এ মিথ্যাচার এখুনি রুখতে হবে

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বি এস এফ এর পৈশাচিক বর্ববতার প্রতিবাদে যখন গোটা দেশের অনলাইন একটিভিস্ট, ব্লগার ফেসবুকসহ ভার্চুয়াল দুনিয়া সোচ্চার হয়েছে তখন কিছু ছবি ফেসবুকে স্থান করে নিয়েছে। কিছু নির্মম ঘটনার আলোকচিত্র ও গ্রাফিক্স ফেসবুকে ছাড়া হয়েছে। এইগুলোর সত্যাসত্য যাচাই না করেই ক্রোধের আগুনে টগবগ করে ফুটতে থাকে তরুণ সমাজ ফেসবুকের ওয়াল থেকে ওয়াল, এ ব্লগ থেকে ও ব্লগ শেয়ার করে যাচ্ছেন। কিন্তু মাঝখান দিয়ে লাভ হচ্ছে পিশাচ বি এস এফ এর। আসলে এটি বি এস এফ এর অপকর্ম আড়াল করার কোন অপচেষ্টা হতে পারে। একটি ছবি খুব গুরুত্বের সাথে প্রচার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। কিন্তু ছবিটা আসলে কিসের?

ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি লোককে পেরেক ঠুকে গাছে ঝুলিয়ে রেখে দেওয়া হয়েছে। তার পুরুষাঙ্গ কেটে মুখে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর সাথে বি এস এফ এর সম্পৃক্ততা নেই। প্রকৃত অর্থে এরশাদ সিকদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বরগুনার বেতাগী উপজেলার দক্ষিন ভোড়া গ্রামের ৭৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ডাকাত সালাম হাওলাদারকে হত্যা করে গাছের সাথে পেরেক ঢুকিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল ২০১০ এর মার্চ মাসের দিকে। বিভিন্ন থানায় ডজন খানেক ডাকাতি, খুন ও ধর্ষণের মামলার আসামি সালামকে তারই সহযোগিরা ডেকে নিয়ে হত্যা করে। এরপর লাশটিকে ইঞ্জিনিয়ার সুলতানা সালেহ টেকনিক্যাল কলেজের সামনের একটি রেইন্ট্রি গাছের সাথে দুই হাতে পেরেক ঢুকিয়ে ঝুলিয়ে রাখে।

কিন্তু এই ঘটনাকে বি এস এফ-এর কর্মকাণ্ড হিসেবে প্রচার করার একটিই অর্থ হতে পারে, সেটি দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার। এর ফলে পুরো বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিরা বিশ্বের বুকে মিথ্যাবাদী বলে প্রতিপন্ন হবে আর আখেরে লাভবান হবে ভারত। তাই দেশের সকল ব্লগার ও অনলাইন একটিভিস্টের কাছে অনুরোধ, আপনারা বিভ্রান্তির এই বেড়াজালে পা দেবেন না। মিথ্যাচার করে দেশের মানহানি করবেন না। এই ধরণের মিথ্যাচার বিশ্বের বুকে জাতি হিসেবে আমাদের মাথা হেঁট করে দেবে। বিএসএফ যে অন্যায় করেছে তা দেখে এমনিতেই বিশ্ব-বিবেক ঘৃণায় রি রি করছে। একে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করার কোনও মানে হয় না।

বিভ্রান্তির বেড়াজালে বাংলাদেশ, এ মিথ্যাচার রুখতে হবে এক্ষুনি । দেশের মান ইজ্জত রক্ষার্থে সবার কাছে অনুরোধ এই ছবি ট্যাগ করে, শেয়ার করে, মেসেজ করে ওয়াল থেকে ওয়ালে ছড়িয়ে দিন, অবশ্যই সাথে যেন এই বিবরণ থাকে। একটি কথা মনে রাখতে হবে মিথ্যাচার সম্মান বাড়ায় না বরং মানহানি করে।
বাংলানিউজ২৪.কম।
আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
aurnabmaas@gmail.com

ব্লগ বাংলা প্রসঙ্গে

বাংলা ব্লগের প্লাটফর্ম হিসেবে সদ্য পরিচিত হলাম ব্লগ বাংলার সাথে। জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদপত্র বাংলানিউজের ব্লগ হিসেবে এটি বিকশিত হওয়ার পথ করে নিয়েছে। নতুন ব্লগ হিসেবে ব্লগ বাংলার কাছে আমাদের চাওয়া পাওয়া আর দীর্ঘদিন ব্লগিং করার সূত্রে আমার হাসি-আনন্দ, বিরক্তি, আশা-হতাশা, ভালোলাগাসহ নানা বিষয় নিয়ে এই লেখাটি।

ব্লগার হিসেবে লেখালেখি শুরু করেছিলাম বছর তিনেক আগে। লেখালেখির অভ্যাস তখনো অতটা  হয়ে ওঠেনি। তখনকার ব্লগিং বলতে মনে হতো শুধু ভাল ভাল লেখা গ্রোগ্রাসে  গিলতে থাকা আর নিজের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা। পরবর্তীকালে যখন লেখালেখির ধারায় আসি ধীরে ধীরে ব্লগিং এর পটপরিবর্তন হতে দেখা যায়। বাংলাদেশে রাজনীতির  আকাশে ঘোর অমানিশার প্রভাবে কিছু ব্লগার বাংলা ব্লগের মতো মুক্ত স্বাধীন প্লাটফর্মগুলোতেও এর কালো  ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করতে থাকে।

একসময় ব্লগারদের মধ্যে সৃষ্টিশীল ও মানসম্মত লেখার তুলনায় একে অন্যকে আক্রমণ করা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা, পোস্টের হিট বাড়ানোর প্রবণতা বাড়তে থাকে। একসময় মনে হয়েছে ব্লগ আর মাতৃভাষায় মুক্তমত প্রকাশের স্থান হিসেবে টিকে নেই। এটি পরিণত হয়েছে একটি যুদ্ধক্ষেত্রে। আরো অবাক হয়েছি মধ্যরাতের দিকে যখন বেশিরভাগ মডারেটর নিদ্রা যেতেন, তখন মডু ঘুমায় নামে অশ্লীল ১৮+ পোস্ট দিয়ে আড্ডা জমানো হতো ব্লগপাড়ায়। পরিস্থিতি আরো চরমে ওঠে যখন দেখি প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে একধাপ এগিয়ে যেতে এক এক গ্রুপ একে অন্যকে অশ্লীল সব ট্যাগ করা শুরু করেছে। কেউ ছাগু, কেউ ভাদা, কেউ হাম্বা, কেউ ভিম্পি ইত্যকার নানা আজগুবি সব শব্দচয়ন দেখে মাঝে মাঝে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরার অবস্থা হতো। ভাবতাম, হায় বাঙালি! তোরা স্বাধীনতার চার দশক পার করেও বাংলাদেশি হতে পারলি না! উন্নতি-উন্নয়নের চেষ্টা না করে এখনো নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বেই আটকে আছে। এরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, স্বাধীন বাংলাদেশের আলো-বাতাসে এদের বেড়ে ওঠা কিন্তু মতের কতো অমিল!

কেউ দেখা গেছে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে কথা বলছে, কেউ সব লাজলজ্জার মাথা খেয়ে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সারিন্দা বাজাচ্ছে। কেউ দেখা গেছে বাংলাদেশের সাথে ভারতের বা পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলার দিন বাংলাদেশ টিমের বিরুদ্ধে পোস্ট করেছে। কাউকে দেখা গেছে বাংলাদেশের অবস্থা বাদ দিয়ে পাকিস্তান বা ভারতের নানা বিষয় নিয়ে মেতে উঠেছে।

এর পরেও কিছু ব্লগারকে দেখা দেখা গেছে রাজনৈতিক ক্যাচালের উর্দ্ধে থেকে, দেশ ও জাতির নানা সমস্যা নিয়ে ব্লগে ঝড় তুলতে। কেউ কেউ গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ভ্রমণ কাহিনী প্রভৃতি নিয়ে রুচিশীল লেখনীর পরিচয় দিয়েছেন। কথা প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে নন্দিত ব্লগার ইমন যুবায়েরের কথা যার ব্লগ হয়ে উঠেছে বাংলালেখনীর একটি সমৃদ্ধ আর্কাইভ, ব্লগার নাফিস ইফতেখার যার নাম তার পরিচয় বহন করে, ব্লগার জুলভার্ন ভ্রমণকাহিনীর লেখক হিসেবে পুরো বাংলাব্লগ জগতে তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। সীমান্তে বিএসএফ এর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, টিপাইমুখ বাঁধ, ভিকারুননিসা কিংবা রুমানা মঞ্জুর ট্রাজেডিতে ব্লগপাড়াকেই প্রথম সরগরম হয়ে উঠতে দেখা গেছে।

ব্লগীয় নতুন পরিভাষা হিসেবে গদাম (পশ্চাৎ দেশে লাথি ঝাড়া), পাকি (পাকিস্তান সমর্থক), ভিম্পি/বিম্পি (বিএনপি), আম্লিগ/হাম্বা (আওয়ামিলীগ), ভাদা (ভারত এর দালাল), পাদা (পাকি দালাল) ভাকুর (ভারতীয় কুকুর), ছাগু/জাশি (জামাত শিবির), টেকি (প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের নাম), খিকচ (চাপা হাসির বহিঃপ্রকাশ), ধইন্যা (ধন্যবাদ), ল্যাঞ্জা বাইর হওয়া (বিতর্কে হেরে যাওয়া), কুত্তালীগ (ছাত্রলীগ), লুলামী করা (মেয়েঘেষা কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া), ছাইয়া (ছেলে হয়ে মেয়ের ভান করা), তেনা পেঁচানো (অযথা তর্ক করা), পিছলানো (পাশ কাটিয়ে চলা) ইত্যাদিকে অনেক বোদ্ধা বাংলা ভাষাশৈলীর বিকৃতি হিসেবে মনে করেন।
কিন্তু আমরা যারা ব্লগার আমাদের কাছে এগুলোকে নিছক হাসির খোরাক বলেই মনে হয়। কারণ, ওইসব বোদ্ধারা তাদের বেশির ভাগ কথার মধ্যেই বাংলা-ইংরেজি মিশ্রণ দিতে পছন্দ করেন। তবে আমাদের মাতৃভাষার আংশিক রূপান্তর এর মাধ্যমে কিছু শব্দ যেমন শিরাম/সৈরাম (সেরকম), চ্রম (চরম), মুঞ্চায় (মন চায়), ভাল্লাগ্লো(ভালো লাগলো), পিছলানো (কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া), তেব্র (তীব্র), পিচলামি (ইসলামি), মালানি (হিন্দুয়ানী), জসিলা (জটিল)- ইত্যাদির পৌনপুনিক ব্যবহার আমাদের সমস্যায় ফেলতে পারে। একজন ব্লগার হিসেবে এইসব শব্দের বহুল ব্যবহারের ধারাবাহিকতায় পরীক্ষার খাতায় এই ধরণের কিছু শব্দ মনের অজান্তেই ব্যবহার করে ফেলি যেটি পরীক্ষকের কাছে নিতান্তই আজগুবি লেগেছে।

ব্লগের ক্ষেত্রে সবথেকে মজার ব্যাপারটা আমার মনে হয়েছে বিদেশি শব্দকে নিজের মতো করে ব্যবহার করাটা। এতে অনেক বেশি মজাও পাওয়া যায় পাশাপাশি একটু গুরুগম্ভীর ভাবটাও কাটানো যায়। যেমন বিদেশি শব্দ প্লাচাইলাম (ইতিবাচক রেটিং বা ভোট দেয়া), ব্যান (নিষিদ্ধ), ব্লগান (ব্লগিং করা), পোস্টান/পুস্টানো (লেখা দেয়া), ইউজান (ব্যবহার), হেল্পান (সহযোগিতা করেন), স্লিপান (ঘুমানো), ইটাচ্ছি (খাচ্ছি), কম্পু (কম্পিউটার), ল্যাপু (ল্যাপটপ) ইত্যাদির ব্যবহার নিতান্ত বেরসিককেও হাসাতে পারে বলে আমার বিশ্বাস, তবে বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণটা জরুরি।

