তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু আবার হরতাল ও কিছু সাম্প্রতিক ভাবনা


তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু আবার হরতাল ও কিছু সাম্প্রতিক ভাবনা

আমার বর্ণমালা ব্লগের পোস্ট
সোনারবাংলাদেশ ব্লগের পোস্ট
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন পুরো পোশাক ভিজে চুপসে আছে। আসলে আমি কোন বাচ্চাদের হিসু করার কথা বলিনি। বলছি দেশের আমজনতার সাধারণ চিত্রের কথা। আমাদের দেশে তো এখন বিদ্যুত যায়না মাঝে আসে। এই হটাৎ করে বিদ্যুত আসাতে হয়তো কেউ খুশি মনে কিছুক্ষন ঘুম দিয়েছেন আর ভোর রাতে কিংবা সকালের দিকেই তার সমুচিত জবাব পেয়েছেন।
ঘাড়ে প্রচন্ড ব্যাথা, কথা বলতে কষ্ট হয়, গলাটা অস্বাভাবিকভাবে দেবে গেছে, ভাবলেন এককাপ কফি খাবেন পকেটে হাত দিয়ে দেখেন কোন খুচরা টাকা-পয়সাই নেই। থাকবে কেমনে তেল গ্যসের দাম বাড়ানোর পর বাসের ভাড়া বেড়েছে। সথে একটার কিনলে একটা ফ্রি হিসেবে যুক্ত হয়েছে প্রতিদিনের রুটিন ঝগড়া আর ক্যাচাল। সেই সাথে নতুন করে বাসভাড়া বাড়ানোর সাথে সাথে মহাসড়কগুলোথেকে কেমন করে যানবাহনগুলো ভোজবাজির মতো গায়েব হয়ে গেছে। বাসের হ্যান্ডেলে বান্দরের মতো ঝুলতে ঝুলতে এসে কিংবা ভিতরে চিড়ে চ্যাপ্টা হয়ে দাড়ালে আপনার ঘাড়ে ব্যাথা তো হবেই। আর পেশাদার ঝগড়াটে বাস কন্ডাকটার আর হেল্পারদের সাথে একটু পাল্লাদিলে গলা তো ভাংবেই। ভাববেননা আদা দিয়ে এক কাপ চা খেলেই ঠিক হয়ে যাবে। কারণ আপনি নিজেও জানেন না রাজধানীর জ্যাম পাড়ি দিয়ে কখন আপনি বাসার দেখা পাবেন। আসার গেলেই আপনি কিভাবে ভাবলেন আপনার বাসার চুলাতে গ্যাস আছে আর লাইনে পানি আছে। না আপনাকে এসব ভাবার কোন সময় নাই। কারন এখন আমি আপনি বাস করছি এক ডিজিটাল যুগে । যেখানে সবাই এক একটি রোবট। এই রোবটদের জীবনে কোন আরাম বিরাম নেই, নেই কোন সাধ আহলাদ, নেই কোন চাওয়া পাওয়ার মূল্য। শুধু এরা দ্বিদলীয় স্বৈরাচার তন্ত্রের কুশীলবদের হাতে নির্যাতিত হওয়ার জন্যই জম্নেছে। ভাবলাম ডিজিটাল দেশের মানুষ ডিজিটাল হবে কিন্তু তাদেরকে রোবট ভেবে যাচ্ছেতাই অবস্থানে ঠেলে দেয়া হবে এমনটা কেউ ভাবেনি। দেশের গনতন্ত্র হত্যকারী নপুংশক ফখরুদ্দীন মইনুদ্দিন ও তার চেলাদের হটানোর আশায় দেশে একটা নির্বাচিত সরকারের চেহারা দেখে ওই অবাঞ্চিত প্রশাসনের হাত থেকে শাপমুক্তির প্রত্যাশায় জনগণ যে প্রমান গুণছিল আজ কি তা আবার ১ থেকে শুরু করতে হবে নাকি এই বিষয়ে মনে হয় জল্পনা কল্পনা শুরু হয়ে গেছে।

