জাফর ইকবাল স্যারের সায়েন্স ফিকশন।

Muhammed_Zafar_Iqbal_at_Borno_Mela,_Dhanmondiআমরা এক কথায় নির্দ্বিধায় বলতে পারি জাফর ইকবাল স্যার বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী রচনায় একজন কিংবদন্তীর নাম। আমরা সবাই তার লেখগুলোকে পছন্দ করি। উইকিপিডিয়া বলছে স্যার জাফর ইকবালের জন্ম ডিসেম্বর ২৩, ১৯৫২, সিলেট

তাঁর পিতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমদের পুলিশের চাকরির সুবাদে তার ছোটবেলা কেটেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায়। পিতার লেখালেখির চর্চা করতেন এবং পরিবারের এই সাহিত্যমনস্ক আবহাওয়ায় জাফর ইকবাল খুব অল্প বয়স থেকেই লিখতে শুরু করেন। এটিকেই তিনি তার সহজ ভাষায় লিখতে পারার গুণের কারণ বলে মনে করেন। তিনি তার প্রথম বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখেন সাত বছর বয়সে। ১৯৭১ সালের ৫ মার্চ পাকিস্তানী আর্মি এক নদীর ধারে তার দেশপ্রেমিক পিতাকে গুলি করে হত্যা করে। বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া জাফর ইকবালকে পিতার কবর খুঁড়ে তার মাকে স্বামীর মৃত্যুর ব্যাপারটি বিশ্বাস করাতে হয়েছিল। জাফর ইকবাল ১৯৬৮ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৭০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। তিনি ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৭৬ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান এবং সেখানে পিএইচ.ডি করার পর সুবিখ্যাত ক্যালটেক থেকে তার ডক্টরেট-উত্তর গবেষণা সম্পন্ন করেন।

Continue reading জাফর ইকবাল স্যারের সায়েন্স ফিকশন।

সহজেই জানুন বিশ্বসেরা ১০০ টি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে

আসলে আমরা যারা নেট ব্যবহার করি । গুগল মামার দৌলতে এই পোস্টটে অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হয়। এই ক্ষেত্রে আমি শুধু তাদের বলবো নামগুলো তো জানা গেল। আর নাম যেহেতু দেয়া হচ্ছে সাথে তাদের পরিচয় সম্পর্কিত ওয়েব ঠিকানা দিলে ক্ষতি কি ??
আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সাথে ওয়েবসাইটের ঠিকানাগুলো থেকে সহজেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে জেনে নিতে পারবেন। যাক কথা না বাড়িয়ে সরাসারি আপনাদের জন্য তুলে ধরছি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ।
1. Harvard University
http://www.harvard.edu
2. Stanford University
http://www.stanford.edu
3. Yale University
http://www.yale.edu
4. California Institute of Technology
http://www.caltech.edu
5. University of California at Berkeley
http://www.berkeley.edu
6. University of Cambridge
http://www.cam.ac.uk
7. Massachusetts Institute Technology
http://web.mit.edu
8. Oxford University
http://www.ox.ac.uk
9. University of California at San Francisco
http://www.ucsf.edu
10. Columbia University
http://www.columbia.edu
11. University of Michigan at Ann Arbor
http://www.umich.edu
12. University of California at Los Angeles
http://www.ucla.edu
13. University of Pennsylvania
http://www.upenn.edu
14. Duke University
http://www.duke.edu
15. Princeton Universitty
http://www.princeton.edu
16. Tokyo University
http://www.u-tokyo.ac.jp
17. Imperial College London
www3.imperial.ac.uk
18. University of Toronto
http://www.utoronto.ca
19. Cornell University
http://www.cornell.edu
20. University of Chicago
http://www.uchicago.edu
21. Swiss Federal Institute of Technology in Zurich
http://www.ethz.ch
22. University of Washington at Seattle
http://www.washington.edu
23. University of California at San Diego
http://www.ucsd.edu
24. Johns Hopkins University
http://www.jhu.edu
25. University College London
http://www.ucl.ac.uk
26. Swiss Federal Institute of Technology in Lausanne
http://www.epfl.ch
27. University Texas at Austin
http://www.utexas.edu
28. University of Wisconsin at Madison ,www.wisc.edu
29. Kyoto University
http://www.kyoto-u.ac.jp
30. University of Minnesota Twin Cities ,www.umn.edu

31. University of British Columbia
http://www.ubc.ca
32. University of Geneva
http://www.unige.ch
33. Washington University in St. Louis
http://www.wustl.edu
34. London School of Economics
http://www.lse.ac.uk
35. Northwestern University
http://www.northwestern.edu
36. National University of Singapore
http://www.nus.edu.sg
37. University of Pittsburgh
http://www.pitt.edu
38. Australian National University
http://www.anu.edu.au
39. New York University
http://www.nyu.edu
40. Pennsylvania State University
http://www.psu.edu
41. University of North Carolina at Chapel Hill ,www.unc.edu
42. McGill University
http://www.mcgill.ca
43. Ecole Polytechnique
http://www.polytechnique.fr
44. University of Basel
http://www.unibas.ch
45. University of Maryland
http://www.umd.edu
46. University of Zurich
http://www.unizh.ch
47. University of Edinburgh
http://www.ed.ac.uk
48. University of Illinois at Urbana Champaign, http://www.uiuc.edu
49. University of Bristol
http://www.uiuc.edu
50. University of Sydney
http://www.usyd.edu.au
51. University of Colorado at Boulder
http://www.colorado.edu
52. Utrecht University
http://www.uu.nl
53. University of Melbourne
http://www.unimelb.edu.au
54. University of Southern California
http://www.usc.edu
55. University of Alberta
http://www.ualberta.ca
56. Brown University
http://www.brown.edu
57. Osaka University
http://www.osaka-u.ac.jp
58. University of Manchester
http://www.manchester.ac.uk
59. University of California at Santa Barbara
http://www.ucsb.edu
60. Hong Kong University of Science and Technology
http://www.ust.hk
61. Wageningen University
http://www.wau.nl
62. Michigan State University
http://www.msu.edu
63. University of Munich
http://www.uni-muenchen.de
64. University of New South Wales
http://www.unsw.edu.au
65. Boston University
http://www.bu.edu
66. Vanderbilt University
http://www.vanderbilt.edu
67. University of Rochester
http://www.rochester.edu
68. Tohoku University
http://www.tohoku.ac.jp
69. University of Hong Kong
http://www.hku.hk
70. University of Sheffield
http://www.shef.ac.uk
71. Nanyang Technological University
http://www.ntu.edu.sg
72. University of Vienna
http://www.univie.ac.at
73. Monash University
http://www.monash.edu.au
74. University of Nottingham
http://www.nottingham.ac.uk
75. Carnegie Mellon University
http://www.cmu.edu
76. Lund University
http://www.lu.se
77. Texas A&M University
http://www.tamu.edu
78. University of Western Australia
http://www.uwa.edu.au
79. Ecole Normale Super Paris
http://www.ens.fr
80. University of Virginia
http://www.virginia.edu
81. Technical University of Munich
http://www.tum.de
82. Hebrew University of Jerusalem
http://www.huji.ac.il
83. Leiden University
http://www.leiden.edu
84. University of Waterloo
http://www.uwaterloo.ca
85. King’s College London
http://www.kcl.ac.uk
86. Purdue University
http://www.purdue.edu
87. University of Birmingham
http://www.bham.ac.uk
88. Uppsala University
http://www.uu.se
89. University of Amsterdam
http://www.uva.nl
90. University of Heidelberg
http://www.uni-heidelberg.de
91. University of Queensland
http://www.uq.edu.au
92. University of Leuven
http://www.kuleuven.ac.be
93. Emory University
http://www.emory.edu
94. Nagoya University
http://www.nagoya-u.ac.jp
95. Case Western Reserve University
http://www.case.edu
96. Chinese University of Hong Kong
http://www.cuhk.edu.hk
97. University of Newcastle
http://www.newcastle.edu.au
98. Innsbruck University
http://www.uibk.ac.at
99. University of Massachusetts at Amherst,
http://www.umass.edu
100. Sussex University
http://www.sussex.ac.uk’

যে কারণে মোবাইলে মিথ্যা কথা বলা ঠিক না।

আমাদের প্রত্যেকেরই কম বেশি বদভ্যাস আছে। অনেককেই দেখা যায় বান্ধবীর সাথে পার্কে চুটিয়ে প্রেম করছে। হটাৎ আম্মুর ফোন । তুমি কোথায় সোজাসুজি উত্তর। বাসার কাছে। কিন্তু তাদের জন্য দুঃসংবাদ । তাদের যদি একটি জাঁদরেল বড় ভাই থাকে। সে তখন যদি এই অকাজটা কারে তখন কি হবে।
উনি তখণ আপনার মোবাইল ফোন নম্বরটা ফোনবুক থেকে নিবেন। পিস্টি স্টার্ট করবেন । তারপর এই সাইটটিতে যাবেন।  দেশ যদি বাংলাদেশ সিলেক্ট করা থাকে ভাল । নাহলে দেশ বাংলাদেশ সিলেক্ট করে। ফোন নম্বরটি যথাস্থানে দিয়ে শুরু হবে Scearching . আর ওই ভাইয়াও ঠিক ঠাক তার লোকেশন বের করতে পারবে।

ভাল লাগা না লাগার হুমায়ুন আহমেদঃ তার কিছু প্রকাশনা চাইলে ডাউনলোড করে পড়তে পারেন। বাজে কাজে টাকা নষ্ট করা মানে হয় না।

একমাত্র লুলামিকে উপজীব্য করে যখন কাহিনী আবর্তিত হয় সেটিও অনেক সহজেই পাঠকপ্রিয়তা পেতে পারে। তার উজ্জল উদাহরণ সৃস্টি করেছেন আমাদের হুমায়ুন আহমেদ। স্যার শব্দটি আর উচ্চারণ করছি না । তাতে অনেক মাইণ্ড খাইতে পারেন। একজন শিক্ষক বলতে যা বুঝায় তা তো আসলে উনার জাতের সাথে জায় না। উনি গুনি মানুষ তিল থেকে টেনে লম্বা করে তাল করে প্রায় একশ পেজ ভরে একটা বই লিখতে পারেন। উনি পারেন একটা ঘটনাকে নিমিয়ে একটা নাটকে রূপ দিতে। একমাত্র পিপাড়া খাওয়া, কিংবা স্ত্রীর জানালায় দাড়িয়ে থাকাই  ফুলে ফেপে হয়ে গেল জাম্বো সাইজের একটা উপন্যাস। 
এটা তিনি পারেন তাইতো উইকি তাকে বলছে  ছাত্র জীবনে একটি নাতিদীর্ঘ উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যজীবনের শুরু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহসীন হল-এর অধিবাসী ছাত্র হুমায়ূন আহমেদের এই উপন্যাসটির নাম নন্দিত নরকে১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে উপন্যাসটি প্রকাশ করা সম্ভব হয় নি।

১৯৭২-এ কবি-সাহিত্যিক আহমদ ছফার উদ্যোগে উপন্যাসটি খান ব্রাদার্স কর্তৃক গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রখ্যাত বাঙলা ভাষাশাস্ত্র পণ্ডিত আহমদ শরীফ স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে এ গ্রন্থটির ভূমিকা লিখে দিলে সবার মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। শঙ্খনীল কারাগার তাঁর ২য় গ্রন্থ। এ পর্যন্ত (২০০৯) তিনি দুই শতাধিক গল্পগ্রন্থ ও উপন্যাস প্রকাশনা করেছেন। তাঁর রচনার প্রধান কয়েকটি বৈশিষ্টের মধ্যে অন্যতম হলো ‘গল্প-সমৃদ্ধি’। এছাড়া তিনি অনায়াসে ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে অতিবাস্তব ঘটনাবলীর অবতারণা করেন যাকে একরূপ যাদু বাস্তবতা হিসেবে গণ্য করা যায়। তাঁর গল্প ও উপন্যাস সংলাপপ্রধান। তাঁর বর্ণনা পরিমিত এবং সামান্য পরিসরে কয়েকটি মাত্র বাক্যের মাধ্যমে চরিত্র চিত্রণের অদৃষ্টপূর্ব প্রতিভা তাঁর রয়েছে। যদিও সমাজসচেতনতার অভাব নেই তবু লক্ষ্যণীয় যে তাঁর রচনায় রাজনৈতিক প্রণোদনা অনুপস্থিত। সকল রচনাতেই একটি প্রগাঢ় শুভবোধ ক্রীয়াশীল থাকে ; ফলে ‘ভিলেইন’ চরিত্রও তাঁর লেখনীতে লাভ করে দরদী রূপায়ণ। অনেক রচনার মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং উপলব্ধির প্রচ্ছাপ লক্ষ্য করা যায়। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস মধ্যাহ্ন তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে পরিগণিত। এছাড়া জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প আরেকটি বড় মাপের রচনা যা কি-না ১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তযুদ্ধ অবলম্বন করে রচিত। তবে সাধারণত তিনি সমসাময়িক ঘটনাবলী নিয়ে লিখে থাকেন। তাঁর গল্প সংগ্রহ ১৯৭১ বাংলা ছোটগল্প জগতে একটি নতুন দিগন্ত বলে গণ্য হয়। গল্প তৈরীতে তাঁর প্রতিভা তুলনা রহিত।

যাহোক কথা বাড়াবো না । 

প্রথমে এক সময় আমার  ভাললাগা কিছু বই।

1. ১৯৭১ (Jan,1993)
2. শ্যামল ছায়া (May,2003)
3. অণিল বাগচীর একদিন (April,1994)
4. জোৎস্না ও জীবনের গল্প (Jun,2004)
5. শঙ্খনীল কারাগার 
6. নন্দিত নরকে

মিসির আলী সমগ্র

7. Debi (Jun,2004)
8. Nishithini (Mar,2004)
9. Nishad (Jun,2004)
10. Onish (Mar,2005)
11. Brihonnola (Jan.2004)
12. Bipod (Apr,2004)
13. Ami Ebong Amra (Jan,2004)
14. Hartan Ishkapon
15. Tondra Bilash (May,2005)
16. Ami E Misir Ali (May,2004)
17. Kohen Kabi Kalidash (Feb,2005)
18. Bhoy (Story Collection) (Jan,2005)
19. Bagh-Bondi Misir Ali (Jun,2001)
20. Misir Ali’r Choshma (2008) (Jan,2003)
21. Onno Bhuban (The Other World) (Jun,1994)
22. Misir Alir Omimangshito Rohoshsho (Jan,2003)
23. Misir Ali Apni Kothay

হিমু সমগ্র

24. Himur Neel Josna(Feb,2010)
25. Moyurakkhi (Jun,1994)
26. Himu (Jun,2004)
27. Dorjar Opashe 27. Dorjar Opashe
28. Rupali Ratri
29. Angool Kata Joglu
30. Himur Madhyadupur
31. Parapar (May,2006)
32. Ebong Himu (Jan,2003)
33. Himu Mama (Jun,2004)
34. Shey Ashe Dhire (May,2003)
35. Tomader Ei Nogore (Jun,2000)
36. Holud Himu Kalo RAB (May,2006)
37. Himur Hate Koyekti Nill Poddo (May,2005)
38. Aj Himur Biye (Feb,2007)
39. Himur Ditiyo Prohor (Jun,1997)
40. Ekjon Himu Koekti Jhijhi Poka (Mar,2005)
41. Himu Rimadea (Himu In Rimand)(2008)
42. Himur Ekanto Sakkhatkar

