এ লজ্জা পুরো জাতির জন্য। এ বর্বরতা যেন ক্রুসেডীয় আর ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী পিশাচদেরও হার মানায়।

এ লজ্জা পুরো জাতির জন্য। এ বর্বরতা যেন ক্রুসেডীয় পিশাচদেরও হার মানায়। বলছিলাম নৃশংস পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রুমানা মনজুর এর করুণ পরিণতির কথা। দেশের সেরা বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষিকার নিরাপত্তা যে রাষ্ট্র দিতে পারেনি তার আবার আইন, সেই দেশের তথাকথিত নারীবাদের ধ্বজাধারীদের মুখে থু। পশ্চাতে লাথি। এই ঘটনার পর ইভ টিজিং আর নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালাকে আমার কাছে চার্লি চ্যাপলিনের জোকারির থেকেও বেশি মজার, বেশি চটকদার বলে মনে হয়েছে। আজকের প্রথম আলোর খবরে প্রকাশ ল্যব এইডে চিকিৎসাধীন শিক্ষিকার এ করুণ পরিণতির কথা।

হতভাগ্য শিক্ষিকা রুমানা মিডিয়াকে জানান ‌‌” কম্পিউটারে কর্মরত রুমানা ম্যাডামের কক্ষে ঢুকেই পেছন থেকে হামলা চালায় পিশাচ সাইদ। চুলের মুঠি ধরে দুই চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দেয়। কামড়ে নাক-মুখ ক্ষত-বিক্ষত করে। রক্তে পুরো শরীর ভরে যায়। একপর্যায়ে মেঝেতে পিছলে পড়েন এক রক্তের সাগরে। তারপর আর কিছুই তার মনে নেই । জ্ঞান ফিরলে নিজেকে আবিষ্কার করেন ল্যাবএইড হাসপাতালের বিছানায়।’

এই বর্বর পাশবিকার পর কিছু বিষয় আমার মনের অজান্তেই ভাবনার জগৎকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। জীবনের করিডোরে যেখানে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে নিজেরাই শেষ পর্যন্ত নিজেদের সংসার চালাবে- সেখানে তাদের নিজেদের পছন্দের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে শুধু পরিবার আর ক্যারিয়ার আর মোটা অংকের টাকা দেখে কিভাবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা হয় ????? আর এই ধরনের পাষন্ড নরাধমদের একটি মাত্র সনদের ভিত্তিতে কিভাবে দশ-দশটি বছর একই ছাদের নিচে প্রতিপালন করা হয়। একটি গৃহপালিত জানোয়ারও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি কেমন একটু অনুভুতি দেখায়।

একটি বিষয় অতীব দুঃখের হলেও সত্যি যে ধনী, জ্ঞানী আর প্রবাসী ছেলে পাওয়া গেলে বাবা-মা এবং ক্ষেত্রবিশেষে মেয়েরাও আর কিছুই দেখতে চান না! তারা যেন বেমালুম ভুলে যান অর্থ জীবনে অনর্থের ও কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। এই উচ্চ শিক্ষার মধ্যে যদি কুশিক্ষার ধইঞ্জার বীজ থাকে তা একদিন বর্বর আচরণকেই স্পষ্ট করে দেবে। সাইদ নামের এই পশুটি তো ধনী পিতারই সন্তান আর সে তো বুয়েটের মতো শিক্ষায়তন থেকে পাস করা। যে কিভাবে হিংস্র হায়েনার মতো এই কাজ করতে পারলো।
আধুনিকতার সংস্কৃতির লাল নীল আলোর মোহনীয় আবেশে আকৃষ্ট হয়ে দেশীয় সংস্কৃতির বাধন খুলে মেয়েরা যখন দেহপসারিনীদের সাথে পাল্লাদিয়ে দেহ সৌষ্ঠব প্রদর্শনে সুন্দরী প্রতিযোগীতার নামে নিজেকে বিকিয়ে দিতে নামে নামে তখন অনেক বাবা মা নির্বিকার কেননা এত একদিন টাককড়ি প্রসবের সমুহ সম্ভাবনা থেকেই যায়। কিন্তু তারা বেমালুম ভুলে থাকেন জীবনের জন্যই ক্যারিয়ার আর কখনোই ক্যারিয়ারের জন্য জীবন না।
অন্যদিকে নেশাগ্রস্ত মোহ আর প্রেম ভালবাসার ভাবার্থই যৌন সংস্কৃতির চর্চা এমুন ভাবনা এদেশের মানুষের নারীদের প্রতি সম্মান কমিয়ে দিয়েছে। প্রভা-রাজিব নির্ঝর-চৈতি প্রেম ভালবাসার নামে যে অখাদ্য নগ্নতা বাজারজাত করেছে তাতে এহেন নারী পুরুষের প্রেমের প্রতি বরাহ শাবকও বোধ করি মুত্র বিয়োগ ব্যতিত দ্বিতীয় কোন কর্ম সম্পাদনের ইচ্ছাপোষণ করবে না। কিন্তু আজকের পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে নির্যাতিত হয়েছেন একজন মা। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষিকা। তাই যাদের মানুষের হৃদয় আছে তাঁরা তো কিছুটা হলেও বিচলিত হবেন।