একটু ভিন্নভাবে দেখতে গেলে ব্লগারদের মজার মজার নাম অনেক ক্ষেত্রে হাসির কারণ হতে পারে। ব্লগ ইউজারের নিকনাম হিসেবে চিকন মিয়া, গেদু চাচা, চেয়ারম্যান, খালি ব্যান খাই, পিরীতির নাম কাডালের আঠা, পুলার নাম লিপিস্টিক খান, ছেড়ে দে শয়তান, আজীব পোলা, দুলাভাই, আমার শালী লণ্ডনে, ডিজিটাল পোংটামি, ডিজিটাল হাসি, ভেজা বিলাই, জাকারবার্গের চেলা, স্টিভ জবস আমার শালা, ভাদাইম্যা, বদনা দে নয়তো উষ্টাদিমু, বিজলী এখন ঢাকায়, ধর সাইকেল কমাইয়া আসি, বদমাশ, অধমের নাম বলদা ছেলে- তখন মনের অজান্তেই অনেকের হাসি পেতে থাকে।
এর পাশাপাশি যোগ হয়েছে বাংলা বাক্য ও শব্দের নতুন রূপ। হাহাপগে (হাসতে হাসতে পড়ে গেলাম), হাহালুখুগে (হাসতে হাসতে লুঙ্গি খুলে গেল), চ্রম (চরম), খ্রাপ(খারাপ), পুত্তম(প্রথম), তেব্র(তীব্র), বেয়াপক/বেফুক(ব্যপক), মজাক লইলাম (খুশি হলাম), পালাদিমুচা (পাছায় লাথি দিতে মন চায়), আবুআ (আয় বুকে আয়)- এসব নিয়ে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
আমার কয়েকজন ব্লগার বন্ধু আছেন যারা বই কেনাকে একটি হাস্যরসের বিষয় উল্লেখ করে উড়িয়ে দিলেন। মূলত তাদের অভিমত হলো যে, ‘বর্তমান এই (ইন্টারনেটের ব্লগ) যুগে টাকা দিয়ে বই কেনার কোনো মানে হয়না।’ তাছাড়া ঘনবসতিপুর্ণ ঢাকায় বই কিনে লাইব্রেরি দেয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গাও আমার নাই। তাই আমি সব বইয়েরই সফট কপি সংগ্রহ করে সেগুলো দিয়ে একটি বিশাল লাইব্রেরি তৈরি করেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার অনলাইন লাইব্রেরির সমৃদ্ধির হেতু- বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত চার বছরের ছাত্রজীবনে কতদিন লাইব্রেরিতে গেছি তা খুব সহজেই হাতে গুণে বলতে পারি। এটা এই বাংলাব্লগে ব্লগিং করার অর্জন বলতে পারেন।
তিউনিসিয়া ও মিশরে গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ভারতীয় চ্যনেল ইএসপিএন এর ধারাভাষ্যকার নভোজিৎ সিং সিধুর কটুক্তি, কিংবা বিশ্বের আনাচে-কানাচে বাংলাদেশের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা এর কিছুই চোখ এড়ায়নি বাংলাদেশের ব্লগারদের।
বাংলা ব্লগ প্রসঙ্গে এককথায় বলা যায়- এটি বিভিন্নজনের নানা বিশ্লেষণধর্মী লেখা সবার হাতের নাগালে এনে দিতে পেরেছে যেখানে নিজের অভিমতটিও প্রকাশ করা যায়। এখানে একই সময়ে সকলের মতামত প্রকাশ করার একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে যা অন্য কোনো মাধ্যমে কস্মিণকালেও সম্ভব হতোনা।
অনেক দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি জীবনের প্রয়োজনে অন্নসংস্থানের আশায় দেশের বাইরে অবস্থান করেন। মা, মাটি, মাতৃভাষা আর দেশের জন্য তাদের প্রাণ আকুল হলেও একটি কথা বলার সুযোগ তারা পাননা। কিন্তু ব্লগের কল্যাণে তারা নিজেদের জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছেন। সারাদিন অর্থ উপার্জন করার মাধ্যমে এই সকল মানুষ একদিকে নিজের পরিবারকে স্বচ্ছল করার পাশাপাশি দেশের রেমিটেন্স বাড়ানোতে যেমন ভুমিকা রাখছেন অন্যদিকে সন্ধ্যার পর অবসরকে এই ব্লগের কল্যাণেই পার করছেন দেশের ব্লগারদের সাথে একান্ত আপনজনের মতো। এখানে শুধু সশরীরে উপস্থিত হওয়াই সম্ভব নয়- এছাড়া জন্ম, মৃত্যু আর বিয়ে এই তিনের আনন্দ আর আমোঘ বিধিতে দুঃখের নিনাদ সুরমূর্ছনার মতো ঠিকই বেজে ওঠে পুরো ব্লগ পরিবারে। তাই এই সকল মানুষের কাছে ব্লগের আবির্ভাব একটি আশীর্বাদ বলা যায়।
আবহমানকাল থেকে বাঙালির পরিচয় তারা পেটুক, তারা খায় খাওয়ায় আর তারা আড্ডাবাজ। এই হচ্ছে সাধারণত বাঙালির সংস্কৃতি। আগে দেখা যেত গ্রামে কোনো এক বাড়িতে কিংবা কোনো দোকানে বসে বিভিন্ন বয়সী লোক মিলিত হয়ে গল্প, পাল্টা গল্প কিংবা গ্রামের কোনো মজাদার কাহিনীর নানা দিক নিয়ে রসাত্মক বিশ্লেষণ ইত্যাদি করে সময় পার করতো। কিন্তু বাংলা ব্লগে প্রচলিত এ আড্ডা পোস্টের মাধ্যমে এখন আর সশরীরে কোন নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত হতে হয়না। কেবল কম্পিউটারের সামনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোন স্থান থেকেই এ আড্ডায় যুক্ত হয়ে আড্ডা বা গল্পে গল্পে সময় পার করা যায়।
আমার পরিচিত প্রায় অর্ধশতাধিক ব্লগার আছেন যারা তেমন আড্ডাবাজ ছিলেন না, কিন্তু ব্লগে এসে একান্ত আপনজনের মতো অন্যদের সাথে ঠিকই সময় পার করেন। আমাদের কৃষ্টি কালচার সংস্কৃতিক ঐতিহ্যসহ সকল আঙ্গিক বিবেচনা করলে বাংলা ব্লগ এক নতুন যুগের সূচনা করেছে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তবে ছেলেমেয়েরা এর ভালো দিকগুলোকে কাজে না লাগিয়ে সাধারণ সময় কাটানোর মাধ্যম ভাবলে এটা ক্ষতির কারণ হবেই- এমন ভেবে বসে থাকার অবকাশ নেই। পৃথিবী আজ এগিয়ে গেছে। এগিয়ে যেতে হবে আমাদেরকেও।
২০০৬ সালের দিকে বাংলা ব্লগের যাত্রা শুরু হওয়ার পর আজ এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে- অনেক বলে থাকেন বাংলাদেশে ব্লগার থেকে ব্লগ বেশি। সামহোয়্যারইন, সচলায়তন, আমার বর্ণমালা, চতুর্মাত্রিক ব্লগ, নাগরিক ব্লগ, প্রতীক ব্লগ, সোনার বাংলাদেশ ব্লগ, ওপেস্ট, রঙমহল, বিডি নিউজ-২৪ব্লগ এগুলোর সাথে যুক্ত হলো দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ বাংলানিউজ এর ব্লগ বাংলা। ব্লগার হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা প্রচলিত ধারার বাইরে এসে ব্লগ বাংলা হয়ে উঠবে স্বাধীনদেশে স্বাধীনভাবে মাতৃভাষায় মনের কথা বলার এক অনন্য মাধ্যম হিসেবে। মডারেশণ বোর্ডের স্বচ্ছতা, জবাবদিহীতা আর নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় অনেক ব্লগ প্রতিষ্ঠার পর মাথাতুলে দাঁড়াতে পারেনি। অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্লগ তাদের নীতিগত অস্পষ্টতা আর বুদ্ধিভিত্তিক দৈন্যতার কারণে জনপ্রিয়তা হারিয়েছে যেখানে সংবাদপত্র হিসেবে তার প্রচার, প্রসার ছিল আকাশচুম্বি। অনেক ব্লগ তার সার্ভারের অন্ধকার থেকে প্রচার জগতের আলোর মুখ দেখতে পায়নি। আমরা আশা রাখছি- ব্লগ বাংলা এইসব নীতিগত দৈন্য থেকে বেরিয়ে এসে নতুন পথের সন্ধান দিতে সম্ভব হবে। নিউজ এজেন্সি হিসেবে বাংলানিউজ যে স্বচ্ছতা ও সম্মান অর্জন করেছে ব্লগ বাংলার মডারেশনে সেটি ধরে রাখতে সক্ষম হবে – এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের।
আদনান আরিফ সালিম অর্ণব, ব্লগার ও কলামিস্ট
aurnabmaas@gmail.com

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৪ ঘণ্টা, ২৭ জানুয়ারি, ২০১২

বিশ্বমানবের স্থাপত্যকলা বিকাশের এক উজ্জল নিদর্শন: মিশরের পিরামিড

পিরামিড
অন্য কিছুর কথা বাদ দিলেও শুধুমাত্র স্থাপত্য শিল্পের জন্যই মিসরীয় সভ্যতা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এই স্থাপত্য শিল্পগুলোর মধ্যে পিরামিড এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। অন্যান্য কারন থাকলেও মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে এই স্থাপনা গুলো নির্মান করা হয়েছিল বলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারনা করেছেন। মৃত্যুর পর মানুষের আত্মাগুলো যেন শান্তিতে থাকে এবং জীবিতদের উপকার করে-এমন ধারনা থেকে ঐ সময়ের সমাজের উঁচু শ্রেণীর মানুষ যেমন: ফারাও (সম্রাট), পুরোহিত, রাজ কর্মচারী- এদেরকে সমাহিত করার এমন পদ্ধতি খুজে বের করে যাতে মৃত্যুর পরও তাদের দেহ অবিকৃত ও সুরক্ষিত করে রাখা যায়। মূলত এভাবেই পিরামিডের উৎপত্তি। প্রায় ১৩৮ টি পিরামিড আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলো ফারাও ও তার সঙ্গীদের সমাধি হিসেবেই তৈরি করা হয়েছিল।
পিরামিড বলতেই চোখের সামনে তিন কোনাকার প্রিজমের মতো স্থাপনা ভেসে উঠলেও প্রথমদিককার পিরামিডগুলো ছিল আয়তাকার। এগুলোকে বলা হয় মাস্তাবা (Mastaba)।
মাস্তাবা (Mastaba)
আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার পূর্বে তৃতীয় রাজবংশের ফারাও জোসার (Djoser)- এর রাজত্বকালে ২৬৩০- ২৬১১ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে (Saqqara) সাক্কারা-তে প্রথম পিরামিড তৈরি করা হয় যার উচ্চতা ছিল ২০৪ ফুট। তিনিই প্রথম ধাপযুক্ত পিরামিড তৈরি করেছিলেন। Step Pyramid বা ধাপযুক্ত পিরামিড তৈরির পেছনে একটি কারন প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারনা করেছেন। সম্ভবত তারা এই ধাপগুলোকে স্বর্গের সিড়ি মনে করত। অর্থাৎ ফারাওরা এই সিড়ি দিয়ে স্বর্গে পৌছবেন এমন ধারনা থেকে সম্ভবত এই ধরনের পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল।
Step Pyramid বা ধাপযুক্ত পিরামিড
৪র্থ রাজবংশের ফারাও (Sneferu) স্নেফরু সর্বপ্রথম ২৬০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে (Dahshur) দাসুর- অঞ্চলে বর্তমান পিরামিডগুলোর প্রায় সমরুপ একটি পিরামিড নির্মান করেছিলেন। একে Bent Pyramid বা তির্যক বা বাকানো পিরামিড বলা হয়ে থাকে। এর উচ্চতা ছিল ৩৪৪ ফুট। এই পিরামিডের সাথে বর্তমান পিরামিডের পার্থক্য হলো এর ধারগুলো। বর্তমান পিরামিডগুলোর ধারগুলো এর তুলনায় অনেক মসৃন ও তিক্ষ্ণ। মূলত এর পরেই পিরামিডগুলো বর্তমান রূপ পেয়েছিল।
Bent Pyramid বা তির্যক পিরামিড
ভুবন বিখ্যাত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পিরামিড নির্মান করেছিলেন ফারাও (Sneferu) স্নেফরু-র ছেলে ফারাও (Khufu) খুফু। ২৫৮৯-২৫৬৬ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে (Giza) গিজায় নির্মিত এই বিখ্যাত পিরামিডটি অন্য পিরামিডগুলোর তুলনায় বিখ্যাত হয়ে আছে এর বিশেষ নির্মানশৈলির কারনে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা গবেষনা করে যে সকল তথ্য পেয়েছেন এই পিরামিড সম্পর্কে তা আজও এই আধুনিক পৃথিবীর মানুষকে চরম বিস্মিত করে তোলে।
Pyramid at Giza (Front view)

প্রায় ৪৫০০ বছর আগে যে পিরামিডটি নির্মান করা হয়েছিল সেটির ভিত্তি ছিল পুরো বর্গাকার। ২৩০০০০০টি পাথরের ব্লক যেগুলোর প্রতিটির গড় ওজন ২.৫ টন। পুরো পিরামিডটির ওজন প্রায় ৬০০০০০০ টন। অবাক করা বিষয় হলো যে বর্গাকার ভিত্তির উপরে এটি নির্মান করা হয়েছিল তার অবস্থান পুরোপুরি উত্তর-দক্ষিন মেরু বরাবর নির্দিষ্ট। একচুল পরিমানও এদিক-সেদিক নয়। আরেকটি অবাক বিষয় হলো এর উচ্চতা দিয়ে এর পরিধিকে ভাগ করা হলে পাওয়া যায় সেই ধ্রুব সংখ্যাটিকে যার রহস্য আজও বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা। হ্যাঁ, সেই ধ্রুব সংখ্যাটি হলো π (পাই)। এই পিরামিডের উচ্চতা ৪৮১ ফুট। এটি এমনভাবে নির্মান করা হয়েছিল যে, মিসরের যেখানেই সূর্য উঠুক সর্বপ্রথম আলোকরশ্নি এর চূড়ায় পৌছবে।
Giza pyramid complex
সংক্ষেপে আজ এ পর্যন্তই। অন্য কোনদিন আরও পিরামিডের নির্মান কৌশল, কারন, বর্তমান অবস্থা বিশদভাবে লেখার চেষ্টা করব।