বিবিধ সাহিত্য ও উপন্যাস।

43.Lilaboti (Jun,2007)
44. Shuvro (May,2000)
45. Kutu Mia
46. Mrinmoyee (May,2004)
47. Mrinmoyeer Mon Valo Nei (Feb,2006)
48. Ei Shubhro! Ei (Jun,2003)
49. Putul (June,1994)
50. Aj Chitrar Biye (Jan,2003)
51. Parul O 3 ti Kukur (Mar,2005)
52. Tithir Neel Toyale (Jan,2003)
53. Noboni (Jan,2003)
54. Jalil Shaheber Petition
55. Cheleta (Jan,2005)
56. Omanush (Adaptation Of Man On Fire (Novel)) (May,1991)
57. Kobi (Jun,1996)
58. Ei Ami (Jun,1993)
59. Jibon Krishno Memoriyal High School (June,2004)
60. She O Nortoki (May,1995)
61. Ekjon Mayaboti (May,2002)
62. Priotomeshu (Jan,1993)
63. Tomake (Jun,1994)
64. Chader Aloi Koekjon Jubok
65. Asmanira Tin Bone (May,2004)
66. Sanaullar Mohabipod

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী

67.ireena (Jun,2004)
68. Kuhok (Jun,2004)
69. Manobi
70. Omega Point (Jan,2003)
71. Shunno (Jan,2003)
72. Ditiyo Manob (May,2002)
73. The Exorcist
74. Tomader Jonno Valobasa
75. Anonto Nakhatrobithi (Jun,2004)
76. Fiha Sameekaran (Fiha Equation) (Nov,1996)
77. Ahok (Collection)

উপহাস ও রম্যরচনা

78. Elebele 1(1990)
79. Elebele 2 (1990)
80. Kisu Shoishob (Jan,2006)

বাচ্চাদের মাথায় পোকা ঢুকানো কিছু বই

81. Botol Bhut (Jun,2004)
82. Amar Priyo Boutik Golpo
83. Mojar Bhoot
84. Nirbachito Bhooter Golpo
85. Neel Hati
86. Eki Kando! (Jan,2006)
87. Neel Manush (May,2004)

বিবিধ বই

88.Onnodin
89. Amar Ache Jol
90. Ami Ebong Koekti Projapoti
91. Kichukhon
92. Jodio Shondha (Aug,2004)
93. Krishno Paksha (Jan,2006)
94. Se din Choitromash (Feb,2005)
95. Ondhokarer Gaan
96. Tumi Amai Deke Chile Chutir Nimontrone (Jun,1998)
97. Badol Diner Dwitio Kodom Fuul
98. Maddhanya – 1(2007)
99. Maddhanya – 2 (2008)
100. Ochinpur (May,2002)
101. Ayna Ghor (Jan,2003)
102. Tetul Bone Jochna (Jan,2001)
103. Akash Jora Megh
104. Sobai Gese Bone
105. Daruchini Dip
106. Rupali Dip(Silver Island) (Nov,1996)
107. Saajghar(Dressing Room)
108. Gouripur Junction (Jun,2004)
109. Rupar Palonko (Jun,1999)
110. Megher Chaya (Jun,2004)
111. Neel Oporajita (Jan,2006)
112. Lilua Batash (May,2006)
113. Bashor (May,2002)
114. Poka (Mar,2001)
115. Jol Jochna (Mar,2005)
116. Jolpoddo (Jan,2003)
117. Uralponkhi (Jun,2002)
118. Ei Megh Ei Rodro Chaya (Jan,2003)
119. Rodon Bhora E Bosonto (Jun,2003)
120. Pakhi Amar Ekla Pakhi (Nov,1992)
121. Humayun Ahmed-er Premer Golpo
122. Ayomoy
123. Sokol Kata Dhonno Kore
124. Shourobh
125. Dekha Na Dekha
126. Paap
127. Uthon Periye Dui Paa
128. Tara Tin Jon
129. Opekkha
130. Nirbason
131. Ke Kotha Koy
132. Nee
133. Megh Boleche Jobo Jabo
134. Kothao Keu Nei
135. Dui Duari
136. Dighir Jole Kaar Chayago
137. Chole Jai Boshonter Din
138. Chokkhe Amar Trishna
139. Brishti O Meghomala
140. Brishti Bilash
141. Bohubrihi
142. Ballpoint
143. Ononto Nakhotro Bithi
144. Oporahnyo
145. Aj Ami Kothao Jabona

ভয়বহ কিছু বই। দুর্বল চিত্তের যারা তাদের জন্য নয়

146. Ashabori
147. Chayabithi
148. Adbhut Sob Golpo

Archaeology Of Humankind
মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
লেখক, ব্লগার ও কলামিস্ট
aurnabmaas@gmail.com

ইলিশের দামে পুঁটি, খাসির দামে মুরগী, বিদ্যুত যখন যয়না- মাঝে মাঝে আসে, পিচঢালা রাস্তায়- মাছ চাষের অবারিত সুযোগ

টাইম ম্যাগাজিন যখন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি ভুল প্রতিবেদন লিখে তাঁর জীবিত সন্তানকে খবরের মাধ্যমে মেরে ফেললো সেটা অগ্রাহ্য করে শুধু চুম্বক অংশ জাতি জানলো। প্রকাশিত হলো তিনি নাকি বিশ্বের প্রভাবশালী ১২ নারীর একজন। কিন্তু এই প্রভাবশালীর নারীর প্রভাবে দেশের মানুষ কেমন আছে এই প্রশ্নে অনেককেই নীরব থাকতে দেখা গেছে। যাহোক সেটা বলছি না। কারণ কোন সরকারি দলকে নিয়ে কথা বলার সৎসাহস বেশিরভাগ পত্রিকার থাকে না। আর যদি তা প্রথম আলোর মতো পেটোয়া হয় সেটা আরো ভিন্ন কথা।

অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করেছি যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন পুরো পৃথিবীর ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলোর একটি তালিকা প্রণয়ন করেছে তখন আমাদের দেশের ওই সব পত্রিকাগুলো নীরব ছিল। কারণ ওই তালিকায় ১৭৭টি রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৫তম। দুর্দান্ত মেধাবী সোমালিয়া প্রথম স্থান অধিকার করেছে আর নিয়মিত শিক্ষাথী হিসেবে আমাদের বাংলাদেশ আছে ২৫ নম্বরে যা তেমন খারাপ ফলাফল নয়।
একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় তালিকায় স্থান পাওয়া প্রথম ২০টি দেশের মধ্যে ১৪টিই আফ্রিকার সোমালিয়া, সাদ, সুদান, কঙ্গো কিংবা জিম্বাবুয়ে ।

এটা হরলিকসের বিজ্ঞাপনের পিচ্ছিটার আনন্দ প্রকাশ করার ঘটনার নয়। যে আমাদের দেশের মিডিয়া চিৎকার করে বলবে আম্মু আমি ফাস্ট হয়েছি। যেটি হয়েছিল দূর্ণীতিতে। স্বার্থান্বেষণে রাজনৈতিক দখলদারিত্ব আর অবস্থানিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতা ধরে রাখার প্রবণতা, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও দুর্বৃত্তায়ন, রাজনৈতিক প্রেক্ষপটে আদর্শের সংকট ইত্যাদি কারণে আমরা ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে এই সোনার মুকুট অর্জন করেছি যা মোটেও কাম্য ছিল না।

মোট ১২টি ক্ষেত্র বা বিষয় সামনে রেখেফরেন পলিসি একটি রাষ্ট্র কতটুকু \’ব্যর্থ\’, তা নির্ণয় করে। যেখানে মানবাধিকার পরিস্থিতি, অর্থনীতির নিম্নগতি, অসম উন্নয়ন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপের আশঙ্কা, জনসংখ্যার চাপ, উদ্বাস্তু, গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব, জনগোষ্ঠীর স্থানচ্যুতি, সুশীল সমাজের মধ্যে দ্বন্দ্ব ইত্যাদি। এই বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকা তৈরি করা হয়। বাংলাদেশে বাড়তি জনসংখ্যার চাপ উপযুক্ত পদ্ধতি প্রয়োগে জন-শক্তিতে পরিণত না হয়ে বোঝায় রূপ নিয়েছে। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির দ্বারা মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে এক লাখ কোটি টাকার ওপরে লুট হয়ে দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে। সংগত কারণেই শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকা প্রণয়নে তাই এই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে আশঙ্কার কারণ যা, তা হচ্ছে, ব্যর্থ রাষ্ট্রে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়া। আফগানিস্তান, পাকিস্তান কিংবা সোমালিয়া এর বড় প্রমাণ। বাংলাদেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। এরা বেকার। এমনকি গ্র্যাজুয়েশন করেও এরা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকার কারণে কোনো চাকরি পাচ্ছে না বিধায় অনেকে পেটের দায়ে সন্ত্রাসকে বেছে নিচ্ছে জীবিকা হিসেবে।

একটি স্বাধীন দেশে কখনই কারো কাম্য ছিল না ডাস্টবিনের পাশে মানুষ আর কুকুর একই সাথে খাবার খাবে । এখন সেটাও দেখতে হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের আগুনে মানুষের জীবন এখন জ্বলতে জ্বলতে খাক হওয়ার পথে । হয়তো বাজারে গেছেন কিনতেন খাসি, ঠিক সেই দামে কিনে ফিরছেন মুরগী। কেনার ইচ্ছে ছিল ইলিশ, সেই দামে কিনেছেন পুটিঁ মাছ।

তাতে কোন সমস্যা নাই। আমরা অনেক প্রিয় হীরক রাজার দেশের বাস্তবতা এখন স্বদেশেই দেখতেপাই। আমাদের মাননীয় বানিজ্য মন্ত্রী অনেকটা এইভাবেই জাতিকে মগজধোলাই করার চেষ্টা করেছেন।আমাদের বানিজ্য মন্ত্রীর সেই ভাষায় যেন আমরা শুনেছিলাম সেই কত আগে সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি হীরক রাজার দেশে।
https://i0.wp.com/a4.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-snc6/283364_218393891544538_100001217874053_704817_8332284_n.jpg

[-x[-x[-x[-x[-x[-x[-x[-x[-x[-x[-x[-x
‘অনাহারে নাহি খেদ বেশি খেলে বাড়ে মেদ,
ভরপেট নাও খাই, রাজকর দেওয়া চাই
লেখাপড়া করে যেই অনাহারে মরে সেই
জানার কোন শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই
বিদ্যালাভে লোকসান- নাই অর্থ, নাই মান
হীরক রাজা বুদ্ধিমান করো সবে তার জয়গান’
=D=D=D=D=D=D=D=D

আমাদের দেশের মন্ত্রীরা আসলে চায় ওরা নিজেরাই খাবে। তাই তারা জনগণের খাওয়ার রাস্তা বন্ধ করতে চেষ্টা করছে। হয়তো অদুর ভবিষ্যতে এমন ছবি বাংলাদেশেরও দেখা যাবে।

বিদ্যুত সম্পর্কে একটা বিষয় নিশ্চিত যে মাস শেষে তার বিলটা পরিশোধ করা হয়। এটা এখন আর যায়না। মাঝে মাঝে আসে তখন আমরা ধন্য হয়ে যাই। তবুও আমাদের দেশের বিদ্যুত খাতে অনেক উন্নতি হয়েছে বলেই শোনা যাচ্ছে।

এতদিন জানা গেছে রাস্তাঘাট যানবাহন চলাচলের জন্য। আমরা একুশ শতকে এসে জানতে শিখেছি রাস্তাঘাট নতুন নতুন বাড়িঘর নির্মাণের কাঁচামাল রাখার জন্য। আর সামান্য বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়ার জন্য নির্মান করা হয়েছে। এই সব রাস্তায় মানুষ আর যান চলাচল দুরে থাক মানুষ ভাবে এখানের অথৈ পানিতে যদি মাছের চাষ করা হতো মাছে ভাতে বাঙালির সেই আদি গৌরব মনে হয় আবার ফিরে আসতো=))=))। এখন বেশ কিছু যায়গাতে দেখা গেছে পাকা রাস্তায় মানুষ পারাপারের জন্য বাঁশের সাকো। দেশের ইজ্জতের পশ্চাতে দেয়া এই বাঁশ:P নির্মিত সাকো আমরা কেবলি দেখেছি গ্রাম বাংলার পুকুরের উপরে দিতে। আমাদের দেশের শুশীলদের যা স্বভাব;)। কবে আবার বলে না বসেন এই সব সাঁকো গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য । হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির অংশ::a:a

শিক্ষক পিতৃতুল্য। শিক্ষক মাতৃতুল্য। কোন কোন সময় তার থেকেই বেশি। মধ্যযুগের কবি শাহ সগীর বলে গেছেন ।
\’\’দ্বিতীয়ে প্রণাম করো মাও বাপ পা এ
তান হন্তে জন্মা হৈল এ বসুধায়
পিপীড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত
কোন দিয়া বুক দিয়া জগত বিদিত
ওস্তাদে প্রণাব করো পিতা হন্তে বাড়
দোসর জনম দিলা তিহ সে আম্মার\’\’

সগীর বেটারে যদি এখনকার পোলাপাইন হাতে কাছে পাইতো তারে বোঝাইতো রামধোলাই কাকে বলে:l:l:l:l। কারন এখন যুগ পাল্টে গেছে। আমার দেখি শিক্ষক কুত্তাতূল্য। শিক্ষক বরাহ/শুকরতূল্য। যে পরিমল একটি বাচ্চা মেয়েকে হাত পা বেঁধে নির্যাতন করলো, যে জাবি শিক্ষকের প্রেমের বলি হয়ে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী জীবন দিল, তাদের কি বলবেন??

এই ভাবে যদি বলতে শুরু করেন দেখেন হয়তো শেষ হবে না।
আমাদের সাথে আযরাঈল সাহেব/ যমরাজের সাক্ষাতের সময় হয়ে যাবে।
থাক সে চিন্তা বাদ দেই।
একটু চিন্তা করি এই বিষয়গুলো কি আমাদের সরকার চাইলে বদলাতে পারে না।
জি হাঁ! পারে। আলবৎ পারে। একশত বার পারে।
কিন্তু করে না।
করে না কারণ তাদের সদিচ্ছা নাই জনসেবা করার।
তাদের ইচ্ছা শুধু ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার।
আর ভোটমেশিন জনগণকে যথেচ্ছা ব্যবহার করার।

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
ব্লগার ও কলামিস্ট
aurnabmass@gmail.com