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত এই শিক্ষিকা গত ৫ জুন রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাবার বাড়িতে স্বামী হাসান সাইদের হাতে এমনি নির্মমভাবে নির্যাতিত হন । জঘণ্য এই নির্যাতনের খবরে পুরো জাতি আজ বিস্মিত হতবাক। এতে ক্ষান্ত না হয়ে নরপিশাচ হাসান সাইদ তাঁকে গুলি করে হত্যা করার নতুন গায়ে এসিড নিক্ষেপের হুমকি দিয়েছে। এই পাশবিকতা শিকার রুমানা এখন তার প্রাণ শংকায় ভুগছেন । তিনি আতংকিত হয়ে একমাত্র কন্যা আনুশাসহ পরিবারের অন্যন্যা সদস্যের নিরাপত্তার দাবি করেন মিডিয়ার কাছে।
২০০১ সালে হাসান সাইদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ রুমানার একমাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সের আনুশাকে নিয়ে মোটেও সুখকর জীবন যাপন করতে পারেননি। বিয়ের পর থেকেই পিশাচ সাইদের নানামুখী নির্যাতন তিনি আত্নসম্মান আর লোক লজ্জার ভয়ে নীরবে সহ্য করে আসছিলেন। হয়তো সন্তানের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সয়ে গেছেন। সর্বশেষ উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডা যাওয়া নিয়ে মনোমালিন্য শুরু হয়। তারপর এই চরম নির্যাতন।
তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মনজুর হোসেন কান্নায় ভেঙে পড়ে মিডিয়াকে জানান ‘আমার মেয়েটা খুব নম্র স্বভাবের। ১০ বছর ধরে সংসার করছে, আমাদের কখনো স্বামীর নির্যাতনের বিষয়ে কিছু বলেনি।’ তিনি আরো বলেন ‘সাইদ আমার মেয়ের দুই চোখ উপড়ে ফেলতে চেয়েছিল। ডাক্তার বলেছেন, মেয়ের বাঁ চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ডান চোখে দেখতে পারবে কি না, তা-ও অনিশ্চিত।’

ঘটনার পর থেকে পলাতক পাষণ্ড নরাধম সাইদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পাস করা প্রকৌশলী হলেও একজন পিশাচ সদৃশ ব্যাক্তি । প্রকৌশলে তেমন না হলেও একজন নিপীড়ক হিসেবে বেশ পাকা হাতের খেলোয়াড় ছিলো। ঘরজামাই থেকে শ্বশুরের অন্ন ধ্বংশকারী এই সাইদ একসময় ব্যবসা করলেও এখন বেকার হয়ে শ্বশুরালয়ে স্থান নিয়ে সেখানেই স্ত্রীর ওপর চালাতো নির্মম নির্যাতন। অনেক খবর চাউর হয়েছে এই নরাধম নাকি আমাদেরই এক প্রতিমন্ত্রীর ভাইপো। তাই নাকি আমাদের শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনী তার তেলতেলে লেজটি নাগালের মধ্যে পাচ্ছেনা পেলেও বুঝি অতিরিক্ত তেল থাকাতে বার বার পিছলে গেছে । হয়তো দেখা যাবে কোনদিন পাবেও না। আর সে নাকি শেয়ার বাজারে নানাবিধ কেলেংকারির সাথেও জড়িত। এই নরপিচাশ কেবল একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকাকে নির্যাতন করেনি সে একজন মাকে নির্যাতিত আর রক্তাক্ত করেছে । তার এই জঘন্য কর্মকান্ডে সেই সাথে পদলুণণ্ঠিত হয়েছে জাতির বিবেক। ধুলিস্যাৎ হয়েছে মানবতার আর্তি । জাতির বিবেককে আঘাত আঘাতকারী যেই হোক সে আইনের উর্ধ্বে নয়। ভাবতে গিয়ে নিজের বিবেক বার বার দংশিত হয় যখন দেখি এই পিশাচ দেশের শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল বিদ্যাপীঠকে একদিন ক্লেদাক্ত করেছিল। পাষণ্ড সাইদের এই বর্ববতা আমাদের সেই ব্রিটিশ আধিপত্যবাদীদের আমলে আমেরিকার বরে ইন্ডিয়ান বসতিতে গিয়ে নারীদের নির্যাতন, খুন জখম, ধর্ষণ ,তাদের জবাই করে রক্তে গোসল করার মতো বর্বর কাহিনী গুলোকে মনে করিয়ে দিয়েছে। আমাদের দেশের তথাকথিত শুশীল যারা বাংলাদেশের মধ্যযুগকে অনেকটা কুয়োর ব্যাঙের মতো ইউরোপের দৃষ্টিতে দেখে আসতে বরাবর অভ্যস্ত তাদের মতো একচোখা হয়ে আমি আমার পোস্টে প্রত্যয় হিসেব ক্রুসেডীয় বর্বরতা শব্দটি ব্যবহার করেছি।

