স্বাধীনতার চার দশক পর বাংলাদেশের সাথে ভারতের বন্ধুত্ব আজ প্রশ্নবিদ্ধ (আজ ফারাক্কা দিবস)


https://i0.wp.com/www.amardeshonline.com/img/news/P1_Bhasani-2-jpg.jpg
মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চ পরবর্তি ঐতিহাসিক বক্তৃতা

কাটাতারে ঝুলন্ত অসহায় কিশোরী ফেলানীর লাশ ।দিনের পর দিন সীমান্তে এ দেশের মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যাকরা আর অশ্লীল বিনোদনে যুবসমাজকে বিভ্রান্ত ও উত্তেজিত করে ঘুনপোকার মতো বিবেককে বার বার দংশন করা এতো এই সময়ের প্রচলিত চালচিত্রের আংশিক দৃশ্যায়ন। তাদের মূল নাটক মঞ্চায়নের কাজটি হয়েছিল অনেক দিন আগে । কিন্তু আদের তথাকথিত বন্ধু যাদের সহায়তা না পেলে আমরা নাকি একাত্ত্বরে দেশের স্বাধীনতা পেতাম কিনা এই প্রশ্নে অনেক বুদ্ধিজীবি সন্দেহ পোষণ করেন। আসলে এই সকল বুদ্ধিজীবিদের কবে মতিভ্রম হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তর না খুজে
সহজে একটা কথা বলতে পারি তা হল এদের সুমতি কোনদিনই হবে না।

জাবিতে ভর্তি হওয়ার পর অনেকটা স্কুলের মতো ক্লাস হওয়ায় অনেকদিন বাড়ীতে যেতে পারি নাই। রাগে ক্ষোভে পড়ে অনেক জ্বর গায়ে নিয়ে এই পোস্ট যখন লিখছি তখনও একটি চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে কিভাবে বেলা সাড়ে নয়টার ক্লাসে অ্যাটেন করতে যাব। যাহোক এইতো কিছুদিন আগে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বাড়ীতে গেছিলাম আম্মার সাথে দেখা করতে ।

https://i1.wp.com/www.bangladeshinfo.com/news/photo/10_cracks.jpg
এককালের প্রমত্ত পদ্মা এখন মরুভূমি

আমার নিজ মায়ের সাথে দেখা করে যেমন আনন্দাশ্রু সংবরণ করতে পারি নি তেমনি। বাংলাদেশের এক মায়ের শুকনো চেহারা আর অসহায়ত্ব দেখে নিজের চোখ থেকে কখন দুফোটা জল টুপ করে দুগন্ড বেয়ে নেমে এসেছে তাও বুঝতে পারি নি।

বলছিলাম আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের কথা। তাদের পানি সমস্যা সৃষ্টির কথা। আসলে এরা আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু । একাত্তরে বন্ধুত্বের দাম মেটাতে গিয়ে এরা আমাদের রক্ত চুষে খাচ্ছে আজ। আমি এর সাথে শুধু বর্তমানে কিছুদিন আগে সংঘটিত দেশের পরিচিত মডেল প্রভা অপূর্বর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে তার ভিডিও চিত্র বাজারে ছেড়ে অনেকটা তোলপাড় তুলে তার প্রাক্তন বন্ধু রাজিব। আর আমাদের সাথে ভারতের বন্ধুত্ব যেন চিরস্থায়ী হয় তেমনি ওই ভিডিও ক্লিপের মতোই একটা নিদর্শন এই ফারাক্কা। এখন ওই ভিডিও চিত্র রেখেও রাজিব যেমন নিশ্চিত হতে পারেনি। তেমনি ভারতও আজ এক ফারাক্কাতে নিশ্চিত না হয়ে নতুন করে বন্ধুত্বের বন্ধন আরো দৃঢ় করতে এগিয়ে এসেছে টিপাইমুখের দাবি নিয়ে।