নির্যাতিত নারী,পদলেহী বাচালবর্গ আর মেরুদণ্ডহীন প্রশাসন

লাখো শহীদের রক্তলাভায় প্লাবিত হয়ে যখন স্বাধীন বাংলাদেশের উত্থান ঘটেছিল তখন আমজনতা কিংবা মন্ত্রী মহোদয়ের ভাষ্যমতে আমাদের মতো টোকাই ছাত্রসমাজ সবাই ভেবেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের জমিনে আর কখনো রক্ত ঝরবে না। আজ আমরা স্বাধীন, কতটুকু স্বাধীন সেটা বলার সাংবিধানিক অধিকার আমাদের নেই তবু এটুকু আমরা জানি আমাদের এখনো অধিকার আদায়ে, নিজের দেশের সম্পদ পাচার বাঁচাতে কিংবা মা বোনদের ইজ্জত লুঠকারী পিশাচদের বিচারের দাবিতে মাঠে নামতে হয়। কোন বৃটিশ বাহিনী বা পাকসেনা  নয় আমাদের দেশের জনগণের দেয়া রাজস্বে লালিত পুলিশ বাহিনীর আক্রমনে আমাদেরকেই রক্তাত্ব হতে হয়। সেইসাথে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদ গঠনকারী সরকারের ভূমিকায় মুখের কথা সেমিনার আর মিটিং মিছিলের গণতন্ত্র বার বার ভূলুণ্ঠিত-লাঞ্ছিত হয়ে ক্রমশ এক সংকটময় অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।
আমার লেখার বিষয়বস্তু এটি না হলেও সমসাময়িক বাস্তবতায় এই অপ্রাসঙ্গিক বিষয়টি নিতান্ত প্রাসঙ্গিক ও যৌক্তিকভাবে কেন? কিভাবে আলোচনার টেবিলে স্থান পায় তা আমরা সবাই জানি। একাত্তরের ইতিহাসে ফিরে গেলে  দেখি  হানাদার পাকবাহিনী আর তাদের দোসরদের হাতে  মা বোনদের সম্ভ্রমহানির পর যখন স্বাধীনতার লাল সূর্য কিনতে পেরেছিলাম তখন  কেউ ভাবিনী আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশেও আমাদের মা বোনদের নির্যাতিত হতে হবে আর তাদের জন্য একাত্তরের মর্চে ধরা হাতিয়ার গুলোতে আবার শান দেয়ার চিন্তা করতে হবে কিংবা গলায় প্লাকার্ড ঝুলিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। একাত্তরে নির্যাতিত মা বোনদের চিৎকারে যখন বাংলার আকাশ ভারী হয়েছিল তখন আমরা কিছুই করতে পারিনি তবুও জবাব দিয়েছিল হাতের উদ্ধত স্টেনগান, নির্যাতনকারী পকিস্তানিরা পালিয়েছিল, গা ঢাকা দিয়েছিল তাদের দোসররা। আর সেই সময়ে সবাই স্বাভবিকভাবে ভেবে নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ অন্যরকম কিছু একটা হবে যেখানে আর যাই হোক মা-বোনদের সম্ভ্রম নিয়ে কোন ভাবনা থাকবে না। কিন্তু খোদ মন্ত্রী মহোদয়ই যখন বলেন আমরা নাকি টোকাই তখন আমাদের ভাগ্য এতো ভাল কিভাবে কেনই বা আমরা রঙিন স্বপ্ন দেখি। হায় আফসোস !!  পলাশীর প্রান্তরের সেই বিশ্বাসঘাতক বাঙালি আজো বাঙালিই থেকে গেছে স্বাধীন বাংলাদেশের আলোবাতাসে চার চারটি দশক পার করলেও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশী হতে পারেনি। আমাদের দুই হাত আইনের বেড়াজালে বাঁধা আমাদের চারপাশ ঘিরে রেখেছে সংবিধানের মতো একটি শক্তিশালী বেষ্টনী তাই আর একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে ওঠার পথ চিরতরে বন্ধ। আমাদের মুখ গনতন্ত্রের লেবাসে বার বার সিলগালা করে দেয়া হচ্ছে যার প্রমান হিসেবে দেখেছি অন্যায়ের প্রতিবাদকারী একটি দৈনিকের বন্ধ হয়ে যাওয়া আর পত্রিকাটির সম্পাদকের দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ থাকা। আমরা আতঙ্কের সাথে লক্ষ্য করছি একাত্তর ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের পাশাপাশি আর একটি সারমেয় গোষ্ঠী সবার অগোচরে জন্ম নিয়ে পুরো জাতির উপরে অনেকটা  ঘোড়ার জীনের মতো জাতির পিঠে সওয়ার হয়েছে আর সুযোগ বুজে জাতির উদরে একের পর এক লাথি কষে যাচ্ছে। এই সব শুশীল নামধারী জোঁকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ভাবে সমর্থন পুষ্ট হয়ে একের পর এক অপকর্ম করার পথ পাচ্ছে অপরাধীরা। এই সব মুখোশধারী শয়তান একদিকে সরকারের পদযুগল পরিচ্ছন্ন রাখতে সদালেহনে ব্যস্ত থাকে অন্যদিকে বিরোধীদলের হরতালকেও বৈধতা দেয়। এই তো এই রকম এক মহৎপ্রাণকে বলতে শুনেছি ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হরতালের আওতামুক্ত রাখা হোক’ । কিন্তু উনি বেমালুম ভুলে গেছেন এটা বাংলাদেশ টেক্সাস কালিফোর্নিয়া নয়। আমরা গরিব বাংলাদেশী আমরা চলচল করি বাসে, টেম্মুতে বড় জোর কারে। আমারা কেউ ঘোড়া ব্যবহার করি না যাতে চড়ে আমরা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব। আপনি আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলতে পারেন।  ওখানে হল আছে এটা বলতে  পারেন কিন্তু আপনি কিভাবে নিশ্চিত হলেন আপনাদের মদদে লালিত সোনার ছেলেদের প্রভাবে ওখানকার সকল ছাত্র হলে থাকে?? তাহলে কি হলের বাইরের ছাত্রদের আপনি নিজ দায়িত্বে কোলে তুলে পৌছে দিবেন। মাইরি বলছি আপনার কোলে উঠতে কিন্তু কেউ অখুশি হবেনা। কিছুদিন পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রুমানা মনজুরের স্বামী নামের কলঙ্ক সাইদ যখন তাঁর নাক খুবলে খেয়েছিল তখন আমাদের তথাকথিত শুশীল সমাজ টিভি চ্যানেল আর সংবাদ মাধ্যমগুলোতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বাক্যবানে জর্জরিত করেছিলেন দেশের পুরুষ সমাজকে। আর সাইদের মতো একজন নপুংশককে মডেল ধরে দেশের সকল পুরুষকে দুষতে অর্থলোভী এই সব শুশীলদের আক্কেল গুড়–ম ধরণের চিত্ত কিঞ্চিত বিচলিত হয়নি। কিন্তু অর্থযোগের বিলম্বে এই সকল শুশীলদের মুখ খুলতে যে বিলম্ব দেখা দিয়েছিল তাতে পেরিয়ে গেছে অনেকটা সময়। পরে জানাগেল এই সাইদ নাকি কোন এক মন্ত্রী মহোদয়ের ভাতিজা। আসলে শুশীল নাম তো একটা ব্রাণ্ড এটা সবাই পছন্দ করে। জনগণের পাশে দাড়ালেই বরঞ্চ বিপদ। একে সরকারের হুমকি-ধামকি, পুলিশের ধোলাইয়ের আশংকা বৈকি লাল দালানের অন্নে উদর পুর্তির সমূহ সম্ভাবনা। কিছুদিন আগে যখন নারী নীতি ঘোষণার পাশাপাশি আমাদের দেশের টিভি চ্যানেল আর সংবাদপত্রগুলো মোটা অংকের অর্থলগ্নি করলো এই সব ‘মহা পণ্ডিত’ শুশীলদের অত্যাচারে সংবাদ পত্রের সম্পাদকীয় পাতা খুলতেই ভয় হতো । বাদশাহ আকবর বীরবলের সহায়তায় এক রাজাকে একপাত্র জ্ঞান পাঠিয়েছিলেন কিন্তু আমাদের টিভি চ্যানেলে প্রচারিত টক শো গুলোতে যে প্রশান্ত মহাসাগর তুল্য জ্ঞান বন্টন শুরু হলো রাত বারোটা  নাগাদ জনগণ টিভি চ্যানেল টিউন করাই বাদ দিয়ে দিল। সকল অপরাধীর অপরাধ আড়াল করে ইভটিজিং আইনের নাম সংকীর্তনের এতটাই মাতোয়ার হলো তারা যেখানে বাস্তবতার কোন যোগই থাকলো না। এই সকল ‘মহা পণ্ডিত’ দেশের নারী সমাজের অধিকার হরণের জন্য কেবল মাত্র পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে দায়ী করে একের পর এক নিজেদের বানানো ফতোয়া জারি করতে শুরু করেন। যেখানে আইন করে আমিনীর মতো হুজুরদের ফতোয়া জারি করা আমাদের সরকার বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু আমি আইনের ছাত্র না তাই জানি না ওই আইনে কি বলা ছিল ‘ফতোয়া জারি হুজুরদের জন্য নিষিদ্ধ শুশীল বাচালদের জন্য নয়’। আর সাইদের মতো কিছু নপুংশকের অপকর্ম এই সব বাচালদের সামনের মডেল  হিসেবে দাঁড়ালে নারী নীতির প্যাচালে মুখে ফেনা তুলার কাজ আরো অনেক সহজ হয়ে যায়। এই সব স্বঘোষিত পণ্ডিত বাচালদের প্যাচাল শুনে আমার মনে হয়েছে ‘অক্ষম পুরুষদের অক্ষমতাকে সক্ষমভাবে জনতার সামনে উপস্থাপনে সস্তা জনপ্রিয়তা লাভের অপচেষ্টাই নারীবাদ’। বেশ কিছু দিন পিছিয়ে গেলে ইভ টিজিং ও নারী নীতি বিষয়ক সরকারী নীতিমালা প্রকাশের পর বিষয়টি যখন হটকেক ঠিক তখনই আমাদের দেশের বেশ কিছু মডেল অভিনেত্রীর সাথে তাদের প্রাক্তন ছেলেবন্ধুর ফস্টি-নস্টির ভিডিও চিত্র প্রকাশিত হয়। আমাদের দেশের নারী নীতিতে মেয়েদের প্রতি কোন অশ্লীল উক্তি করা, অঙ্গভঙ্গির করার জন্য যেখানে শাস্তির বিধান হয়েছে তার নগ্ন চিত্র দুনিয়ার সারা দুনিয়ার মানুষের সামনে প্রকাশ করায় কি শাস্তির বিধান সেখানে ছিল না ? কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে অনেকে বর্তমান ঘটনায় ভিকারুননিসার হোসনে আরা স্টাইলে বলেছিলেন বিষয়টিতে দুই জনের সম্মতি ছিল। তাহলে আপনাদের কথায় মেনেই নিলাম আপনারা বেশ্যবৃত্তিকে বৈধতা দিলেন। তাই বলে এই ভিডিও ক্লিপস এখনকার ডিজিটাল(?) যুগের প্রতিটি যুবক, কিশোর এমনকি শিশুদের মোবাইলে যখন ছড়িয়ে পড়েছে তাদের নৈতিকতাকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে এই বিষয় বিবেচনা করে শিশু অধিকার আর শিশুবিষয়ক সংগঠন গুলোর ও কিছু করার ছিলনা। সেই প্রভা-রাজিব থেকে শুরু একে একে আরো অনেক অভিনেত্রীর ভিডিও ক্লিপ নিজেরাই বাজারে ছেড়ে খবরে আসার চেষ্টা আমরা দেখেছি। আমি মানলাম ব্যাঙের সর্দি হয়না। যারা ক্যামেরার সামনে অর্ধউলঙ্গ পোজ দিতে পারেন তাদের নগ্নচিত্র বাজারে এলে তাদের কিছু হবে না। কিন্তু দেশের যুব সমাজ আর শিশু কিশোররা যে উচ্ছনে যাচ্ছে তার দায় ভার কে নেবে। কয়দিন আগে ঘটে যাওয়া ভিকারুননিসার ঘটনায় ঠিক ওই ঘটনার ই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। রাজিবের কোন শাস্তি না হওয়াতেই যেন অনুপ্রাণিত হয়ে  নরাধম পরিমল অসহায় কিশোরীকে হাত পা বেঁধে ধর্ষণ করেছে। তার ভিডিও চিত্র মোবাইলে ধারণ করেছে আর ইন্টারনেটে তা ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে বারংবার তাকে ব্লাকমেইল ও করেছে। আসলে প্রশাসনিক কাঠামো যেখানে কিছু মেরুদণ্ডহীন কর্তাব্যক্তির প্রভাবে জর্জরিত সেখানে এটা অবাস্তব ঘটনা নয় বরং একান্ত বাঞ্চনীয় ঘটনা। অন্যদিকে প্রায় প্রতিদিনই দৈনিক পত্রিকায় নজর দিলে চোখ পড়ে বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতনের খবর। আমার দেশ পত্রিকার সাহসী একজন রিপোর্টার তুলে ধরেছিলেন দেশে গৃহকর্মী নির্যাতন কতটা মারাত্বক পর্যায়ে পৌছেছে। নির্মম নির্যাতনে গৃহকর্মীর মৃত্যুর পর আমরা পত্রিকায় পাতায় দেখেছিলাম একজন দ্বিতীয় শ্রেণীর অভিনেত্রী যার বিরুদ্ধে বেশ্যাবৃত্তি আর পর্ণগ্রাফীরও ঢের অভিযোগ আছে সেই নিশি গ্রেপ্তার হয়েছিল। কিন্তু কোন বিচারে তার শাস্তি হয়েছে এমন কোন খবর পত্রিকার পাতায় আসেনি। কয়েকদিন পূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনায় দেশের যুব সমাজ সোচ্চার হলে সাইদ গ্রেপ্তার হয় । কিন্তু তাকে আদেও শাস্তির আওতায় আনা হবে কিনা এ নিয়ে জনমনে সংশয় এখনো কাটেনি। আর ভিকারুননিসার মতো দেশের প্রথম শ্রেণীর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের হটকারী বক্তব্যের জন্য তার শাস্তি ছিল আবশ্যিক। তিনি এই নির্মম নির্যাতন আর ধর্ষণের ঘটনাকে মিউচুয়াল এর মাধ্যমে সংঘটিত ঘটনা বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু দেশের প্রচলিত আইন একজন নাগরিক হিসেবে আপনাকে বেশ্যাবৃত্তি করার অধিকার দিলেও কোন শিক্ষককে তার কিশোরী ছাত্রীর সাথে সমঝোতামূলক নির্যাতন করার অধিকার দেয়নি এটা আপনি বেমালুম ভুলে গেছেন।  তাইতো আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ২০১০ প্রকাশিত মানবাধিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে ইভ টিজিং আর নারী নীতিমালা প্রকাশ করা হলেও আশংকাজনক হারে নিপীড়নের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবলমাত্র বিগত ২০১০ সালেই  ৬২৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের মেরুদণ্ডহীন আচরণে মামলা হয়েছে মাত্র ৩২৩টি। অবাক করার মতো বিষয় এই ক্ষেত্রে  ২৯ জন নারীকেই অমানুষিক নির্যাতন আর ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে। আতœহত্যাও করেছে পাঁচ নারী। গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৪৫ জন। কিন্তু আমাদের পদলেহী বাচাল শুশীল সমাজ নিজেদের অবস্থানের দায় মেটাতে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়েও এব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি। আমি নারী নীতির স্বপক্ষে বেশ কিছু উপসম্পাদকীয় লিখে  একে তীব্র সমর্থন জানালেও আজকে এর অসারতা পুরোপুরি ধরতে পারি। তথাকথিত নীতিমালা প্রকাশের পরে  ২০১০ সালে মোট ৯৩টি এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলেও মামলা হয়েছে মাত্র ৩৯টি। দেশের শুশীল সমাজ যৌতুক আর পারিবারিক অশান্তিকে বার বার দায়ী করলেও এই ৯৩ টি ঘটনার মাত্র ২১টির সাথে পারিবারিক সমস্যা জড়িত। বাকিগুলো প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান আর পরকীয়ার জের ধরে হয়েছিল। একটা কথা বলে রাখা ভাল এখানে যে লোকদেখানো মামলাগুলো করা হয়েছিল তার বদৌলতে কোন অপরাধীর সাজা হয়েছে পতিকার পাতায় হারিকেন ধরিয়ে খুজেও তার নজির পাওয়া যাবে না। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় আসাদের সুপ্রিম কোট থেকে ২০১০ সালে নারী নির্যাতনের বিচারাধীন মামলার যে পরিসংখ্যান জানা যায় সেখানে ৬৬হাজার ৮১৭টি বিচারধীন মামলা ছিল । নারী নীতিমালা প্রকাশের পর ২০১১ এসে সেই সংখ্যা কমে নি বরঞ্চ সেই মামলার ফাইলগুলো জমে দিনকে দিন হিমালয় সমান উচু হয়েছে আর আইনজীবিদের পকেট পুরার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১১ সালের জানুয়ারী মাসে এই সংখ্যা ছিল ৭৩হাজার ৮৫১টি বর্তমানে কি হয়েছে তা আল্লাহ মালুম। আমাদের দেশের প্রচলিত তথাকথিত গনতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে যেমন কথা দেয়া হয় কথা ভঙ্গ করার জন্য তেমনি দেখি আইন করা হয় আইনের ফাঁকে অপরাধীকেই নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। আর মামলা করা হয় মামলার নিষ্পত্তি না করে আইনজীবি আর সরকারী আমলাদের পকেট ভরানোর জন্য। এই প্রচলিত বস্তাপচা নীতির শেষ না হলে দেশের মানুষ সুবিচারের জন্য কার কাছে যাবে। আর দিনের পর দিন বিচার না হওয়া আর একটি পদলেহী বাচাল গোষ্ঠীর আজন্ম কাপুরুষোচিত আচরণ এই দিনের পর দিন জু দেবে এই সব পরিমল সাইদ নিশিদের। যাদের অপকর্মে একদিকে যেমন পুরো জাতি ছি ছি করবে অন্যদিকে তাদের কাজে সাফাই গাওয়ার লোকের ও অভাব থাকবে না । তাই যুব সমাজকে এখন সোচ্চার হতে হবে। এই সব পদলেহী শুশীল নামধারী দেশের শত্র“দের চিহ্নিত করতে হবে। মেরুদণ্ডহীন প্রশাসণকে শক্তিশালী করার গুরুদায়িত্ব স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নিতে হবে। তবেই এই সব পরিমল সাইদদের ইতিহাসের পাতায় ইতি টানা সম্ভব হবে। নয়তো চিরদিন এরা এদের অপকর্ম চালিয়ে যাবে আমাদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে আর কোন মন্ত্রী আমাদের টোকাই বলে মজাও করবেন।
Archaeology Of Humankind 