দেশের বিস্মিত হতবাক জনগণ এই নির্মমতার বিচার চায়। তারা দেখতে চায় শুধু একটি আইনকে জগদ্দল পাথরের মতো চাপিয়ে না রেখে তার প্রায়োগিক দিককে শক্তিশালী করা হোক। তবে রাষ্ট্রযন্ত্র যখন জনগণ নির্যাতনে হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায় আর আর নারীর একমাত্র আশ্রয়স্থল সংসার যখন তার জন্য নিরাপদ থাকেনা। তখন মানবাত্মা গুমরে কাঁদতে থাকলেও নিয়তি নীরব থাকে। আমরা এই বর্বরতার আশু প্রতিকার চাই। আমরা আর কখনো কাউকে রুমান ম্যাডামের মতো করুণ পরিণতির শিকার হওয়া দেখতে চাইনা । একবার ভেবে দেখুন এই রুমানা ম্যাডাম যদি আপনার বোন হতেন আপনি কি পারতেন নীরব থাকতে। কোনদিনই পারতেন না। তাই আসুন তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলুন এই নৃশংস আচরনের বিরুদ্ধে।

আমাদের এই প্রতিবাদ যেন ব্লগ ফেসবুকে আর পত্রিকা পাতায় ক্ষনিকে ঝড় তুলেই থেমে না যায়। প্রিন্ট আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ঘটনা ঘটার পর সপ্তাহ খানেক নীরব থেকে হটাৎ এই খবর হটকেকের মতো পাবলিক খাচ্ছে দেখে সরব হয়েছেন তারাও যেন এই কলংকিত পঙ্কিল অধ্যায়ের শেষ না দেখে কাজে ক্ষান্ত না দেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবরটি অন্য সব গরম খবরের মতই একটি পণ্যমাত্র এমন যেন মনে করা না হয়। দুর্ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরে তার গ্রেফতার না হওয়াটাও এমনই আশংকা থেকেই যায়। বিশিষ্ট ব্লগার তায়েফ আহমাদ তাঁর পোস্টে খুব সুন্দরভাবে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
” ক্ষমতাসীন মহলের সাথে আত্মীয়তার বর্মের আড়ালে হয়তো সে বেঁচে যাবে। কে জানে, ইতিমধ্যেই এই ‘কীর্তিমান’ সুপুত্র দেশ ছেড়ে মার্কিন মুলুকে তার ‘গর্বিত’ বাপ-মায়ের কোলে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে কিনা”’

এই অপকর্মের এমন গুরুতর শাস্তি দরকার যেন আর কেউ এই ধরণের ঘটনা ঘটানো দূরে থাক। এই ধরণের বিষয় নিয়ে দুঃস্বপ্নও না দেখে। দেশের নারীবাদের নামে মুখে ফেনাসৃষ্টিকারীরা কেন যে এখন অবধি নীরব আছেন তা আমি বুঝে উঠতে পারিনি। না তারা এখনো ক্যালকুলেটর টিপে যাচ্ছেন এই বিষয়ে আন্দোলন করা হলে তাদের লাভের অংক কতটুকু থাকছে। নীরব নির্বিকার প্রশাসনের বরফ গলাতে প্রথম আন্দোলনে সো্চ্চার হওয়া উচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক শিক্ষিকাদের। তাদের এই আন্দোলনের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের সব কটি সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সরগরম হলে এই নরাধমের বিচার এই বাংলাদেশের মাটিতে হবেই হবে। 