বাড়ী পাবানার পাকশীতে । আম্মা শত নিষেধ অগ্রাহ্য করে বন্ধুদের নিয়ে মোটর বাইকযোগে বেড়াতে গেছিলাম পদ্মার তীরে । কিন্তু অনেকক্ষন লাগলো নদীর পানি খুজেঁ পেতে কারন আজ আর সেই প্রবল প্রমত্তা পদ্মা নদী নাই । একে কোন খাল বললেও বোধকরি অতিরঞ্জন হবে না। তার বুকে আজ বাসা বেধেছে কাশবন আর খেক শিয়াল । তার বুক নির্মমভাবে চিরে সেখানে চাষ করা হচ্ছে আখ, সহ নানা ফসল।

আমি একবার আমার চোখ বন্ধ করেও অনেকটা দিব্য চোখে দেখতে পেলাম এ আর কিছুই নাফারাক্কায় আমাদের তথাকথিত দরদী রাষ্ট্র ভারতের নির্লজ্জভাবে পানি প্রত্যাহারের ফলে পানিশূন্য হয়ে সোনার বাংলাদেশ ধীরে ধীরে রাজস্থানের মরুভূমি হতে চলেছে তা স্পষ্টতো বোঝা যায় । আমাদের এই অকৃত্রিম বন্ধুরা কেবল সীমান্তের কাটাতারের বেড়ার কাছে ফেলানীর মতো দুই একটা হতভাগীদের হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত দেয়নি, এরা আমদের ভাতে মেরেছে নির্মম ভাবে পানিতে মারছে, পাশাপাশি আকাশ সংস্কৃতিতে এরা অনেকটা ঘোড়ার জিনের মতো আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে।

বন্ধুত্বের দাম মেটাতে অনেক মেয়ে যেমন তাদের সতীত্ব বিসর্জন দিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেনা তেমনি ভারতের সাথে আমাদের বন্ধুত্বের দাম চুকোতে গিয়ে আর কত প্রবল প্রমত্তা নদী শুকিয়ে মরুভূমি হবে, ফেলানীর মতো আর কতো অভাগীর প্রাণ অকালে ঝরে যাবে, ইয়াবা ফেন্সিডিলে আর কতো যুবক যুবতীর প্রাণ অকালে দুর্বিসহ হয়ে উঠবে এ সব ভাবতে ভাবতে অনেকটা অন্য জগতে চলে গেছিলাম তখন। আমার মনে শুধু একটা দুঃখই মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল তখন। কিন্তু অসহায় আমি কিছুতেই আমার মনকে প্রবোধ দিতে পারলাম না। কি আর করা আমি তো আমাদের দেশের সেই সব খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবিদের মতো নিজ স্বার্থে অন্যের পদলেহনে জীবন যৌবন সব কিছু বিসর্জন দিতে পারিনা।

রাগে আমার দুই হাত অনেকটা নিশপিশ করছিল সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো যাঁরা পাকি হানাদারদের বংশ নিপাত করেছিলেন। আমার দাদা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন ,অবিশ্যি তিনি আর দশ জনার মতো নিজের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে কখনই ব্যাবসায়িক মনোবৃত্তি দেখাতে উৎসাহী হননি। এই মহান মুক্তিযোদ্ধাকে কখনই কোন চাটুকারকে দেশের ব্ন্ধু বলে স্বীকার করে নিতে দেখিনাই। দাদার কাছে শোনা মুক্তিযুদ্ধের গল্পের মধ্যে ডুবে গিয়ে হয়তো এমন স্বপ্ন ও দেখতে শুরু করি মেজর জিয়ার মতো যদি কেউ সাহস দেখিয়ে ভারতকে শাসিয়ে বসে তবে আজকের যুব সমাজ যাদের ধমনীতে এখনো বইছে একাত্তরের সেই বীর সেনানীদেরই তাজা রক্ত তার কখনই চুপ থাকতোনা। আমরা যদি বায়ান্নতে পারি , উনসত্তর এ পারি তবে আজ কেন দেশের দুর্দিনে চুপ থাকবো। কেন যেন মনে হয় আমরা ভারতকে দেখিয়ে দিতে পারতাম বাছাধন কত ধানে কত চাল।

হোকনা আমাদের পারমানবিক বোমা নেই, জনবল আর প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় যদিও আমরা আজও পিছিয়ে আছি। কিছু না থাক আমাদের মুখ তো আছে । এই জঘন্য অন্যায় কাজের যদি মৌখিক প্রতিবাদ করি তবে কে আমার আপনার গলা টিপে ধরে। আমাদের মনে যে দীপ্ত সাহস আছে তা যদি একাত্তরে পাকি হানাদারদের নিপাত করতে পারে , তবে আজ কেন চুপ করে থাকা।

