লিবিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ মিসরে পাচার হয়ে গেছে


লিবিয়ার সাব্রথার একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।
লিবিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পূর্বাঞ্চলের একটি ব্যাংকের ভোল্ট থেকে কয়েকশ’ প্রাচীন মুদ্রা, অলংকার ও শিলালিপি খোয়া গেছে এবং সেগুলো বিদেশে বিশেষত, মিসরে পাচার হয়ে গেছে বলে ধারণা প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল ট্রাঞ্জিশনাল কাউন্সিল (এনটিসি)। বেনগাজিতে মে মাসে মুয়াম্মার গাদ্দাফির সেনাদের সঙ্গে এনটিসি বাহিনীর তুমুল লড়াইয়ের সময়টিতে ব্যাংকের ভোল্ট থেকে প্রাচীন মুদ্রাসহ প্রায় ৮ হাজার মূল্যবান সংগ্রহ লুট হয়েছে। ওই সময় ব্যাকংটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা লড়াইয়ের কারণে ঘটেছিল বলে জনশ্র“তি থাকলেও এখন ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাংকে ডাকাতি হয়েছিল। ডাকাতদের লক্ষ্য ছিল বেনগাজির সম্পদ।
অক্টোবর মাসে লুট হয়ে যাওয়া কয়েন থেকে মাত্র একটি কয়েনই বিক্রি হয় দুই লাখ ৬৮ হাজার পাউন্ডে। লিবিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বিভিন্ন সম্পদ লুট হওয়ার ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল। সে সময় এনটিসির পক্ষ থেকে এসব তথ্য উড়িয়ে দেয়া হয়। ভোল্ট থেকে প্রাচীন মুদ্রা লুট হওয়া ছাড়াও ব্যাংকে রাখা বৃহদায়কার পদক, ব্রেসলেট, পায়ের অলংকার, কানের দুল, হাতের আংটি এবং বাজুবন্দসহ ছোট ছোট অনেক অমূল্য পাথরও সে সময় লুট হয়ে গেছে। এই অমূল্য সম্পদের ভাণ্ডারকে বলা হতো, ‘ট্রেজার অব বেনগাজি’ বা বেনগাজির সম্পদ। প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন চুরি বা লুটের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা। লিবিয়ার পুরাকীর্তি সংগ্রহশালার পরিচালক ইউসুফ বিন নাসের বলেন, এটি এক মহাদুর্যোগ। আমাদের অমূল্য জাতীয় সম্পদ ও ইতিহাস খোয়া গেছে। এদিকে বেনগাজির একটি গয়না ঘরে কিছু ব্রোঞ্জের মুদ্রা দেখতে পেয়েছেন রয়টার্সের এক প্রতিনিধি। এসব মুদ্রার দাম জিজ্ঞেস করা হলে এগুলো ২ সহস াব্দ পুরনো বলে দোকানি জানায়। রয়টার্সের প্রতিনিধি বিক্রির জন্য রাখা মুদ্রার চিত্র নাসেরকে দেখালে তিনি জানান, এগুলো সম্ভবত ওই সংগ্রহেরই অংশ। লুট হওয়া মুদ্রার মধ্যে সোনা ও রূপার মুদ্রাও রয়েছে। এসব মুদ্রায় ইসলামী ক্যালিওগ্রাফি এবং কোরানের আয়াত লেখা রয়েছে। মিসরে কয়েকশ’ মুদ্রার সন্ধান পাওয়া গেছে বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে এ খবর এখনও নিশ্চিত জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন পুরাকীর্তিবিষয়ক মন্ত্রী ফাদেল আল হাসি। কিংস কলেজ লন্ডনের লিবিয়ার প্রতœতাত্ত্বিক নির্দশনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হাফেদ ওয়ালদা বলেন, প্রশাসনের ভেতরের কেউই এই লুটের সঙ্গে জড়িত। কারণ তারা জানতো ঠিক কোথায় আছে সম্পদগুলো। লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম বেনগাজি শহরে থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ-পরবর্তী সময়ে এই বেনগাজিই হয় বিদ্রোহীদের মূল ঘাঁটি।
নতুন নেতৃত্বের সামনে কঠিন দায়িত্ব : হিলারি ক্লিনটন
লিবিয়ার নতুন নেতৃত্বের সামনে এখন অনেক কঠিন রাজনৈতিক দায়িত্ব অপেক্ষা করছে। রোববার ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি এ দায়িত্ব পালনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সাহায্যেরও প্রতিশ্র“তি দেন। তিনি বলেন, তাদের সামনে এখন অনেক কঠিন রাজনৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তাদের তেমন কোন অভিজ্ঞতা নেই। ক্লিনটন বলেন, নতুন নেতৃত্বকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এটি একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের লোককে কীভাবে একত্রিত করা যাবে সে বিষয় তাদের ঠিক করতে হবে। সব উপজাতির লোককে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। হিলারি আরও বলেন, নতুন নেতৃত্বকে স্পষ্ট করে জানতে হবে কী কর্মসূচি তাদের সামনে রয়েছে। বিভিন্ন মতের লোককে এক করার ক্ষেত্রে এসব কী করে সহায়ক হবে। তিনি লিবিয়ার নতুন নেতৃত্বকে প্রকৃত অর্থেই চিন্তাশীল উল্লেখ করে বলেন, যেভাবেই পারি আমরা তাদের সাহায্য করব।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s