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
শিক্ষার্থ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
লেখক, ব্লগার ও কলামিস্ট
aurnabmaas@gmail.com

ফারাক্কা থেকে টিপাইমুখ-ফেলানী থেকে মিরাজ হোসেন বন্ধুত্বের এই সব উপহার বাংলাদেশীরা রাখবে কোথায়

ফারাক্কার শোষনে তৃষ্ণার্ত বাংলাদেশীদের অনেকে হয়তো ঘুমের মধ্যেও পানি পানি বলে আর্তচিৎকার করে ওঠেন যার সাথে বন্ধুত্বের উপহার হিসেবে যোগ হতে যাচ্ছে টিপাইমুখ। তাতেই মুক্তি কই ? কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা সীমান্তে বন্ধুত্বের নিনাদ হিসেবেই যেন বারংবার গর্জে ওঠে বন্দুক ,অনেকটা নিয়তির অলিখিত নিয়মে ফেলানীর মতো অভাগা কিশোরী কিংবা মিরাজ হোসেনের মতো নির্যাতিত অসহায় বাংলাদেশীর বলিদান থেকে রক্তক্ষুধা মেটায় বি এস এফ। বছরের ঠিক গোড়ার দিকে লাশ হয়ে কাঁটাতারে নির্মমভাবে ঝুলতে দেখেছিলাম ১৪ বছরের বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানিকে আর গতকাল একটি অনলাইন নিউজপেপারে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার চাঁপাতলা সীমান্তে বাসকারী মিরাজ হোসেনের নির্মম হত্যকাণ্ডের খবর পাই। পরবর্তিতে তৎক্ষনাৎ প্রতিক্রিয়া জানাতেন দেশের অন্যতম প্রধান বাংলাব্লগ আমার বর্ণমালাতে  “ পানিকষ্টে মেরেও সন্তুষ্ট না হয়ে বারংবার গর্জে ওঠে বন্দুক , এই আজগুবি বন্ধুত্বের বলি হবে আর কতো ফেলানী আর কতো মিরাজ হোসেন???? শিরোনামে একটা পোস্ট করি। তাতে তরুন সমাজের নানা আক্ষেপের বাণী আছড়ে পড়তে দেখে অনেকটাই বুঝতে পারি এরা সেই শহীদ সালাম ,বরকত, রফিক, জব্বারেরই বংশধর যারা তাজা রক্তদিয়ে পিচের পাষাণ রঞ্জিত করেছে তবু নিজেদের আতœসম্মানকে  কারো হাতের পুতুল হতে দেয়নি। 

ফিরে যাই বছরের শুরুরদিকে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল পরদিন কিন্তু ঘাকত বি এস এফ এর নির্মম বুলেট বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার আগেই ঠান্ডা করে দিয়েছে ফেলানীকে । তারপর তার নিথর দেহকে নির্মমভাবে ঝুলিয়ে রেখেছিল কয়েক ঘণ্টা। এই বছরের জানুয়ারিতে  লাশ হয়ে ঝুলে থাকা ফেলানির ছবি বিভিন্ন  দৈনিক পত্রিকায়  যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের হৃদয় কতটুকু হাহাকার করে উঠেছিল, আমি বলতে পারব না। কিন্তু দেশের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ অনেককেই হাহাকার করে পকেট থেকে রুমাল বের করে, লূঙ্গির খুটায়, শাড়ির আচল বা ওর্ণাতে নীরবে চোখ মুছতে আমি দেখেছি। ঘটনার সময়  ভোর সোয়া ৬টা হবে, দিল্লিতে কর্মরত নির্মাণকর্মী বাবা  মেয়ের বিয়ে ঠিক করে দেশে এসেছিলেন। পোড়খাওয়া বাবা কাঁটাতার পার হতে পারলেও মেয়ে ফেলানির জামা আটকে গিয়েছিল কাঁটাতারের বেড়ায় পরিণতিতে বি এস এফ বাবার চোখের সামনেই পাশবিক বর্বরতায় গুলি করে হত্যা করেছিল তাকে।  মৃত্যূর আগে বেশ কিছুক্ষন পানি পানি বলে চিৎকার করলেও প্রাণভয়ে তার ডাকে সাড়া দিয়ে  কেউ এগিয়ে আসার সাহস দেখায়নি, ৩০ ঘণ্টা পর ফেলানির লাশ ফেরত দিয়েছিল বিএসএফ।
অন্যদিকে প্রাপ্ত তথ্যমতে ঝিনাইদহের  মহেশপুর উপজেলার চাঁপাতলা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মিরাজ হোসেন তার বাবা মায়ের উপর অভিমান করে বুধবার রাতে ভারতে ছুটিপুর গ্রামে তার ফুফুর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। ভারতীয় সীমান্তের ৬১ নম্বর মেইন পিলার পার  হয়ে ভারতে প্রবেশকালে ফতেপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন করে। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে বুধবার ভারতরে   অভ্যন্তরে কৃষ্ণনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান। মিরাজ হোসেনের মৃত্যুর খবর চাঁপাতলা গ্রামে  পৌঁছুলে এলাকার লোকজন তার লাশ ফেরত নিতে শ্রীনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পে আবেদন করার দীর্ঘ সময় পর বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীনাথপুর বিজিবি ক্যাম্প ও ফতেপুর বিএসএফ ক্যাম্পের মধ্যে পতাকা বৈঠকের পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে লাশ ফেরত দেয়া হয়। এভাবেই এই ফেলানি মিরাজ হোসেনদের  গুলি করে মেরে একের পর এক ‘বন্ধুত্বের’ প্রতিদান দিয়ে চলেছে আমাদের বন্ধুবর ভারতের বিএসএফ। এর চেয়ে আর ‘বন্ধুত্বের’ প্রতিদান কী হতে পারে! আমরা কি এই বন্ধুত্ব চেয়েছি? ফেলানির সেই কাটাতারে ঝুলন্ত মৃতদেহের  নির্যাতনে নীল মুখচ্ছবি কিছুতেই ভোলার নয় আর বি এস এফ এর নির্মমতায় মিরাজ হোসেনের করুণ আর্তনাদ কানে না পৌছুলেও অনেকটাই হৃদয় থেকে অনুভব করা যায়।
সেই ফারাক্কায় বাঁধ দেয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ বড় ধরনের ভারতীয় পানি আগ্রাসনের সম্মুখীন হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বাংলাদেশের মানুষ যখন গঙ্গার পানির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তখন নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তিস্তায় পানি না পাওয়া এবং টিঁপাইমুখ বাঁধ নিয়ে। পাবনা, কুষ্টিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্নজেলা আজ মরুকরণের পথে। বাংলাদেশে পানির অন্যতম উৎস প্রবল প্রমত্তা পদ্মা নদী শুকিয়ে এখন ধুধু বালুচর, কোথাও হচ্ছে চাষ হচ্ছে শষ্যের কিংবা কোথাও বিরাণ কাশবনে বাসা বেধেছে খেকশিয়ালের দল। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ভারত একটি দ্বিপাক্ষীক  চুক্তি  হলেও তার একটি শর্তও পালন না করায় এ মারাত্বক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে রংপুর এর দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় ‘তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে প্রতিবেশী ভারতের অনৈতিক স্বেচ্ছাচারীতা, হঠকারিতা ও অনৈতিক আচরণের ফলে এ নদীর বাংলাদেশ অংশ জুড়ে এখন মরুভূমির ছবি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তারপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘাঁ এর মতো  যুক্ত হয়েছে টিঁপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বাংলাদেশের অশনি সংকেত।
উজানে বাঁধ দিয়ে  রক্তচোষক ভ্যাম্পায়ারের মতো পানি আগ্রাসন আর সীমান্তে স্বেচ্ছাচার আচরণের দ্বারা দিনের পর দিন বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বাঞ্চিত করছে ভারত। ভারতের আগ্রাসন একদিকে যেমন বাংলাদেশকে বঞ্চিত করছে তার ন্যায্য অধিকার থেকে, অন্যদিকে কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে ভারত বাংলাদেশকে চাপে ফেলে তাদের স্বার্থ আদায় করে নিতে চাইছে। ভারতের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় সহযোগিতা করছে বিশ্বব্যাংক ও এডিবিতে কর্মরত কিছু ভারতীয় বংশদ্ভুত কর্মকর্তা। কিন্তু বাংলাদেশের পানি সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে  ভারত কোনদিনই আগ্রহ প্রকাশ করেনি। তারা বাংলাদেশের এই ’জীবন মরণ সমস্যা’ কে কোনদিন সমস্যা হিসেবে দেখেনি বরঞ্চ উপহাস করেছে। যেখানে সার্ক এর আওতায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধানের একটি উদ্যোগ নেয়া যেতো, সেখানে তা না করে সমস্যাটিকে ’জিইয়ে’ রেখে ভারত তার স্বার্থ উদ্ধার করে নিতে চায়।
বাংলাদেশে বহমান অধিকাংশ নদীর উৎসস্থল হচ্ছে ভারত আর উজানে অবস্থান হওয়াতে ভারত পানিকে জিম্মিকরে বাংলাদেশের প্রতি তার দাপট চিরস্থায়ী করেছে।  ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত নদীর সংখ্যা ৫৪টি। ভারত শুধুমাত্র গঙ্গার পানি এককভাবে প্রত্যাহার করেই তাদের রক্তচোষক মনোবৃত্তি চরিতার্থ করেনি এর পাশাপাশি ব্রক্ষপুত্র ও তিস্তার পানি দিকে ঘাতক দৃষ্টি দিয়েছে। ভারত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যার মাধ্যমে ভারত ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রত্যাহার করে নিলে তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য হবে এক বড় ধরনের হুমকি। আর টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হলে, হাওর বেসিন ক্ষ্যাত বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল পরিণত হবে মরুভূমিতে। ভারতের এ ’পানি আগ্রাসন’ আজ বাংলাদেশের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মাঝে ঠেলে দিয়েছে যা এক কথায় বললে এই ভূখন্ডে বসাবাসকারী প্রতিটি জীবের প্রাণ আজ ওষ্ঠাগত।
পরিবেশের এই বিপর্যয় রুখতে বাংলাদেশ যদি আগামি ২০ বছর পরের পরিস্থিতি চিন্তা করে এখনই একটি সুদূরপ্রসারী পকিল্পনা গ্রহণ না করে, তাহলে এ দেশ ২০৩০ সালে দিকে বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি সংকট আর মরুকরণের বিপর্যয় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের পর হিরোশিমা নাগাসাকির  সঙ্কটের ভয়াবহতাকেও ম্লান করে দেবে। উভয় দেশের এই সঙ্কট  সমাধান করতে হবে পারস্পারিক বিশ্বাস ও আস্থা রেখে এবং বহুপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে এগিয়ে গেলে কিছু একটা করা যেতে পারে। যেমন ভারতের উজান নেপালে জলাধার নির্মাণ করে হিমালয়ের পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা গেলে খরার মৌসুমে ফারাক্কায় পানি প্রবাহ ১ লাখ ৩০ হাজার কিউসেক থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার কিউসেক পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব। তাতে করে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই লাভবান হবে। তাছাড়া জলাধারের সাহায্যে নেপাল প্রতি বছর প্রায় সাড়ে দশ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে যা থেকে নেপালের পাশাপাশি ভারত বাংলাদেশ উভয়েই লাভবান  হতে পারে।

 ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালে, অর্থাৎ ১৯৭৭ সাল থেকে ৫০ বছর পর। এ ৫০ বছরে জনসংখ্যা বাড়বে তিনগুণ সেই সাথে পানির প্রয়োজনও ও হবে তীব্র থেকে তীব্রতর। । কিন্তু ১৯৭৭ সালে আমরা যে পানি পেয়েছিলাম, ৫০ বছর পর পর্যন্ত তা ধীরে ধীরে কমতে কমতে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এটাই এক বড় প্রশ্ন। গুরুতর একটি বিষয় ’বাংলাদেশ কান্ট্রি ওয়াটার রিসোর্সেস এসিসট্যান্স’ নামে একটি ধারণাপত্রের কথা শোনা গিয়েছিল বছর তিনেক আগে থেকেই । তথাকথিত  পানি উন্নয়নের নামে তৈরী ওই ধারণপত্রে গঙ্গার পানি প্রবাহের অপ্রতুলতাকে স্বাীকার করে ব্রহ্মপুত্রের পানির ওপর ভিত্তি করে পানি উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা বলা যা প্রকৃত অর্থে ভারতীয় আন্তঃনদী সংযোগ পরিকল্পনাকেই সমর্থন করে। পরিবেশ বিপর্যয় আর মরুকরণ কথা চিন্তা করে কোনদিনই বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের এ ধারণাপত্র সমর্থন করতে পারে না। গঙ্গার পানি বন্টন প্রশ্নে ভারত বাংলাদেশ আলোচনার পর আলোচনা করে যাবে সাথে যোগ হবে ব্রহ্মপুত্রও তবু এই সমস্যার সমাধান  কবে তা বলার সাধ্যি কারও নেই। ক্ষমতার দাপট দেখানো আর বিরোধীতার খাতিরে বিরোধিতা করা বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মাঝে আলোচনায় বসার পথকে অনেকটাই সিলগালা করে বন্ধ করে দিয়েছে। আগামী প্রজন্মের কথা মনে করে হলেও এই দুটি দলকে রাজনৈতিক সকল ভেদাভেদের উর্দ্ধে থেকে এক হওয়ার সময় এসেছে। জীবন বাঁচানোর দায় যেখানে বড় দায় রাজনৈতিক বিভেদ সেখানে ঠূনকো বিষয়। ফারাক্কার শোষনে যেখানে আজ ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা এর সাথে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের আওয়ায় এর সাথে আরও কিছু যুক্ত হতে থাকলে শেষ পরিণতি কি হবে তা কে জানে। আর এই আজব বন্ধুত্বের অগ্নিস্বাক্ষী হয়ে আরও কত নদীর সুজলা সুফলা তীর হবে মরুভূমি তা ভাবতেই একটা হিমশীতল ধারা শীরদাড়া বেয়ে নিচে নামে। সেই সাথে আরও কত ফেলানী আর মিরাজ হোসেন জীবন দিলে এই মহান বন্ধুর রক্তক্ষুধা মেটানো সম্ভব হবে  তার উত্তর একান্ত অজানা।

