হুট করে মায়ের মৃত্যূ ও বড় ভাই বাবার অমতে বিয়ে করে ওদের থেকে দুরে চলে যাওয়ার পর অনেকটাই সে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছে
প্রায় বছর দুই তিন পর তাও একান্ত কাউকে সাথে করে পিক আওয়ার পার করে লাঞ্চ করা । ইমরান চুপচাপ বসে আছে। হটাত লুনাই বলে কি কিছু বল, তুমি কি রোবট নাকি ?? ইমরান বলে দুর ছাই!!! আমি এখানে আসলাম কেন??
হটাত করেই ইমরানের হাত ঝাপটা দিয়ে আটকে লুনাই বিল দিয়ে দিল।ইমরান যার পর নাই বিরক্ত হলো। ওরা বের হয়ে জিয়া উদ্যানের দিকে হাটতে শুরু করলো। লক্ষ্য করলো ইমরান এখন প্রায় সবকিছুর ডিজিটালকরণে এটার পুরাতন নাম ও ভোজবাজির মতো গায়েব হয়ে গেছে
যাহোক ওরা ধীরে হাটছে হটাত লুনা ইমরানের হাত ধরার চেষ্টা করেছিল ইমরান অনেকটা খেকিয়ে উঠেছে । এরর মানে কি ?? তাহলে আর তোমার সাথে জীবনেও কোথাও যাব না।
অনেকটা বিদ্যুত শক খাওয়ার মতোই নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেছে ইমরান থেকে। কারণ ও যাকে নিয়ে এতো স্বপ্ন দেখে সহজেই তাকে হারলে বাঁচবে কি নিয়ে।

আট:
রিক্সাতে করে যাচ্ছিল ইমরাণ। হটাত করেই এলাকার কিছু গাজাখোর পোলাপাইন ওর রিক্সার গতিরোধ করে। ওদের কারো গতিবিধি সুবিধার ছিলনা।একজন বলে । ওই হালা তুই নাম
একজন কোন কথা না বলে বলে ওই তর এতো সাহস তুই আমাগো এলাকার মাইয়্যা নিয়া টানাটানি করস কেন ??
ইত্যোকার কয়েকটি শব্দ শুনেছিল ইমরান হটাত করেই ধীরেন ঠিকাদারের ছেলে সুব্রত পকেট থেকে ছুরি বের করে ঘোরাতে থাকে। আর লুনাকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করতে থাকে । এইবার আর ইমরান সহ্য করতে পারেনি। সরাসরি ঠাস করে গালে এক থাপ্পড় । কিন্তু ওরা সংখ্যাতে অনেক বেশি হওয়াতে ইমরান আর পারেনি। ওকে বেদন মার খেতে হয়। ওরা ইমরনকে যখন সাপপেটানো করছে এইসময়েই তার পেছনে হার্ডব্রেক কষলো লুবনার কাডিলাক

ভিতর থেকে কাঁচ নামিয়ে লুনা ইমরানকে দেখে হন্তদন্ত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে ওকে আড়াল করে দাঁড়ায়। কিন্তু লাভ হয়না সুব্রত, জুবিন, শুভাগত, দীনু, অভি, অর্ক, কাঞ্চন সহ বেশ কয়েকজন অশ্লীল ভংগিতে এগিয়ে আসতে থাকে লুনার দিকে। উপায়ন্তর না দেখে শিশুকাল থেকেই অনেকটা সাহসী লুনার তার লাইসেন্স করা রিভলবার বের করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়ে। তাদের বেশ কয়েকজন মারাত্বক আহত হয় বাকিরা প্রাণভয়ে পালিয়ে বাঁচে ।
নয়:
হটাত প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে জ্ঞান ফিরে ইমরানের। বেচারা ডিজিটাল ইমরান থেকে হাত পা টাল অবস্থায় নিজেকে আবিষ্কার করে। পিটপিট করে তাকালো দেখে তার সামনের চেয়ারে বসা আছে তার আব্বা মা আর বন্ধুরা। সে হতাশ হলো। আসলে ইমরানের চোখ যাকে খুজে ফিরছে সে তো আসেনি।
ইমরান অসুস্থ শরীরেই হাত বাড়ায় মোবাইলের দিকে। এক ঝটকায় তুলে নিয়ে ফোন করে লুনাকে। একটা ভারী পুরুষ কণ্ঠ শুনতে পায়। সম্ভবত লূনার বাবাই হবেন।
তুমি আর কখনো ওকে ফোন করবে না
ওই দিনই লুনার বাবা তার মেয়ের এহেন গুন্ডামি শুনার পর তাকে বাসা থেকে বের হতে বারণ করেছে। এরপর শুধু আইএলস এর রেজাল্ট বের হওয়ার অপেক্ষা।
তারপর হয়তো আমেরিকা!! হয়তো কানাডা!!!! হয়তো অন্য কোথাও!!!!!!
তারপর !!!!!!!!! তারপর!!!!!!!!!!!
দশ:
এরপর থেকে ইমরান চারদিকে তাকিয়ে শুধু একজনকেই খুজে বেড়িয়েছি দীর্ঘ একটি বছরের প্রায় প্রতিটি দিন
বার বার ব্যর্থ হয়েও সে হাল ছাড়েনি। হটাত তার কানে ভেসে আসে লুনার প্রিয় গায়িকা এলিজির গান
Tropical the island breeze
All of nature wild and free

This is where I long to be.. …………………………….
The sun would set so high
Ring through my ears and sting my eyes
Your Spanish lullaby

তাইতো এই বৃষ্টির প্রতিটি ফোটার টুপটাপ শব্দের মাঝেও সে তার লূনাকে খুজে পেতে চাইছে। গতকাল সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজে তার এমনিতেই জ্বর তারপর আজও ভিজছে। হটাত পেছন থেকে কে যেন ডাকে।
ইমরান !!!!! তুমি !!!!!!!

ইমরান অবাক চোখে তাকিয়ে দেখে একবার চোখ বন্ধ করে আবার খুলে ।
সেই যাকে সে এতদিন খুঁজে ফিরেছে সারাটিক্ষন।
..সেই আজ জীবন্ত তার সামনে দাড়িয়ে আছে …..এতক্ষনে ইমরান বোঝে এই গানটা লুনাই শুনছিল। তার গাড়িতে বসে ।
আর একজনকে কাকের মতো ভিজতে দেখে অনেকটা অজান্তই গাড়ির জানালা খুলেছিল সে । আর সেখানে সে পেয়ে যায় তার সকল অপেক্ষার প্রহরের সমাপ্তির ঘন্টা ধ্বনি।
সে পেল তার জীবনের জন্য কল্পিত ছবিতে একজন শিল্পীর হাতের শেষ আঁচড়। (সংক্ষেপিত)

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
Archaeology of Humankind

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s