নববর্ষে ‘বাংলা বসন্তে’র আশঙ্কা

এখন বহির্বিশ্বের রাজনীতি দুটো আন্দোলন ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। একটি ‘আরব বসন্ত’ আর দ্বিতীয়টি ‘অকুপাই মুভমেন্ট’। মধ্যপ্রাচ্যে স্বৈরতন্ত্রের মসনদ কাঁপানো আরব বসন্তের কথা কারও অজানা নয়। অন্যদিকে ‘অকুপাই মুভমেন্ট’ শুরু হয়েছিল নিউইয়র্কে ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ থেকে, যা ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এক শহর থেকে অন্য শহরে আর ইউরোপ থেকে অস্ট্রেলিয়ায়। প্রাথমিক অবস্থায় ‘অকুপাই মুভমেন্ট’-এর উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিবাদ। তবে এটি এখন পরিণত হয়েছে পুঁজিবাদবিরোধী আন্দোলনে, যার বিস্তৃতি বিশ্বব্যাপী।
অনলাইনে তোলপাড়, অবশেষে রাজপথ, তারপর স্বৈরাচার উত্খাত আর তারুণ্যের জয়ধ্বনি। সংক্ষেপে এটাই আরব বসন্তের কথা। ‘অকুপাই’ আন্দোলনের সঙ্গে ‘আরব বসন্ত’-এর কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে আমরা এ দুয়ের মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল পাই এক জায়গায়, আর তা হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিবাদ, যেখানে শামিল হয়েছেন অধিকারবঞ্চিত সাধারণ মানুষ। নির্যাতিতের চোখের পানি আর নিপীড়কের অট্টহাসি যেখানে ইতিহাসের ধ্রুব সত্য বলে মানুষ বালিতে মুখ গুঁজে হা-হুতাশ করত সেখানে দেখা গেছে এক ভিন্ন সুর। সৃষ্টি হয়েছে নতুন ইতিহাস। পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে দেখেছে আর স্বাগত জানিয়েছে এই নতুনত্বকে।
আমরা টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে ২০১১ সালের সেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত হতে দেখছি পৃথিবীর নানা স্থানের প্রতিবাদকারীদের। কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকার প্রতিবাদকারীদের চিহ্নিত করেনি টাইম ম্যাগাজিন। আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেই তিউনিসিয়া থেকে শুরু করে ‘অকুপাই আন্দোলন’-এর সব বিক্ষোভকারী টাইমের দৃষ্টিতে সেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। স্বৈরাচারের প্রতিবাদে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ার ‘সিদি বওজিদ’ শহরের ফল বিক্রেতা মুহাম্মদ বওকুজিজি প্রথম রুখে দাঁড়ান। পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে নিজ শরীরে আগুন লাগিয়ে মৃত্যু আলিঙ্গন করে হয়েছেন ইতিহাসের মহানায়ক। এই মৃত্যু উপলক্ষ করে আরব বিশ্বে আসে পরিবর্তনের ঢেউ, পতন ঘটে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা শাসকদের। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, ১৯৬৮ সালে সাবেক চেকোস্লোভাকিয়ার রাজধানী প্রাগ সোভিয়েত ইউনিয়নের আধিপত্যের বিরুদ্ধে সূচনা করে ‘প্রাগ বসন্ত’। এর সঙ্গে মিল রেখে সমাজবিজ্ঞানীরা আরব বিশ্বের পরিবর্তনের নাম দেন ‘আরব বসন্ত’। পাশাপাশি নিউইয়র্কে ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আন্দোলন গড়ে তোলে অধিকারবঞ্চিত সাধারণ মানুষ, যা আজ তিন মাস পার করতে চলেছে। সেই সঙ্গে ওয়াশিংটনের ফ্রিডম প্লাজায় সমবেত হওয়া বিক্ষোভকারীরা পার করতে চলেছে প্রায় আড়াই মাস।
রক্তচোষা পুঁজিবাদ যেমন ‘অকুপাই মুভমেন্ট’-এর জন্ম দিয়ে বিশ্ব তোলপাড় করছে, তেমনি আরব বিশ্বে ক্ষমতাসীন সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব অনেকাংশে কাজ করেছে ‘আরব বসন্তের’ সূচনায়। পাশাপাশি বেকারত্ব, কর্মক্ষেত্রে অসমতা, অর্থনৈতিক মন্দা প্রভৃতিও এর হালে পানি দেয়, যার প্রতিটিই মানুষের অধিকার সংশ্লিষ্ট। নিউইয়র্কের জুকোটি পার্কে তাঁবু বিছিয়ে কিংবা খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ অবস্থান করে প্রতিবাদী মানুষ একসঙ্গে হাড় কাঁপানো শীতে ঠকঠক করে কেঁপেছেন, অন্যদিকে কাঁপাতে সক্ষম হয়েছেন পুরো বিশ্বকে, তথা স্বৈরতান্ত্রিকতার মসনদকে। অবহেলা, নির্যাতন আর সীমাহীন অবিচার অধিকারবঞ্চিত অসহায় মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষের বিস্ফোরণ ঘটায়, যা আজ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘আরব বসন্ত’ পরিবর্তন এনেছে ও আনছে আরব ভূখণ্ড ও পুরো বিশ্বে, যা ছিল অনেকটাই সময়ের দাবি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের বেলাভূমিতে। যার অশনি সঙ্কেতকে আমি নাম দিতে চাই ‘বাংলা বসন্ত’ হিসেবে।
আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশের সঙ্গে আরব বিশ্বের রাজনৈতিক পার্থক্য রয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভেবে দেখার বিষয় তা কার্যত কতটুকু? আরব বিশ্ব কিংবা আমেরিকায় যে পটভূমিতে আন্দোলন ঘটেছে অনেকটা অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও আজ তাই ঘটে চলেছে বাংলাদেশে। প্রাথমিকভাবে সেই এরশাদের স্বৈরাচারী রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও ক্ষমতা ধরে রাখার প্রবণতা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা দেখতে বাধ্য করেছিল দেশবাসীকে। এই প্রবণতা আজও অব্যাহতভাবে চলছে। আমরা দেখেছি, শুধু ক্ষমতা নিয়ে অতি আগ্রহ বিগত এক এগারোর জন্ম দেয়। ক্ষমতাকে আরও দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার মধ্য দিয়ে আজ ধীরে ধীরে দেশ আবার এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। যার সঙ্গে আমরা মিল পাই আরব বিশ্বের, যেখানে নেতারা কোনো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার বদলে ক্ষমতা আগলে রাখতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। তারা ক্ষমতা ধরে রেখেছেন, অনেকটা পারিবারিকভাবে কিংবা বংশানুক্রমে, তাও আবার যুগের পর যুগ।
একটু ভিন্ন আঙ্গিকে হলেও বাংলাদেশে এই একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ১৯৯১ সালের পর থেকে গণতান্ত্রিকভাবে সরকার পরিবর্তন হলেও ক্ষমতাসীন সরকারের একদলীয় মনোভাব সংসদকে অকার্যকর করে অনেকটা একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে গেছে দেশকে। বস্তুত প্রতিটি ক্ষমতাসীন সরকার সংলাপের ব্যাপারে আদৌ উত্সাহী না হয়ে বরং দলীয়ভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টায় গলদঘর্ম হয়েছে। ফখরুদ্দীন-মইনের অরাজকতার অবসানে একটি রাজনৈতিক সরকার সময়ের দাবি মেটাতে ক্ষমতায় এলেও আজ তারা রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
উন্নয়নের খতিয়ানের দিকে দৃষ্টি দিলে আমাদের দেশ একটি ক্ষেত্রেই অনেক অগ্রগামী তা হচ্ছে সীমাহীন দুর্নীতি, যেটি শুধু দেশ নয় আজ আন্তর্জাতিক পরিসরেও আলোচিত। জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। বিদেশি প্রভুদের স্বার্থে দেশের বিরুদ্ধে এককভাবে সার্বভৌমত্ববিনাশী প্রশস্ত করিডোর প্রদান বা দেশ মরুকরণের প্রতীক গণধিকৃত টিপাইমুখ বাঁধও সরকারের নীরব সম্মতি পেয়েছে। সীমান্তে পাখির মতো মানুষ হত্যার প্রতীক হিসেবে কাঁটাতারে ঝুলন্ত কিশোরী ফেলানীর লাশ আজ জাতীয় হতাশার চরম অভিব্যক্তি।
অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা আজকে যে পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে তা থেকে কোনো বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থানের আশঙ্কা অমূলক নয়।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রফতানিতে ৩৯ ভাগ আয় কমার বিপরীতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২৩ শতাংশ, জুলাই-সেপ্টেম্বরে যার পরিমাণ ১৮১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সরকারের পরিচালনা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক থেকে নিতে হচ্ছে প্রচুর ঋণ। ১ নভেম্বর পর্যন্ত এ ঋণের পরিমাণ ১৬ হাজার ৫১ কোটি টাকা দেখানো হলেও তার সমাধানে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে বরং মন্ত্রিসভার কলেবর আরও বৃদ্ধি করে এই খরচকে বাড়ানো হয়েছে হাস্যকরভাবে। জাতির পিতার গৌরব সমুন্নত করার নামে নতুন নোট ছেপে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার ফলে দিনকে দিন মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, যা বছরের শেষে ৩০ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৩ হাজার তৈরি পোশাক কারখানা। বেকার হয়েছে অনেক নারী, যাদের কি না একুশ শতকের উন্নয়ন আর বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার পথে মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে গালভরা বক্তৃতা দিতে বেশ পটু আমাদের নেতানেত্রী আর অর্থলোভী বুদ্ধিপসারিনীরা। একমাত্র উপার্জনের রাস্তা খোয়ানো এই মেয়েরা আর যদি গ্রামে ফিরে না যায় তাদের হাত ধরে গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্র তৈরি হওয়াটা বিচিত্র নয়। বস্তুত অসমতা, বৈষম্য, পুঁজিবাদী আগ্রাসন আর দারিদ্র্য ‘অকুপাই মুভমেন্টের’ জন্ম দিয়েছিল। স্বৈরতান্ত্রিকতার পতনে সৃষ্ট ‘আরব বসন্ত’ এটিকে অনেকাংশে প্রভাবিত করেছে। মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬ ভাগ এখন বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে, যা এই আন্দোলনকে আরও উসকে দিতে পারে। আমরা দেখেছি, অর্থসম্পদ একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর হাতে কুক্ষিগত হয়ে পড়ায় মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া ‘আরব বসন্ত’ সৃষ্টির বড় কারণ যা থেকে বাংলাদেশে খুব একটা পিছিয়ে নেই। শতকরা ১১ দশমিক ৭৩ ভাগ খাদ্য মূল্যস্ফীতির সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যাচ্ছে না, যা সাধারণ মানুষকে মাঠে নামতে বাধ্য করেছে।
কেতাবি ভাষা আর সংবিধান গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দলের মাঝে একটা সমঝোতার কথা বলে। স্বৈরতান্ত্রিকতার প্রভাবে আরব বিশ্বে কোথাও এ সমঝোতা ছিল না। ফলে বিরোধী পক্ষ ‘আরব বসন্ত’ সৃষ্টিপর্বে জনতার রোষানল উস্কে দিয়েছে। আন্দোলনের গোড়ার দিকে বেন আলী (তিউনিসিয়া), হোসনি মোবারক (মিসর), আলী আবদুল্লাহ সালেহ (ইয়েমেন), গাদ্দাফি (লিবিয়া) কিংবা বাশার আল আসাদ (সিরিয়া) কেউই বিরোধী দলকে আমলে নেয়নি। বিরোধী দলের সঙ্গে অস্ত্রের ভাষায় কথা বলাটাকে তারা ভেবেছিল যুগোপযোগী, যা আজ অলিক ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রমাণিত। বিরোধী দলের সঙ্কটাপন্ন অবস্থা বাংলাদেশেও এরকম একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে তাকে দৈবাত্ বলে মনে করার কোনো অবকাশ নেই।
এমনি এক পরিস্থিতিতে ‘আরব বসন্ত’ আন্দোলনের আদলে ধীরে ধীরে ‘বাংলা বসন্ত’ আন্দোলনের বিষ ছড়াচ্ছে চারদিকে, যা সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়ে ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। অনিশ্চিত ভবিষ্যত্ থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়ে সচেতন হওয়ার সময় এসেছে সরকারের। নতুবা এই বাংলাবসন্তের অশনি সঙ্কেত থেকে জাতি রক্ষা পাবে না। 
মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
ব্লগার, প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষক ও কলামিস্ট.
aurnabmaas@gmail.com

একরোখা জ্ঞানে নারীবাদী চিন্তাধারায় যে মতিভ্রম দেখা দিচ্ছে ???

