শিলার যাওয়ানীর আদলে নববর্ষের দিনে তন্বীর বাধভাংগা উচ্ছলতায় দুষিত হলো বাঙলা নববর্ষ


একটু ধর্মীয় ভাবধারকে যারা বুকে আকড়ে থাকার চেষ্টা করেন বা একেবারে গোড়া প্রকৃতির তারা কোনভাবেই আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠান কে মেনে নিতে পারেন না। তবুও আমি বলি কি এটা আজকে ইন্জিনিয়ার্স ইন্সটিউটে গায়িকা তন্বীর বাধভাংগা উচ্ছলতা প্রদর্শনের তুলনায় হাজার গুন ভাল ছিল। যার পর নাই এটা আমাদের জাতীয় স্বকীয়তার পরিচয়। আর কোন সংস্কৃতির ধারাকে একটা ধর্মীয় মতাদর্শের ছকে বেধে ফেলাটা নিছক গোড়ামি। আর গোড়ামির ফল সংস্কৃতিক দেউলিয়াত্ব।

আর যারা একটু বেশি শুশীল সাজতে চেস্টা করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলবো শুধু পহেলা বৈশাখে হেড়ে গলায় রবিঠাকুরের গীত গাইলেই হবে না। বরং আমাদের বাস্তব সংস্কৃতিকে বুকে লালন করতে হবে। আমাদের বেশি বাড়াবাড়ি আর এক শ্রেণীর বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা আমাদের সংস্কৃতিক দেউলিয়াত্বের মূল কারণ।

https://i2.wp.com/amarbornomala.com/uploadedimage/1046_MG_5377.jpg

নববর্ষের দিনে এক বিদঘুটে রকমের বৈশাখী আয়োজন করে তীব্র ঘৃণা আর বিতর্কের জন্ম দিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন।
রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তার দক্ষিণ পাশে ইনস্টিটিউশনের পশ্চিম পাশের খোলা ময়দানে শুরু হয় ওই ব্যতিক্রমী বৈশাখী কনসার্ট।

মিলা আর তিশমার পাশাপাশি উন্মাদ যুবকদের অন্যতম আকর্ষন বেহায়া শিল্পী তন্বি মিনি স্কাট আর টাইট প্যান্ট পরে মঞ্চে উঠে নববর্ষের দিনে বাংলাদেশের সমাজ সংস্কৃতিকে সাক্ষাত বুড়ো আংগুল দেখিয়ে যখন গাইতে শুরু করে হিন্দি সুরে অনেকটা রিমিক্স করা বাজেরে বাজেরে ঢোল তখন জাতির বিবেক এই সব রবি ঠাকুরের ভক্তকূল কি হাড়িয়া গিলে ঘুমিয়ে গেছিল তা আমাদের জানার বিষয় না। উপরন্তু গানের সঙ্গে সঙ্গে নাইট ক্লাবের ঢঙে শুরু হয় উদ্যম নৃত্য আর ছেলেমেয়েদের ঢলাঢলি।

আপনারা যারা আমাদে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির বৈশাখী উৎসবকে গোড়ামির চোখে প্রত্যাখ্যান করার কথা বলে আসছেন বরাবর। তারা এটাকে কি বলবেন।

https://i0.wp.com/www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/puspita201104141302792316_MG_5353.jpg

প্রথম গানটি বাংলায় হলেও সুরের স্টাইল ছিল হিন্দি গানের যার পরে চমক আরো ছিল। ঠিক তার পর পর পোশাক পরিবর্তন করে হাটু সমান পোশাক উরুর একটু উপরে তুলে মঞ্চে উঠে তন্বী যখন গাইতে শুরু করে “মাই নেম ইজ শিলা, শিলা কি জাওয়ানি., আইম সো সেক্সি ফর ইউ ম্যায় তেরে হাত না আনি….. আমার মনে হয় কি তখন যারা আমাদের বৈশাখী অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেন তারা ছিলেন অনেকটা পিকনিক মুডে আর যারা একটু শুশীল সাজতে পছন্দ করেন তারা হয়তো বলবেন এটা ঠিক না। আমার প্রশ্ন রবি ঠাকুরের ওই সব ভক্তকুলের কাছে যারা আমাদের বৈশাখী অনুষ্ঠানকে একান্ত বাপদাদার সম্পত্তি মনে করেন । ইতিহাস ঐতিহ্যের বিশেষজ্ঞ বা আমাদের আবহমান গ্রাম বাঙলার সংস্কৃতিকে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে দিনের পর দিন রবীন্দ্র কেন্দ্রিক বৈশাখী অনুষ্ঠান সাজাতে ব্যস্ত আছেন আপনারা কেন এখন মুখে কুলুপ এটে বসে আছেণ।

আমার প্রশ্ন রবি ঠাকুরের ওই সব ভক্তকুলের কাছে যারা আমাদের বৈশাখী অনুষ্ঠানকে একান্ত বাপদাদার সম্পত্তি মনে করেন । ইতিহাস ঐতিহ্যের বিশেষজ্ঞ বা আমাদের আবহমান গ্রাম বাঙলার সংস্কৃতিকে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে দিনের পর দিন রবীন্দ্র কেন্দ্রিক বৈশাখী অনুষ্ঠান সাজাতে ব্যস্ত আছেন আপনারা কেন এখন মুখে কুলুপ এটে বসে আছেণ।

আসলে রবীন্দ্রনাথের রচনাবলী খুব সহজেই অল্প আয়েসে ঘরে বসে পাওয়া যায় তো তাই একে সুন্দর করে ফূলদানিতে সাজানো যায়। কিন্তু সত্যিকারের মাটি ও মানুষের সুর আর গ্রাম বাংলার মানুষের না পাওয়ার বেদনা আপনাদের গানে কতটুকু প্রতিফলিত এটা জাতি আজ জানতে চায়। আপনাদের নীরব ভূমিকাই তন্বীদের মতো এই ধরণের তরুণীদের ঠাই দিয়েছে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে। আর মিলা তিশমার দিনের পর দিন যতটা তাদের পোশাককে গোড়ালি থেকে কোমরের দিকে যতটা উপরে তুলছে ততই প্রগতিশীলদের বাহবা কুড়াচ্ছে। কিন্তু আমার বদ্ধমূল ধারণা আপনারা আসলে প্রগতিশীলতার ধারণাই ভুলতে বসেছেন। প্রগতির মানে কোন সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ না । বরঞ্চ নিজের সমাজ সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে এক ধাপ সামনে এগিয়ে যাওয়া।

কিন্তু আমার বদ্ধমূল ধারণা আপনারা আসলে প্রগতিশীলতার ধারণাই ভুলতে বসেছেন। প্রগতির মানে কোন সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ না । বরঞ্চ নিজের সমাজ সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে এক ধাপ সামনে এগিয়ে যাওয়া।

আমি একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে চেস্টা করি। আপনি পরেন ধুতি বা লুংগি । আপনি যদি পশ্চিমা অনুকরণে আন্ডার ওয়্যার পরে অর্ধেক লজ্জা ঢাকতে আর বাকিটুকু প্রকাশ করতে আগ্রহী হন তবে তা প্রগতি নয়। প্রগতি হবে তাই যেখানে আপনি ধুতি বা লূংগির কোন নতুন সংস্করণ বের করতে পারবেন।

আমার পোস্টের তথ্যসুত্র ।.।Click this link

১৯০৩ বার পঠিত |  ৬৩ টি মন্তব্য  
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s