ইলিশের দামে পুঁটি, খাসির দামে মুরগী, বিদ্যুত যখন যয়না- মাঝে মাঝে আসে, পিচঢালা রাস্তায়- মাছ চাষের অবারিত সুযোগ


টাইম ম্যাগাজিন যখন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি ভুল প্রতিবেদন লিখে তাঁর জীবিত সন্তানকে খবরের মাধ্যমে মেরে ফেললো সেটা অগ্রাহ্য করে শুধু চুম্বক অংশ জাতি জানলো। প্রকাশিত হলো তিনি নাকি বিশ্বের প্রভাবশালী ১২ নারীর একজন। কিন্তু এই প্রভাবশালীর নারীর প্রভাবে দেশের মানুষ কেমন আছে এই প্রশ্নে অনেককেই নীরব থাকতে দেখা গেছে। যাহোক সেটা বলছি না। কারণ কোন সরকারি দলকে নিয়ে কথা বলার সৎসাহস বেশিরভাগ পত্রিকার থাকে না। আর যদি তা প্রথম আলোর মতো পেটোয়া হয় সেটা আরো ভিন্ন কথা।

অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করেছি যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন পুরো পৃথিবীর ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলোর একটি তালিকা প্রণয়ন করেছে তখন আমাদের দেশের ওই সব পত্রিকাগুলো নীরব ছিল। কারণ ওই তালিকায় ১৭৭টি রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৫তম। দুর্দান্ত মেধাবী সোমালিয়া প্রথম স্থান অধিকার করেছে আর নিয়মিত শিক্ষাথী হিসেবে আমাদের বাংলাদেশ আছে ২৫ নম্বরে যা তেমন খারাপ ফলাফল নয়।
একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় তালিকায় স্থান পাওয়া প্রথম ২০টি দেশের মধ্যে ১৪টিই আফ্রিকার সোমালিয়া, সাদ, সুদান, কঙ্গো কিংবা জিম্বাবুয়ে ।

এটা হরলিকসের বিজ্ঞাপনের পিচ্ছিটার আনন্দ প্রকাশ করার ঘটনার নয়। যে আমাদের দেশের মিডিয়া চিৎকার করে বলবে আম্মু আমি ফাস্ট হয়েছি। যেটি হয়েছিল দূর্ণীতিতে। স্বার্থান্বেষণে রাজনৈতিক দখলদারিত্ব আর অবস্থানিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতা ধরে রাখার প্রবণতা, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও দুর্বৃত্তায়ন, রাজনৈতিক প্রেক্ষপটে আদর্শের সংকট ইত্যাদি কারণে আমরা ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে এই সোনার মুকুট অর্জন করেছি যা মোটেও কাম্য ছিল না।

মোট ১২টি ক্ষেত্র বা বিষয় সামনে রেখেফরেন পলিসি একটি রাষ্ট্র কতটুকু \’ব্যর্থ\’, তা নির্ণয় করে। যেখানে মানবাধিকার পরিস্থিতি, অর্থনীতির নিম্নগতি, অসম উন্নয়ন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপের আশঙ্কা, জনসংখ্যার চাপ, উদ্বাস্তু, গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব, জনগোষ্ঠীর স্থানচ্যুতি, সুশীল সমাজের মধ্যে দ্বন্দ্ব ইত্যাদি। এই বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকা তৈরি করা হয়। বাংলাদেশে বাড়তি জনসংখ্যার চাপ উপযুক্ত পদ্ধতি প্রয়োগে জন-শক্তিতে পরিণত না হয়ে বোঝায় রূপ নিয়েছে। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির দ্বারা মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে এক লাখ কোটি টাকার ওপরে লুট হয়ে দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে। সংগত কারণেই শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকা প্রণয়নে তাই এই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে আশঙ্কার কারণ যা, তা হচ্ছে, ব্যর্থ রাষ্ট্রে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়া। আফগানিস্তান, পাকিস্তান কিংবা সোমালিয়া এর বড় প্রমাণ। বাংলাদেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। এরা বেকার। এমনকি গ্র্যাজুয়েশন করেও এরা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকার কারণে কোনো চাকরি পাচ্ছে না বিধায় অনেকে পেটের দায়ে সন্ত্রাসকে বেছে নিচ্ছে জীবিকা হিসেবে।

একটি স্বাধীন দেশে কখনই কারো কাম্য ছিল না ডাস্টবিনের পাশে মানুষ আর কুকুর একই সাথে খাবার খাবে । এখন সেটাও দেখতে হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের আগুনে মানুষের জীবন এখন জ্বলতে জ্বলতে খাক হওয়ার পথে । হয়তো বাজারে গেছেন কিনতেন খাসি, ঠিক সেই দামে কিনে ফিরছেন মুরগী। কেনার ইচ্ছে ছিল ইলিশ, সেই দামে কিনেছেন পুটিঁ মাছ।