Archaeology Of Humankind

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব 
শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
aurnabmaas@gmail.com 

আলোর নিচে অন্ধকার

বিগত হরতালের দিনে তেমন কাজ না থাকায় কয়েক বন্ধু মিলে মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়ে যারপরনাই হতাশ হয়েছি। দেশের প্রচলিত আইনকে অনেকটা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গার্ডেনের অসাধু কর্মচারীরা তাদের অন্যায় উপার্জন করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে হেনস্তাও করছে। যানবাহন না থাকায় অনেকটা হেঁটেই বাসায় ফিরতে হয়। সকালে এক বন্ধুর ফেসবুক নোট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষিকা রুমানা মঞ্জুরের করুণ কাহিনী পড়ে মেজাজটা বিগড়ে ছিল অনেকটাই। এই আধুনিক যুগে বাস করেও পিশাচ স্বামী কীভাবে তার নাক কামড়ে চিবিয়ে দৃষ্টিশক্তি পর্যন্ত কেড়ে নিল, তা ভাবতে অনেকটাই চোখে পানি আসছিল। মনে পড়ছিল মধ্যযুগীয় পিশাচ ক্রুসেডার নাইটদের নৃশংস বর্বরতার কথা।
পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত নারীদের দৈহিক ও যৌন নির্যাতন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কীভাবে শিশু আর নারীরা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে এসে শারীরিক ও যৌন হয়রানির শিকার হয়। গত ৩ মে চিত্রনায়িকা নিশির বাড়ি থেকে তার বাসার গৃহকর্মী পিয়ার লাশ উদ্ধার ছাড়াও গৃহকর্মী হাসিনা, গৃহকর্মী নাসরিন, শাম্মী, রেহানাসহ অনেকের নির্যাতনের খবর প্রতিনিয়ত পত্রিকায় আসছে; কিন্তু এ অপকর্মে কেউ শাস্তি পেয়েছে এমন খবর পাওয়া দুষ্কর। এসব ঘটনা ইভ টিজিং, নারী নির্যাতন দমন নীতিমালার আলোর নিচে অন্ধকার হিসেবে দেখা দিয়েছে। নিপীড়নবিরোধী আইন প্রবর্তনে দেশের জনগণ যেমন আশাবাদী হয়েছিল, তেমনি এর প্রায়োগিক দিককেও তেমনি শক্তিশালী করা হোক, যাতে অপকর্ম করা দূরে থাক, কেউ যেন এ ধরনের দুঃস্বপ্নও না দেখে। আইন মানুষের জন্য, মানবতার জন্য আর সবার জন্য সমান, তাই তার চোখ কালো কাপড়ে বাঁধা। এ উক্তি বইয়ের শক্ত মলাট থেকে বের হয়ে আসুক। বাংলাদেশের মানুষ তার সুফল ভোগ করুক, এ প্রত্যাশা আজ সবার।
দৈনিক সমকাল, শনিবার | ২৫ জুন ২০১১
মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব 
শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
aurnabmaas@gmail.com 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার, হরতাল ও সাম্প্রতিক বাংলাদেশ