https://i2.wp.com/i344.photobucket.com/albums/p352/watchdog_bd/khoyrul.jpg

যাহোক মানুষের রোবটিকরণের কেচ্ছাবাদ দেই এই এখন এই রোবটদের নিয়ে তৈরী একটু নতুন প্রোগ্রামের দিকে নজর দেই। তা হচ্ছে তত্ত্বাবধায়কসরকার ইস্যু।
তত্ত্ববধায়ক সরকারের প্রশ্নে প্রধান দুটি দলের অবস্থান এখন স্বভাবসুলভভাবেই পরস্পরবিরোধী। আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো একদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে বলছেন অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার পক্ষে কথা বলছে। কিন্তু সকল সমস্যার অবসান এখানেই হচ্ছে না ,তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখা হলে ৫৮গ(৩) ধারা মতে সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকই হবেন প্রধান উপদেষ্টা যার ব্যাপারে বেগম জিয়া তথা বিএনপির রয়েছে প্রবল আপত্তি। বি এনপির মতে তিনি দুই-দুইবার জেষ্ঠতা লংঘন করে তার উপরের কর্তাব্যক্তিদের ডিঙিয়ে প্রধান বিচারপতি হয়েছেন। উপরন্তু তার দেয়া সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত রায় এবং বেগম জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি সংক্রান্ত রায় তাকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। পরিস্থির দায় মেটাতে বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করলেই চলবে না, বরং দলটিকে একটি বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করতে হবে নতুবা রাজপথে সরগরম করে করে তুলতে হবে যা অনেকটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অংগনের নির্মম বাস্তবতা । আর বি এন পি যদি নতুন কোন প্রস্তাব দেয়ও তা থেকে ফলাফল যে মস্ত বড় একটা শূন্য হবে তা দেশের সবাই জানেন।
তবে এই ইস্যুতে হরতাল দিয়ে নতুন করে যে ‘রাজনীতি’ শুরু হল, তাতে করে আগামীতে দেশে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে এ কথা অনেকটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। বি এন পি যদি লাগাতার হরতালে পথ বেছে নেয় তখন এই ডিজিটাল দেশের প্রায় সব ডিজিটের নবই ভেঙে পড়বে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এতে সরকার বা বিরোধী দল যারই স্বার্থ হাসিল হোক ভোগান্তিতে পড়বে এই একমাত্র শ্রেণী ‌‌” হতভাগ্য জনগণ” । এমন একটা সময়ে এসে লাগাতার হরতালে কথা বলে বলে বি এন পি চোখ রাঙাচ্ছে যখন সরকারের বয়স রয়েছে আরও প্রায় ৩২ মাস যেটা বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোন ক্রমেই ছোট হওয়ার নয়। কারন এটা সেই দেশ যেখানে রাজনীতি চলে দুটো প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনে আর জনগণ যেখানে নীরব দর্শক। অনেকটা এমন জনগণ একটা লন টেনিস বলের মতো তাদের যতো খুশি পেটায় দুই রাজনৈতিক দল। এই দীর্ঘ পরিসরের ক্ষমতার মেয়াদ আর হরতালের যোগসুত্র থেকে দেশের সামনের শ্রেনীর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের আশংকা করছেন অনেক আগে থেকেই। দুটি বড় দলের মাঝে জাতীয় ইস্যুতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হলে তা সংকটকে আরও গভীরতর করবে যা বলার অপেক্ষা রাখেনা । বিগত ৫ মে’র হরতাল একটা দাবিকে অনেকটা ছাইচাপা আগুনের মতো উষ্কে দিয়েছে আর পরিণতি কোথায় দাঁড়ায় তা দেখার অপেক্ষামাত্র ।

পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী যে মন্তব্যটি করলেন, তা তার সরকারের বক্তব্য বলে ধরে নেয়া ভিন্ন দ্বিতীয় কোন পথ থাকছে না । এই ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রশ্ন থেকেই যায় । তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিপন্থী এটা অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে এই ‍‌”’গণতন্ত্র”’ শব্দটি যেভাবে হাস্যকর হয়ে উঠছে , তার সঙ্গে উন্নত বিশ্বের গণতন্ত্রকে মেলানো যাবে না। উন্নয়নশীল বিশ্বের গণতন্ত্রের ভিতকে আরও শক্তিশালী করার জন্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো একটি ব্যবস্থা থাকা উচিত, যার মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। আর বাংলাদেশের মতো দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ এই কথা বলা বিচিত্র হবে না।
প্রধানমন্ত্রী যখন সংবাদ সম্মেলন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার কথা জানালেন তখন সবাই অনেক সহজেই মনে করতে পেরেছেন ১৯৯৪-৯৬ সালে তিনিই ছিলেন এর প্রবক্তা। ওই সময় আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে জনমত গড়ে তুলেছিল। সংবিধান অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীন বিএনপি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করেছিল বটে, কিন্তু আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচন বয়কট করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর নিশ্চয়ই এসব ভুলে যাওয়ার কথা নয়।
আওয়ামী লীগের চাপের মুখেই ষষ্ঠ সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, যা কিনা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী নামে অভিহিত। সেদিন বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে সবাই স্বাগত জানিয়েছিল। আওয়ামী লীগ সেদিন এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেনি। বরং সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, যা কিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারও গঠন করেছিল। গেল ১৪ বছরে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে কোনো বড় ধরনের বিতর্ক হয়নি। ২০০৭ সালে ওই ফখরুদ্দীন- মইনুদ্দিন সংকটের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে যে বিতর্ক, তার প্রেক্ষাপট অবশ্যই ভিন্ন ছিল ।