অধিকার বা অধিকারহরণের আগে আমি নারীবাদ বা এই জাতীয় জ্ঞানের উৎস সন্ধান করতে চাই। বাংলাদেশ বা ভারতীয় উপমহাদের জ্ঞানের সীমানায় যে ধারাটি প্রচলিত আছে সেখানে মৌলিকত্বের তুলনায় ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী আধিপত্য বেশ প্রকট আকারে লক্ষনীয়। এরা এটা হবেই না কেন ??
প্রখ্যাত তাত্ত্বিক এডওয়ার্ড সাইদ বিষয়টিকে বেশ সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করে গেছেন। যেখানে সাইদ দেখিয়েছেন জ্ঞান কিভাবে পশ্চিমা আধিপত্যবাদকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। আমি সাইদের কথার সাথে নতুন করে যোগ করতে চাই উপস্থাপন, মনস্তাত্ত্বিকতা আর বানিজ্যের রাজনীতিকে।
আসলে পুরাতন বস্তাপচা এই বিতর্ককে আবার আলোচনায় আনার ইচ্ছে ছিলনা। তবুও শ্রদ্ধেয় শাহেরীন আরাফাত আপুর একটি লেখা দেখে এই বিষয়টি নিয়ে আমার উপলদ্ধি কী ?
সেটা পরিষ্কার করার ইচ্ছে লাগলো। লেখাটির ঘটনা বিন্যাস খুবই যৌক্তিক। কিন্তু শিরোনামটি আমার কাছে অনেক বেশি একরৈখিক ও সমস্যায়িত বলে মনে হয়েছে। উনি একজন বিজ্ঞ লেখক । কিন্তু তিনি সন্ত্রাষ এবং যৌন কেলেংকারীকে একই সীমারেখায় টেনে সরাসরি এ দুয়ের পেছনে পুরুষতান্ত্রিকতার যোগসূত্র খুজেছেন। যেটি কোনভাবেই বাস্তবতার সাথে যায় না।
নারী বাদ। একটি জনপ্রিয় শব্দ।
আমি বলবো জ্ঞানবানিজ্যের একটি শুশীল রূপ।
শূরু হয়েছিল ইউরোপে শ্রেণী সংগ্রামে কৃষিভিত্তিক সমাজে নারী আর পশুর মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরতে। কথাটা খু্বই খারাপ দেখালেও বলতে হয় যারা এর উদ্ভাবক তাদের দেশে নারীর অবস্থান আজো রয়েগেছে একটি সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র কিংবা ভোগপণ্যের কাতারে। একটি আলোকচিত্র এখানে দেখতে পাবেন। যা সেন্সরের জন্য ব্লগে দেয়া যায়নি। কিন্তু পশ্চিমাদের পদলেহী এদেশীয় গায়ে মানেনা আপনি মোড়ল টাইপের কিছু বুদ্ধিজীবি মনে করেন পুরুষদের গালাগাল আর তিরষ্কার করার পাশাপাশি এদেশীয় হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম সমাজ কাঠামোকে গালাগাল দিলেই মনে হয় বিশ্বসেরা নারীবাদী হয়ে ওঠা যাবে। কিন্তু অনেকটা স্বৈরাতান্ত্রিক সু্রেই বলতে বাধ্য হচ্ছি তাদের জ্ঞানের বহর বুড়িগঙ্গার পানির মতোই বেশ ভাল মানের বিশুদ্ধ।

https://i2.wp.com/upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/1/1a/WomanFactory1940s.jpg/778px-WomanFactory1940s.jpg
যারা নারী অধিকার নিয়ে এতো গালভরা বক্তৃতা দেন তাদের দেশের দেখুন নারী কিভাবে কারখানার কাজ করছে।
https://i0.wp.com/upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/e/e0/2004_Chery_Fulwin_at_Shanghai.jpg/800px-2004_Chery_Fulwin_at_Shanghai.jpg
আর এই অটোমোবাইল মেলায় কি বিক্রি হচ্ছে সেটা আমি আপনি সবাই জানি।

নারীবাদীরা প্রথমেই বলে ওঠেন নারী দুর্বল। তার অধিকার হরণ করা হয়। কিন্তু তাদের উক্তিতে প্রথমেই নারীদের দুর্বল করে দেয়া কি নারী অধিকার হরণের পর্যায়ে পড়ে না ?
আমি জানি ঐ স্বঘোষিত মহাজ্ঞানী পণ্ডিতরা প্রথমেই দাবি করে বসবেন। মিস্টার অর্ণব আর্ক আপনি রেডিক্যাল নারীবাদ বা নারীবাদের অন্তবর্তিকালীন ধাপকে ধামাচাপা দিয়ে গেছেন। তাই এখানে আমি আপনাদের বলছি রেডিক্যাল নারীবাদীরা চায় স্বাধীনতা। কিন্তু এই স্বাধীনতার নিরীখে যে স্বেচ্ছাচারীতা করা হয় সেখানে সবকাজে এমনকি যৌনকর্মেও পুরুষকে বিচ্ছিন্নরাখার চেষ্টা হয়। আরো ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি হয় যখন কিনা নারীদের সংঘবদ্ধ চক্রে পুরুষ আক্রমণের শিকার হয়। ব্যতিক্রম হিসেব আমি যদি আপনাদের সামনে মেল সডোমী বা লেসবিয়ান ডোমিনেশনের কথা বলি। তখনও আপনাদের সামনে এই প্রশ্নের কোন উত্তর না থাকায় আপনারা আবার ধ্যানে বসবেন।
আসলে বলুন সস্তা জনপ্রিয়তা কে না চায় ?? এখন বিশ্বে যা চলছে তার সাথে তাল মেলালে একদিকে ক্ষ্যাতির চূড়ায় ওঠা তো যায়ই । সেই সাথে ঝুড়িভর্তি কলাটা মূলোটা জুটে গেলে মন্দ কী ?

অধিকার প্রশ্নে নানা কথা বলা হলেও আজকের সমাজে পুজিঁবাদী আগ্রাসন আর জ্ঞাণের আধিপত্য হাজারো নারীর করুণ আর্তনাদ, হাজারো কুমারী মায়ের যন্ত্রণা ভরা জীবনের ইতিবৃত্ত। হতাশা থেকে জীবনের দিশা হারিয়ে নেশায় চুর হওয়া কিংবা আত্মহননের পথ বেছে নেয়া হাজারো নারীর করুণ কাহিনীর পৃষ্ঠা হয়তো কোনদিনই উল্টানোর সুযোগ তাদের হয়নি হয়তোবা হবেও না। আর কুমারী মায়ের সন্তান হওয়ার সুবাদে একটি নিরীহ শিশু যে পৃথিবীর আলো দেখার পর থেকেই কতটা নিগ্রহের শিকার হতে থাকে তার কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ইভানজেলিকেলইজমে নারীর গৃহী সত্তার জাতীয়করণ করা হলেও সেটি আজ আলোচনার বাইরে। বেশ দক্ষতার সাথে সমালোচনার আংগুল তোলা হয় হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ মিশ্রিত সংস্কৃতির ভারত বর্ষের দিকে। বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগীতা, বিকিনী প্রতিযোগীতা,সেলিব্রেটি গেম শো,মডেলিং, ফ্যাশন ম্যাগাজিন কিংবা বিজ্ঞাপনের সাহায্যে আজ নারী আর পণ্যের মধ্যে কোন পার্থক্য খুজে নেয়া দুষ্কর। পেন্টহাউস ম্যাগাজিন, বাটম্যান,প্লে বয়, ম্যাক্সিম, দ্য ম্যান, ইরোটিকা সহ বিভিন্ন ম্যাগাজিন গুলো তাদের মডেল খুজতে কি ধরণের পাশবিক পথ অবলম্বন করছে তা যে ভাষায় বলা যাবে তা হয়তো একটি সভ্য সমাজের ভাষাতে সেন্সর পাওয়ার মতো না। অন্যদিকে পর্ণো মুভি তৈরী করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দরিদ্র দেশ থেকে নারীদের পাচার করে পশ্চিমে নিয়ে তাদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো। হয় তাদের নিজের সত্তাকে হরন করে একটি অমাননিক সত্তায় পরিণত করতে তাদের উপর না রকম জুলুম অত্যাচারের পরীক্ষা চালানো হয়। তাদের অনেকে অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে মারা যায়, অনেকে জীবনের থেকে সবকিছু হারিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয় আর অনেককে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে একই দেহে দুই সত্তার উপস্থিতি বা শি-মেল তৈরীতে কিংবা টি এস সিডাকশনের ক্ষেত্রে মারাত্মক ধরণের অস্ত্রোপচার করা হয় যা কেবল বিকৃত রুচির মাণুষের পক্ষেই সম্ভব। এতক্ষণ বলতে চেষ্টা করেছি পর্দার পেছনের কাহিনী। আর যখন আমরা পশ্চিমকে একটি পর্দায় সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত ও দৃশ্যায়িত হতে দেখি স্বাধীন সমাজে তাদের ভূমিকা নির্ধারণের ক্ষেত্রে, স্বাধীন পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে কিংবা স্বাধীন পুরুষের সাথে সম্পর্ক তৈরীর ক্ষেত্রে নারী আর পুরুষ সমান অধিকারই ভোগ করে যার সাথে বাস্তবতার দুরত্ব আসমান জমিনের।
বাস্তবতা হলো, তাদের শরীরের ওজন, প্রতিটি অঙ্গের মাপ, পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে সাজসজ্জা পর্যন্ত সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয় ফ্যাশন, ডায়েট কিংবা কসমেটিকস ইন্ডাস্ট্রীর দ্বারা। সমাজের নির্দেশ মানতে গিয়ে তারা নিজেকে পরিণত করে সস্তা বিনোদনের পাত্রে। আর, মুক্ত-স্বাধীন হবার জন্য বাধ্যতামূলক ভাবে কাঁধে তুলে নেয় দেহ কে ভিত্তি জীবিকা উপার্জনের মতো নোংরা ও কঠিন দায়িত্ব। আর প্রগতির কথা বলতে গিয়ে একটু আনন্দ করতে গিয়ে তারা দিনের পর দিন আনন্দের ফসল হিসেবে আনছে তাদের আনন্দের ফসল কুমারী মায়ের সন্তানদের। কিন্তু এর সাথে ভারত বা বাংলাদেশী সমাজ বা পুরুষতান্ত্রিকতার যোগ কোথায়। আসলে আপনাদের অভিব্যক্তি হচ্ছে যেটি আপনাদের দৃষ্টিতে পছন্দসই হয় তখন সেটি নারীবাদ। আর বাকিটা জঘণ্য রকমের পুরুষতান্ত্রিকতা।
[১.] আপনারাই নারীদের প্রোডাক্ট বানাচ্ছেন আর সেখানে খুঁজছেন পুরুষতান্ত্রিকতার যোগসুত্র।
[২.] নারী অধিকার প্রশ্নে প্রথমেই নারী অবলা, দুর্বল, বঞ্চিত বলে তার অধিকার হরণ করছেন।
[৩.] আপনাদের এই প্রশ্নের ডামাডোলে নারীর পুরুষালি চরিত্র ছাপিয়ে যাচ্ছে।
[৪.] আপনারা ভুলতে বসেছেন নারীর দ্বারাও নারী নির্যাতিতহয়।
[৫.]মনে হয় কয়দিন পরে আপনার জঘণ্য সমকামী লালসার সাথেও পুরুষতান্ত্রিকতার যোগ খুজতে চেষ্টা করবেন।
[৬.] নারী অধিকার আর ধর্ম এই দুটিকে বিপরীতজোড় বা বাইনারী অপোজিশন হিসেবে মনে করে আপনারা একধরণের আধিপত্যবাদ জন্ম দিয়েছেন এটা বেমালুম ভুলে যান।
[৭.] ইউরোপ যেখানে বিশেষ অঙ্গ প্রকাশিত নারী মূর্তির উপস্থাপনে ব্যস্ত ঠিক সেখানেই ভারতের শাক্ত সমাজে প্রচলিত ছিলনারী দেবীর আরাধনা।
[৮.] আপনার হয়তো মাতৃকাদেবীর বিশেষ অবয়বের সাথে পুরুষতান্ত্রিকতার সম্পর্ক খুঁজতে চেষ্টা করবেন। কিন্তু আপনাদের অবগতির জন্য বলছি এই উর্বরাশক্তি বা উচ্চ ফলনের আকাঙ্খা নারী পুরুষ সবার হাতে ছিল।
[৯.] আসলে আপনাদের প্রচলিত জ্ঞানে পশ্চিমের একান্ত নিজের প্রয়োজনে নিজেদের মতো করে তৈরী স্বার্থসিদ্ধিভিত্তিক উপস্থাপনের বিপরীতে কোন জিগ্গাসা জন্মায়নি। কিংবা জন্মালেও বিশেষ স্বার্থে মুখে কুলুপ এটেঁ আছেন।
[১০.] আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে এই সব তাত্ত্বিক ধারণা আমাদের স্বল্প জ্ঞানের ঝুড়িটিকে কানায় কানায় ভরে দিয়েছে। তাই অনেক সময় আমরা আয়নায় নিজেদের মুখ দেখেও ভেংচি কাটি। কিন্তু আলোকপর্বের ইউরোপের সমাজের ক্রমপরিবর্তনের কথা বিচার করতে গেলে সহজেই এই ধারণাটি সহজেই বোঝা যায়।
[১১.] পরিবেশকে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে সাইবেরিয়ার ঠাণ্ডায় যেমন পহেলা বৈশাখের মতো লুঙ্গি কাছা দিয়ে লাঠি খেলা যায় না তেমনি আমদের দেশেও ওদের সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। তবে কেউ যদি ওদের অনুকরণ করে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে চেষ্টা করেন তবে সেটা ভিন্ন কথা।
[১২.] জোর চেষ্টায় হাতি, ঘোড়া,বাঘকে ট্রেনিং দেয়া যায় তাকে ট্রেইন্ড বললেও আর যাই হোক কখনই শিক্ষিত বলা যাবে না। তেমনি আপনার জোর করে নারীদের দুর্বলবলে তাদের অধিকারহীনতার কথা বলে বুকফাটা চিতকার-ম্যাতকার করতে থাকুন না । আমি শুধু আপনাদের এই প্রশ্নের উত্তরে একটা কথাই বলবো আপনি বাস করেন বাংলাদেশে। আপনার যতো মোটাতাজাই হন। আপনাকে যদি মারিয়া সারাপোভা বা সেরেনা উইলিয়ামসের মুখোমুখি দাড় করানো হয়। তখন দেইখেন কার কব্জিতে জোর বেশি। এই সব তাত্ত্বিকতা না ফলাইয়া যদি বাস্তবতা বুঝতেন তবে দেশ জাতি ও আপনার সবারই মঙ্গল হইতো।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন —
[১.] Smith, Barbara. ed. Home Girls: A Black Feminist Anthology. New York: Kitchen Table: Women of Color Press, 1983.
[২.] Cutler, Bert (2003). Partner selection, power dynamics, and sexual bargaining in self-defined BDSM couples. San Francisco: The Institute for Advanced Study of Human Sexuality
[৩.] Ernulf KE, Innala SM. “Sexual bondage: a review and unobtrusive investigation.” Arch Sex Behav. 1995 Dec;24(6):631-54.
[৪.] Goodman, Robin Truth. Feminist Theory in Pursuit of the Public: Women and the “Re-Privatization” of Labor. New York: Palgrave Macmillan, 2010.
তবে সবকিছুর আগে যদি সাইদের লেখা অরিয়েন্টালিজমটা পড়ে নেন ইংরেজী পড়লে ভাল আর আজিজ মার্কেটে এর বাংলা অনুবাদ ও পাওয়া যায় । আশাকরি নিজের বোধশক্তিই আপনাকে প্রেরণা যোগাবে। এখানে আর এতো টেক্টট নিয়ে মাথা ঘুরাতে হবে না। আর জানার আগ্রহ থাকলে আর তর্কথাকলে আসুন। যুক্তির লড়াইয়ে আপনাকে স্বাগতম। ধন্যবাদ সবাইকে।