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
ব্লগার ও কলামিস্ট

aurnabmaas@gmail.com.
Archaeology Of Humankind

বাংলার ইতিহাসে হিন্দু মুসলিম সম্পর্ক

বাংলায় মুসলিম অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অনুধাবন করতে হলে এদেশে মুসলমানদের আগমনের ধারাটি প্রথম বুঝতে হবে। বাংলায় মুসলমানদের সামরিক সাফল্য প্রতিষ্ঠার পূর্বে মুসলমানদের আগমন ও মুসলিম সমাজ প্রতিষ্ঠা তিনটি পর্বে সংঘটিত হয়েছিল। প্রথম পর্বটির শুরু আট শতক থেকে। এসময় আরব বণিকরা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালির সমুদ্র তীরে নোঙর ফেলেন। বাণিজ্যিক কারণে মুসলমান বণিকরা ধীরে ধীরে পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারত হয়ে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের সমুদ্র তীরাঞ্চলে এসে পৌঁছেছিলেন। এই আরব বণিকরা বাণিজ্যিক কারণে দীর্ঘদিন উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থান করেন। এদের কেউ কেউ স্থানীয় রমণী বিয়ে করেন। এভাবে সীমিত আকারে ঐ অঞ্চলে একটি মুসলিম সমাজ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়। অবশ্য এই বণিক শ্রেণির মধ্যে ধর্মপ্রচারের কোনো উদ্দেশ্য কাজ না করায় এ পর্বে মুসলিম সমাজ বিস্তার তেমন গতি পায়নি। তবে এই বণিক মুসলমানদের রচিত পথ ধরেই একদিন Continue reading বাংলার ইতিহাসে হিন্দু মুসলিম সম্পর্ক

‘মধ্যযুগ’ প্রত্যয়ের সাধারনীকৃত অর্থ ও ইতিহাসের মূল বাস্তবতা (পর্ব এক জুন ২০১১)

প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর কৃষিভিত্ত্বিক সমৃদ্ধ অর্থনীতির কারণে বাংলাদেশের মাটিতে বারবার বিদেশী শক্তি আক্রমণ শানিয়েছে। পেশীশক্তি আর সামরিক কৌশলে দুর্বলতার কারণে পরাজিত হতে হলেও এই ভূখন্ডের মানুষের স্বভাবসুলভ বৈশিষ্টকে সামনে রেখে বহিঃশক্তির কাছে অসহায় আত্মসমর্পন করার নজির ইতিহাসে নেই। প্রয়োজনে বাংলার মানুষ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে তবুও বিবেক বিসর্জন দিয়ে আত্মমর্যাদাকে ধিকৃত করেনি। প্রতœতাত্ত্বিক প্রমাণ আর সুত্র বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশীদের এই গৌরবোজ্জল ইতিহাস আরো সমৃদ্ধ হয় মধ্যযুগে এসে। মধ্যযুগের শুরুতে একে একে বানিজ্য, ধর্মপ্রচার আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বাংলা অভিমুখে সফল অভিযানের ধারাবাহিকতায় তের শতকের গোড়ার দিক থেকে মাঝামাঝি সময়ে রাজদণ্ডে মুসলিম শক্তির আরোহন লক্ষ করা যায়। ভূপ্রাকৃতিকভাবে বাংলার সুরক্ষিত অবস্থান আর অবারিত সম্পদের মোহে পড়ে বাংলার শাসকগণ বার বার দিল্লীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন যা বাংলার সমাজ সংস্কৃতিকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে।

বস্তুুত এই স্বাধীনতা ঘোষণার ফলেই তাঁরা দিল্লীর শাসকবর্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে নিজেদের অস্তিত্ত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে বাংলার মানুষকে একান্ত আপন করে নিতে সচেষ্ট হন। নিজেদের প্রয়োজনেই বাংলাকে তারা নিজের দেশের মতো মনে করতেন।  অস্তিত্ত্বের লড়াইয়ে টিকে থাকতেই তাঁরা পূর্ণ মেধা, শ্রম , নিষ্ঠা আর পূর্ব অভিজ্ঞতার সাথে এদেশীয় ধারার সংমিশ্রনের একটি নতুন সংস্কৃতি বিকশিত হতে ভূমিকা রাখেন। ফলে যাই হোক সমৃদ্ধ হতে থাকে বাংলার সমাজ সংস্কৃতির নানা দিক। অন্যদিকে হিন্দু সমাজের পাশপাশি বেশ দাপটের সাথে মুসলিম সমাজ বিকশিত হতে থাকে। এই সব বিষয়ের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থা,বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, বস্ত্রশিল্প, যাতায়াত ও পরিবহন,বানিজ্য ও অর্থনীতি  শিল্প-সাহিত্য, স্থাপত্যকলা, পোড়ামাটির অলংকরণ ও চিত্রকলা সহ নানাদিকে উন্নতির সুবাতাস বয়ে যায় মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতানী আমলে। ১২০৪ থেকে শুরু করে ১৭৫৭ সালের দিকে পলাশির প্রান্তরে ইংরেজ উপনিবেশ বাদী শক্তির কাছে বশ্যতা স্বীকারের পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘদিন বাংলার মধ্যযুগের শাসণ ক্ষমতায় বিভিন্ন সুলতান অধিষ্টিত ছিলেন একে তিনটি   স্তরে বিভক্ত করে আলোচনা করা হয়ে থাকে। এর মধ্যবর্তী অংশ অর্থাৎ ১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের স্বাধীনতা ঘোষণা থেকে শুরু করে ১৫৩৮ এ সার্বভৌম বাংলার সুলতানদের মোগল শক্তির কাছে পদানত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বাংলার সমাজ সংস্কৃতিতে সবথেকে বেশি উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল। যা ধারাবাহিক আলোচনায় আসবে।
এক.
শাব্দিক বিচারে ‘মধ্যযুগ’ । প্রেক্ষিতঃ  বর্হিবিশ্ব, ইউরোপ ও তৎকালীন বাংলা
ইতিহাসের বিচারে ইউরোপে ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে আলোকময়তাপর্বের সময়কাল শুরুর পূর্ববর্তী সময়কালকে ‘মধ্যযুগ’ বলে ধরা হলেও ভারত বর্ষের মধযুগ ধরা হয় মুসলিম আগমণের পর থেকে। জেমস মিলের ভারতের ইতিহাসের যুগ বিভাজনে হটকারী আচরণ করে ধর্মকে মূল মানদণ্ড বিবেচনা করেন। কিন্তু যখনই ইংরেজ যুগ শুরু হয় তাকে বেশ দক্ষতার সাথে খ্রিষ্ট্রান যুগ বা বলে বলা হয় বৃটিশ যুগ বা আধুনিক যুগ। এই ভাবে নামকরণ থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপের ইতিহাস রচনা, অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণে সতর্কতা অবলম্বন না করা হলে প্রতিক্ষেত্রেই এই রকম গোলকধাঁধার সামনে পড়তে হয়। এখানে ভারতবর্ষ তথা বাংলার ইতিহাসের মধ্যযুগকে বুঝাতে একটি প্রত্যয় ব্যবহার করা হয় ‘মুসলিম যুগ’। বর্তমান বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে লাদেন, সন্ত্রাসবাদ আর জঙ্গিবাদ যেমন সমার্থক হয়ে উঠেছে। ‘মধ্যযুগ’ শব্দটির সাথে তেমনিভাবে সারসত্তায়িত করা হয়েছে নৃশংসতা আর বর্বরতাকে এবং ইতিহাসের সাথে মিল রেখে এই সারসত্তায়নকে একটি বৈধতাও দেয়া হয়েছে। ধারাবাহিক রচনার শুরুতে আমি ’মধ্যযুগ’ শব্দটির স্বরূপ নিয়ে বিশেষত এই শব্দটির উপরে কিভাবে বর্বরতা ও নৃশংসতা আরোপিত হলো সেটা আলোচনা করার চেষ্টা করবো। আসলে একটি শব্দ সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিন ব্যবহারের মাধ্যমে তার পরিচিতি পায়। তাই প্রকৃত অর্থে কোন শব্দের নির্দিষ্ট অর্থ নাই তার উপর অর্থ আরোপ করা হয়। যেমন আমরা যদি ছেলেবেলাতে কাঁঠাল গাছকে বাঁশ হিসেবে চিনে আসতাম সেখানে বড় হওয়ার পরেও তাকে বাঁশই বলতাম। তাকে কোনদিনই কাঁঠালগাছ বলে ভুল করতাম না। একটি শব্দ কোন বিশেষ সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে যখন ব্যবহৃত হয় তার উপর একটি অর্থ আরোপিত হয় যা তার পরিচিতি জ্ঞাপক। ‘মধ্যযুগ’ শব্দটি আর বর্বরতা বা নৃশংতা আজ কেন সমার্থক ?? কিভাবে কি ধরণের সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের উপর ভিত্তি করে এটি এর এই পরিচিতি লাভ করেছে এটি বুঝতে আমাদের সে সময়ের পারিপার্শিকতাকে বুঝতে হবে। আমাদের দেশে প্রাপ্ত প্রচলিত ইতিহাস গ্রন্থগুলো প্রায় সবই বৃটিশদের হাতে কিংবা তাদের পেটোয়া কোন বোদ্ধাদের হাতে রচিত যারা ভারত বা বাংলাদেশ সম্পর্কে যতটা না জানতেন তার থেকে বহুগুণ বেশি আগ্রহী ছিলেন ইউরোপ ও ইউরোপের ইতিহাস সম্পর্কে। সারাটি জীবন ইউরোপ ইউরোপ গান করা আর বৃটিশ উপনিবেশবাদীদের পদলেহনে আত্মতুষ্টির পথ প্রশস্তকারী এই সব ইতিহাসবিদ যখন ভারতের ইতিহাস রচনার গুরুদায়িত্ব লাভ করেন। তখন তাদের কাছে ভারত আর ইউরোপ সাধারণীকৃত হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কোন ঘটনা নয়। বরঞ্চ সারমেয় হিসেবেএকান্ত বিশ্বস্ত থেকে এই কর্ম যদি সফলভাবে সম্পাদন করে ভারতীয়দের হেয় করা যায় তখন এক আধটা শুকনো হাড্ডি জুটে যাওয়ার সম্ভাবণাও ছিল বৈকি। এই ইতিহাসবিদরা দেখেছেন  বৃটিশদের পায়ের ধুলায় স্থান চেয়ে কারো ভাগ্যে বর হিসেবে প্রভুর পক্ষ থেকে নোবেল জুটেছে। তাই তাঁরা ভেবেছেন  যদি পায়ের ধুলায় গড়াগড়ি দিয়েই নোবেল পুরষ্কার আসে তাহলে পায়ের তালুটা যদি একটু চেটে দেয়া যায় স্বয়ং রাণীর কাছ থেকে বর আসলেও আসতে পারে।
ভারতের মধ্যযুগে বিভিন্ন নগর ভিত্ত্বিক শাসনকাঠামো পরিলক্ষিত হয়। যার উদাহরণ হিসেবে আমরা প্রচুর প্রাচীর বেষ্টিত সুরক্ষিত মধ্যযুগীয় দুর্গনগরী পাই। আর বাংলার ক্ষেত্রে বিষয় ছিল আরো অনেক বেশি বৈচিত্রময়। এখানে মুদ্রাভিত্তিক অর্থনীতির চুড়ান্ত বিকাশের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে টাকশাল নির্ভর শহর গড়ে উঠতে দেখা যায় যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। অন্যদিকে এই একই সময়ের ইউরোপের দিকে নজর দিলে আমরা দেখি সেখানে কৃষিনির্ভর গ্রাম্য সংস্কৃতি প্রচলিত ছিল। ম্যানর বা এই সকল গ্রামের অধিপতি নাইটরাই ছিল সর্বেসর্বা আর সাধারণ মানুষের মর্যাদা ছিল পশুদের থেকে নিচে। নাইটরা তাদের ক্ষমতার কলেবর বৃদ্ধি করতে তাদের ম্যানরের পরিধি বাড়াতে সদা সোচ্চার ছিল। তারা প্রতিনিয়ত যুদ্ধবিগ্রহ করতো, আইন আর পেশী শক্তি যেখানে ছিল সমার্থক। কোন দরিদ্র কৃষকের ঘরে সুন্দরী মেয়ে থাকলে তা অনেকটা অলিখিতভাবেই ওই সব নাইটদের হেরেমের সম্পত্তি বলে বিবেচিত হতো। সামাজির নিরাপত্তার অভাব, নিপীড়ন-নির্যাতন, মানহানী আর প্রাপ্য ন্যায্য অধিকার হরণে নারীরা তখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল। ধর্মচর্চাকে অনেকটাই রবিবারের নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়ে শুধু ভোগবিলাস,লাম্পট্য, মারাহারি, খুন, ধর্ষন, নারী-নির্যাতন আর দখল-বেদখল নিয়েই তখনকার ইউরোপের রাজনীতি আবর্তিত হতো। এভাবে নাইটদের মারামারি খুনোখুনিতে মানুষের অসন্তুুষ্টির পাশাপাশি আরেকটি শ্রেণীও তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। তারা তখনকার ইউরোপের পোপ বা খ্রিষ্টান ধর্মগুরুরা। একটি সময়ে তারা দেখিয়েছিলেন ধর্ম কতটা সুন্দর এবং শৈল্পিকভাবে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে একজন মানুষকে শক্তিশালী করে তুলতে সক্ষম। এই সকল ধর্মগুরু বা পোপরা একদিকে রাজা রাজড়াদের উপরে ছড়ি ঘুরাতেন অণ্যদিকে সাধারণ মানুষকেও বেশ সুন্দরভাবে লালটুপি পরিয়ে তাদের কাছ থেকেও কলাটা মুলোটা কম আদায় করতেন না। নাইটদের দাপটে পোপের ক্ষমতা অনেকাংশেই কমে যায় তার কলা মুলোর সরাবরাহও বন্ধ হতে থাকে। তাই বিচক্ষন পোপ বুঝলেন এই নাইটদের ঝগড়া বিবাদ থামাতে গেলে তাদের রোষানলকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে হবে। তাই ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এক সভায় পোপগণ সম্মিলিতভাবে ধর্মযুদ্ধ বা ক্রুসেডের ডাক দেন। পিটার দ্য হার্মিট কৃষক আর নাইটদের মধ্যে এই মর্মে বাণী প্রচার করেন যারা ক্রুসেডে যোগ দেবে তাদের সকল অন্যায় মহান যীশু মাফ করে দিবেন। তার বর্ণণায় ক্রুসেডে যাত্রা আর স্বর্গের টিকিট অনেটাই সমার্থক হয়ে ওঠে। তারপর পরপর সংঘটিত কয়েকটি ক্রসেডে নাইটদের জিঘাংসা চরিতার্থকারী নির্মম বর্বরতা পুরো মধ্যযুগের ইতিহাসকেই কলঙ্কিত করে। ১২১২ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত শিশু ক্রুসেড পৃথিবীর ইতিহাসের সকল বর্বরতাকে ছাড়িয়ে যায়।
১২৯২ এর পর ক্রুসেডের উন্মাদনা থেমে আসলেও সেই অপকর্মের প্রমান হিসেবে পুরো মধ্যযুগের ইতিহাসই কলঙ্কিত হয়ে যায় তার সাথেই অনেনটা সাধারণীকরণের ফলে বিকৃত হয়েছে বাংলার মধ্যযুগ।
গত মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রোমানা মঞ্জুরের প্রতি তাঁর বিকৃত মস্তিকের স্বামী সাইদের আক্রমণের খবর অনেকটা হটকেকের মতোই বিকিয়েছে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রচারমাধ্যম আর ডিজিটাল যুগে ব্লগ-ফেসবুক-টুইটার পাড়াও ছিল সরগরম। কর্পোরেট যুগের প্রচার নির্ভর বানিজ্যের প্রপাগন্ডায় একজন নারী কিভাবে পণ্যে পরিণত হন তা আমরা এর আগেও অনেক দেখেছি। কিন্তু  এই ক্ষেত্রে একজন অসহায়ের বিপদের দিনে গ্রীষ্মের দাবদাহের মাঝেও কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে থেকে বেশ পরে বাজার দখলের লড়াইয়ে হটাৎ করে সহানুভুতির নামে মিডিয়া  যেন এক উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে ওঠে। দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরা তাদের জ্ঞানের কুয়ো থেকে বের হতে না পারায় দেশের নামকরা পত্রিকার সম্পাদকীয় আর উপসম্পাদকীয় পাতাগুলো একটি  বস্তাপচা শব্দের নানামুখী উপমার রসালো উপস্থাপনায় টইটম্বুর হতে থাকে। এই বস্তাপচা ফসিল শব্দটিকে আমি চিহ্নিত করেছি ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ হিসেবে আর মনস্থ করেছি একে একটি ধারাবাহিক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।প্রথমত যায় যায় দিন পত্রিকায় সাপ্তাহিক হিসেবে লিখতে মনস্থ করেছিলাম কিন্তু দশদিক পত্রিকাতে প্রতিমাসে একবার লিখতে হবে তাই অনেক সময় পাবো এই ভেবে শেষ পর্যন্ত এখানে লিখতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করি। আমদের দেশের বাস্তবতায় মধ্যযুগ আর অন্যান্য দেশ এমনকি ভারতের মধ্যযুগও যে ভিন্ন ছিল এটা প্রমাণিত সত্য। কিন্তু ইতিহাস থেকে দিনের পর দিন বিচ্ছিন্ন হয়ে সিনেমায় দেখা ক্রুসেডার নাইটদের বর্বরতাকে আমাদের দেশের সাথে অনেকটাই সাধারণীকৃত করে ফেলে আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। আর পত্রিকার শিরোনাম গুলোতে একটি বস্তাপচা শব্দ বছরের পর বছর বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কেউ এসিড নিক্ষেপ করুক, স্ত্রীকে তালাক দিক, কোন অভিনেত্রী মডেলের সাথে তার ছেলে বন্ধুর ফস্টিনষ্টির ভিডিও ক্লিপ বের হোক,নারী নির্যাতন হোক, ইভ টিজিং হোক আর পাগলা বাবার চিকিৎসায় মানুষ বিভ্রান্ত হোক এ সবই যেন মধ্যযুগীয় বর্বরতা। বাংলাভাষার সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডারে এর বাইরে মনে হয় আর কোন শব্দই নেই।
ধিক !! এই বিভ্রান্তির ইতিহাস লালনকারীদের জন্য। ধিক!! এই বস্তাপচা একটি শব্দের ব্যবহারে দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে কলঙ্কিতকারীদের এই কুপমন্ডুকতাকে। ইতিহাসের বাস্তবতায় সেই পাথর যুগ থেকে এক ধারাবাহিক সংস্কৃতিক উন্নয়ন আমাদের দেশের ইতিহাসকে তার দিশা দিয়েছে। যেখানে বিভিন্ন বহিঃশক্তি বার বার জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে সংস্কৃতিকে তার মূল ধারা থেকে গতিমন্থর করতে পারলেও একেবারে স্তব্ধ করে দিতে পেরেছে এমনটি নয়। ইতিহাসের সুত্র আর প্রতœতাত্ত্বিক প্রমাণকে সুত্র বিবেচনা  করে রাজনৈতিক ইতিহাসের বিপরীতে সমাজ সংস্কৃতির দিকে নজর দিলে বাংলার মধ্যযুগ ছিল এক উজ্জল অধ্যায়। আমার ধারবাহিক রচনাগুলো যদি চালিয়ে যেতে পারি সেখানে রাজনৈতিক ইতিহাসের থেকে মধ্যযুগের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সবসময় আলোচনার টেবিলে অনুপস্থিত সমাজ সংস্কৃতির চিত্রই স্থান বেশি পাবে।  তবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বাংলার মধ্যযুগের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দিকেও কিছুটা দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। শাসতন্ত্রের ধারার উপর ভিত্তি করে আমরা মোটাদাগে বাংলার মধ্যযুগের ইতিহাসকে দুটি কালপর্বে বিভক্ত করতে পারি সুলতানী ও মোগল আমল। যেখানে বাংলার স্বাধীন সুলতানী যুগ গৌরবোজ্জল অধ্যায়ের সাক্ষর বহন করে।
প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. আবদুল করিম ১৯৫৯ সালের দিকে তাঁর অমর গ্রন্থ প্রকাশের পর থেকেই বাংলার মধ্যযুগের সমাজ সংস্কৃতি লেখক, গবেষক আর বোদ্ধাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি সুখময় বন্দোপাধ্যায় ড.এম এ রহিম এবং সাম্প্রতিক গবেষকদের মধ্যে অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ এর গবেষণায় ধীরে ধীরে বাংলার মধ্যযুগ বিশেষত মধ্যযুগের সামাজিক সাংস্কৃতিক ইতিহাস একটি আলোর দিশা পায়। ড আবদুল করিমের গবেষণায় আমরা বাংলার স্বাধীন সুলতানী আমল পর্যন্ত যেখানে রাজনৈতিক ইতিহাস বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। পরবর্তিকালে অধ্যাপক ড. শাহনাওয়াজ মধ্যযুগের মুদ্রা ও শিলালিপি বিশ্লেষণ করে সামাজিক সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে একটি বস্তুনিষ্ঠ ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। তবে মুদ্রা ও শিলালিপি গুলো যেগুলো বিশেষত সুলতান বা সম্রাটদের দ্বারা জারি করা সেখানে রাজশাসন, শাসনের সময়কাল আর শাসণ কাঠামো সম্পর্কিত তথ্য যতটা সুন্দর ভাবে পাওয়া যায় সেখানে সমাজ সংস্কৃতির ধারণা করা অনেকটাই কঠিন। তবুও মুদ্রায় উৎকীর্ণ প্রতীক, চিহ্ন অলংকরণ প্রভৃতি থেকে সমাজ সংস্কৃতির নানা দিক সম্পর্কে ধারণা লাভ করে ঐ সময়ের প্রচলিত লোককথা-লোকগাথা বিভিন্ন ভ্রমণ-বৃত্তান্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সাথে প্রতিতুলনা করে বাস্তব ইতিহাসের ধারণা লাভ করা সম্ভব। পরবর্তী পর্বে বাংলায় মুসলিম আগমন ও দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির সংমিশ্রণ এর ফলাফলের পাশাপাশি বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পটভূমি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
শিক্ষার্থ-গবেষক,প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
aurnabmaas@gmail.com
Archaeology Of Humankind