আমাদের দেশে বুদ্ধিকে উপজীব্য করে এক শ্রেণীর শুশীল নামধারী জন্তু যেখানে অপরের
পদযুগল লেহনে আত্নতুষ্টির পথ খুজে নিয়েছে তখন কিই বা আর বলার থাকে। তারা দেশের এক দিকে ক্ষতি করে অন্যদিকে নিজেদের অবস্থান দিনের পর দিন উন্নতি করে অনেকটা বাংলাদেশের ভাগ্যবিধাতার আসনে তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে। দেহ সৌষ্ঠব আর যৌবনের ঝলক ব্যবহার করে অর্থকড়ি উপার্জনকারী বারনণিতার সাথে আমি এই সব বুদ্ধির অপব্যবহারে নিজ অবস্থানে থেকে নিজের উদর পূর্তিকারী শুশীল সমাজের কোন মৌলিক পার্থক্য দেখিনা। আজকের বিবেক দ্বারা ধর্ষিত বুদ্ধিজীবিদের কাছে আমার প্রশ্ন এই বীর শহীদদের সাথে বেইমানি করে কেন এক সাজানো বন্ধুত্বকে সত্যি প্রমান করতে এই ছেলেখেলা করা হচ্ছে।অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে দিতে নিজেদের অবস্থান বারবনিতাতূল্য করার মাঝে কৃতিত্ব কোথায়। এভাবে আর কত দিন..।

কুষ্টিয়াতে গড়াই নদী বা কালিগাঙের যেখানে নৌকা চলবে, সেখানে বাঁশের সাঁকো যা দেয়া হয় খালে। ভারতের পানি রাজনীতির বিশেষত উজানে নির্লজ্জভাবে পানি প্রত্যাহার কারণে আমরা আমরা নদীতে সাঁকো দিতে বাধ্য হচ্ছি। পানির অভাবে উন্মত্ত পদ্মা শুকিয়ে আজ শুধু ধু-ধু বালুচর নিয়ে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে ।পদ্মার করুন অবস্থা গুগল ইমেজে দেখলে আশাকরি ভারতের দালাল বাদে দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকই বুঝতে পারবেন ।কিন্তু আমাদের বিবেক বিহীন শুশীল সমাজের এসব সাত পাঁচ বোঝার সময় কই।

আমরা চুক্তি করেছিলাম ,হয়েছিলাম আশাবাদী কিন্তু ফলাফল শূন্য । কি পেলাম আমরা । কোথায় পাওয়ার কথা পানি আমরা সেখানে পেলাম রাজস্থানের বালিয়াড়ির আদলে বিশাল বালুর চর । আশার আলো দেখেছিলাম ভারত রাজি হয়েছে তিস্তা নিয়ে বৈঠক করতে কিন্তু এবারও হতাশ হলাম ,আমরা ভারতের যেকোন ঘটনাতে একটা ঘটনাই লক্ষ্য করি জো হুকুম জাহাপনা । ভারতের আদেশ অলঙ্ঘনীয় । মাঝে মাঝে ভাবি আমরা কি স্বাধীন । না পাকিস্তানি তস্করদের হাত থেকে বিজয় ছিনিয়ে আনার পর আমরা ভারতের অধীনে গেছি ।

বিপ্লবী মেজর জলিল কেন বলেছিলেন অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা তা আজ বুঝি।আমি আমার বর্ণমালা ব্লগের একটি পোস্টে লিখেছিলাম স্বাধীনতার চার দশক পেরুলেও হতভাগা বাংগালী আজও বাংলাদেশী হতে পারেনি । আমি তখন বেশ ছোট থাকলেও আজ বুঝি আমার ওই উক্তি কতখানি সঠিক ছিল।

