মাতৃভাষায় মনের কথা বলার অনন্য এক মাধ্যম বাংলা ব্লগ


পত্র পত্রিকার পাতা খুললেই আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় নানা স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন সাইট যেমন ফেইসবুক, টুইটার, hi5 প্রভৃতির প্রতি। সমসাময়িক সুশীল সমাজ তাদের সেকেলে ধ্যান ধারণাকে সামনে রেখে এই সব মাধ্যমগুলোকে তুলোধুনা করে নিজেদের বড়ত্ব জাহির করা সহজ সুযোগ খুঁজে নেন। আর বর্তমান যুব সমাজের একাংশ তাদের কর্মকাণ্ডে এই সব তথাকথিত আবাল কিছিমের সেকেলে বুদ্ধিজীবীদের গলা খাকারি দিয়ে একটু ঝেড়ে কাশার সুযোগ করে দেয়। যাহোক ব্লগের উত্থান যে কেবল আমাদের তরুণ সমাজ কলুষিত করেছে তাই নয়। আমাদের তরুণ সমাজকে একত্রিত হওয়ার সুযোগ ও করে দিয়েছে। আমি অন্তত এটুকু বলতে চাই সেই সব তরুণ তরুণী ব্লগিং করে তারা আর যাই হোক আমাদের মতো সুশীল মুখোশধারী হয়ে ফারাক্কা বা টিপাইমুখ ইস্যুতে ভারতের সাফাই গাবে না তারা কোনভাবেই ফেলানী বা জহির পাটওয়ারীর মৃত্যুতে ভারতের পক্ষে সাফাই গাইবে না। আমি মনে করি আপনাদের মতো পাচাটা কিছিমের বুদ্ধিজীবীদের গণহারে বঙ্গোপসাগরে বিসর্জন দিতে পারলে আমাদের জাতির শাপমুক্তি ঘটত। বৃটিশ আমালে যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক ইংরেজী ভাষায় শিক্ষিত হতে থাকে তখন এক শ্রেণীর ব্রাহ্মণ আর তার পাশাপাশি কিছু কাঠমোল্লা ফতোয় জারি করে এই ফিরিঙ্গি ভাষা শেখা যাবে না। তাইলে হিন্দু নিচু শ্রেণীর জাত যাবে আর তার পাশাপাশি মুসলমান মোল্লাদের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধর্মকে পুজি করে চালানো ব্যবসা মাঠে মারা যাবে। আমি আমাদের তথাকথিত সুশীল সমাজের তথ্য প্রযুক্তির বিরোধিতা করার পেছনে তেমন কোন কারণ দেখি না।

বাংলাদেশে বাংলা ব্লগের প্রচলন ২০০৬ সালের প্রথম দিকে। আর এ ব্লগ চালু হওয়ার পরই যেন এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি হয়ে গেছে। কারণ এখানে কোন ব্যক্তি তার মত প্রকাশ, অন্যের লেখার উপরে নিজের মতামত প্রদান করা, বন্ধু নির্বাচন, লেখাপড়ার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার বিকাশ, বিতর্ক শেখা সহ মানব জীবনে এক জ্ঞানতাত্ত্বিক বিপ্লব ঘটাতে পারে সহজেই। আমার বর্ণমালা, সোনার বাংলাদেশ ব্লগ, সামহোয়্যারইন, সচলায়তন, ওপেষ্ট, নাগরিক ব্লগ, রঙমহল, বিডি নিউজ-২৪ ব্লগ, চতুর্মাত্রিক ব্লগ এগুলো আজ প্রায় সবার কাছেই পরিচিত।
সামাজিক যোগাযোগ সংবলিত বিভিন্ন সাইটের মাধ্যমে তিউনিসিয়া বা মিশরের মতো বাংলাদেশে বড় কোন আন্দোলন না ঘটলেও ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের ফলে ফেসবুক নামক সামাজিক যোগাযোগ সাইটটি কয়েকদিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং সামাজিক আন্দোলনের কারণেই তা পূনঃউম্মুক্ত করে দিতে বাধ্য হয়েছিল সরকার। মজার ব্যাপার হলো, এ বন্ধ থাকার সত্ত্বেও তরুণ সমাজ কিন্তু ফেইসবুক ব্যবহার থেকে বিরত থাকেনি। তবে তারা একটু ভিন্নপন্থা অবলম্বন করে এর ব্যবহার চালু রেখেছিল। কিন্তু বাংলা ব্লগে নানা ধরনের মতামত প্রতিফলিত হলেও এখন পর্যন্ত এসব সাইট কারো রোষের মুখোমুখি হয়নি কিংবা বন্ধ করা হয়নি। এসব ব্লগের মধ্যে সোনারবাংলাদেশ, আমার বর্ণমালা এবং সামহোয়ারইন ব্লগ অন্যতম যেখানে নির্দিষ্ট নীতিমালার সাথে সঙ্গতি রেখে স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ এবং অন্যের মতামত জানা এবং যাচাই করা যায়। অনেক বোদ্ধা হয়তো ভাষার বিকৃতির অভিযোগ আনতো পারেন আমি সেগুলোকে নিছক ভাষার নতুন মাত্রায় ব্যবহারে একটি আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টির উপলক্ষ্য হিসেবে ধরার পক্ষপাতী। আমি এগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করছি।