অতি সম্প্রতি হরতাল দেখে অনেক প্রাচীন দুটি কৌতুক মনে পড়ল। প্রত্নতত্ত্বের শিক্ষার্থী হিসেবে পুরনো বিষয়াবলী নিয়ে কারবার করা স্বাভাবিক হলেও এগুলোকে আমি কখনোই দেশের সঙ্গে মেলাতে চাইনি। তবু কেন যেন মিলে গেছে। প্রথমটা ছিল এমন—‘এক ভদ্রমহিলার স্বামী পরকীয়ায় পড়ার পর থেকে উনার সঙ্গে যাচ্ছেতাই ব্যবহার শুরু করেন। মহিলা প্রথম প্রথম একেবারেই নীরব থাকতেন। কিন্তু হঠাত্ তার আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। উনি স্বামীর বাজে আচরণের সঙ্গে সঙ্গেই কোনো প্রতিবাদ না করে দ্রুত বাথরুমে ঢুকে যেতেন। বেশ কিছুক্ষণ থাকার পর অনেকটাই খুশি মনে বেরিয়ে আসতেন। একদিন ভদ্রলোক তার ভুল বুঝতে পেরে পরকীয়া থেকে সরে আসেন। তখন স্ত্রীকে ডেকে পূর্বের ঘটনা জানতে চাইলে ভদ্রমহিলা জানান, ‘আমি প্রতিদিন বাথরুমে ঢুকে তোমার টুথব্রাশ দিয়ে কমোড পরিষ্কার করতাম।’ ভদ্রলোক বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে ড্রয়ার থেকে একটা টুথব্রাশ বের করে স্ত্রীকে দেখিয়ে বললেন, ‘আমিও ভয় পেতাম। তাই কোনোদিনই ওই টুথব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজার চেষ্টা করিনি।’
বাংলা কমিউনিটি ব্লগগুলোর মধ্যে আমার সবথেকে স্বাচ্ছন্দ্যের ‘আমার বর্ণমালা’ ব্লগে গত শুক্রবার রাতে একটি পোস্টে পরিসংখ্যানসহ বহুল আলোচিত-সমালোচিত এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ও পাশাপাশি প্রায় সবাই কী পরিমাণ কাঠখড় পুড়িয়েছিলেন তার একটি খতিয়ান তুলে ধরেছিলাম। ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীন গংদের মাত্র দুই বছরের অরাজকতায় ভীত হয়ে এই সরকার পদ্ধতিই বাতিল হবে এমনটা কেউ ভাবতে পারেননি। গোটা জাতি অনেকটা চাতক পাখির মতোই চেয়ে ছিলেন দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্য থেকে যিনিই ক্ষমতায় আসুন অন্তত এই অরাজকতা সৃষ্টিকারীরা রেহাই পাবে না। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের গণগ্রেফতার, প্রধান দুই রাজনৈতিক নেত্রীকে রাজনীতি থেকে নির্বাসনের মাধ্যমে দেশের চলমান গণতন্ত্রকে চিরতরে নস্যাত্ করার অপচেষ্টা, দ্রব্যমূল্যকে এভারেস্টের চূড়ায় নিয়ে যাওয়া, জিডিপির মান পাতালে নামানো, দেশের অমূল্য প্রত্ননিদর্শন বিদেশে পাচার—এহেন কাজ নেই তারা করেনি। তবুও জাতিকে অবাক হয়ে দেখতে হয় এই কুচক্রীদের প্রায় সবাই আজ বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে পৃথিবীর হাওয়া-বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে অনেকটা সুকুমার রায়ের পাগলা দাশু স্টাইলে পায়ের নখ প্রতিদিন ফেটে রক্ত বেরোয় বলে পায়ের আঙুলটাই নরুনের প্যাঁচে ফেলে দেয়া হচ্ছে।
আসলে বিগত নির্বাচনের আগে যখন দেশের গণতন্ত্র হত্যাকারী স্বৈরাচারী লুল সম্রাট এরশাদকে নিয়ে অনেকটা জামাই আদরের সঙ্গে যেভাবে টানাহেঁচড়া চলছিল তখনই জাতি অবাক হয়েছিল। কিন্তু কী আর করা, অনেকটা ওই ভদ্রমহিলার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতি পাঁচ বছর পর পর ভোটাররা ত্যক্তবিরক্ত হয়ে ক্ষমতাসীন দলের পরিবর্তন আনেন। রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের নিজের ব্রাশ সুরক্ষার বিষয়টি বেশ ভালোই জানে। আগের সরকারি দলের প্রতি অতিমাত্রায় বিরক্ত জনগণের ক্ষোভ আর হতাশার বিনিময়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর পরবর্তী দল সময় নষ্ট না করে দ্রুত চেষ্টা করে পাঁচ বছরের এই মুসাফিরখানায় কীভাবে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়া যায় আর কতদ্রুত জনগণকে বিরক্তির শেষ সীমায় নিয়ে যাওয়া যায়। নিত্যদিনের যানজট, বিদ্যুত্ বিভ্রাট, পানির সঙ্কট, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, খুন, ধর্ষণ, যৌন কেলেঙ্কারি, নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দ্রব্যমূল্যের বাজারে আগুন, বিঘ্নিত জননিরাপত্তা, জ্বালানি সঙ্কট, আবাসন সঙ্কট, শেয়ারবাজারে ধস আর মুদ্রাস্ফীতিতে টালমাটাল অবস্থায় আমাদের দেশের সরকার ও বিরোধী দল প্রত্যেকেরই একটু সততার সঙ্গে দৃষ্টি দেয়া উচিত ছিল এসব জাতীয় সমস্যার দিকে। সরকারের উচিত ছিল বিরোধী দলের প্রতি দমননীতি পরিহার করে তাদের মতামতকে মূল্য দেয়া, যেখানে বিরোধী দল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয় বরং সরকারের ভুল-ত্রুটিগুলো তুলে ধরিয়ে দিয়ে দেশের কাজে সহায়ক হতে পারতেন। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এমন স্বপ্ন দেখাও একটি অপরাধ হওয়াতে ক্ষমতালাভের পর থেকে সরকার ও বিরোধী দল দুই মেরুর বাসিন্দা। সবক্ষেত্রে সরকারি দলের আধিপত্য আর বিরোধী দলের লাগাতার বিরোধিতা এ এক পরিচিত দৃশ্য। আর জনগণ বরাবরের মতো যাতনা আর দুর্ভোগে হতাশ হয়ে আবার ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রাখতেই পাঁচ বছর পর প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুতি শুরু করে। তবে এবার নাটকের দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে যেতে বসেছে। জনগণ যেন পাঁচ বছর পরেও কিছু না বলতে পারে তার সুব্যবস্থা করতেই যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে কবর দেয়া হলো। বাংলাদেশের বাস্তবতায় স্বাধীনতালাভের এই চার দশকে প্রতিটি ক্ষমতাসীন দলের অধীনে যে কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, পৌর নির্বাচন, মেয়র নির্বাচন কিংবা উপনির্বাচন হয়েছিল তার প্রতিটিই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। জালভোট দেয়া, কেন্দ্র দখল, মারপিট আর সংঘর্ষ ছিল নিত্যদিনের চিত্র। সাম্প্রতিক বাংলাদেশে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার সমস্যার থেকেও অনেক গুরুতর সমস্যা আছে যেগুলো সমাধানে সরকার ও বিরোধী দল প্রত্যেকের সহযোগিতামূলক মনোভাবের ভিত্তিতে এগিয়ে আসতে হবে।
সরকার বা বিরোধী দলের কিছুতেই ভুলে গেলে চলবে না, কেউই এই জনগণ যারা কেবল প্রতিশ্রুতি আর রাজনৈতিক বক্তৃতা বাদে সবক্ষেত্রেই উপেক্ষিত তাদের রায়ের ঊর্ধ্বে নন। সরকার যখন কোনো বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত নেয় তখন বিরোধী দল তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে মুখস্থ আর বাংলাদেশের বাস্তবতায় অনেকটা ফসিলকৃত বুলি আওড়াতে অভ্যস্ত ‘আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই অপকর্মের সমুচিত জবাব দেব।’ বিপরীতে সরকারি দল বলে থাকে, ‘জনগণ বিরোধী দলের এই অন্যায় আচরণ মেনে নেবে না।’ আসলে দুই ক্ষেত্রেই জনগণের নাম বেশ জোরের সঙ্গে উচ্চারিত হতে দেখলেও অধিকার আর সুযোগ-সুবিধার প্রশ্নে এই জনগণই বরাবর উপেক্ষিত। আজ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে দেশে রাজনৈতিক সঙ্কট দেখা গেছে বৈকি, এই হরতাল কারোই কাম্য ছিল না। অন্যদিকে গ্যাস আর জ্বালানি তেলের মূল্য যেদিন অনেকটাই অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হলো, সেদিন জনগণ বিরোধী দলের কাছ থেকে এর তুমুল প্রতিবাদ আশা করেও হতাশ হয়েছে। যেখানে পার্শ্ববর্তী দেশে শুধু ট্রামের ভাড়া এক টাকা বাড়ানোয় পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনকে আমরা সরগরম হতে দেখি। সেখানে আমাদের দেশে জ্বালানি তেলের অন্যায় মূল্যবৃদ্ধিতে যানবাহনের ভাড়া আকস্মিক বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সৃষ্ট জনদুর্ভোগে বিরোধী দল গুনগুন করে যে প্রতিবাদ করেছে তা সরকারের কান অবধি পৌঁছেনি।
আমি শেষ করব নাসির উদ্দীন হোজ্জার একটা মজার গল্প দিয়ে—‘একদিন হোজ্জার ঘরে বেশ জোরে ধুপ করে শব্দ শুনে তার স্ত্রী হন্তদন্ত হয়ে প্রবেশ করে প্রশ্ন করলেন, ‘কিসের শব্দ হলো?’ হোজ্জার সাবলীল উত্তর, ‘আমার আলখাল্লাটা পড়ে গিয়েছিল।’ কিন্তু এত জোরে শব্দ হলো কেন!! হোজ্জা কথা না বাড়িয়ে বললেন, আলখাল্লার ভেতরে আমিও যে ছিলাম।’ আসলে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করুন আর বিরোধী দল হরতাল ডাকুন—এখানে আলখাল্লার ভেতরে দেহের মতো দেশের জনগণের দুর্ভোগ জড়িত। যেহেতু প্রতি পাঁচ বছর পর পর এই জনগণের মুখের দিকে অনেকটা বুভুক্ষের মতোই আপনাদের চেয়ে থাকতে হয়, তাদের ভোগান্তির কথা আপনাদের উভয়েরই ভেবে দেখা উচিত। কিছুতেই ভুলে গেলে চলবে না, ফারাক্কার কারণে পদ্মা শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে গেলেও মেঘনা, যমুনা আর কর্ণফুলীর স্রোতের সঙ্গে আজও একাত্তরের সেই বীর শহীদদের রক্তের ধারা বহমান। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, বেনাপোল থেকে তামাবিল—এই ছোট্ট সুন্দর ভূখণ্ডে একটু শান্তির সুবাতাস আর সচ্ছল জীবনের প্রত্যাশায় ওই বীর সেনানীরা তাদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। তাদের স্বপ্নকে সার্থক করতে এগিয়ে আসা প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব।
লেখক : ব্লগার ও কলামিস্ট
aurnabmaas@gmail.com
দৈনিক আমার দেশ