এ ধরনের পানি সমস্যা নিয়ে বৈঠক তো হয় মাঝে মধ্যে। ‘ফটোসেশন’-এর মধ্য দিয়ে ওই সব শেষ হয় ঠিক যেমনটি ঘটেছিল টিপাইমুখ পর্যবেক্ষক দলের বৃষ্টির অজুহাতে পরিদর্শন না করেই রাজধানীতে প্রত্যাবর্তনের ঘটনা। ঢাকা বৈঠকে কিন্তু আমরা ভারতকে ইছামতি নদীতে ড্রেজিং করার অনুমতি দিয়েছি। তাতে করে ভারতের চব্বিশ পরগনা জেলার বিশাল এলাকা ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। একই সঙ্গে আমরা রাজি হয়েছি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুমে সুপেয় পানির জন্য একটি শোধনাগার নির্মাণ করতে ফেনী নদী থেকে ভারতকে ১.৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার করে নেয়ার। এতে করে লাভবান কে হল? ভারত না বাংলাদেশ? ভারত তার প্রাপ্য আদায় করে নিল।

আমরা তিস্তার পানির ভাগ চাইলাম, বলা হল শীর্ষ পর্যায়ে এ ব্যাপারে কথা হবে। কথা তো হল। কিন্তু কোন সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আমরা আদায় করতে পারিনি। অথচ আমাদের জন্য তিস্তার পানিবণ্টনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৭ সালের আগ পর্যন্ত তিস্তা নদীই ছিল উত্তরবঙ্গের প্রধান নদী। কিন্তু পানি বণ্টনের ব্যাপারে ভারতের একগুঁয়েমি, ঢিলেমি ও হঠকারিতার ফলে তিস্তা এখন রুক্ষ হয়ে উঠেছে। নদীর তলদেশে অজস্র পাথর, নুড়ি, বালু আর পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে তিস্তার বুকজুড়ে এখন শুষ্ক মৌসুমে কেবল বালু আর বালু। অন্যদিকে বর্ষাকালে মূল গতিপথ বদলে তিস্তা প্রচণ্ডভাবে আছড়ে পড়ে দুই তীরে। ফলে নির্দয় ভাঙনে ফি বছর ২০ হাজার মানুষ বাড়িঘর, গাছপালা, আবাদি জমি হারিয়ে পথের ভিখারি হয়ে পড়েছে।১৯৮৫ সালে ভারত তিস্তার উৎসমুখে এবং তিস্তার ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের মাত্র ৬৫ কিলোমিটার উজানে গজলডোবা নামক স্থানে ব্যারেজ নির্মাণ করে। এর ফলে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পটি সেচ প্রদানে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ প্রকল্পের উপকৃত এলাকা ৭ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর। এ অঞ্চলে প্রবাহিত বুড়ি তিস্তা, যমুনেশ্বরী, দেওনাই, চাড়ালকাটা, বুড়িখোড়া, বাগযোগড়া, ঘাঘটের এখন দুঃসময়। এর প্রধান নদীগুলো নাব্যতা হারিয়ে এখন পানিশূন্য। ফলে এ অঞ্চলের প্রধান সেচনির্ভর ইরি-বোরো চাষাবাদ এখন হুমকির মুখে, যা কিনা আমাদের খাদ্য সংকটকে ঘনীভূত করছে এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মাঝে ঠেলে দিয়েছে।তিস্তা নদী এখন শুধু নামে আছে। পানি নেই বললেই চলে। ভরাট হয়ে গেছে ৬৫ কিলোমিটার নদী। আর তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লালমনিরহাট জেলার নদীতীরবর্তী ১২টি ইউনিয়ন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০ সালে এ অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে। উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালের জুলাই মাসে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টনে শতকরা ৩৬ ভাগ বাংলাদেশ, ৩৯ ভাগ ভারত ও ২৫ ভাগ নদীর জন্য সংরক্ষিত রাখার একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ তিস্তার পানির ৮০ ভাগ দু’দেশের মধ্যে বণ্টন করে ২০ ভাগ নদীর জন্য রেখে দেয়ার প্রস্তাব করেছিল।

