যাদের জন্য এই রাজনীতি, এই সরকার , এই সংবিধান, এই বিরোধী দল আজ দেখুন তারা কত (শান্তিতে???????) আছে।


রাস্তার পাশে ডাস্টবিন।
দুর্গন্ধে গা গুলিয়ে আসে। ট্রাফিক জ্যামে পড়ে আটকে গেছি সেখানে। ড্রাইভার রাগত স্বরে বলে ভাইয়া এই জায়গায় জানালা খুলবেন না কিছুতেই। বমি আসবে। জানালা বন্ধ করে এসি চলছে । হটাৎ করেই থুথু ফেলবো ভেবে জানালা খুলি কিন্তু পারিনা । তাকিয়ে দেখি মাঝবয়সী একটি লোক ওখানে ফেলে যাওয়া গত রাতের কোন এক পার্টির বেচেঁ যাওয়া উচ্ছিষ্ট কুড়িয়ে কুড়িয়ে খাচ্ছে।

কিন্তু কেন ?????????
এর জন্যই কি আমরা চেয়েছিলাম স্বাধীনতা???????
এর জন্যই কি আমাদের বাপ দাদারা তাদের রক্ত দিয়েছিলেন ?????????
তাদের সব চেষ্টাই কি বৃথা ????????
আমরা কেন ভোট দেই প্রতি পাঁচ বছর পর পর ওই সব পিশাচদের যারা মানুষের রক্ত চুষে খায় আর তাদেরকেই যন্ত্রণা দেয় ????????

এই কি স্বাধীনতা। এর সুফল কই। আজতো পাকিস্তানি দুঃশাসনের কাল অধ্যায় পার হয়েছে। আজতো সেই ব্রিটিশ বর্গীরা নেই। তবুও কেন বাঙলার মানুষ ডাস্টবিন থেকে উচ্ছিষ্ট খাবে। এমনি শত প্রশ্নের কোন উত্তর নেই।
কে বলে উত্তর নেই :-O:-O:-O:-O
উত্তর আছে কিন্তু উত্তর চাইতে যাওয়ার সাহস আমার আপনার নাই। কারণ জন্মানোর সময় আমরা কেউ দশানণ হয়ে জন্মাইনি। আমাদের ঘাড়ে মাত্র একটি করেই মাথা আছে। তাই কিই করবেন। আজকের দেশের মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে রেধে ভাত করে খাবে না । তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাবাব করে ভুরি ভোজ করা সম্ভব নয়। আজকের দেশের মানুষ খুব ভালো করেই জানে ওই উপর তলার ঠাণ্ডাঘর থেকে যখন একটু উকি বুকি মেরে আশ্বাস গুলো তাদের সামনে পেশ করা হয় তা কেবলমাত্র বলার জন্যই বলা হয়। কিন্তু ফলাফল যে কতবড় একটা শূণ্য তার ব্যাস মাপার মতো যন্ত্র পৃথিবীতে আবিষ্কৃত হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

একটি কথা শুনতে শুনতে আমাদের কান পচে গেছে রাজনীতিকরা রাজনীতি করেন জনগণের মঙ্গলের জন্য। তারা বাথরুমে গেলেও জনগণকে সাথে নিতে চান। জনগণ তাদের এতোই আপন । আমার প্রশ্ন এই এতো পেয়ারের জনগণ যখন ডাস্টবিন থেকে খাবার কুড়িয়ে খায় তখন আপনার কই যান । আফিম খেয়ে দিবা নিদ্রা দেন নাকি???

নির্বাচনের আগে ক্ষুধার্ত ভিখিরীর মতো যখন তারা ভোট চান জনগণ দয়াপরবশ হয়ে তাদের ভোট দেয় বলেই কেউ মন্ত্রী হন তেলবাজি আর চামচামি করে একটু ভাল করে পা চাটার যোগ্যতা দেখিয়ে কেউ মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হন।
https://i2.wp.com/amarbornomala.com/uploadedimage/3796hassna201103111299846998_555.jpg
এই ছবি আমরা কেউ আর দেখতে চাইনা।
আমার প্রশ্ন মিয়া ভাই জনগণের মঙ্গল কতটুকু করেছেন আপনারা, আর নিজেদের আখের গুছিয়ে নিজেদের গরু গাধা ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার কাজে বাইরে পাঠিয়ে কত টাকা তশ্রুফ করেছেন, আর সরকারী টাকায় কি পরিমান ফুটানি করেছেন? যদি ত্রিশ দিরেন রিমাণ্ডে নিয়ে আপনাদের পশ্চাতে গরম ডিম দৈনিক এক হালি করে প্রবেশ করানো যায় তবুও জনগণ এই সকল প্রশ্নের একটি সদুত্তর পাবেনা।

আজকের এই করুণ পরিস্থিতিতে দাড়িয়ে আমার প্রশ্ন বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি তাতে রাজনীতি কার স্বার্থে পরিচালিত হচ্চে ??? আর জনগণ এই বা কোথায় তাদের অধিকার পাচেছন।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় হরতাল দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো যায় না। এ কথাটা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জাতিকে জানান দিতে ভোলেননি। হরতালে ভোগান্তি বাড়ে ‘পাবলিকের’, যারা ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। হরতালে রাজনীতিকদের তেমন ক্ষতি হয় না। অতীতে, আমার স্পষ্ট মনে আছে, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে (যখন তিনি বিরোধী শিবিরে) পুলিশ পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছিল। রাস্তায় শুয়ে থাকা মতিয়া চৌধুরীর ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। এখন দৈনিক পত্রিকায় আমরা মির্জা ফখরুল ইসলামের ছবি দেখি তাকে এখন ঠ্যাংগায় পুলিশ।

‘পুলিশের কাজ পুলিশ করেছে বাড়ি দিয়েছে পাছায়’,
তাই বলে এই কাজ চেয়ে দেখা কি জনগণের শোভা পায় ”

শুধু বদলে যায় দৃশ্যপট, মতিয়া চৌধুরীর পরিবর্তে মির্জা ফখরুল। কিন্তু আমজনতা তাতে কতটুকু উপকৃত হয়েছে?
নির্বচনী প্রচারণায় আমাদের সরকার ওয়াদা করেছিল চালের দাম কমাবে। এখন গন্ডমুর্খও জানে চালের দাম কেমন আছে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আর বিরোধী দলীয় নেত্রীও জানের তাঁরা কি বলেছেন আর ফলাফলে জনগণ কি পেয়েছে???