ব্লগীয় নতুন পরিভাষা হিসেবে গদাম (পশ্চাৎ দেশে লাথি ঝাড়া), পাকি (পাকিস্তান সমর্থক), ভিম্পি/বিম্পি (বিএনপি), আম্লিগ/হাম্বা (আওয়ামিলীগ), ভাদা (ভারত এর দালাল), পাদা (পাকি দালাল) ভাকুর (ভারতীয় কুকুর), ছাগু/জাশি (জামাত শিবির), টেকি (প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের নাম), খিকচ (চাপা হাসির বহি:প্রকাশ), ধইন্যা (ধন্যবাদ), ল্যাঞ্জা বাইর হওয়া (বিতর্কে হেরে যাওয়া), কুত্তালীগ (ছাত্রলীগ), লুলামী করা (মেয়েঘেষা কর্মকান্ডে জড়িত হওয়া), ছাইয়া (ছেলে হয়ে মেয়ের ভান করা) ইত্যাদিকে পাওয়া গেছে। এগুলো শুধুমাত্র মজা করার উপলক্ষ্য মাত্র।

তবে আমাদের মাতৃভাষার ভাষার আংশিক রূপান্তর এর মাধ্যমে কিছু শব্দ যেমন শিরাম/সৈরাম (সেরকম), চ্রম (চরম), ত্যানা প্যাচানো (জটিল করে তোলা), মুঞ্চায় (মন চায়), ভাল্লাগ্লো (ভালো লাগলো), পিছলানো (কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া), তেব্র (তীব্র), পিচলামী (ইসলামী), মালানি (হিন্দুয়ানী) ইত্যাদির উত্থান অনেকে বাকা চোখে দেখতেই পারেন।

ব্লগের ক্ষেত্রে সব থেকে মজার ব্যাপারটা আমার মনে হয়েছে বিদেশী শব্দকে নিজের মতো করে ব্যবহার করা। এতে অনেক বেশি মজা ও পাওয়া যায় পাশাপাশি একটু গুরুগম্ভীর ভাবটাও কাটানো যায়। যেমন বিদেশী শব্দ প্লাচাইলাম (ইতিবাচক রেটিং বা ভোট দেয়া), ব্যান (নিষিদ্ধ), ব্লগান (ব্লগিং করা), পোষ্টান/পুষ্টানো (লেখা দেয়া), ইউজান (ব্যবহার), হেল্পান (সহযোগিতা করেন), স্লিপান (ঘুমানো), ইত্যাদির ব্যবহার নিতান্ত বেরসিককেও হাসাতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।