আনুষ্ঠানিকতা ও বাস্তবতা

বেরিয়েছিলাম সাতসকালেই ছায়ানটের শিল্পীদের পরিবেশনায় নতুন বছরকে বরণ করার উৎসবকে খুব কাছে থেকে দেখতে। সুবিশাল রমনায় যেন তিল ধারণের অবস্থা নেই। র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সিসিটিভি আর ডগ স্কোয়াডের বিশেষ নিরাপত্তার চাদরে মোড়া নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো। বাঁশির মনমাতানো সুরলহরি আর ঢাকের বাজনায় মুখরিত পরিবেশে যখন উৎসব শুরু হয় তখন বাঙালি জাতির একজন ভাবতেই নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হয়েছিল। টিএসসি ও এর আশপাশেই বাউল-লালন, জারি-সারি, মুর্শেদি গানের আসর বসেছে এর মধ্যেই।
বর্ষবরণের অন্যতম অনুষঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও আকাশচুম্বী দামের কারণে অনেকটা অধরা পান্তা-ইলিশ। আবার চিরাচরিত সংস্কৃতিকে কাঁচকলা দেখিয়ে বাবা-মা যে শিশুকে শুরু থেকেই ব্রেড, অমলেট আর স্যান্ডউইচে অভ্যস্ত করেছেন তার কাছে এই পান্তা-ইলিশ আর লঙ্কা লঙ্কাকাণ্ডই মনে হওয়া স্বাভাবিক। তাই দেখলাম বেশিরভাগ শিশুই পান্তার সানকির সামনে বসে আপত্তি জানাচ্ছে। আমরা যখন বাঙালি তবে কেন পুরোটাই বাঙালি হই না? একদিনের জন্য বাঙালি বাঙালি খেলা কেন?
বর্ষবরণ উৎসব সরেজমিন দেখতে একদিন আগে থেকেই ঘুরে বেরিয়েছি বর্তমান আর পুরান ঢাকার বায়ান্ন বাজার আর তিপ্পান্ন গলির নানা স্থান। প্রাচীন বর্ষবরণের রীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত একটি বিষয় হলো হালখাতা, যা কোনো কোনো দোকানি বৈশাখের প্রথম দিন করলেও দ্বিতীয় দিনেও অনেক হিন্দু ব্যবসায়ী হালখাতা উৎসব পালন করবেন বলে জানান। পুরান ঢাকার দোকানিরা পুরো বছরের বাকির খাতা সমাপ্ত করার জন্য পহেলা বৈশাখের দিন অনেকটা ঐতিহ্যগতভাবেই যেখানে এবার কিছুটা ভাটা পড়েছে। একুশ শতকের এই দিনে স্যাটেলাইট আর ইন্টারনেটের ছোঁয়া পাওয়া গ্রামগুলোর বাজার, বন্দর ও গঞ্জে নববর্ষে হালখাতার সেই হিড়িক পড়ে কি-না সন্দেহ থেকেই যায়, সেখানে ঢাকা তো অনেক দূর। আগের বৈশাখী মেলার সঙ্গে ছিল মাটি ও মানুষের নিবিড় সম্পর্ক। আজকের করপোরেট মেলায় তা মেলা ভার।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বসেছে বর্ণিল কনসার্ট। বটমূলের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয়েছে। কিন্তু চড়া সুরের মিউজিক আর ডিজে পার্টির স্টাইলের ড্রামস বিট কেবল খটকাই জাগায়। একটু এগিয়ে যাই কী ঘটছে দেখার জন্য। নববর্ষের প্রথম দিনে উন্মাদ যুবকদের উন্মাদনা আর একটু প্রলম্বিত করে এক কণ্ঠশিল্পী আমাদের সমাজের তুলনায় নিতান্তই বেমানান পোশাকে স্টেজে উঠে বাজেরে বাজেরে ঢোলের রিমিক্স গাইছেন। কিছুক্ষণ পরই শুরু হলো ‘শীলা কি জাওয়ানি’। কীভাবে এই গান বাঙালি সংস্কৃতির অংশ হতে পারে? বস্তুত পহেলা বৈশাখের আয়োজন আবহমানকাল থেকেই বাঙালির প্রাণের সঙ্গে সংযুক্ত। কিন্তু এর মূল গতিধারার সঙ্গে আমাদের ক্রমে বিচ্ছিন্নতা বৈশাখী অনুষ্ঠানের ঐতিহ্যকে ম্লান করার পাশাপাশি কিছু উচ্ছৃঙ্খল আচরণের জমি তৈরি করে দিচ্ছে। যা আমরা জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে কেন যেন সমর্থন করে আসছি, নামান্তরে পথ বিচ্যুত হচ্ছে আমাদের সংস্কৃতি।
সংস্কৃতি ঐতিহ্যের ব্যাপারেও একটা বদ্ধমূল ধারণা থাকতে হবে। বুঝতে হবে পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতীয় গৌরব। প্রত্যেকের উচিত একে অন্তরে ধারণ করা যেন এটি তার মূল স্রোতধারা খুঁজে পায়। সংস্কৃতির এই দেউলিয়াত্ব থেকে উত্তরণে আমাদের প্রত্যেকের বিশেষত তরুণ সমাজের সচেতনতা একান্ত প্রয়োজন। 
মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব 
aurnabmaas@gmail.com

