মোনালিসার কঙ্কাল আবিষ্কারের কাহিনী আমাদের কি পিল্টডাউন বাটপারির মতো কোন ঘটনার দিকে নিয়ে যাচ্চে।


একবার বাগদাদের খলিফা নাসির উদ্দীন হোজ্জাকে আকাশের সব তারা গোণার কথা বললে হোজ্জা বাদশার কাছে মোটা অংকের ডোনেশন দাবি করে।  ওদিকে হোজ্জার শর্ত মেনে তাকে প্রচুর টাকাও দেয়া হয়। উনি তারা গোনার কাজ অসম্ভব জেনে কাজে ইস্তেফা দিয়ে নিজের আরাম আয়েশে মগ্ন হন। ওইদিকে একজন কামলা রেখে তার দায়িত্ব দেয়া হয় তিন মাসের  মধ্যে তিনশত দুম্বার লোমে গেরো দিতে।

যথারীতি তিনমাস পর হোজ্জা ভেড়া গুলা নিয়ে খলিফার দরবারে হাজির হলে একজন তার প্রতিবাদ করে বলে হোজ্জা ফাকি দিয়েছেন। তৎক্ষনাৎ হোজ্জা সাহেব বলে ওঠেন আমার গনণা করা তারার সমসংখ্যক গেরো ওই ভেড়ার লোমে আছে।
এটা তিন কোটি ছিয়াত্ত্বর লক্ষ বত্রিশ হাজার দুই। কারো সন্দেহ থাকলে গুনে মিলিয়ে নিতে পারেন। তখন কার সাধ্য ওই ভেড়ার লোমের গিট্টু খোলে আর গুনে দেখে।

তেমনি আজ দৈনিক সমকালের একটি খবরে প্রকাশ ইতালির প্রত্নতাত্ত্বিকরা দাবি করেছেন, তারা ফ্লোরেন্স শহর থেকে উত্তোলন করেছেন ৫০০ বছরের পুরনো একটি নারীর কঙ্কাল। ধারণা করা হচ্ছে, কঙ্কালটি লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা সেই মোনালিসার; যার আসল নাম লিসা গেরারডিনি। তিনি সে সময়ের একজন ব্যবসায়ীর স্ত্রী ছিলেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ফ্লোরেন্স শহরের একটি আশ্রমে মোনালিসার কঙ্কালের সন্ধানে খনন কাজ শুরু হয়। সেখানে আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে ১৫৪২ সালের জুলাইয়ে লিসা গেরারডিনি (৬৩) নামে ওই মহিলাকে কবর দেওয়া হয়। সূত্র : ডিসকভারি চ্যানেল।
বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর জিয়োরজিও গ্রুপিওনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, খননকৃত ওই কবরে ৫০০ বছরের পুরনো একটি পূর্ণবয়স্ক মহিলার খুলি ও মেরুদণ্ডের কিছু অংশ পাওয়া গেছে। তবে প্রাপ্ত কঙ্কালটি মাটির চাপে ভেঙে গেছে। ইতিমধ্যে কঙ্কালটির কিছু অংশ উত্তোলন করা হয়েছে। কঙ্কালটির পরিচয় ভালোভাবে নিশ্চিত হওয়ার পরই বাকিটুকু তোলা হবে বলেও তিনি জানান।
এখানে আমার প্রশ্ন হলো যে মহিলার পরিচয় সঠিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি তাকে নিয়ে কেন এই ধরনের শোরগোল তোলা হলো। আসলে রেপ্রিজেন্টেশন ও বাস্তবতা এ দুয়ের ফারাক অনেকটা হলেও আজকের আধিপত্যশীল প্রত্নচর্চায় উপস্থাপনের দাপটে মূল সত্য চাপা পড়ে যায়। আমারা প্রত্নতত্ত্ব চর্চার ইতিহাসের দিকে নজর দিলে দেখি প্রত্নতত্ত্ব অনেক সময় প্রভাবশালীদের ক্ষমতার দাপটকে আরো পূর্ণতা দানের সহায়ক ভূমিকায় অবতীর্ন হয়েছে। আমরাএর উদাহরণ হিসেবে পিল্ট ডাউন মানব কেলেংকারীর কথা বলতে পারি। শিম্পাঞ্জী জাতীয় প্রাণির হাড় কিভাবে মানুষের হাড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় আর পরে তা কিভাবে নাকচ করা তা প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষক মাত্রই অজানা নয়। তাই মূল সত্য প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে এহেন হম্বিতম্বি করার কোন মানে হয়না। আর আমরা যেহেতু হোজ্জা সাহেবের দুম্বার লোমের গিট্টু গোনার মতো এই সব কাজের হাতে নাতে কোন প্রমান পাচ্ছি না তাই আপাতত নীরব থাকাই শ্রেয়।
Md. Adnan Arif Salim Aurnab
Archaeology of Humankind

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s