আমি মনে করি ব্লগাদের মজার মজার নাম অনেক ক্ষেত্রে হাসির কারণ হতে পারে। আমরা দেখি নাম হিসেবে যখন স্বপ্নকুটির শেয়াল পণ্ডিত, অধম বান্দা, কেবলাকান্ত ,আমার মন, ধ্রুবনীল, পাংশুল, আঁতেল, গুল্লা মিয়া, শালাবাবু কাদামাটি, চিকন মিয়া, গেদু মিয়া, খালি ব্যান খাই, পিরীতির নাম কাডালের আঠা, লালবাতি, প্রেমিক পোলা, আজীব পোলা, দুলাভাই, আমার শালী, দুষ্ট ছেলে, ডিজিটাল বাবা, ডিজিটাল ভুত, ভেজা বিলাই, জাকারবার্গের চেলা, বদনা দে নয়তো উষ্টাদিমু, বিজলী এখন ঢাকায় তখন মনের অজান্তেই হয়তো হাসতে থাকি। এর পাশাপাশি এক নতুম মাত্রা যোগ হয়েছে বাংলা বাক্য ও শব্দের নতুন রূপ। হাহাপগে (হাসতে হাসতে পড়ে গেলাম), হাহালুখুগে (হাসতে হাসতে লুঙ্গি খুলে গেল), চ্রম (চরম), খ্রাপ(খারাপ), পুত্তম(প্রথম), তেব্র(তীব্র), বেয়াপক/বেফুক(ব্যপক), মজাক লইলাম(খুশি হলাম) পালাদিমুচা(পাছায় লাথি দিতে মনচায়), আবুআ (আয় বুকে আয়)।

আমার কয়েকজন ব্লগার বন্ধু আছে যারা বই কেনাকে একটি হাস্যরসের বিষয় উল্লেখ করে উড়িয়ে দিলেন। মূলত তাদের অভিমত হলো যে “বর্তমান এই (ইন্টারনেটের ব্লগ) যুগে টাকা দিয়ে বই কোনার কোন মানে হয়না, তাছাড়া ঘনবসতিপুর্ণ ঢাকায় বই কিনে লাইব্রেরী দেয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গাও আমার নাই। তাই আমি সব বইয়েরই সফট কপি সংগ্রহ করে সেগুলো দিয়ে একটি বিশাল লাইব্রেরী তৈরী করেছি”। এমনকি আমি আমার অনলাইন লাইব্রেরীর অতিমাত্রায় সমৃদ্ধির হেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনের কতদিন লাইব্রেরীতে গেছি হাতে গুণে বলতে পারি।

ব্লগারদের কোনো না কোন দলের অনুসারী বা সমর্থক হওয়ায় তাদের লেখায় সেসব বিষয় ফুটে উঠে। ফলে তারা হাতে হাতে মারামারির পরিবর্তে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা পোষ্ট, পোষ্টে নিজের মতাদর্শের সমর্থনে যুক্তিভিত্তিক কিংবা আক্রোমনাত্মক মন্তব্য তুলে ধরে তুমুল ঝগড়ায় জড়িত হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে এই ঝগড়াকে “কীবোর্ড ঝগড়া” বলে অভিহিত করা হয়। ফলে ধীরে ধীরে আমাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশের জন্য অন্তঃত ব্লগারদের মধ্যে স্বশরীরী কোন সংঘর্ষ হ্রাস পাচ্ছে। ঠিক সেরকম একটি রাজনৈতিক ব্লগীয় সংস্কৃতি আমার দেখার সৌভাগ্য মিলেছিল কিছুদিন আগে। আর সেটি হলো বর্বর বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে নিরীহ তরুনী ফেলানীকে হত্যার প্রতিবাদ জানাতে ব্লগে একটি মানববন্ধনের আয়োজনের কথা বলে কতিপয় ব্লগার প্রচারণা চালাচ্ছিল এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এর আয়োজন করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো মানববন্ধনের পক্ষে প্রচারণা চালানো ব্লগারদের সাথে অন্য কিছু ব্লগারদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকায় ঠিক মানববন্ধন শুরু হওয়ার আগের দিন ব্লগারদের একটি গ্রুপ প্রোগ্রামকে ভুন্ডল করার জন্য প্রচারণা চালাতে থাকে। এমনকি মানববন্ধনে উপস্থিত হওয়া বিষয়ক একটি স্টিকি পোস্টকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সরিয়ে দেয়া হয় এবং মানববন্ধনে যোগদান না করার জন্য তারা সেখানে বিভিন্ন লেখা দিয়ে প্রোগ্রামটি পন্ড করার জন্য অসহযোগিতামুলক আচরণের ও হুমকি দিয়ে নানা ধরণের প্রচারণা চালানো হয়। যারা এর আয়োজনকারী তারা পিছু না হটায় পরের দিনই তারা সফলভাবে এর আয়োজন করে যেখানে কোন ধরণের সশরীরী কোন সংঘর্ষ পরিলক্ষিত হয়নি, কেবল ব্লগে লেখালেখির মাধ্যমেই এ ঝগড়ার সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু আমাদের বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে দেখা যেত যে এ প্রোগ্রাম পন্ড করার জন্য তারা লাঠি নিয়ে প্রস্তুত থাকতো যা এ ব্লগীয় সংস্কৃতিতে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। তবে এখানে কেবল মেধার লড়াই এবং পোষ্ট বা লেখার মাধ্যমে এর বিরোধিতা বা প্রতিবাদ করা হয়ে থাকে।

