নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও প্রত্নতাত্ত্বিক অধ্যাপক ড. আইয়ুব খান


প্রত্নতাত্ত্বিক, গবেষক, ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আইয়ুব খান আর নেই।  বছর খানিক পূর্বে ছিনতাইকারীদের গুলিতে আহত হয়ে দীর্ঘদিন রোগভোগের পর অবশেষে বিভাগে ক্লাস নেয়া শুরু করেছিলেন। কিছুদিন পূর্বে বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ অক্টোবর, মঙ্গলবার রাত ১০:৩০টায় ঢাকায় হার্ট ফাউণ্ডেশন হাসপাতালে তিনি ইন্তিকাল করেন। (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন) মৃত্যুর আগে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অধ্যাপক ড. আইয়ুব খান ১৯৬৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার পাইকরা ইউনিয়নের গোলরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি, ১৯৮১ সালে সরকারী সাদাত কলেজ থেকে এইচ এস সি পাস করে উচ্চতর শিক্ষার জন্য ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স সম্পন্ন করার পর মাস্টার্স এ প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। চাকুরী জীবনের শুরুতে কিছুদিন আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে কর্মরত ছিলেন। অতঃপর শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।
একজন প্রত্নতাত্ত্বিক, গবেষক ও ইতিহাসবিদ হিসেবে তাঁর অনেক লেখা দেশ বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, দেশ বিদেশের বিভিন্ন সেমিনারে মূল্যবান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন ড. আইয়ুব খান। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়াতেও তাঁর রচিত প্রবন্ধ রয়েছে। প্রতœতত্ত্বের একজন নিবেদিতপ্রাণ গবেষক হিসেবে তিনি প্রাচীন বাংলার লিপিমালা নিয়ে গবেষণা করেছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের প্রাচীন ভাষার উপর তার বেশ দখল ছিল। তিনি  বিশেষত মৌর্য,গুপ্ত, পাল ও সেন আমলের লিপিমালা ও তামার পাতে খোদাই করে লিখিত ভূমিদানপত্র বা তাম্রশাসন নিয়ে গবেষণা করেন। রেখাচিত্র অঙ্কন ও কম্পিটার গ্রাফিক্স এর সাহায্যে প্রাচীন লিপিমালাকে আক্ষরিকভাবে বিশ্লেষণ করার অভিনব পদ্ধতি তাঁর আবিষ্কৃত। এই পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে তিনি দুর্বোধ্য প্রাচীন লিপিমালাকে অনেক সহজ করে নতুন প্রজন্মের গবেষকদের বাংলার লিপিমালার প্রতি আগ্রহী করে  তোলেন। তিনি একাধারে ব্রাহ্মী, খরোষ্ঠী, ও সংস্কৃত ভাষার বেশ কিছু আদিরূপ গবেষণা করেন। গবেষণার ক্ষেত্রে প্রত্নলেখবিদ্যা বা লিপির বিবর্তনকে অধিক গুরুত্ব প্রদান করেন তিনি। তাঁর রচিত বাংলার ইতিহাস অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে জনপ্রিয়। স্যারের অসময়ে চলে যাওয়ায় পুরো বিভাগ শোকে বিহ্বল, আমরা বাকরুদ্ধ। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে আর অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী রেখে গেছেন।
মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
শিক্ষার্থী প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
aurnabmaas@gmail.com
Advertisements

One thought on “নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও প্রত্নতাত্ত্বিক অধ্যাপক ড. আইয়ুব খান”

  1. জি মেইল আইডি থেকে লগ ইন করা থাকলে এখানে মন্তব্য করা যাবে। আপনারা প্লিজ প্লিজ স্যারের সম্পর্কে যে যা বলতে যান এখানে জি মেইল আইডি লগ ইন করে কমেন্ট করে জানান। কিংবা এই সাইটের ফেসবুক পেজ http://www.facebook.com/pages/Archaeology-Of-Humankind/196757007014340 এ গিয়েও লিখতে পারেন। সবার মতামত নিয়ে একটি স্মরণিকা করা যেতে পারে।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s