হতাশা, হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাসে ভরা একটি বছর পেরিয়ে নববর্ষ আজ যে স্বপ্ন দেখায়

আশাজাগানিয়া গান আর নতুন দিনে রঙিন স্বপ্নঘেরা একটি ঝলমলে ভোর। এল নতুন বছর। স্বাগত জানাই ২০১২। ২০১১ তোমার কান্নাভেজা দিনগুলোকে স্মরণ করে আর কষ্ট পেতে চাইনা। তুমি চলে গেছো। এখন তোমায় ভুলতে চাই। বিদ্ধস্ত অট্টালিকার ঘুণে ধরা চৌকাঠ, জানালা থেকে শুরু করে প্রতিটি কড়িবর্গায় তুমি যে হিংস্র পদাঘাত করেছো তা আজো হৃৎপিণ্ডের ঢিবঢিব শব্দ স্তব্ধ করে দিতে যথেষ্ট। তুমি যা দিয়েছো তা কেবলি হারানো আর ধিক্কারের বিষে বিষাক্ত। নতুন দিনে এসব অসহ্য যন্ত্রনা কেন যেন বুক ফুটে বেরিয়ে আসে……………………।
এ দিনেও বলতে হয়।
সে অনেকদিন আগের কথা।
আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ …………………..।
রাজনৈতিক ইতিহাসের পরিভাষায় এই দেশ নাকি স্বাধীন হয়েছিল।
তাও আজ থেকে চার দশক আগে।

একুশ শতকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বিশ্ব দেখেছে কত পূর্ণিমা রাতের ঝলমলে চাঁদ আর জ্যোৎস্নাশোভিত আকাশের রূপ। দেখেছে পড়ন্ত বিকেলে বেলকনি ছাপিয়ে যাওয়া সোনারঙা উজ্জল ঝলমলে রোদ্দুর। স্বৈরাচার পতনে আরব বসন্ত এসেছে। পুঁজিবাদ বিরোধী অকুপাই আন্দোলন টালমাটাল করে দিয়েছে পশ্চিমা আধিপত্যবাদীদের সিংহাসন। কিন্তু আমাদের অর্জন সেই চার দশক আগে স্বাধীনতার লাল সূর্যটিই। এই সূর্য আজ অবধি পূর্ণকিরণে বিকশিত হতে পারেনি। নানা অশুভ শক্তির কালো থাবায় স্বাধীনতাভোরের সূর্যের সেই লালিমাকেই অস্তগামীর লাল আর্তনাদ মনে করে বুকের মধ্যে আজ কেমন যেন ছ্যাঁৎ করে ওঠে।

অবচেতন মনের দীর্ঘশ্বাসে একটি কথাই বার বার চাপা কান্নার সুরে ভাষা খুঁজে পায়। ‘অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” যা স্বাধীনতার পর পরই বলেছিলেন বিপ্লবী মেজর জলিল। আমরা বিশ্ববাজারের কানাগলিতে বার বার ঘুরে ফিরে একটি অন্ধকার বাঁকে মাথা কুটে মরছি আর স্বাধীনতার হারিয়ে যাওয়া সূর্যটাকে খুঁজতে খুঁজতে হাঁপিয়ে উঠছি।

স্বাধীনতার আরো আগে সেই বায়ান্নে হয়েছিল ভাষা আন্দোলন। আজ বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা। কিন্তু আমরা ভাষা আন্দোলনকারীদের উত্তর পুরুষ হয়েও সেই ভাষাকে আজ ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলেছি।

কদিন আগে চলতো বাংলিশ বা হিংলা। এখন ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে হিবাংলিশের দিকে। একসময় বাসার কাজের বুয়াদের প্রথম পছন্দ হিন্দি সিরিয়াল গুলো আজ মাইনক্যার চিপায় পড়ে বাড়ীর বড় কর্তারও পছন্দের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। হলিউড বলিউডের ধামাকার দিনে ধুকে মরতে বসা ঢালিউডি সিনেমার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে আমদানি করা হয়েছে বন্ধু-বাড়ির বস্তাপচা সিনেমা।

আজ দেশের অক্ষমতার সুযোগ নিয়েই দেশের মাটিতে ভারতের জোর চরে। মাটির ময়নার বদলে মানুষ আশিক বানায়া আপনে দেখতে বাধ্য হয়। প্রয়াত তারেক মাসুদের রানওয়ে এদেশের সিনেমাহলে আর রান করবে না। সেখানে চলছে ভারতের রান সিনেমা।
একটি দেশ তার গর্বের প্রতীক লাল সবুজের পতাকাটি। কেন মনে হয় সেটিও আজ খামচে ধরেছে কোন এক কুৎসিৎ শকুনীর নোংরা নখ। শদীদদের আত্মত্যাগে উজ্জল এদেশের প্রতিটি মানুষ বিজয়ের মাসে এসেও কেমন যেন দিশেহারা। ফারাক্কার শোষনে পদ্মা শুকিয়ে রাজস্থানের থর মরুভূমির বর্ধিত অংশে পরিণত হলেও এদেশের ভারতীয়করণ থামেনি। সরকার ভাবছে পুরো দেশটি বন্ধুরাষ্ট্রের রাজস্থান হলে ক্ষতি কী? তাইতো টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের উন্মত্ততার সাথে এদেশীয় মানুষের নির্বুদ্ধিতায় সেই চার দশক আগের বন্ধুত্বের বলি হয়ে তিতাস আজ একটি খুন হয়ে যাওয়া নদীর নাম।

আজ তেলের দাম এমন একটি দুরুহ অবস্থায় গিয়ে পৌছে গেছে যেখানে মনে হয় জ্বালানি তেল আর নেড়া মাথায় পড়া বেল ভিন্ন কিছু নয়। এখন ব্যাগ ভরে টাকা নিয়ে বাজারে গেলে যদি আপনার এক পকেট ভর্তি বাজার আসে তাতেও আপনি খুশি হন। আশার বানী এই যে বিদ্যুৎ এখন আর যায় না। এটা মাঝে মাঝে আসে। মানুষের নিরাপত্তা আজ তাসের ঘরের দেয়ালের মতো দুর্ভেদ্য হয়ে গেছে। মুখে নারীর অধিকার নিয়ে শত সেমিনার সিম্পোজিয়াম হলেও তা এই অধিকার কিছু জীপগাড়ি আর কারে চাকার নিচে চাপা পড়েছে। নারী নীতি প্রকাশিত হলেও ভিকারুননিসার মতো বিদ্যায়তনে শিক্ষক নামক বরাহশাবকের তাণ্ডবে দেশের মান ইজ্জত ভূলুন্ঠিত হয়েছে।

নারী নীতিতে অনেক এভারেস্ট প্রমাণ কথা থাকলেও তার বাস্তবায়ন না হওয়ার সুযোগ নিয়ে এদেশের মডেল, অভিনেতা, অভিনেত্রীরা যেন দিশেহারা হয়ে একের পর এক অপকর্মের ভিডিও বের করে গেছেন। তাদের ভাষ্য মনে হয় এমন। আমার শরীর আমি দেখাবো। যতটুকু খুশি ততটুকু দেখাবো। তাতে জনগণের বাপের কী? আর সরকারেরই বা কি ? :P। এপরেও মরতে হয়েছে মডেলে তাহিয়া আদৃতাকে এবং বরাবরের মতোই কোন বিচার হয়নি। প্রায় প্রতিটিদিনের মিলিত সংখ্যায় অন্তত হাজারো নির্যাতন নিপীড়নের ঘটনা ঘটলেও এমন একটি ঘটনাতে কারো বিচার হয়েছে বা শাস্তি মিলেছে এমন খবর ছাপানোর দুঃসাহস কোন পত্রিকার ছিলো না। :-T

দেশের মানচিত্র, অখণ্ডতা, আর সার্বভৌমত্বকে বুকে ধরে জীবন দিয়েছিলেন ত্রিশ লক্ষ মানুষ। শুকিয়ে যাওয়া পদ্মা কিছুটা ম্লান করে দিলেও তাদের রক্ত আজও যমুনা, মেঘনা, করতোয়া, ধলেশ্বরী, কর্ণফুলি আর বঙ্গপসাগরের নোনা পানিতে মিশে আছে।
হায় !!
মাত্র চারটি দশকের ব্যবধান। এই সকল শহীদের পূণ্য স্মৃতির প্রতি কাঁচকলা দেখিয়েই দেশের বুক চিরে দেয়া হলো প্রশস্ত করিডোর। হত্যা করা হলো তিতাসের মতো একটি নদীকে। নিদারুণ উন্মত্ত্বতায় খানা খন্দকে পরিণত করা হলো দেশের প্রতিটি রাস্তাঘাট। চুরি, দুর্নিতি আর কালোবাজারীর পাশাপাশি বিদেশী বেনিয়াদের আগ্রাসনে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে স্বপ্ন হারানো মানুষের কান্নায় বার বার কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের এ জমিন। বন্ধুত্বের বহিপ্রকাশ স্বশব্দে বার বার জেগে উঠেছে। আমরা পেয়েছি এক একট ফেলানি, মিরাজ হোসেন, নাজমুল হাসান, কবির, সোলেমন, তরিকুলদের নিথর দেহ। :a3

চারদিক ঘিরে বন্ধুত্বের প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়া কাঁটাতারের বেড়া আমাদের বাধ্য করেছে একটি বিস্তৃত মানব খাঁচার বাসিন্দা হতে। তবুও আমরা আজ স্বপ্ন দেখি। কারন আমরা মানুষ । আমরা বাঁচতে চাই। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দু:সাহস দেখিয়ে ডিজিটাল স্বপ্নতঙ্কে মাথা ঠুকে মরতে চাই না। আমরা বাঁচতে চাই সেই পুরোনো দিনের মতো। যখন দেশের মানুষের চুলোয় আগুণ ছিল, গোয়ালে অন্তত একটা গরু ছিল, আর দুবেলা দু মুঠো খাবার জন্য ভাতের যোগান ছিল পর্যাপ্ত। আমরা ট্রাজজিট করিডোরে বিদ্ধস্ত সিংগাপুর মালয়েশিয়া চাইনা। আমরা ফিরে চাই সেই সোনার বাংলাদেশ যার স্বপ্নে বিভোর হয়ে জীবন দিয়েছিলেন এদেশের মুক্তিকামী মানুষ।

এদেশের মানুষের মুক্তি না হলে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের সেই আত্মত্যাগের পূর্ণতা পাবেনা।
এলো নতুন বছর। পুরাতন সেই নোংরা বালিশে মুখ গুঁজে গুমরে কাঁদা আজ হোক কেবলি ইতিহাস।
আমরা স্বপ্ন দেখি ।
নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখি।
মুক্ত বিহঙ্গে আকাশ ভ্রমণের মতো না হলেও অন্তত স্বাভাবিক মানুষের জীবন চাই।
আমরা গোলমালে বিদ্ধস্ত একটি নরক চাই না।
আমরা চাই শান্তির সুবাতাস।
আমরা বাদলা দিনের ঘনঘটা দেখতে চাই না।
আমরা চাই বসন্তের সেই মৃদুমন্দ হাওয়া।
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।
শুভ হোক অনাগত দিনগুলি ।
এই প্রত্যাশায়।

 