তিনবেলা যে লোক ভাতের খায়, সে তো ডিজিটাল করণ বোঝে না , সে তো যুদ্ধাপরাধীর বিচার বোঝে না, সে তো নারী নীতি সংস্কার বোঝেনা, সে তো ভিশন ২০২১ বোঝে না । যখন ভরদুপুরে ভাতের থালায় এটা সাদা আলু আর কাচা মরিচ নিয়ে কচলাতে থাকে তার পক্ষে তার সরকারকে গালাগাল দেয়া ছাড়া কোন উপায় জানা থাকার নয়।

১৮ জুনের সংবাদপত্রের খবর থেকে দেখেছি ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল (যা বাহ্যত পাম অয়েল) বিক্রি হচ্ছে ১২৩ থেকে ১২৫ টাকায়। চিনি ৬৪ থেকে ৬৬ টাকা। সরকার জানিয়ে দিয়েছে তারা আর বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে না। আর ব্যবসায়ীরা তো এটাই চেয়েছে। বাজারে দাম বাড়লে কার কী? সরকার কিংবা বিরোধী দল কারোরই মাথাব্যথা নেই। বিশাল এক বাজেট নিয়ে আসছে সরকার। দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসা ‘সিজনাল’ রিকশাওয়ালা মতিন বাজেট বোঝে না। কিন্তু অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব বোঝেন। বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে ঝুঁকি মোকাবেলায় আইএমএফ থেকে কঠিন শর্তে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার। এটা আমাদের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কিনা, এ ব্যাপারে বক্তব্য নেই বিরোধী দলের। সরকার ঋণ নিচ্ছে তার স্বার্থে।

আমলাদের শেখানো বুলি আউড়িয়ে যাচ্ছেন আরেক সাবেক আমলা, আমাদের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কনোকোর সঙ্গে চুক্তি করল সরকার। বিকিয়ে দেয়া হল আমাদের জাতীয় স্বার্থ (আশিভাগ রফতানি, গ্যাস কিনতে হবে ৫০ থেকে ১০০ গুণ বেশি দামে, ২০ শতাংশ আনতে হবে বাংলাদেশের খরচে পাইপলাইন করে সমুদ্র থেকে)। কিন্তু বিএনপি তথা চার দলের বক্তব্য নেই এ ব্যাপারে। ডলার সংকটের (কিনতে হচ্ছে ৭৬ টাকায়) কারণে পণ্য আমদানিতে এলসি খোলা যাচ্ছে না। কাঁচামালের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ডলার পেতে বাড়ছে ভোগান্তি। অর্থনীতির এই ‘অশনি সংকেত’ নিয়ে কারও কোন মাথাব্যথা নেই।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা, রেমিটেন্সের প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগও কোন ফল দিচ্ছে না। সুশাসনে ব্যর্থতা চোখে লাগার মতো। এসব ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দলের মাঝে সমঝোতা প্রয়োজন ছিল। না, এসব প্রশ্নে কারও কোন উদ্যোগ নেই। আমরা এখন আটকে আছি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে কী থাকবে না, তা নিয়ে।
আর যখন তেলের দাম বাড়ানো হল তখন আমাদের বিরোধীদল তাদের বাসার সর্ষের তেলের কন্টেইনার তেকে দুই এক ফোটা তেল নিয়ে তা নাকে দিয়ে ঘুমিয়েছিল । কোন প্রতিবাদ তারা করেনি। আর করবেই বা কেন ?? তেলের দাম বৃদ্ধি তো আর তাদের পাঁচ বছর পর ক্ষমতায় আরোহনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। বরং তারা জোর গলায় বলতে পারবে বিগত সরকার তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণকে কষ্ট দিয়েছে।

এই ধরণের হাজারো প্রশ্নের উত্তর জাতি আজ জানতে চায়। বিরোধী দল আর সরকারের কাছে আমাদের খোলা চিঠি আপনারা কাদা ছুড়াছুড়ি করা বন্ধ করেন । আর তো মাত্র কয়েকদিন দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যাবে। তখন আপনার উভয়েই যাদের সামনে অসহায় ভিখিরির মতো দাঁড়াবেন একটি বারের তরে হলেও তাদের কথা ভাবেন। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, এই নারী নীতি, এই সংবিধান সংশোধনন, এই যুদ্ধাপরাধীর বিচার এগুলো আধ্যাত্বিক ও আপেক্ষিক বিষয় । এগুলোকে আমি আপনি কেউ চাইলে খেতেও পারবো না। শীতের দিনে গায়ে জড়িয়ে শীত নিবারণ করতেও পারবো না। কিংবা এগুলো বর্ষাকালে ছাতা হিসেবে মাথায় দেয়া ও জাবেনা। তাই আবারো বলছি এমন কিছু করেন যাতে জনগণের পেটে কিছু যায় ,ক্ষুধারাক্ষস তাদেরকে যেন আর তাড়া না করে। তাদের একটু স্বস্তি দিন।

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
ব্লগার ও কলামিস্ট
aurnabmaas@gmail.com

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s