তিউনিসিয়া ও মিশরে ফেইসবুকে গনঅভ্যুত্থান হবার কিছুদিন আগেই বাংলাদেশে এই ব্লগাররা একটি অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে সেদিন সমবেত হয়েছিল বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সামনে। তখন তারা সেই ফেলানী হত্যার প্রতিবাদ জানাতে মানববন্ধন করেছিল। তবে এটি প্রচার করার জন্য কিন্তু কোন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, মাইকিং কিংবা কোন পোষ্টারেরও ব্যবস্থা করা হয়নি। কেবলমাত্র ব্যবহার করা হয়েছে ব্লগ ও ফেইসবুক যেখানে ফেলানী হত্যার প্রতিবাদ জানাতে এক ব্লগার একটি মানববন্ধনের কথা লিখে একটি পোষ্ট দিয়েছিল এবং সেটি স্টিকি করা হয়েছিল এবং তার ফলেই সেখানে সংশ্লিষ্ট সকলে জানতে পারে এবং তারা যে আসবে তার কথাও সেখান থেকেই নিশ্চিত হওয়া গেল এভাবে যে, তারা সেখানে মন্তব্য করে লিখেছিল যে, যে কোন মূল্যে তারা সে মানববন্ধনে উপস্থিত হবে আবার সেখানে একটি মোবাইল ফোন কোম্পানি স্পন্সরও করেছিল। বাংলাদেশে সনাতনী পদ্ধতির পরিবর্তে এই প্রথম যে কোন মাইকিং, পোষ্টারিং ও চিঠি ছাড়াই এত বড় একটা মানববন্ধনের আয়োজন সম্ভব হয়েছে যাকে মূলত একটি ব্লগ বিপ্লব হিসেবে অবহিত করা যায়। আমরা এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেট চলাকালীন সময়ে ভারতীয় চ্যনের ই,এস পি, এন এর ধারাভাষ্যকার নভোজিৎ সিং সিধু বাংলাদেশ সম্পর্কে কটুক্তি করাতে তার বিরুদ্ধে ফুসে ওঠে পুরো ব্লগার পরিবার। এখানে তারা দল মত নির্বিশেষে এর প্রতিবাদ করে। একই ভাবে শাহরুখের খানের ঢাকায় কনসার্ট নিয়ে উত্তাল হয়ে পুরো ব্লগ দুনিয়া। অধিকাংশ ব্লগারের মতে বিপ্লবের ক্ষেত্রে ব্লগ আমাদেরকে একটি নতুন ধারণার জন্ম দেয় যা কোন ধরণের সংঘর্ষ ছাড়াও সংঘটিত হতে পারে।