সেকুলার ধারণার প্রসার ও বাংলার মধ্যযুগ।

বাংলাদেশের ইতিহাস প্রকৃত অর্থে বাস্তবতা বিকৃতির ইতিহাস । এটি বললে অনেকেই আতকে উঠতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা বুঝতে পারলে তিনি সহজেই বিষয়টি মেনে নিতে পারবেন। আমাদের দেশের ইতিহাস গবেষকদের মূল সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্র বা সমস্যা চিহ্নিত করার দুঃসাহস আমি দেখাবো না শুধু এটুকু বলতে পারি। আমাদের দেশের ইতিহাস চর্চা অনেকটাই থেমে থাকে মধ্যযুগের প্রারম্ভ অর্থাৎ সুলতানী যুগ পর্যন্ত গিয়ে। এই ক্ষেত্রে বাংলার সুলতানী যুগের ইতিহাস অনেকটাই অধরা থেকে যায়। আমরা সুলতানী যুগের ইতিহাস বিশেষত হোসেনশাহী যুগের ইতিহাস অনুসন্ধান প্রসংগে বিষয়টি সহজেই বিশ্লেষণ করতে পারি।
ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় আমরা দেখি তুর্কি বিজেতারা বারো শতকের শুরুতে ভারতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। সেই বিষয়ের সাথে হিসেব মেলাতে গেলে আরো বহুদিন পর প্রায় তের শতকের শুরুতে তাদের রাজনৈতিক সাফল্যের সূচনা ঘটে বাংলায়। বস্তুত বাংলার মধ্যযুগের যাত্রা শুরু হয় এখান থেকেই যেটি আমাদের গবেষণা আর চর্চার অপারগতা হেতু অনেকটাই অন্ধকারে থেকে গেছে।
আমরা দেখি মধ্যযুগের কালপরিসরকে বড় দাগে দুটো পর্বে ভাগ করা যায়। প্রথম পর্বটি সুলতানি শাসন যুগ আর পরেরটি মোগল শাসন পর্ব। সার্বিকভাবে বলা যায় মধ্যযুগ ছিল মুসলমান শাসকদের শাসনকাল। প্রাচীন বাংলার হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্মীয় জীবন ব্যবস্থার ওপর নতুন একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অবস্থান বাংলার ইতিহাসে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।
মুসলিম বিজেতাদের সামাজিক সাংস্কৃতিক বোধের সঙ্গে ভারতীয় সাধারণ মানুষের দীর্ঘ দিনের আচরিত ধর্ম ও সামাজিক প্রথার সুস্পষ্ট পার্থক্য ছিল।
কিন্তু ভারতভূমিতে তুর্কি বিজেতাদের আগমন ও ক্ষমতা গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় সমাজ জীবনে তেমন বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেনি। সমাজ জীবনের ভিত্তি এবং অর্থনৈতিক কাঠামো প্রায় অপরিবর্তিতই থেকে যায়। কিন্তু তুর্কি বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে যে নতুন ভাবাদর্শের আগমন ঘটে তাতে ভারতীয় সংস্কৃতিতে আসে সংস্কারের ধারা। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পট পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সমাজ ও সংস্কৃতির ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের রূপান্তরটি স্পষ্ট হতে থাকে প্রধানত ধর্মীয় চিন্তা অনুসঙ্গ করে। সুলতানি বাংলায় বিষয়টি ক্রমে স্পষ্টতর হয়। মুসলিম আগমন-পূর্ব সেন শাসনযুগে বাংলার সমাজ জীবনের ভাঙ্গন স্পষ্ট হয়ে পরেছিল। তবে এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে যে, নানা অভিঘাতে সাংস্কৃতিক জীবনে টানাপোড়েন সৃষ্টি হতে পারে। গ্রহণ-বর্জনের উদারতায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন দৃশ্যপট উন্মোচিত হতে পারে। কিন্তু ধর্ম-সংস্কৃতি মানুষের মনোজগতকে যেভাবে অধিকার করে রাখে তাতে নানা প্রতিকূলতায়ও একে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা সহজ নয়। তাই সুলতানি যুগে নানা ভাঙ্গন প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে সনাতন ধর্ম চিন্তার উপস্থিতি বারবার লক্ষ করা যায়। কখনো কখনো নতুন ধারার ধর্মীয় চেতনাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট হতে থাকে। সুলতানি যুগে বাংলার ধর্মীয় অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল বলে বিষয়টি গভীরভাবে মূল্যায়ন করার প্রয়োজন রয়েছে।
https://i1.wp.com/2.bp.blogspot.com/-PcGjA5am4Ec/TWT8GfbzuTI/AAAAAAAAAWU/M5ZVvr4zuS0/s1600/Kantaji%252520Temple_jpg2215.jpg
কান্তজিউর মন্দির বা কান্তনগর মন্দির।
বাংলার সনাতন ধর্মচিন্তার পরিমণ্ডলে ইসলামের আবির্ভাব এবং মুসলমান সাধকশ্রেণী ও সুলতানদের সহযোগিতায় এর দ্রুত সম্প্রসারণ এই আলোড়ন সৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। বাংলায় মুসলমান সমাজ সম্প্রসারণের প্রধান কারণ ছিল বহুসংখ্যক হিন্দুর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ। এর ফলে মুসলমান সমাজ গ্রামাঞ্চলে সম্প্রসারিত হয়। দৃঢ়মূলে প্রথিত হয় রাজশক্তি। বহিরাগত মুসলমানেরা সরকারি চাকুরি এবং ব্যবসা বাণিজ্য উপলক্ষ্যে সাধারণত শহরাঞ্চলে বাস করতো। ধর্মান্তরিত মুসলমানদের বড় অংশের বাস ছিল গ্রামাঞ্চলে। তাদের প্রধান পেশা ছিল কৃষিকাজ। প্রধানত নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুরাই ধর্মান্তরিত হতো। পৈত্রিক ধর্ম ত্যাগ করলেও পৈত্রিক বাসভূমি এবং পৈত্রিক পেশার সঙ্গে তাদের বিচ্ছেদ ঘটতো না।
সুলতানি যুগের সূচনা থেকেই এক বৈচিত্রপূর্ণ ধর্মীয় আবহ রচিত হয়েছিল বাংলার সামাজিক সাংস্কৃতিক জীবনে। আসলে দীর্ঘদিনের আচরণে সর্বভারতীয় ধর্ম সাধনার সঙ্গে বাঙালির ধর্ম সাধনা একীভূত হয়ে পড়েছিল। ইতিহাসের এই সত্যটি মনে রাখতে হবে যে, তের শতকে বাংলায় মুসলিম শক্তি প্রবেশের সময় স্থানীয় ধর্ম সম্প্রদায়ের মধ্যে স্পষ্টতই জটিলতা দেখা দিয়েছিল। সুতরাং রাজনৈতিক প্রাধান্য হারিয়ে বৌদ্ধ সমাজ ও সং¯কৃতি যখন দুর্দশাগ্রস্ত এবং সেন যুগে ব্রাহ্মণদের প্রভাবে সাধারণ হিন্দু সমাজ বিপর্যস্ত ঠিক সেই সময় মুসলিম সমাজের ভিত্তি গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেন শাসন যুগে রাজশক্তি গণশক্তির ওপর তেমন শ্রদ্ধাশীল ছিল না। সেন যুগে সাধারণ মানুষ এতটা সামাজিক নিপীড়নের শিকার হয়েছিল যে, মুসলিম আগমনকে তারা মুক্তির ইঙ্গিত হিসাবে মনে করেছে। শূন্যপুরাণের ‘নিরঞ্জনের রুষ্মায়’ এর সমর্থন পাওয়া যায়। এতে দেখা যায় মুসলমানদের আগমনে অত্যাচারিত বাঙালিরা উল্লসিত। অন্তত এ সময়ে মুসলমানদের আগমনে তারা অপেক্ষাকৃত ভাল আশ্রয়ের সন্ধান খুঁজে পেয়েছিল। হিন্দু আমলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নেতৃত্ব ছিল ব্রাহ্মণদের হাতে এবং সমাজ পরিচালনায়ও ছিল তাদের কর্তৃত্ব। সাধারণ মানুষের একদিকে ধর্মে অধিকার ছিল না অন্যদিকে সমাজে ছিল না স্বীকৃত মর্যাদা। সেই সঙ্গে সামন্তবাদের প্রভাবে অর্থনৈতিক অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছিল। এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। এই পটভূমিতেই আগমন ঘটেছিল মুসলমান সাধক শ্রেণীর।
রাজশক্তি হিসাবে মুসলমানদের প্রতিষ্ঠার অনেক আগে থেকেই ধর্ম প্রচারের উদ্দেশে বাংলার কোন কোন অঞ্চলে সীমিতভাবে মুসলমান সুফি সাধকদের আগমন ঘটতে থাকে। সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নিষ্পেষিত নিম্নশ্রেণীর অনেক হিন্দু অপেক্ষাকৃত ভালো আশ্রয়ের সন্ধানে ইসলাম গ্রহণ করতে থাকে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে যে, সুফিদের ধর্মীয় দর্শন যেরূপে বাংলায় প্রবেশ করেছিল তাতে সনাতন বাঙালির মনোযোগ সহজেই এই মরমী সাধকগণ আকর্ষণ করতে পেরেছিলেন। বাংলায় সুফি সাধনায় যে মরমী চেতনার উপস্থিতি ছিল তার সঙ্গে বৌদ্ধ হিন্দু বাঙালির যোগতান্ত্রিক দর্শনের তেমন অমিল ছিল না। এভাবে বাংলায় ধর্মীয় সমন্বয়ের একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়। বৃহত্তর দৃষ্টিতে তাকালে দেখা যাবে হিন্দু ও মুসলমানের সংমিশ্রিত সংস্কৃতিই ভারতীয় সংস্কৃতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই ভারতে নানা জাতির বাস। ধীরে ধীরে তারা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবে নিজস্ব অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে। কিন্তু ভারতে হিন্দু ধর্মের দ্বারা ইসলামকে আত্মস্থ করা সম্ভব হয়নি। এর মূল কারণ হচ্ছে হিন্দু ধর্মের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ইসলামের বড় রকমের পার্থক্য। ইসলাম ধর্মে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অনেক বেশি স্পষ্ট। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন পাশাপাশি অবস্থান করতে গিয়ে সংঘাত ও সম্প্রীতির পথ ধরে ভারতবর্ষে এক নতুন সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে, যা ‘হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতি’ নামে বিশেষ পরিচিত। সুলতানি বাংলায় ইসলাম ধর্ম বিকাশের মধ্যদিয়ে এক ধরনের সাংস্কৃতিক রূপান্তর লক্ষ করা গিয়েছিল। ধ্র“পদী ইসলাম নয়Ñসুফিদের লালিত ধর্মীয় দর্শনই এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রেখেছিল বেশি। রাজশক্তি হিসাবে মুসলমানদের আগমনের পূর্ব থেকে বাংলায় সুফি তৎপরতা চলতে থাকলেও সুলতানি যুগের অনুকূল পরিবেশে সুফিগণ সমাজ জীবনের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। এ সময়কালে সাধারণ মানুষ সুফিদের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। অবশ্য এরও কারণ ছিল। মসজিদ. মাদ্রাসা, খানকাহ্ রাজধানী ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো নির্মাণে সুলতান বা রাজ কর্মচারীগণ সহায়তা করলেও মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং খানকাহ-র সুফি সাধকগণ ধর্মচর্চা ও ধর্ম প্রচার করতে থাকেন। মুসলমানদের রাজক্ষমতা প্রসারের সঙ্গে মুসলিম সমাজ বিস্তৃতির সম্পর্ক থাকলেও এতে মুখ্য ছিল সুফি সাধকদের ভূমিকা। সুফিগণ তাঁদের খানকাহ স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে লঙ্গরখানা, মক্তব, মাদ্রাসা, চিকিৎসাকেন্দ্র ইত্যাদি স্থাপন করতেন। অর্থাৎ এককথায় বলতে গেলে মুসলিম সমাজ বিস্তৃতির উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতেন।
সুফি দর্শনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল প্রেমবাণী প্রচার। তবে বাংলায় প্রেমবাণী প্রচারক সুফিদের পাশাপাশি যোদ্ধা সুফিদেরও অস্তিত্ব ছিল। সংখ্যা বিচারে খুব কম হলেও এঁরা ধর্ম প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। অমুসলিম রাজা ও ভূস্বামীদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংঘর্ষ করতে গিয়ে অনেক সুফি শহীদ হয়েছেন। কেউ কেউ গাজীও হয়েছেন। যেমন ঢাকার রামপালে বাবা আদম শহীদ, পাবনার শাহজাদপুরে মখদুম শাহ দৌলা শহীদ, রাজশাহীর তুর্কানা শহীদ, মহাস্থানগড়ের শাহ সুলতান মাহী সওয়ার ও রাজশাহীর মখদুম শাহ রূপোশের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কোন কোন সুফি সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ বা যুদ্ধে সুলতান বা মুসলমান সেনাপতিদের সহায়তা করলেও অধিকাংশ সুফি সাধকের ধর্ম প্রচারের পদ্ধতি ছিল শান্তিপূর্ণ। বস্তুত ভারতবর্ষে ইসলাম ধর্মের প্রথম প্রচার বল প্রদর্শন বা রক্তপাতের মধ্যদিয়ে হয়নি; শান্তিপূর্ণভাবে তা মুসলমান সুফি সাধকগণই করেছিলেন। এই শান্তিপূর্ণ প্রবেশের ফলে বাংলায় ইসলাম প্রসারের সঙ্গে উত্তর ভারতের প্রসারের প্রকৃতিগত পার্থক্য লক্ষণীয়। মূলত উত্তর ভারতে শহরাঞ্চল ও প্রশাসন কেন্দ্রগুলোতে ইসলাম প্রচার সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বাংলায় ইসলাম প্রচারিত হয় প্রধানত গ্রামাঞ্চলে। সুফি সাধকদের তত্ত্বাবধানে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা ও ধর্মচর্চার কতগুলো কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। এর মধ্যে পাণ্ডুয়া, সোনারগাঁও ও সিলেটের নাম উল্লেখযোগ্য। এসব অঞ্চল ছিল সুফি সাধকদের মূল অবস্থান কেন্দ্র। সুফি সাধকদের এই ব্যাপক অবস্থান সমকালীন বাংলার সমাজ বিকাশের ক্ষেত্রে যে সত্যটি প্রকাশ করে তা হচ্ছে কট্টর ধর্মীয় দর্শন নয়, বরঞ্চ রক্ষণশীলতার উপর নৈতিকতার বিজয়। এই বিজয়ের মিছিলে সামিল হয়েছিল ধর্ম নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষ। এভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল সুলতানি বাংলায়। তাই এ যুগের বাংলার ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, হিন্দু মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের হাতে গড়ে ওঠা দুই সংস্কৃতির মধ্যে যেমন দ্বন্দ্ব ছিল তেমনি পারস্পরিক সহাবস্থান ও ভাবের মিশ্রণের উদাহরণও ছিল উল্লেখযোগ্য। বহিরাগত মুসলমানদের অনেককে ধর্মান্তরকরণের সূত্রে ব্রাহ্মণ ও কায়স্থ পরিবারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে দেখা যায়। ধারণা করা যায় শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান হিন্দুরাই তাদের প্রতিবেশী মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্পর্শে আসতে পেরেছিলেন। এসব প্রেক্ষাপটের কারণে মধ্যযুগে ধর্মীয় মৌলবাদ মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি।
সেন শাসনযুগে ব্রাহ্মণরা যে শুধু সামাজিক-রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল তাই নয়, মুসলিম আগমনের পূর্বে শাস্ত্রজ্ঞান চর্চায়ও তাদের একাধিপত্য ছিল। আর সে কারণে যে কোন প্রকার জ্ঞানের ক্ষেত্রে নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের প্রবেশাধিকার ছিল নিষিদ্ধ। পরবর্তীকালে বিকশিত মুসলিম সমাজের পাশাপাশি যে হিন্দু সমাজের অস্তিত্ব ছিল, সেখানেও এই রক্ষণশীলতার প্রভাব স্পষ্ট লক্ষ করা যায়। এ জন্যই ষোল শতকে শ্রীচৈতন্য যখন শাস্ত্রচর্চায় সাধারণ শ্রেণীর অধিকারকে শিকার করে নেন, তখন তার মতবাদ প্রচারে ব্রাহ্মণদের ক্ষুব্ধ হতে দেখা যায়। এর বাস্তব চিত্র সমকালীন সাহিত্যে বিস্তর রয়েছে।
সুলতানি বাংলায় ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা তেমন লক্ষণীয় অবয়ব নিয়ে দাঁড়াতে পারেনি। মুসলমান রাজশক্তি আর সুফি তৎপরতায় সহনশীল মনোভঙ্গী কার্যকর থাকায় হিন্দু সমাজের মধ্যে তেমন হতাশা নেমে আসেনি। বরঞ্চ নতুন আশাবাদের ক্ষেত্রই যেন প্রস্তুত হয়েছিল। সুবিধাভোগী রক্ষণশীল ব্রাহ্মণদের পীড়নে হিন্দু সমাজের ভেতর যে অন্তঃক্ষরণ চলছিল তাঁর প্রতিক্রিয়াতেই শ্রী চৈতন্যের উত্থান ঘটে।
সুলতানি বাংলায় সাংস্কৃতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় চৈতন্যদেবের বৈষ্ণব আন্দোলনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। চৈতন্যের আবির্ভাবের পূর্বে হিন্দু সমাজে তন্ত্রধর্ম বিকৃতি লাভ করে বহু অনাচারমূলক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। ব্রাহ্মণ আরোপিত কঠোরতাও চরম রূপ নিয়েছিল। এই ক্ষয়িষ্ণু সামাজিক প্রেক্ষাপট সামনে রেখে ইসলামের বিস্তার অপ্রতিহত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল। ইসলামের এই অনায়াস গতিকে রোধ করার জন্য একটি প্রতিরক্ষা আন্দোলন নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন চৈতন্যদেব।
জাতিবর্ণহীন বৈষ্ণব আন্দোলনে যুক্ত হয়ে ব্রাহ্মণ্যবাদী পরিবেশ থেকে নিম্নশ্রেণীর হিন্দুরা মুক্তি পেলেন। পরস্পরের প্রতি প্রেম স্থাপন করাই ছিল চৈতন্য প্রবর্তিত গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের মূল ভিত্তি। এই ধর্মে জাতির প্রতি জাতির বিদ্বেষ ও অবিচার এবং এক ধর্মের সঙ্গে অন্য ধর্মের বিভেদের স্থান মোটেই ছিল না। বর্ণবাদী সমাজের সংস্কৃতির চেয়ে স্বাভাবিকভাবেই একটি উদার সংস্কৃতি রূপান্তরিত প্রক্রিয়ায় অনিবার্যতার মধ্য দিয়েই এ সমাজ বিকশিত হয়।
পনের শতকে বাংলায় স্বাধীন সুলতানদের রাজত্বকালে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছিল। এ সময় সুলতানদের পাশাপাশি হিন্দু জায়গীরদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় এদেশে আবার কাব্যচর্চার সূত্রপাত হয়। সেন যুগে অস্পৃশ্য করে রাখা নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুরাও এ সময় ফিরে পায় শিক্ষা ও কাব্যচর্চার অধিকার। এর বিস্তর উদাহরণও আছে। ‘মানিকচন্দ্র রাজার গান’ নামের কাব্যে এক হিন্দু কবি উল্লেখ করেছেন হিন্দু সমাজের নিচু শ্রেণীর মানুষেরাও দলিলপত্র পড়া ও লেখার মত যথেষ্ট শিক্ষিত ছিল। ‘কড়চা’র লেখক গোবিন্দ দাস একজন স্বর্ণকার ছিলেন। গোয়ালা রাম নারায়ণ গোপ ‘দেবায়ন উপখ্যান’ রচনা করেন। ‘নলদময়ন্তির’ লেখক মধুসূদন নাপিত জাতিতে একজন ক্ষৌরকার ছিলেন এবং একজন ধোপা ভাগ্যমন্ত ধূপি ‘হরিবংশ’ লিখে কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।
সামাজিক এই উদার পরিবেশ মোগল যুগেও অব্যাহত ছিল। বাংলার সুবাদারগণ সমাজের সকল শ্রেণী ও সম্প্রদায়ের প্রতি সমানভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতেন। সমসাময়িক হিন্দু কবিদের বর্ণনায় জানা যায় এসময় হিন্দুরা নিজেদের ধর্মীয় এবং সামাজিক বিষয়েও মুসলমান শাসকদের অভিভাবক হিসাবে বিবেচনা করতো। সুলতানি ও মোগল উভয় পর্বেই মুসলিম শাসকগণ সরকারি চাকুরি, কৃষি, ব্যবসা ও শিল্প প্রতি ক্ষেত্রেই সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সমান সুযোগ দিতেন। সুতরাংমধ্যযুগের রাজাদর্শ ও সামাজিক পরিবেশে কোন ধর্মীয় সম্প্রদায় বা শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সুবিধাবাদী চিন্তার প্রকাশ না থাকায় ধর্মীয় ক্ষেত্রে একটি উদার পরিবেশ বিরাজ করে। অনেক পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য বর্তমানে আমরা গবেষণা আর অধ্যয়ন না করে ইতিহাস বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। তাই ইতিহাসের প্রকৃত সত্য আমাদের কাছে অধরাই থেকে গেছে। একুশ শতকের অঙ্গীকার আজ বাস্তবতা বুঝতে হবে। অনুসন্ধান করতে হবে সত্য ইতিহাস আর হৃদয়ে ধারণ করতে হবে ঐতিহ্যকে। তবেই সম্ভব হবে একটি চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে দীপ্ত পদ্ধক্ষেপে উন্নয়নের স্বপ্নযাত্রায় অংশগ্রহণ করা।