স্মরণ: প্রত্নতাত্ত্বিক লুই বিনফোর্ড (প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাবি গবেষণা জার্ণালে প্রকাশিত)

বিশ্বব্যাপী অগণিত শিক্ষার্থী ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষককে শোকগ্রস্ত করে গত ১১ এপ্রিল ২০১১ প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিজ্ঞান নির্ভর ধারণা প্রতিষ্ঠার প্রবাদপুরুষ প্রক্রিয়াবাদী প্রত্নতত্ত্বের জনক প্রখ্যাত নৃবিজ্ঞানী ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষক লুই রবার্টস বিনফোর্ড নিজ জন্মস্থান যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরী অঙ্গরাজ্যের কির্কসভিলে পরলোক গমন করেন (Miller,S: 2011)। বিনফোর্ডের মৃত্যুতে বিশ্বব্যাপী ইতিহাস ঐতিহ্যের গবেষক, নৃবিজ্ঞানী আর প্রত্নতাত্ত্বিকদের মাঝে নেমে আসে এক শোকের ছায়া। ওয়ার্ল্ড আর্কিওলজিক্যাল কংগ্রেস থেকে বের করা শোকবইতে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষক ও ইতিহাস ঐতিহ্যের অনুরাগীগণ তাদের মতামতে জানাতে থাকেন এই কিংবদন্তীর বিয়োগে গবেষণা অঙ্গন থেকে কিভাবে একটি নক্ষত্রের পতন ঘটেছে (Smith,C: 2011)। ইতিহাস, নৃবিজ্ঞান ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা হয় পৃথিবীর এমন প্রতিটি দেশের বৈকি আমাদের বাংলাদেশের সংবাদপত্রেও বিশেষ উপসম্পাদকীয়তে এই কিংবদন্তীর বর্ণিল কর্মজীবনের প্রতি আলোকপাত করা হয়। ভারতের জাগরণ জোস (Jagranjosh, 2011), দ্যা হিন্দু (Rajendran,S. 2011) ম্যাগাজিন, বাংলাদেশের আমার দেশ (দৈনিক আমার দেশ,১৩ই মে ২০১১) ও সমকালের (দৈনিক সমকাল ২৩শে মে ২০১১) বিশেষ উপসম্পাদকীয়তে এই কিংবদন্তী প্রত্নতাত্ত্বিকের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান হয়। 

সাউদার্ন মেথোডিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাগিতিহাসের অধ্যাপক ডেভিড মেল্টজার এক সাক্ষাতকারে এই বিখ্যাত প্রত্নতাত্বিকের স্মৃতিচারণে বলেন ‘বিনফোর্ডের হাত ধরে প্রত্নতত্ত্ব চর্চায় বিজ্ঞানের সম্পৃক্তি একে দিনের পর দিন একটি বিজ্ঞানভিত্ত্বিক অনুষদে পরিণত করতে চলেছে’ (Meltzer : 2011;Wilford:2011)। প্রখ্যাত প্রতœতাত্ত্বিক ক্লাইভ গ্যম্বল (Gamble: 2011) গার্ডিয়ান পত্রিকার একটি ইতিহাস নিবন্ধে লুই বিনফোর্ড সম্পর্কে  মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন “প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণাতে বিনফোর্ডের আবির্ভাব তেমন বিস্ময়কর কিছু দিতে পারল কিনা এই বিষয়ে ভাবার আগে বলা যায় তিনি প্রতœতাত্ত্বিক আলামত সম্পর্কে গবেষকদের পুরো ধারণাটাই পাল্টে দিয়েছেন”। লুই বিনফোর্ডের দুটি বিশ্বখ্যাত বই’র (ইন পারস্যুট অফ দ্য পাস্ট ও কন্সট্রাক্টিং ফ্রেমস অফ রেফারেন্স) প্রকাশক ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসের এক সংবাদ বিজ্ঞতিতে লুই বিনফোর্ডের মৃতুতে শোক প্রকাশ করে ওয়াল্ড আর্কিওলজিক্যাল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ক্লারি স্মিথের উদ্ধৃতি দিয়ে তাকে নব্য প্রতœতত্বের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বলা হয় (UCP: 2011)।  ওয়ার্ল্ড আর্কিওলজির এন্টিকুয়েটি জার্নালে লুই বিনফোর্ড সম্পর্কিত শীর্ষ নিবন্ধে প্রখ্যাত প্রতœতাত্বিক কলিন রেনফ্রো বলেন “লুই বিনফোর্ড একজন বিশিষ্ট উৎখননকারীই ছিলেন না পাশাপাশি খননের সময় উদ্ভুত নানা সমস্যার সমাধান করার দক্ষতাও তাঁর ছিল। যা পরবর্তিকালে তাঁকে জাতি-প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের মতো নতুন ধারার প্রত্নতত্ত্বচর্চার পথ প্রদর্শক হিসেবে  প্রতিষ্ঠিত করে (Renfrew: 2011) । ভারতের বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক কে পাদায়া ১৯৮৬ সালের দিকে ভারত সফরে মাঠকর্মকালীন হুংশি উপত্যকার জটিল ভূতাত্ত্বিক প্রেক্ষিতের অ্যাশুলিয়ান সংস্কৃতির ব্যবহারিক বিন্যাস সম্পর্কে দ্রুত একটি নির্ভরযোগ্য ধারণা প্রদান করায় লুই বিনফোর্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন (Paddayya: 2011)|
 বিনফোর্ডের বিজ্ঞান নির্ভর ধ্যানধারণা প্রত্নতত্ত্বের ভাবনার জগতকে নাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল। বিনফোর্ডের পূর্বে প্রত্নতত্বের তাত্ত্বিক প্রেক্ষিত, চিন্তাজাগতিক উদ্দেশ্য ও ধারণাগত প্রত্যয়গুলো সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনকে ঘিরেই আবর্তিত হতো। যেখানে মনে করা হতো মানুষের সংস্কৃতি কিছু নর্মের সমষ্টি যার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট বস্তুগত নিদর্শনে আর অতীত সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট বস্তুগত উপাদান বিশ্লেষণ করলেই অতীত সংস্কৃতির নর্ম তথা সাংস্কৃতিক ইতিহাস নির্মান করা সম্ভব (গড়ৎৎরং: ২০০০)। এই সকল বস্তুগত নিদর্শনগুলোর মধ্য হতে একটি নিদিষ্ট উপাদানকে নির্দিষ্ট সংস্কৃতির জন্য মানদণ্ড নির্ধারণ করে একই সাথে কিছু বৈশিষ্ট সাধারণীকৃত অবস্থায় তার সাথে যুক্ত করে  নমুনায়ন করার মাধ্যমে যে বিবর্তনবাদী ইতিহাস নির্মান করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে তা নির্দ্বিধায় অযৌক্তিক এবং হটকারীও বটে (Hutterer : 1976)| । পাশাপাশি প্রতœতাত্ত্বিক আলামত নির্ভর নির্মিত ইতিহাস অনেকক্ষেত্রে আধিপত্যবাদী জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করে যা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে গেলে ফলাফল অনেক ভয়াবহ হতে পারে ( Mandal & Ratnagar: 2007 )।  এই নির্মান শব্দটির বিশ্লেষণ করলেই মূল চিত্র আমাদের কাছেন স্পষ্টত ধরা পড়ে যা এই ক্ষুদ্র পরিসরের স্মৃতিচারণে বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। এই পাটাতনের উপর দাঁড়িয়ে থাকা প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণাতে বিণফোর্ডের হাত ধরে বিজ্ঞানের সম্পৃক্তি সংস্কৃতির নর্মাটিভ দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি বর্ণণামূলক ইতিহাস নির্মানের (ঘড়ৎসধঃরাব ারবি ড়ভ ঈঁষঃঁৎব ্ উবংপৎরঢ়ঃরাব ঐরংঃড়ৎু) সনাতনী রীতি অনেকটাই নাকচ করার সুযোগ এসে যায়।