ইতিহাস বিবেচনা করলে এদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ৩টি নির্বাচন হয়েছে। সপ্তম, অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এসব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতাও পেয়েছে। আজ যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের কথা বলছেন, তারাই ১৯৯৪-৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সপক্ষে সোচ্চার ছিলেন সবচেয়ে বেশি। যদি উচ্চ আদালতের রায় অনুসরণ করেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করতে হয়, তাহলে উচ্চ আদালতের সুপারিশও গ্রহণ করা যেতে পারে। অর্থাত্ পরবর্তী দু-দুটো নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় আয়োজন করা। এই সুপারিশ গ্রহণ করা না হলে, সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই।

কেন এদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকা দরকার তার আগে আমাদের কিছু বিষযের দিকে নজর দিতে হবে। স্বাধীনতার চার দশক পেরুলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আসেনি, যাতে করে দলীয় সরকারের আওতায় আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারি। ভোলার উপনির্বাচনের দৃষ্টান্ত আমাদের সম্মুখে আছে। কী হয়েছিল ভোলার উপনির্বাচনে, একথা নিশ্চয়ই আমাদের সবার মনে আছে। গত ২৪ এপ্রিল, ২০১০ এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছিল কিনা আসুন সংবাদপত্রগুলোর মন্তব্যের দিকে চোখ বুলাই। ‘ভোলায় কেন্দ্র দখলের মহোত্সব’ এই মন্তব্য করেছিল নয়াদিগন্ত। প্রথম আলো লিখেছিল, ‘ভোটারদের পথে পথে বাধা। ভোটকেন্দ্রের বাইরে ও আশপাশে ভোটারদের বাধা দেয়া, হামলা এবং কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে’। মানবজমিন বলেছে, ‘ব্যাপক সহিংসতা, জাল ভোট, এজেন্টদের পিটিয়ে বুথ থেকে বের করে দেয়া ও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়ার মধ্য দিয়ে ভোলা-৩ আসনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে’। ইত্তেফাকের মন্তব্য ছিল এ রকম, ‘কোনো কোনো কেন্দ্র থেকে বিএনপি এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। বিএনপি কর্মীদের কুপিয়ে জখম করা হয়। জালভোট দেয়া হয়েছে’। অন্যান্য পত্রিকার মন্তব্যগুলো আর উল্লেখ করলাম না। এসব মন্তব্য আমাদের কী ইঙ্গিত দেয়? ইঙ্গিত দেয় একটাই—আমাদের রাজনীতিবিদদের মনমানসিকতায় আদৌ কোনো পরিবর্তন আসেনি। যেখানে ভোলার উপনির্বাচন আমরা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে পারলাম না, সেখানে দলীয় সরকারের আওতায় জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করি কীভাবে?
দ্বিতীয়ত, গণতন্ত্রের স্বার্থে পৃথিবীর অনেক দেশে এমন সব সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যা সংবিধান পরিপন্থী। কিন্তু ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা ও একটি গ্রহণযোগ্য সমাজব্যবস্থা উপহার দেয়ার স্বার্থেই সংবিধান বহির্ভূত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দৃষ্টান্ত কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ে। এ দুটি দেশের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর কোনো পদ ছিল না। কিন্তু ব্যাপক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ফলে সেখানে গণতন্ত্র নতুন একটি মাত্রা পেয়েছে। বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করে আমরা বিকাশমান গণতন্ত্রকে নতুন একটি মাত্রা দিয়েছিলাম। তাই তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে নতুন করে ভাবার সময় এখনো আছে। সংঘাতময় রাজনীতি আমাদের কারোই কাম্য নয়।

দ্বিতীয়ত, গণতন্ত্রের স্বার্থে পৃথিবীর অনেক দেশে এমন সব সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যা সংবিধান পরিপন্থী। কিন্তু ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা ও একটি গ্রহণযোগ্য সমাজব্যবস্থা উপহার দেয়ার স্বার্থেই সংবিধান বহির্ভূত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দৃষ্টান্ত কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ে। এ দুটি দেশের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর কোনো পদ ছিল না। কিন্তু ব্যাপক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ফলে সেখানে গণতন্ত্র নতুন একটি মাত্রা পেয়েছে। বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করে আমরা বিকাশমান গণতন্ত্রকে নতুন একটি মাত্রা দিয়েছিলাম।