তাতে কোন সমস্যা নাই। আমরা অনেক প্রিয় হীরক রাজার দেশের বাস্তবতা এখন স্বদেশেই দেখতেপাই। আমাদের মাননীয় বানিজ্য মন্ত্রী অনেকটা এইভাবেই জাতিকে মগজধোলাই করার চেষ্টা করেছেন।আমাদের বানিজ্য মন্ত্রীর সেই ভাষায় যেন আমরা শুনেছিলাম সেই কত আগে সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি হীরক রাজার দেশে।
https://i0.wp.com/a4.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-snc6/283364_218393891544538_100001217874053_704817_8332284_n.jpg

[-x[-x[-x[-x[-x[-x[-x[-x[-x[-x[-x[-x
‘অনাহারে নাহি খেদ বেশি খেলে বাড়ে মেদ,
ভরপেট নাও খাই, রাজকর দেওয়া চাই
লেখাপড়া করে যেই অনাহারে মরে সেই
জানার কোন শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই
বিদ্যালাভে লোকসান- নাই অর্থ, নাই মান
হীরক রাজা বুদ্ধিমান করো সবে তার জয়গান’
=D=D=D=D=D=D=D=D

আমাদের দেশের মন্ত্রীরা আসলে চায় ওরা নিজেরাই খাবে। তাই তারা জনগণের খাওয়ার রাস্তা বন্ধ করতে চেষ্টা করছে। হয়তো অদুর ভবিষ্যতে এমন ছবি বাংলাদেশেরও দেখা যাবে।

বিদ্যুত সম্পর্কে একটা বিষয় নিশ্চিত যে মাস শেষে তার বিলটা পরিশোধ করা হয়। এটা এখন আর যায়না। মাঝে মাঝে আসে তখন আমরা ধন্য হয়ে যাই। তবুও আমাদের দেশের বিদ্যুত খাতে অনেক উন্নতি হয়েছে বলেই শোনা যাচ্ছে।

এতদিন জানা গেছে রাস্তাঘাট যানবাহন চলাচলের জন্য। আমরা একুশ শতকে এসে জানতে শিখেছি রাস্তাঘাট নতুন নতুন বাড়িঘর নির্মাণের কাঁচামাল রাখার জন্য। আর সামান্য বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়ার জন্য নির্মান করা হয়েছে। এই সব রাস্তায় মানুষ আর যান চলাচল দুরে থাক মানুষ ভাবে এখানের অথৈ পানিতে যদি মাছের চাষ করা হতো মাছে ভাতে বাঙালির সেই আদি গৌরব মনে হয় আবার ফিরে আসতো=))=))। এখন বেশ কিছু যায়গাতে দেখা গেছে পাকা রাস্তায় মানুষ পারাপারের জন্য বাঁশের সাকো। দেশের ইজ্জতের পশ্চাতে দেয়া এই বাঁশ:P নির্মিত সাকো আমরা কেবলি দেখেছি গ্রাম বাংলার পুকুরের উপরে দিতে। আমাদের দেশের শুশীলদের যা স্বভাব;)। কবে আবার বলে না বসেন এই সব সাঁকো গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য । হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির অংশ::a:a

শিক্ষক পিতৃতুল্য। শিক্ষক মাতৃতুল্য। কোন কোন সময় তার থেকেই বেশি। মধ্যযুগের কবি শাহ সগীর বলে গেছেন ।
\’\’দ্বিতীয়ে প্রণাম করো মাও বাপ পা এ
তান হন্তে জন্মা হৈল এ বসুধায়
পিপীড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত
কোন দিয়া বুক দিয়া জগত বিদিত
ওস্তাদে প্রণাব করো পিতা হন্তে বাড়
দোসর জনম দিলা তিহ সে আম্মার\’\’

সগীর বেটারে যদি এখনকার পোলাপাইন হাতে কাছে পাইতো তারে বোঝাইতো রামধোলাই কাকে বলে:l:l:l:l। কারন এখন যুগ পাল্টে গেছে। আমার দেখি শিক্ষক কুত্তাতূল্য। শিক্ষক বরাহ/শুকরতূল্য। যে পরিমল একটি বাচ্চা মেয়েকে হাত পা বেঁধে নির্যাতন করলো, যে জাবি শিক্ষকের প্রেমের বলি হয়ে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী জীবন দিল, তাদের কি বলবেন??

এই ভাবে যদি বলতে শুরু করেন দেখেন হয়তো শেষ হবে না।
আমাদের সাথে আযরাঈল সাহেব/ যমরাজের সাক্ষাতের সময় হয়ে যাবে।
থাক সে চিন্তা বাদ দেই।
একটু চিন্তা করি এই বিষয়গুলো কি আমাদের সরকার চাইলে বদলাতে পারে না।
জি হাঁ! পারে। আলবৎ পারে। একশত বার পারে।
কিন্তু করে না।
করে না কারণ তাদের সদিচ্ছা নাই জনসেবা করার।
তাদের ইচ্ছা শুধু ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার।
আর ভোটমেশিন জনগণকে যথেচ্ছা ব্যবহার করার।

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
ব্লগার ও কলামিস্ট
aurnabmass@gmail.com

Advertisements

One thought on “ইলিশের দামে পুঁটি, খাসির দামে মুরগী, বিদ্যুত যখন যয়না- মাঝে মাঝে আসে, পিচঢালা রাস্তায়- মাছ চাষের অবারিত সুযোগ”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s