পরবর্তিকালে লুই বিনফোর্ডের ভূমিকায় অতীত গবেষণা পদ্ধতি ও কৌশলের পরিবর্তনের সাথে সাথে এর উদ্দেশ্যসহ নানা আঙ্গিকে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। প্রতœনিদর্শন বা প্রতœবস্তুর ধারণাগত প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে একটা বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় (ইরহভড়ৎফ ১৯৮১ধ.) যেখানে অতীত পরিবেশকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করায় বাস্তুবস্তু বা ইকোফ্যাক্টস্ প্রতœবস্তুর সমান তাৎপর্যবহ হয়ে ওঠে। পরবর্তিকালে সাদার্ণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নাডসান প্রতœবস্তু আর বাস্তবস্তুুর মধ্যে কোন তফাৎ খুঁজে পাননি (কহঁফংড়হ : ১৯৮৫) ।  বিনফোর্ডের চিন্তাধারার প্রভাবে নর্মাটিভ দৃষ্টিভঙ্গিকে ছুঁড়ে ফেলে সংস্কৃতিকে একটি ব্যবস্থা বিবেচনা করতে গিয়ে কিছু প্রশ্ন যেমন আমরা অতীত ইতিহাস কেন জানবো আমরা অতীত ইতিহাসের কোন দিকটি জানতে চাচ্ছি জ্ঞানতাত্ত্বিভাবে এই বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে থাকে। বিশেষত আলাস্কার নুমিয়ান্ট এস্কিমোদের উপর দীর্ঘ গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা(ইরহভড়ৎফ ১৯৭৮) তাঁকে প্রতœতত্বের গবেষণাতে নতুন একটি ধারার উন্মোচনে পথ দেখায়। নুমিয়েন্ট এস্কিমোদের জীবনধারার উপর তাঁর এই মাঠকর্ম জাতি-প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণার ভিত্তিতে অতীত প্রতœনিদর্শনের বিশ্লেষণ করে একটি বিশ্বাসযোগ্য ব্যখ্যা দাড় করানো গেলে ইতিহাস কিভাবে যুক্তিযুক্ত ও জীবন্ত হয়ে ওঠে তা প্রমাণে যথেষ্ট হয়েছিল। কর্মজীবনের সূচনালগ্নে বিশেষত আমেরিকান এন্টিকুয়েটি জার্নালে প্রকাশিত তার কয়েকটি নিবন্ধে (ইরহভড়ৎফ ১৯৬২, ১৯৬৪, ১৯৬৫) তিনি দেখিয়েছেন নির্দিষ্ট বস্তুগত উপাদানের আলোকে সংস্কৃতিক ইতিহাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে অতীতের ব্যাখ্যাদান কিভাবে সাধারণীকৃত, ভ্রমাত্বক ও একপেশে হয়ে ওঠে। তিনি পরবর্তিকালে সংস্কৃতিক ইতিহাসের  চিন্তাধারাকেই চ্যালেঞ্চ করে বসেন। অতীত মানুষে কর্তৃক পরিত্যাক্ত হওয়ার পর সময় এর সাথে সাথে নিদিষ্ট স্থানিক প্রেক্ষিতে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক রেকর্ডের গঠন প্রক্রিয়া কিভাবে অতীত সংস্কৃতির ব্যবহারিক বিন্যাসকে নানা আঙ্গিক হতে প্রভাবিত করতে পারে (ইরহভড়ৎফ ১৯৮১ধ ্ ন). এই বিষয়কে তিনি গুরুত্বসহকারে অনুধাবন করার প্রতি মনোনিবেশ করেন। তিনি সাংস্কৃতিক ও ভূতাত্ত্বিক পরিমন্ডলে প্রতœতাত্ত্বিক রেকর্ডের এই পরিবর্তন অনুসন্ধান করতে গিয়ে মধ্যবর্তী পর্যায়ের তত্বের প্রবর্তন করেন যেখানে অতীত সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত যে কোন প্রতœনিদর্শনের ব্যবহারিক বিন্যাস বুঝতে বর্তমানের সাথে প্রতিতুলনামূলক অধ্যয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে পূর্বোক্ত সংস্কৃতিক নর্মের সরাসরি নিদের্শক হিসেবে প্রাপ্ত প্রতœবস্তুর ভিত্তিতে অতীত সংস্কৃতির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ধারাকে অনেকটাই চ্যালেঞ্চ করা হয়। পাশাপাশি একজন  গবেষকের সামাজিক অবস্থান, চিন্তুাধারা, রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণা ও অনুসন্ধানকে কিভাবে প্রভাবিত করে তিনি এই বিষয় সম্পর্কেও ধারণা দিয়েছেন(ইরহভড়ৎফ ্ ঝধনষড়ভভ ১৯৮২) । যার সাথে বিশিষ্ট প্রতœতাত্ত্বিক ডেভিড ক্লার্কের চিন্তাধারার (ঈষধৎশ ১৯৮৭, ১৯৯৩)বেশ মিল ছিল।  তাঁর মতে একজন প্রতœতাত্ত্বিক তার পারিপাশ্বিকতার দ্বারা প্রভাবিত হলে বস্তুনিষ্ঠ প্রতœতাত্ত্বিক ব্যাখ্যাদান কখনই সম্ভব নয়।
পূর্বোক্ত ধারণার বহুবিধ  সমস্যার মধ্যে একটি হচ্ছে অতীত মানুষ কর্তৃক কোন বস্তুগত নিদর্শন পরিত্যক্ত হওয়ার পর সময় ও স্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তা পরিবর্তিত হয়ে একটি স্থির অবস্থানে গিয়ে প্রতœবস্তু হিসেবে স্থান করে নিতে তাতে বহুবিধ পরিবর্তন এবং রূপান্তর সাধিত হয় (ঝযধহশং ধহফ ঞরষষবু : ১৯৮৭)। পরবর্তিকালে এই সকল পরিবর্তিত ও খণ্ডিত উপাত্ত যখন প্রতœতাত্ত্বিকের হাতে এসে পৌঁছায় তখন তা থেকে নির্মিত অতীত ইতিহাস স্বাভাবিকভাবেই খণ্ডিত ও আংশিক হওয়াটাই স্বাভাবিক ।  বিনফোর্ড এক্ষেত্রে শুধু বস্তুর গাঠনিক বিন্যাস ও শ্রেণীকরণ নির্ভর অতীত ইতিহাস নির্মাণের কঠোর সমালোচনা করে বস্তুর সাথে তার পারিপাশ্বিকতাকে সমান গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার কথা বলেন যার মাধ্যমে অতীতের ব্যাখাদান অনেকটাই বস্তুনিষ্ঠ ও বাস্তবের কাছাকাছি যায় বলে তিনি মনে করতেন। বিষয়টি বুঝতে গেলে একটি নিদর্শন অতীত মানুষ কর্তৃক পরিত্যক্ত হওয়ার পর কালের আবর্তে যে পরিবেশে থেকে গাঠনিক ও ব্যবহারিক বিন্যাসে পরিবর্তিত হয় (ইঁঃুবৎ: ১৯৮২) তার পাশাপাশি ঐ স্থানের ভূমিরূপ ও ভূ-তাত্ত্বিক বিষয়াবলীকেও সমান গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত ( ঐবৎু ্ এধৎৎরংড়হ : ১৯৯৮)। প্রতœতাত্ত্বিক রেকর্ডের এই রূপান্তর ও পরিবর্তন গবেষণার অনুষঙ্গ হিসেবে স্থান করে নিলে স্থান বা স্থানিক প্রেক্ষিতের ধারণা প্রতœতত্ত্বে বিশেষ গুরুত্ব পায়।  বিনফোর্ড সংস্কৃতিকে কিছু  বস্তুুগত নিদর্শনের শুধু আকারগত বিশ্লেষন আর  গাঠনিক বিন্যাস পর্যবেক্ষন করে তাকে একটি শ্রেণীকরণের মানদণ্ডে বেঁধে ফেলার ঘোর বিরোধী ছিলেন। কারণ একটি প্রতœবস্তুর গাঠনিক বিন্যাস থেকে কোন অর্থ নির্মান করা হলে তা সমাজ সংস্কৃতির চলমান বাস্তবতার সাথে নাও মিলতে পারে। ক্রেগার (কৎবরমবৎ, ১৯৪৪, ঢ়. ২৭৫) বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিনফোর্ড পূর্ববতী সনাতনী ধারার প্রতœচর্চায় বস্তুর শ্রেণীকরণের আলোকে অতীত নির্মান চেষ্টায় মূলত তিনটি সহজ ও সাধারণ প্রশ্নের পরিমণ্ডলেই ঘুরপাক খাওয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন। এই ক্ষেত্রে অতীত সংস্কৃতির পর্যবেক্ষনে ইতিহাসের একটি রূপরেখা দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে সংস্কৃতির দুটি চলক বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত যার পারিপাশিতায় সংস্কৃতির বস্তুগত নিদর্শন আবর্তিত হয়। এখানে অন্তস্থ চলক হিসেবে সমাজে প্রচলিত প্রথা যেমন বিয়ে, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, প্রথা, আইন কানুন ও বিভিন্ন সামাজিক রীতির কথা বিবেচনা যেতে পারে আর বহিস্থ চলক হিসেবে পরিবৈশিক প্রেক্ষিত, ভূ-তাত্ত্বিক প্রেক্ষিত বা এক কথায় স্থানিক প্রেক্ষিতের কথা বলা যেতে পারে। কারন নর্মাটিভ দৃষ্টিভঙ্গি আর বর্ণনামূলক ইতিহাসের বিপরীতে বিনফোর্ড এর ধারণার আলোকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা প্রস্তাবে সংস্কৃতি সমাজে বিদ্যমান এই সকল বহিস্থ ও অন্তঃস্থ চলকের উপর ভিত্তি করেই বিকশিত হয় যেখানে বহিস্থ চলকের প্রভাবে অন্তস্থ চলকের পরিবর্তন লক্ষণীয়। সংস্কৃতির এই ব্যবস্থার স্বরূপ উদঘাটনে বিনফোর্ড মধ্যবর্তী পর্যায়ের তত্ত্ব   প্রস্তাব করেন যেখানে অনুষঙ্গ হিসেবে স্থান পায় প্রতœতাত্ত্বিক রেকর্ডের গঠন প্রক্রিয়া, জাতি-প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণা, পরীক্ষামূলক প্রতœতত্ত্ব ও ট্যাফোনমির  মতো বিষয়াবলী। অন্যদিকে তাত্ত্বিক ধারণা হিসেবে সমরূপীকরণ ও প্রত্যক্ষণবাদ তত্ত্বকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা বিবেচনা করে ভাবা হয় বিজ্ঞানের সম্পৃক্তি ইতিহাসকে অনেকটাই নৈব্যক্তিক করে তুলতে সক্ষম।
প্রতœতত্ত্বের তাত্ত্বিক ঘরাণাতে বিশেষত আমেরিকার প্রতœাতাত্ত্বিক গবেষণা ও অনুশীলণে লুই বিনফোর্ডের চিন্তাকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তুার করতে সক্ষম হয়েছে। ব্রিটিশ প্রতœতাত্ত্বিকদের ঘোর বিরোধিতা, তাঁর প্রবর্তিত প্রতœতাত্বিক চিন্তুাকাঠামোকে উপহাসমূলক নব্য প্রতœতত্ত্ব নামকরণ সহ নানমুখী উদ্যোগ  তাঁর চিন্তাধারার যুক্তিযুক্ত অবস্থান আর বস্তুনিষ্ঠতার কাছে হার মেনেছে। ভারতীয় প্রতœতাত্ত্বিকগণ বিশেষত পুনার ডেকান কলেজের গবেষক ও প্রতœতাত্ত্বিকদের অনেকেই লুই বিনফোর্ডের    চিন্তাধারায় প্রভাবিত হয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে আমরা প্রখ্যাত প্রতœতাত্ত্বিক কে  পাদায়ার  কথা বলতে পারি। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের প্রতœতাত্ত্বিক গবেষকদের কাছেও লুই বিনফোর্ড জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব।
লুই বিনফোর্ডের মতো বড় মাপের  একজন প্রতœতাত্ত্বিক গবেষকের কর্মকাণ্ডকে একটি ছকে বেঁধে এই ক্ষুদ্র পরিসরে তুলে ধরা অসম্ভব। তবুও সাধারণ দৃষ্টিতে আমরা উপলদ্ধি করতে পারি সনাতনী ধারার সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও বিবর্তনবাদী প্রতœচর্চার ধারাকে অনেকটা চ্যালেঞ্চ করে সংস্কৃতিকে একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করে একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সংস্কৃতির সঙ্গায়নে বিনফোর্ডের প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সাংস্কৃতিক নর্মের তথাকথিত প্রতিফলনকারী বস্তুগত উপাত্তের মাধ্যমে সংস্কৃতির প্রকৃত চালচিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রে নানাবিদ সমস্যা, অস্পষ্টতা আর জটিলতা  বিনফোর্ডের   চিন্তাধারা প্রতœতাত্ত্বিকদের নতুন করে ভাববার একটি ভিত্তিভূমি তৈরী করে। পাশাপাশি এই সনাতনী ঘরানার প্রতœতত্ত্ব চর্চার তাত্ত্বিক-কাঠামোগত আঙ্গিকে সীমাবদ্ধতা আর প্রাপ্ত গবেষণা ফলাফলে যুক্তিগত দিকের দুর্বলতা, বিজ্ঞান থেকে দূরত্ব, ফ্যাক্ট-ফিকশনের-লিখিত উপাত্তের মানদণ্ড নির্ধারণে মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব চিন্তাজাগতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে বিনফোর্ডের চিন্তাধারাকে বিকশিত হওয়ার পথ করে দেয়। বিনফোর্ড তাঁর বি¯তৃত গবেষণাকর্মে সংস্কৃতির কয়েকটি মানদন্ডনির্ভর পর্যবেক্ষনের বদলে একটি ব্যাবস্থা বিবেচনা করে সংস্কৃতির লালনকারী সমাজের অভ্যন্তরস্থ কার্যক্রম বা গতিশীলতাকে বোঝার চেষ্টা করেছেন যেখানে বিজ্ঞাননির্ভর অসুসন্ধান বিশেষভাবে লক্ষনীয়। এখানে বিভিন্ন সংস্কৃতিক প্রপঞ্চ সংঘটিত হওয়ার পেছনে বিদ্যমান কারণ সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণার পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট চলক কিভাবে পুরো কালচারাল সিস্টেম বা সংস্কৃতিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে তার দিকে একটি সজাগ দৃষ্টি বিনফোর্ডের ছিল। আমাদের কাছে বিনফোর্ডের কর্মকাণ্ডের একটি দিক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে ‘‘সংস্কৃতিকে একটি ব্যবস্থাহিসেবে দেখতে গিয়ে তিনি এর অন্তর্গত বিভিন্ন বিষয় বিশেষত পারিবেশিক নিয়ামক, বাস্তুসংস্থান, ও বসতিবিন্যাসের মতো বিষয়কে বেশ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছেন’’ ফলে তাঁর গবেষণা হয়েছে অনেকটা গ্রহনযোগ্য ও যুক্তিযুক্ত। আমরা একটি বিষয় স্পষ্টত লক্ষ্য করি প্রতœতাত্ত্বিক সংস্কৃতিকে কোন বিশেষ মানদন্ডের আলোকে প্রতিনিধিত্বশীল অনুজ্ঞায় গুচ্ছাকারে বর্ণনা না করে প্রতিটিকে একটি পৃথক সত্তা বিবেচনা করে গবেষণার আওতায় আনা সম্ভব হলে তার একটি স্বতন্ত্র সংস্কৃতিগত ও অবস্থানগত নির্দিষ্টতা সত্ত্বাতাত্ত্বিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিকভাবে প্রতিষ্টিত করা সম্ভব। কারণ কোন নির্দিষ্ট নমুনায়িত উপাত্তের আলোকে কোন ঘটনাকে সাধারণীকরণ করে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি সারসত্ত্বায়িত প্রত্যয় আরোপিত হলে এই বর্ণণা সর্বদাই পক্ষপাতদুষ্ট ও ভ্রমাত্মক  হতে বাধ্য। যেখানে সংস্কৃতির অন্তস্থ প্রতিটি চলকের একটি স্বতন্ত্র কর্মভূমিকা রয়েছে যা স্ব-স্ব স্থানিক কালিক ও বৈষয়িক মানদন্ডে বিশেষ গুরুত্ববহ যেখানে নমুনায়ন নির্ভর মানদণ্ডের ভিত্তিতে সংস্কৃতির ব্যখ্যাদান অবশ্যই অযৌক্তিক ও বিভ্রান্তিকর।
অন্যদিকে প্রতœতাত্ত্বিক তথ্যপ্রমাণ ও ঐতিহাসিক  কল্পকাহিনীকে পাশাপাশি দাঁঁড় করিয়ে  ঐতিহাসিক কল্পকাহিনীর সাথে বিজ্ঞানের বাস্তবতার দ্বন্দ্বকে  অনেকটা বিজ্ঞাননির্ভর আলোচনা ও যু্িক্তনির্ভর বৈপরীত্যের মাধ্যমে বোঝার একটা প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে লুই বিনফোর্ডের ঘরাণার প্রতœতত্ত্ব চর্চায়। আমরা মনে করি  প্রতœতত্ত্ব ও ইতিহাসের বাস্তবতা কিভাবে একটি স্বীকৃত মহাবয়ানের প্রভাবদুষ্ট হয়ে  ননর্থক অব্যয় হিসেবে পরিগণিত হতে পারে কিংবা একটি রেপ্রিজেন্টেশনের বাস্তবতায় দিবালোকে মতো স্পষ্ট হয়ে চোখে দৃশ্যমান হতে পারে বিনফোর্ডের ধারণার পূর্বে এসকল চিন্তাধারা অনেকটাই অন্ধকারে ছিল।  কোন কোন ঐতিহ্যের আখ্যান বর্ণণার বাস্তবতায়  যথার্থ, তথাকথিত মানদণ্ডে  আধুনিক এবং সঠিক বা যৌক্তিক , আর কোন কোনটি ভিন্নার্থ জ্ঞাপক  তা নির্ধারণকারী মানদন্ড সম্পর্কে প্রতœতাত্বিকরা কোন পথ অনুসরণ করতে পারেন তার একটি দিকনির্দেশনাও বিনফোডের্র ধারণাতে ছিল বলে আমরা মনে করি।