[m]ইতোপূর্বে আমরা দেখেছি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি সহ প্রায় সকল দলের অংশগ্রহনে অভিন্ন কর্মসূচি হিসেবে ’৯৪, ’৯৫ ও ’৯৬ সালে ডাকা হরতাল, অবরোধ এবং অসহযোগের ঘটনাগুলো। আন্দোলনে উত্তাল বিভীষিকাময় সেই দিনগুলো যেন দেশের উন্নয়নের গতিকে অনেকটাই রুদ্ধ করে দিয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে নতুন করে ভাবার সময় এখনো আছে। সংঘাতময় রাজনীতি আমাদের কারোই কাম্য নয়। স্বাধীন দেশে শান্তিতে বসবাস সবার প্রাণের দাবি। [m]

এখন আমি পত্রিকার পাতা থেকে সেই সময়ের আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছি। যার মাধ্যমে সহজেই বোঝা সম্ভব হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু কোন সাধারণ ইস্যু নয়।

১৯৯৪ সাল : ২৬ এপ্রিল ( হরতাল), ১০ সেপ্টেম্বর (অবরোধ), ১১, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর (হরতাল), ২৭ সেপ্টেম্বর (অবরোধ), ৩০ নভেম্বর (অবরোধ), ৭ ও ৮ ডিসেম্বর (হরতাল), ২৪ ডিসেম্বর (অবরোধ), ২৯ ডিসেম্বর (অবরোধ)।
১৯৯৫ সাল : ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি (হরতাল), ১৯ জানুয়ারি (অবরোধ), ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি (হরতাল), ১২ ও ১৩ মার্চ (লাগাতার ৪৮ ঘণ্টা হরতাল), ২৮ মার্চ (ঢাকা অবরোধ), ৯ এপ্রিল (৫ বিভাগে হরতাল), ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর (লাগাতার ৩২ ঘণ্টা হরতাল), ৬ সেপ্টেম্বর (সকাল-সন্ধ্যা হরতাল), ১৬, ১৭, ১৮ সেপ্টেম্বর (লাগাতার ৭২ ঘণ্টা হরতাল), ৭ এবং ৮ অক্টোবর (পাঁচ বিভাগে লাগাতার ৩২ ঘণ্টা হরতাল), ১৬, ১৭, ১৮ এবং ১৯ অক্টোবর (লাগাতার ৯৬ ঘণ্টা হরতাল), ৬ নভেম্বর (ঢাকা অবরোধ), ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ এবং ১৬ নভেম্বর ( প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল), ৯, ১০ এবং ১১ ডিসেম্বর (লাগাতার ৭২ ঘণ্টা হরতাল), ১৭ ডিসেম্বর (সকাল-সন্ধ্যা হরতাল), ৩০ ডিসেম্বর (দেশব্যাপী অবরোধ)।
১৯৯৬ সাল : ৩ ও ৪ জানুয়ারি (লাগাতার ৪৮ ঘণ্টা হরতাল), ৮ ও ৯ জানুয়ারি (লাগাতার ৪৮ ঘণ্টা হরতাল), ১৭ জানুয়ারি (সকাল-সন্ধ্যা হরতাল), ২৪ জানুয়ারি (সিলেটে ১১ ঘণ্টা হরতাল), ২৭ জানুয়ারি (খুলনায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল), ২৮ জানুয়ারি (খুলনায় অর্ধদিবস হরতাল), ২৯ জানুয়ারি (ঢাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল), ৩০ জানুয়ারি (চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল), ১ ফেব্রুয়ারি (বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হরতাল), ৩ ফেব্রুয়ারি (অর্ধদিবস হরতাল), ৭ ফেব্রুয়ারি ফেনীতে (সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত হরতাল), ৮ ফেব্রুয়ারি (ফেনীতে হরতাল), ১০ ফেব্রুয়ারি (রাজশাহীতে হরতাল), ১১ ফেব্রুয়ারি (সিরাজগঞ্জে হরতাল), ১৩ ফেব্রুয়ারি (দেশব্যাপী অবরোধ), ১৪ এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি (দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টা লাগাতার হরতাল), ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি লাগাতার অসহযোগ), ৯ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত লাগাতার ২২ দিন অসহযোগ।

তারপর এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এরপর এক এগারোর কলঙ্কিত দিন। তার আজকের এই বিতর্ক । আফসোস একটাই বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেশ স্বাধীনকরার পরেও আজ স্বাধীনতার চার দশক পার করেও দেশের জনগন একটু স্বস্বির সাথে স্বাধীনতার সুবাতাস উপভোগ করতে পারলো না।
Archaeology Of Humankind
মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
শিক্ষার্থী, প্রত্নতত্ব বিভাগ , জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s