আগে কোন বুদ্ধিজীবি, জ্ঞানী-গুনীজনের কথা শুনতে যাওয়ার সুযোগ নানা কারণে অনেকের ভালেই জুটতোনা। ফলে এর আলোচনা-সমালোচনা দূরে থাক অনেক ক্ষেত্রে তাদের কথার সারমর্মটুকুই জানা হতোনা অনেকের। তাছাড়া সেখানে গেলেও তার আলোচনার ব্যাপারে কোন সমর্থন কিংবা প্রতিবাদ করার জন্য মঞ্চে সুযোগ পাওয়া ছিল অকল্পনীয়। কিন্তু ব্লগ প্রচলনের ফলে এটি সবার হাতের নাগালে চলে আসে এবং এখানে বিভিন্নজনের নানা বিশ্লেষণধর্মী লেখা আপনি পড়তে পারেন এবং আপনার অভিমতটিও প্রকাশ করতে পারেন। ফলে এখানে একই সময়ে সকলের মতামত প্রকাশ করার একটি ক্ষেত্র তৈরী করে দিয়েছে যা অন্য কোন মাধ্যমে কস্মিণকালেও সম্ভব হতোনা। এর ফলে প্রকৃত মেধাবী ব্যক্তিদেরকে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হয় তার লেখনীর মাধ্যমে। অনেকে জীবনের তাগিদে দেশের বাইরে অবস্থান করেন। মা, মাটি, মাতৃভাষা আর দেশের জন্য তাদের প্রাণ আকুল হলেও একটি কথা বলার সুযোগ তারা পাননা। কিন্তু ব্লগের কল্যাণে তারা নিজেদের জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছেন। সারাদিন অর্থ উপার্জন করার মাধ্যমে এই সকল মানুষ একদিকে নিজের পরিবারকে স্বচ্ছল করছেন আর দেশের রেমিটেন্স বাড়ানোতে যেমন ভুমিকা রাখছেন অন্যদিকে সন্ধ্যার পর অবসরকে এই ব্লগের কল্যাণেই পার করছেন দেশের ব্লগারদের সাথে একান্ত আপনজনের মতো। এখানে শুধু স্বশরীরে উপস্থিত হওয়াই সম্ভব নয় এছাড়া জন্ম, মৃত্যু আর বিয়ে এই তিনের আনন্দ আর সুরমূর্ছনার মতো আমোঘ বিধিতে দুঃখের নিনাদ ঠিকই বেজে ওঠে পুরো ব্লগ পরিবারে। তাই এই সকল মানুষের কাছে ব্লগের আবির্ভাব একটি আশির্বাদ হিসেবে।

বাঙালির পরিচয় তার পেটুক তারা খায় খাওয়ায় আর তারা আড্ডাবাজ। সাধারণত বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে গ্রামে আগে দেখা যেত কোন এক বাড়িতে কিংবা কোন দোকানে বসে বিভিন্ন বয়সী লোক মিলিত হয়ে গল্প, পাল্টা গল্প কিংবা গ্রামের কোন মজাদার কাহিনীর নানা দিক নিয়ে রসাত্মক বিশ্লেষণ ইত্যাদি করে সময় পার করতো। কিন্তু বাংলা ব্লগে প্রচলিত এ আড্ডা পোষ্টের মাধ্যমে এখন আর সশরীরে কোন নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত হতে হয়না। কেবল কম্পিউটারের সামনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোন স্থান থেকেই এ আড্ডায় যুক্ত হয়ে আড্ডা বা গল্পে গল্পে সময় পার করা যায়। সম্প্রতি এক ব্যক্তি ব্লগে নতুন একাউন্ট খুলেছেন যিনি অনেক বেশী আড্ডাবাজ ছিলেন যিনি স্বপ্নেও দেখেন নি কিভাবে আড্ডার মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে বন্ধুত্বের দরজা খুলে যায়। আমাদের কৃষ্টি কালচার সংস্কৃতিক ঐতিহ্য সহ সকল আঙ্গিক বিবেচনা করলে বাংলা ব্লগ এক নতুন যুগের সূচনা করেছে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তবে ছেলেমেয়েরা এর ভালো দিক গুলোকে কাজে না লাগিয়ে সাধারণ সময় কাটানোর মাধ্যম ভাবলে এটা ক্ষতির কারণ হতে পারে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s