কিন্তু ভারত সে প্রস্তাব গ্রহণ না করে উল্টো তিস্তার কমান্ড এরিয়া তাদের বেশি, এ রকম দাবি তুলে বাংলাদেশ তিস্তার পানির সমান ভাগ পেতে পারে না বলে যুক্তি দেখায়। শুধু তাই নয়, ভারত তিস্তা ব্যারেজের সেচ এলাকা কমিয়ে দ্বিতীয় প্রকল্প বাতিল করার জন্য বাংলাদেশের ওপর চাপ দেয় এবং সর্বশেষ এক চিঠিতে তিস্তার মাত্র ২০ ভাগ পানি ভাগাভাগি করার বিষয়টি জানিয়ে দিয়ে হঠকারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় । গত ৮ বছরে কর্ণফুলীতে পলি জমা হওয়ার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ গুণেরও বেশি। এর ফলে কর্ণফুলীর মোহনা থেকে উজানে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় প্রচুর ডুবোচরসহ নদীর দু’পাশে ছোট-বড় অনেক চর পড়তে শুরু করেছে।
নাব্যতা হারিয়ে তিস্তা এখন শুধুই বালুচর ।

নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় বর্তমানে দিনের বেশির ভাগ সময় ৩টি জনগুরুত্বপূর্ণ ঘাট দিয়ে নৌযোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় জাহাজ এখানে ভিড়তে পারে না। বাংলাদেশ নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ঝুঁকির পাশাপাশি বাংলাদেশ আজ আর্থিক ক্ষতি ও পরিবৈশিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন । আর ট্রানজিট সহ নানা বিষয় তুলে ঈদের আনন্দ মাটি করার ইচ্ছে আমার নাই ।

আমার ভাবতেও অবাক লাগে আমরা কেন বুঝিনা ত্রিশ লক্ষ্ প্রাণের দামে কেনা এই সোনার বাংলাদেশ কারো দয়া দাক্ষ্যিণের ফল না। এই দেশ স্বাধীন করত ত্রিশ লক্ষ শহীদের বুক থেকে ঝরে পড়া তাজা রক্তের সেই স্রোতধারা পদ্মা শুকিয়ে গিয়ে আজও যমুনা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, কর্ণফুলির পানিতে বহমান। বাতাসে এখনো একাত্তরের বীর শহীদের লাশের কটু গন্ধ মাঝে মাঝেই ভেসে আসে । টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া বেনাপোল থেকে তামাবিল এই স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন যেখানে যেখানে এদেশের বিবেক দ্বারা লাঞ্ছিত আমি বলবো বাস্তবতার হাতে ধর্ষিত শুশীল সমাজ চুপ
থাকলেও সদা প্রতিবাদী তরুণ প্রজন্ম চুপ থাকবেনা।
টিপাইমুখ বাধ নির্মান বন্ধে তরুনদের প্রতিবাদ ছিল অভাবনীয়

বন্ধুত্বের নামে দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়ার এই চক্রান্ত তারাই প্রতিহত করবে যারা বায়ান্নতে রাজপথে নিজের তাজা রক্তে পিচের পাষাণ রঞ্চিত করেছিল তবুও মায়ের সাথে বেইমানি করেনি। একাত্তরে নদীর স্রোতধারা এদের রক্তে লালে লাল হয়েছিল তবুও তারা সোনার বাংলাদেশের সাথে বেইমানি করেনি। দেশের বিরুদ্ধে দানা বাঁধা সকল ষড়যন্ত্র কে রুখে দাড়ানোর সময় এখনি । বোধকরি তা না হলে ত্রিশ লক্ষ্য শহীদের রক্ত আজ বৃথা যাবে। যা আমাদের স্বাধীন দেশের একটি নাগরিকের ও কাম্য নয়। দেশের আপামর জনতার প্রান সংহারের প্রশ্ন যেখানে সেখানে কোন ইস্যু নয় কোন লাভ লোকসান বা রাজনৈতিক মতাদর্শে দোহাই দেওয়ার সুযোগ নেই রুখে দাড়াতে হবে সবাই মিলে একসাথে । দেশ আমার আপনার সবার । দেশের এই করুন সংকটে এক হতে হবে আমার আপনার সবাইকে। তবেই মুখে নয় কাজে কর্মে আর বাস্তবতায় এক সোনার বাংলার স্বপ্ন সার্থক করা সম্ভব হবে।
 By
Md. Adnan Arif Salim Aurnab
Archaeology of Humankind

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s