কোন লেখা পড়ার ইচ্ছে নাই। ব্যবহার করুণ ছোট্ট একটা প্রোগ্রামিং আপনার পিসিই আপনাকে পড়ে দেবে


/* Style Definitions */
table.MsoNormalTable
{mso-style-name:”Table Normal”;
mso-tstyle-rowband-size:0;
mso-tstyle-colband-size:0;
mso-style-noshow:yes;
mso-style-priority:99;
mso-style-qformat:yes;
mso-style-parent:””;
mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
mso-para-margin:0in;
mso-para-margin-bottom:.0001pt;
mso-pagination:widow-orphan;
font-size:11.0pt;
mso-bidi-font-size:14.0pt;
font-family:”Calibri”,”sans-serif”;
mso-ascii-font-family:Calibri;
mso-ascii-theme-font:minor-latin;
mso-fareast-font-family:”Times New Roman”;
mso-fareast-theme-font:minor-fareast;
mso-hansi-font-family:Calibri;
mso-hansi-theme-font:minor-latin;
mso-bidi-font-family:Vrinda;
mso-bidi-theme-font:minor-bidi;}

অনেক সময় একটা বিশাল লেখা আপনাকে এডিট করতে হবে। ধৈর্যে কুলাচ্ছে না। কি করবেন। লেখা মধ্যে চোখ বুলাতে গেলে মনে হয় এ যেন সরিষার বস্তায় মাছের ডিম খোজার মতো অবস্থা। 
একটু বুদ্ধি খাটালে আপনাকে আর টেনশন নিতে হবে না। 
উইন্ডোজে বিলগেটস চাচা আপনাকে একটা দারুণ সফটওয়্যার ফ্রি দিয়ে দিয়েছেন। যাকে বলা হয় নোটপ্যাড।
১. প্রথমে একটি
Notepad খুলুন ।
২.তারপর আমার দেয়া নিচের প্রোগ্রামিং কোডটি কপি পেষ্ট করুন ।

CreateObject(“SAPI.SpVoice”).Speak”————–“
৩. ফাইলটি যে কোন নামে শেষে 
.vbs এক্সটেনশন সহ সেভ করুন ।
৪. ফাইলটি কে
Double Click করুন ।
৫. অনেকটা mp3 গানের মতো পড়াটা শুনতে পারবেন। এখন যে কোন কাজ করুন। কোন ভুল শুনতে পেরে পরে ওয়ার্ডে গিয়ে সেটা এডিট করুন। 

মো: আদনান আরিফ সালিম অর্ণব 

Archaeology Of Humankind