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব।
ব্লগার ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষক।
aurnabmaas@gmail.com ।
ওয়েব পেজ

Investigating crop processing using phytolith analysis: the example of rice and millets

Investigating agricultural systems of past human societies is one of the central questions in archaeobotany.Crop processing models are traditionally used with macroscopic plant remains to investigate past agricultural , activities [17:261e267,26,69,70] (Jones, unpublished
PhD dissertation, 1984). This involves identifying different crop plant components and weed seeds and then comparing the proportions of each to find out the crop processing stage. There are problems that hinder this analytical approach. It relies on macroscopic plant remains coming into contact with fire so that they are preserved by charring. This exposure varies with each type of crop, and the cultural and geographical setting, which may determine that fire is not needed. Even if the crop does come into contact with fire, some of the plant components will be burnt away due to high temperatures resulting in a loss of material, especially chaff [6,67,70]. By contrast, phytoliths offer a robust dataset for distinguishing certain key stages of crop-processing
sequences and are more commonly preserved when macro-remains are unavailable or uninformative.  Phytoliths are not organic and therefore do not have the same preservation problems as organic plant remains. Burnt plant materials will leave behind phytoliths in ash, but equally unburnt plant parts that decompose will leave phytoliths in archaeological
sediment. Thus the likelihood of recovering evidence for any particular species, or plant part, may be better for phytoliths than for carbonized evidence. Major cereals, such as barley [55], wheat [3,4,55], and rice * Corresponding author. Tel.: C44 207 679 4771; fax: C44 207 383
2572. E-mail address: d.fuller@ucl.ac.uk (D.Q. Fuller).
0305-4403/$ – see front matter 2005 Elsevier Ltd. All rights reserved.
doi:10.1016/j.jas.2004.12.010
Journal of Archaeological Science 32 (2005) 739e752
http://www.elsevier.com/locate/jas [16,47,73,77,78], as well as specific plant parts [57] can be
identified using phytoliths. Currently, phytoliths are being used to identify farming techniques such as harvesting methods and irrigation [56,58], to distinguish the major fuel inputs into fires, whether dung or wood fuel [39], and different sources of plants in terms of vegetation communities that contribute to middens and dung-derived deposits [52].We would like to expand this range of analytical uses by recommending the application of phytolith assemblage analysis for assessing inputs of crop-processing waste into archaeological  deposits. The approach we propose relies on a combination of identifying taxon specific morphotypes and the quantitative characterization of phytolith suites that are non-specific to taxon but imply patterns in plant part distribution. In this paper, established crop processing models involving macroscopic remains are evaluated  and an argument is made for the use of phytoliths to aid and substitute as an analytical tool. An example of how phytoliths can be used in this manner is discussed with
a dataset from an early farming site in North-Central India, Mahagara [23].

ভারতীয় পানি আগ্রাসন, বি এস এফ এর রক্তক্ষুধা ও একটি মানব খাঁচার গল্প

ঢাকা রে দুই ভাগ কইরা তারা খুবই খারাপ এবং বে শরিয়তী কাজ করছে ।
জবেহ করার পর ভাগ হইতে হইব ৩ টা। এক ভাগ ফকির মিসকিন অর্থাৎ পাকিস্তানরে। এক ভাগ আত্মীয় স্বজন অর্থাৎ ভারতরে আর এক ভাগ নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা কইরা নেয়া যাইতে পারে।এটা আমার কথা না। এটি দেখলাম এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে। কিছুক্ষণ হাসতে থাকি। তারপর একটা বিষয় ভাবতে গিয়েই মনটা খারাপ হয়ে গেল। আগে নতুন বছর শুরু হইতো ভাল কিছু প্রত্যাশা করে আর শেষ হইতো আনন্দ ফূর্তির সাথে। এখন দেখি নতুন বছর শুরু হয় এইডস দিবস দিয়ে যার যন্ত্রণা বইতে হয় সারা বছর আর হতাশার চরম অভিব্যক্তির পরিসমাপ্তি হয় ৩১ ডিসেম্বর রাতে গ্যালন গ্যালন মদ গেলার মধ্য দিয়ে।

আর আমরা তো হতভাগ্য বাংলাদেশী। কেউ কেউ বুক চাপড়ে দাবি করি আমরা বাংলাদেশী আর বাকিরা তো সেই সাহসটুকুও দেখায় না। নিজেদের শুশীল প্রমাণ করতে দেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেই বেশ চতুরতার সাথে আজও তাদের বাঙালিই বলে ধন্য হয়।