 তবে বিনফোর্ডের চিন্তাধারায় ভৌত বিজ্ঞান আর সামাজিক বিজ্ঞানের ব্যখ্যাা পদ্ধতি অনেকটাই একীভূত হওয়াতে তাঁর প্রস্তাবিত পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতা লক্ষনীয় যেটা বেশ পরবর্তীকালের ধারণা। একটি বস্তু সমাজের বিদ্যামান মানুষের সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে যখন গতিশীল থাকে এর  নিছক কিছু ক্রিয়াগত অর্থ থাকে না।  পরিবেশের বাস্তবতায় বস্তুর ক্রিয়াগত অর্থের পাশাপাশি তার প্রতিকী অর্থ, তৎসংশ্লিষ্ট দেহাতিরিক্ত ও আধ্যাত্বিক বা মেটাফিজিক্যাল কিছু প্রত্যয়কে অনেক ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ববহ হয়ে উঠতে দেখা যায়। বিনফোর্ড তাঁর চিন্তুাধারাতে বিজ্ঞান নির্ভর চিন্তাকে বেশি প্রাধান্য দেয়াতে এই বিষয়গুলো অনেকটা বিবেচনার বাইরে ছিল। বিনফোর্ড বিজ্ঞাননির্ভর পরীক্ষনের বাস্তবতায় প্রাপ্ত ইতিহাসের প্রমানকে ফ্যাক্ট বলার পক্ষপাতী হলেও এ বিষয়ে একটি সন্দেহ থেকেই যায় ‘পূর্ণ সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও গবেষক অধিপতিশীল রাষ্ট্রীয় ও জাতিগত মতাদর্শ ও ক্রিয়াশীল অসম ক্ষমতা সর্ম্পকের বাইরে কখনই যেতে পারেন না বিধায় তিনি অবচেতনভাবে হলেও পক্ষপাতদুষ্ট যা ইতিহাসকে বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা মতাদর্শিক অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার কোন পথ না থাকায় তথাকথিত এই ফ্যাক্টসমূহ বিশ্লেষণ করে কোন গবেষক যখন অতীত সম্পর্কে বিভিন্ন উপাত্ত ও তথ্য হাজির করেন বা একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করান তা অবচেনতভাবে হলেও প্রতœতাত্ত্বিক আলামতের ভ্রমাত্বক বা অতিরঞ্জিত দৃশ্যায়নে গবেষককে একরকম বাধ্যই করে। তবে একটা বিষয় স্বীকার করতেই হবে  আলামতের বিশ্লেষণের সময় আমরা যেটাকে  ফ্যাক্ট হিসেবে মনে করি বা করতে বাধ্য থাকি তা  নিজে একটি স্বশাসিত সত্তা নিয়ে বিরাজ করে যা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। ফলে প্রতœাতাত্ত্বিক আলামাতের ভিত্তিতে প্রতিষ্টিত তথাকথিত বাস্তবতা বা ফ্যাক্ট কে ব্যক্তিপ্রভাব বর্জিত বা নৈব্যাক্তিক, সর্বজনীন; স্বাধীন ও সার্বভৌম বলে মনে করার জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি অনেকটাই দূর্বল হয়ে যায়। কারণ যতই বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা করা হোক না কেন একটি সাংস্কৃতিক ট্রেইটস বা প্রপঞ্চ বা তথাকথিত নর্ম আধুনিক রৈখিকতা অনুসরণ করে না, অর্থাৎ সেটিকে যেমন আধুনিক ও সেক্যুলার পরম্পরা কিংবা কার্য-কারণ সম্পর্ক মেনে চলার কথা বলা হয় বাস্তবতার বিচারে তেমনটি হয়ে ওঠেনা । লূই বিনফোর্ড এ দুয়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণের পথ হিসেবে  উভয়ের সীমানা ও সংজ্ঞা নির্ধারণ করে পরস্পরের সঙ্গে তুলনামূলক ও বৈপরীত্যমূলক সম্পর্ক নির্ধারণেই থেমে থাকার ঘোর বিরোধী।

বিনফোর্ডের চিন্তাধারা তাত্ত্বিক প্রেক্ষিতে বস্তুর বিশ্লেষনে বিজ্ঞাননির্ভর একটি পদ্ধতি প্রচলন করে যা খুব দ্রুত একটি দাপুটে ও আধিপত্যশীল ঘরানায় রূপান্তরিত হয়ে উঠে। এই ক্ষেত্রে একটি বিষয়ে তর্কের অবতারণা করা যায় তা হচ্ছে বস্তুপ্রমাণ নির্ভর ততাকথিত বাস্তবতা ও অতিকথনের বা কল্পকাহিনীর ভেদরেখাকে যেভাবে প্রচলিত ডিসকোর্সসমূহে বিবেচনা করা হয় সেটাও বিভিন্ন অবস্থা ও চলকের সাপেক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। বাস্তবতার এই বিচারে প্রমানিত এই তথাকথিত সত্য কোন কোন ক্ষেত্রে অবাস্তব হয়ে উঠতে পারে আবার এই অতিকথন, কল্পকাহিনী বা  ফিকশন কখনো কখনো  সত্যতার দিক থেকে অনেকখানি এগিয়ে যেতে পারে। প্রতœতত্ত্ব চর্চার ইতিহাসের খেরোখাতায় নজর দিলে আমরা দেখি প্রতœতত্ত্ব, প্রচলিত ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কিত আখ্যান বা ডিসকোর্সগুলোতে অতীতের ফ্যাক্টনির্ভর যে-সব আখ্যান বা বয়ান চালু আছে সে-গুলো ফিকশনের সঙ্গে সতত অংশীদারিত্বমূলক। কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা দেখি এগুলো একে অন্যের পরিপূরক। তবে একটি বিষয় স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়েছে ইতিহাস, প্রতœতাত্ত্বিক ও নৃবৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডলে উপনিবেশ কালীন ও উপনিবেশ উত্তরকালে আধুনিকীকরণ প্রকল্প ও তথাকথিত সেক্যুলারকরণের ইতিহাসের সঙ্গে উপনিবেশকালীন ও পরবর্তী জাতীয়তাবাদী প্রকল্পের আকাঙ্খাগুলোর একটি নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান যাকে বোঝার সুযোগ বিনফোর্ডের চিন্তাকাঠামোতে অনুপস্থিত ছিল। এসকল বিষয় বাদ দিলে বিনফোর্ডের আবির্ভাব প্রতœচর্চাকে একটি নতুন দিশার সন্ধান দিয়েছে যা পূর্বের ন্যায় কাঠখোট্টা নিরস বস্তুর বিবরণের গণ্ডিতেই আবদ্ধ থাকেনি বরঞ্চ নানা আঙ্গিক ও কলেবরে বৃদ্ধি পেয়েছে।  তবে এর একটি গুরুতর দিক এই যে এখানে বস্তুগত নিদর্শনের সাথে বিজ্ঞানের ধারণার সংযোগে মনে করা হয় যে ইতিহাসের বিবরণেও একনিষ্ঠ সত্যের প্রতিফলন সম্ভব যা পরবর্তিকালের চিন্তকদের কাছে কঠোর সমালোচনার শিকার হয়।

ইতিহাস বিচার করলে দর্শনে আলোকপ্রাপ্তর পর বা তথাকথিত আধুনিক ইউরোপে সামাজিক বিজ্ঞান প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদানের বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই তাত্ত্বিক ঘরাণার নানা মারপ্যাচে উপনিবেশবাদের ভিত্তি মজবুত করতে সচেষ্ট ছিল। এখানে প্রতœতত্বের মতো সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে কোন সাধারণ শিক্ষামূলক বা গবেষণামূলক অনুষদ না বলে উপনিবেশবাদ সম্প্রসারণের বৈধতাদান ও যুক্তিযুক্ত ভিত্তিপ্রদানকারী একটি প্রকল্প বললে অত্যুক্তি করা হবে না। নির্বাচিত বা ট্রেডমার্ক প্রতœবস্তুর সাহায্যে সাংস্কৃতিক নর্ম চিহ্নিতকরণনির্ভর সাংস্কৃতিক ইতিহাস নির্মানকারী প্রতœতত্বের উপনিবেশবাদী প্রকল্পের বেড়াজাল ছিঁড়ে তিনিই প্রথম বেরিয়ে আসার পথ দেখান। সংস্কৃতিক প্রক্রিয়া অনুধাবন করে প্রতিটি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচনায় আনার তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রদানের মাধ্যমে প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণায় লুই বিনফোর্ডের আবির্ভাব ঘটেছিল। তিনি অতীত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে পূর্বতন হটকারী বস্তুগত উপাদানের উপস্থাপন নির্ভর সংস্কৃতিক ঐতিহাসিক ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে সংস্কৃতিকে একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখার মাধ্যমে অতীত গবেষণার প্রস্তাবণা আনেন। পূর্বতন সাংস্কৃতিক ঐতিহাসিক ধারার অতীত চর্চার আদিকল্পে প্রকৃত অর্থে উপনিবেশিক শক্তি কোন অঞ্চলে তাদের উপনিবেশ স্থাপন করার পর উপনিবেশকে বৈধতা প্রদানের জন্য ঐ স্থানের সাথে তাদের অতীত সম্পর্ক প্রমানের ঐতিহাসিক সত্তাকে পূৃর্ব থেকেই নির্মান করে নিত। আর তাকে যুক্তিযুক্ত একটি ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়ে বাস্তবে মেলে ধরার ক্ষেত্রে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয়া হতো প্রতœতত্ত্ব বা নৃবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোকে। এখানে তারা ইউরোপীয় দর্শনের দুটি ধারা বিশেষত দৃষ্টবাদ ও প্রত্যক্ষনবাদকে গুরুত্ব দিয়ে অতীত মানুষের সংস্কৃতি সম্পর্কিত বস্তুগত উপাদানকে সরাসরি সংস্কৃতিক নর্মের উপস্থাপন বলে প্রমানে সচেষ্ট হলে তখনকার প্রতœতত্ত্ব চর্চার সাথে পুকুর খোঁড়া বা কবর খুঁড়ে মাটি তোলার বিশেষ পার্থক্য ছিল না। এক্ষেত্রে লুই বিনফোর্ড প্রবর্তিত  সংস্কৃতিক প্রক্রিয়ার ধারণার, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের তুলনামূলক অধ্যয়ন, প্রত্নতাত্বিক রেকর্ডের গঠন প্রক্রিয়া অনুসন্ধান ও প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনের প্রেক্ষিতগত সমাবেশ বিশ্লেষণ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।
১৯৩১ সালের ২১ নভেম্বর জন্ম নেয়া বিনফোর্ডের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। দীর্ঘ ৫০ বছরের কর্মজীবনে তিনি দেড় শতধিক গ্রন্থ এবং গবেষণা প্রবন্ধ রচনা ও সম্পাদনা করে গেছেন যার বিবরণ এই ক্ষুদ্র পরিসরে দেয়া সম্ভব হয়নি। শিক্ষাজীবনে নর্থক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞান বিষয়ে øাতক সম্মান, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেটিভ আমেরিকান এবং ভার্জিনিয়াতে প্রথম ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপন প্রক্রিয়ার উপরে øাতকোত্তর ও ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন। কর্মজীবনে পৃথিবীর বিভিন্ন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।

লেখকদ্বয়ঃ 

মোকাম্মেল এইচ ভূঁইয়া
সহযোগী অধ্যাপক, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
শিক্ষার্থী-গবেষক; প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
aurnabmaaa@gmail.com

References & Notes:

Binford, L.R. 1962. Archaeology as anthropology. American Antiquity 28: 217-25.
– 1964.  
A consideration of archaeological research design.  American Antiquity 29:   425-41.
– 1965.
Archaeological systematics and the study of culture process. American Antiquity 31: 203-210.
– 1978a.
Nunamiut ethnoarchaeology. New York: Academic Press.
– 1981a.
Bones – ancient men and modern myths. New York: Academic Press.

-1981b. Middle range research and the role of actualist studies, in Bones – ancient men and
modern myths: 21-30. New York: Academic Press.

Binford, L. R. & J. A. Sabloff. 1982. Paradigms, systematics and archaeology. Journal of Anthropological Research 38: 137-53.

 Butzer, K.W. 1982.  Archaeology as human ecologyContext in archaeology. p-3-14.  Cambridge University Press, 1982.
 Herz,N &  Garrison,E. 1998. Geomorphology in Archaeology;  Geological methods for archaeology. Oxford University Press, 1998. p-26-45.

Hutterer, K. L. 1976. An evolutionary approach to the Southeast Asian cultural sequence . Current Anthropology, Vol. 17, No. 2, Jun., 1976 .p-221-223.

Knudson, S.J. 1985. Culture in retrospect: the basic units of archaeology, Artifacts. Waveland press, Inc. Prospect heights, Illinois 60070. p-23.  

Kreiger, A. 1944 ‘The typological concept’, American Antiquity 9. , p-275.

Mandal, D and Ratnagar,S. 2007.  Ayodhya: Archaeology After Excavation. Tulika, 2007 ,New    Delhi  .Manohar Publishers & Distributors.

Meltzer,D. 2011.  “Lewis Binford led the charge that pushed, pulled and otherwise cajoled archaeology into becoming a more scientific enterprise.” David Meltzer,

Professor of Prehistory at Southern Methodist University, Dallas. SMU’s Lewis Binford left legacy of change, innovation. Dallas (SMU). April 13, 2011.

Miller,S. APRIL 15, 2011. Archaeologist Binford Dug Beyond Artifacts : The Wall Street Journal Remembrance.

 Morris,I. 2000. Archaeology as cultural history : words and things in Iron Age Greece. Wiley-Blackwell, 2000. P-3-5.

Paddayya,K.  2011. Antiquiti : A Quarterly review of World Archaeology. Edited by: Martin Carver.  Special online publication on Lewis Binford (21 November 1931 – 11 April 2011); Appreciation by K. Paddayya

Rajendran,S. 2011.Legendary archaeologist Lewis Binford passes away. The Hindu news. Bangalore, April 14, 2011.

Renfrew,C.  2011. Antiquiti : A Quarterly review of World Archaeology. Edited by: Martin Carver. Special online publication on Lewis Binford (21 November 1931 – 11 April 2011); Appreciation by Colin Renfrew.

Shanks, M and Tilley, C. 1987 : Social Theory and   Archaeology. University of new Mexico press, Albuquerque. 1987. P-79.

UCP. April 14th, 2011.  In Memoriam: Lewis Binford. University of California Press.

Wilford, J.N. April 22, 2011. Lewis Binford, Leading Archaeologist, Dies at 79 : The New York Times.  

websites:

Jagranjosh, 2011.Current Affairs . April 2011. Renowned Archaeologist & Founder of New Archaeology, Lewis Binford Expired.  http://www.jagranjosh.com/current-affairs/Renowned-Archaeologist-Founder-of-New-Archaeology-Lewis-Binford-Expired-1302787447-1.

Gamble,C. 17 May 2011. Lewis Binford obituary : Advocate of a rigorous, scientific approach to archaeology. guardian.co.uk.

Smith,C. 2011. World archaeological congress: Lewis Binford Memorial Book, http://www.worldarchaeologicalcongress.org/home/lewis-binford.

 
১.সালিম,এম.এ.এ,  ২০১১। পুরাতাত্ত্বিক লুই বিনফোর্ডের মহাপ্রয়ানে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলী। উপসম্পাদকীয়,দৈনিক আমার দেশ,১৩ই মে ২০১১।
২.সালিম, এম এ.এ, ২০১১। কালজয়ী পুরাতাত্ত্বিক লুই বিনফোর্ড। উপসম্পাদকীয়, দৈনিক সমকাল ২৩শে মে ২০১১।