এতদিন ফারাক্কার শোষনে তৃষ্ণার্ত বাংলাদেশীদের অনেকে হয়তো ঘুমের মধ্যেও পানি পানি বলে আর্তচিৎকার করে ওঠেন যার সাথে বন্ধুত্বের উপহার হিসেবে যোগ হতে যাচ্ছে টিপাইমুখ। সেই সাথে কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা সীমান্তে বন্ধুত্বের নিনাদ হিসেবেই যেন বারংবার গর্জে ওঠে বন্দুক ,অনেকটা নিয়তির অলিখিত নিয়মে ফেলানীর মতো অভাগা কিশোরী কিংবা মিরাজ হোসেনের মতো নির্যাতিত অসহায় বাংলাদেশীর বলিদান থেকে রক্তক্ষুধা মেটায় বি এস এফ। তাই বলি কি ভারত বাঙলাদেশ সম্পর্ক ঐ কাঁটাতারে বেড়ার মতোই প্রশ্নবিদ্ধ।

গেল বছরের ঠিক গোড়ার দিকে লাশ হয়ে কাঁটাতারে নির্মমভাবে ঝুলতে দেখেছিলাম ১৪ বছরের বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানিকে, চাঁপাতলা সীমান্তে মিরাজ হোসেনের নির্মম হত্যকাণ্ড সহ আরো কত খবর চাউর হয়েছে পুরো বছর। আমরা ছিলাম নিশ্চুপ। কারণ মুখ আমাদের বন্ধ আইনের বেড়াজালে। আমাদের দুই হাত বাধা একটি সংবিধান নামক শক্ত রজ্জুতে।
ঢাকা নগরীর বিভাজন নিয়ে একটি পোস্ট করে অনেক আতংকে ছিলাম না জানি আমার কোন জেরার মুখে পড়তে হয়। নাকি কাউকে মুচলেকা দিয়ে ব্লগিং জীবনের ইতি টানতে হয়। যদিও আমি চতুর্থ পর্ব ফাইনাল পরীক্ষার জন্য ব্লগ থেকে দুরে ছিলাম শেষ বেলায় একটি ধন্যবাদ দিতে হয় ব্লগের মডারেটরদের।
বিশ্বব্যাপী আমরা আজ যে সকল আন্দোলন দেখছি তার মধ্যে আরব বস্তন্তের উত্থান আর ওয়ালস্ট্রিট এর অকুপাই মুভমেন্ট এর কথা বলা যায়। যা সরাসরি বিপ্লবের সনাতনী সংজ্ঞাকে বদলে দিয়েছে। একুশ শতকের সাইবার আন্দোলন আর ‘অকুপাই মুভমেন্ট’কে কেন্দ্র করে কী একটি ‘বিপ্লব’ সংঘটিত হতে দেখেছি। এই বিপ্লব ভিত নড়িতে দিতে সক্ষম হয়েছে স্বৈরাচারের। মংগার প্রতিবাদে ‘অকুপাই ওয়ালস্ট্রিটে’ আন্দোলন নিউইয়র্ক ছেড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আটলান্টিকের ওপারের দেশগুলোতে। একই সঙ্গে অকুপাই পোর্টল্যান্ড ক্যালিফোর্নিয়ার পোর্টল্যান্ড পোর্টে অনুষ্ঠিত হলেও তা ছড়িয়ে গেছে প্রশান্ত মহাসাগরের অপর পাড়ের দেশগুলোতে।

আমরা দেখেছি এই সকল আন্দোলনের প্রতিটির পেছনেই কাজ করছে ক্ষমতার অসমতা, বৈষম্য, যোগ্য ব্যক্তির উপযুক্ত পাওনা না মেলা আর অর্থনৈতিক ক্ষমতা নির্দিষ্ট শ্রেণীর হাতে কুক্ষিগত হওয়া। এই বিরুদ্ধে চাপা ক্ষোভ কেন্দ্রীভূত হতে হতে এক সময় মোড় নিয়েছে একটি সরব প্রতিবাদে। আমরা দেখেছি আমেরিকার বিক্ষোভকারীরা দিনের পর দিন নিউইয়র্কের ওয়ালস্ট্রিটের পাশে জুকোটি পার্কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছিল। প্রচণ্ড শীত ও তুষারপাতের মধ্যেও শত শত বিক্ষোভকারী তাঁবু টানিয়ে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিল। প্রচণ্ড শীত তাদের আন্দোলনকে হিমাগারে পাঠাতে পারেনি।

প্রকৃত অর্থে অন্যায়ের প্রতিবাদে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের সমর্থন তারা পেয়েছিল। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি তাদের আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দেয় পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে।

এর পরপর আমরা দেখি আন্দোলনকারীরা ওয়াশিংটনের ফ্রিডম প্লাজা দখল করে নিয়েছে যার নামকরণ করা হয়েছে October 2011 Movement. ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত এই আন্দোলন পার করেছে ৪৫ দিন। October 2011 Movement -এর উদ্দেশ্য একটাই, যুদ্ধ ব্যয় কমানো (৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার) ও সামাজিক খাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়ানো। বলা ভালো, জুকোটি পার্ক কিংবা ফ্রিডম প্লাজা বেছে নেওয়ার কারণ কিন্তু একটাই, জুকোটি পার্কের পাশেই রয়েছে ওয়ালস্ট্রিট, এখানে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজার, রয়েছে বড় বড় করপোরেট হাউসের সদর দফতর। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসার মূল কেন্দ্র এখানে যাকে আমেরিকার মতিঝিল বললে আপনাদের বুঝতে সুবিধে হবে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের নানা সমস্যার সাথে বিশেষ করে নতুন দুটি সমস্যা যোগ হয়েছে একটি হচ্ছে টিপাইমুখ ড্যাম নির্মাণ অপরটি রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যকে বুড়ো আঙূল দেখিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য তাকে দুভাগ করা যেটি নাকি চার ভাগ করার প্রত্যাশা করেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
দেশের চলমান সমস্যাগুলো এতো বেশি যে সরকার হয়তো ভাবতে শুরু করেছেন এতোগুলো সমস্যার বিরুদ্ধে মানুষ কোনটি নিয়ে আন্দোলন করতে পারবে। মানুষের চিন্তারয় মাথা ঘুরাতে থাকবে ততক্ষণে স্বার্থসিদ্ধি হয়ে যাবে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে আমরা অনেক শান্তিতে আছি। একাত্তরের পর আমাদের দেশের মানুষ আর কোনদিন এতো শান্তিতে থাকেনি।
কারণ আমরা সেই সময়ে বাস করছি যখন।
১। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে ব্যাগ ভরে টাকা নিয়ে অনেকটা পকেটে করে বাজার করে ফিরতে হয়।
২। বিদ্যুত এখন আর যায়না মাঝে মাঝে আসে।
৩। রাস্তাঘাটগুলোতে অসাধারণ সুন্দর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যেগুলোতে মাছ চাষ করে আমাদের প্রচুর আয় করার সুযোগ রয়েছে।
৪। স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিমলদের দৌরাত্বে মেয়েরা স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দেয়াতে নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির ঘটনা কমে যাওয়ার সমূহ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
৫। একটা খাসির দামে এখন খুব সুন্দর সাইজের একটা মুরগী কিনতে পারা যায়।
৬।শেয়ার বাজারে ভরাডুবিতে পাব্লিক আর সেখানে বিনিয়োগ করবে না। ফলে দেশের মানুষের আর সর্বশান্ত হওয়ার ভয় থাকছে না।
৭। ফারাক্কার পাশাপাশি টিপাইমুখ ড্যাম আমাদের দেশকে মরুভূমি বানিয়ে দেবে সেখানে আর বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
৮। আইন শৃঙ্খলার উন্নতিতে মানুষ আর ভয়ে রাস্তায় বেরই হয়না। ফলে চুরি ছিনতাই এর সম্ভাবনা কমেছে।

তবে আমাদের দেশের মানুষ এই সব সুবিধায় ক্লান্ত বিরক্ত। তারা হয়তো পথ খুঝে পাচ্ছে না কোনটির বদলে কোনটির প্রতিবাদ করা যায়। কিন্তু যুগ পাল্টেছে এখনকার মানুষ জানে কিভাবে প্রতিবাদ করতে হয়। আর আমরা বাঙলাদেশীরা আর যাই হোক এদিকে এক কাঠি সরেস।

আমরা ব্রিটিশদের তাড়িয়েছি। আমরা বায়ান্ত, উনসত্তর, একাত্তর এর পর এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনকেও লাথি মেরে অবসান ঘটিয়ে নিজেদের সামর্থের প্রমাণ দিয়েছি। আরব বসন্ত আর অকুপাই ওয়ালস্ট্রিট স্বাক্ষী দিচ্ছে মানুষের ক্ষোভকে বেশিদিন ছাইচাপা দেয়া যায়না। বিরুদ্ধ প্রকৃতি আর অবিরাম তুষারপাতও মানুষের ক্ষোভের আগুনকে চাপা দিতে পারেনি অকুপাই হয়েছে ওয়ালস্ট্রিট। স্বৈরাচারের চোখরাঙানি আরব বসন্তের আগমনে বাঁধ সাধতে পারেনি। তাই এই সময়ে বড় আশংকা হয় বাংলা বসন্তের।

আমরা এমন কিছু চাইনা যাতে আবার দেশে অশান্তি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা বিবাদ সৃষ্টি হোক। আমরা শান্তি চাই। একাত্তরের পর নব্বইতে একটি বিবাদ শেষ হয়েছে আর একটি বিবাদ কারো কাম্য নয়। সরকার ও বিরোধী দলের কাছে আমাদের আকুল আবেদন দেশটাকে একটু রেহাই দিন। জনগণকে একটু শান্তিতে থাকতে দিন। আপনারাই পারেন এই বাংলা বসন্তের আশংকা থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে। কি লাভ এসব নাম পরিবর্তন আর ভাঙচুরের রাজনীতিতে। আপনারাই তো বলেন রাজনীতি নাকি গণমানুষের জন্য। মুখে তো ফাও প্যাচাল পাড়তে প্রচুর দেখেছি। একবার বাস্তবে পালন করে দেখান। দেশের মানুষ আপনাদের মাথায় তুলে রাখবে। আর আপনারাও রেহাইপাবেন বাংলা বসন্তের উন্মত্ততা থেকে।

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
শিক্ষার্থী, কলামিস্ট ও লেখক।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট
aurnabmaas@gmail.com

দ্বিধাবিভক্ত ঢাকা নগরী, উত্তাল তাহরীর স্কোয়ার ও অকুপাই ওয়ালস্ট্রিট মুভমেন্ট।

বাংলা সিনেমা মেড ইন বাংলাদেশের একটা ডায়ালগ ছিল। বিরোধীদল আপনাদের বলছি। বিগত নির্বাচনে জনগণ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে তাই এখন এই সংসদে আপনাদের কোন মতামত দেয়ার ও অধিকার নাই। তখন কথাটি শুনে কত হেঁসেছি তার ইয়ত্তা নেই। আজ সেটা বাস্তবে দেখতে পাই তবু হাসির বদলে চোখ থেকে কান্না ছুটে আসে। :((
আমরা শুনেছি……
খুব পুরাতন একটা কথা । :k
কুত্তা যদি ক্ষুধার্ত হয় তাকে এক টুকরো রুটি দাও। আর যদি সেটা পাগলা কুত্তা হয় ওকে বাড়ি দিয়ে মেরে ফেল। বিষয়টি খুব করুনভাবে হলেও ফলতে যাচ্ছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। আমরা তাহরীর স্কোয়ার দেখেছি। দেখিছি ওয়ালস্টিট অকুপাই হতে। কিন্তু বাংলাদেশ আর বাঙালির বিবেক। এরা নিভৃতে থেকে গেছে।
ট্রানজিট হলো। দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়লো। আর মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ হিসেবে আসলো টিপাইমুখ।
আরও কত কি:-W:-W:-W
আমাদের প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা মনে হয় নিদ্রা গেছেন। তাঁরা তো যেতেই পারেন। কারন সময় তাদের অনুকূলে। কিন্তু অনুকূল স্রোতের বিপরীতে যাঁরা বসে আছেন আর গ্রীষ্মের খররোদ্দুরের আঁচ যাদের গায়ে প্রতিনিয়ত লাগছে তাঁরা এখন নিশ্চুপ কেন???
আমি জানি জাতির মৃত বিবেক তার শুকনো কণ্ঠে এই কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে হয়তো কাশতে শুরু করবে। থাক সে রুগ্ন আখ্যান।
ঐতিহ্যের নগরী ঢাকার প্রাচীনত্য নিয়ে যখন একটি স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠী বানিজ্য শুরু করেছিল তখন আঁতকে উঠেছিলাম । পত্র পত্রিকায় বিস্তৃত পরিসরে লেখালেখি করা আর বিভিন্ন সেমিনার সিম্পোজিয়ামে প্রতিবাদের ঝড় এই হটকারিতাকে রুখে দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু আজ পরিস্থিতি আরো এক কাঠি সরেস। এখন কথা উঠেছে ঢাকা নগরীকেই ভেংগে চুরমার করা হবে। আহহারে রঙ্গভরা বঙ্গদেশ। :k
এতদিন শোনা গেছে কেবল নামকরণের রাজনীতি আর নাম পরিবর্তনের কূটনীতি। এখন দেখি মানচিত্রটা নিয়ে টানা হেঁচড়া শুরু হয়ে গেল। রফিক আজাদ বলেছিলেন “ ভাত দে হারামজাদা নইলে মানচিত্র চিবিয়ে খাব। উনার আসলে কিছু করার ছিলনা। কথায় বলে অবলার মুখই সম্বল। তখনকাল অবলা রফিক আজাদ চিতকার ম্যাতকার করেছিলেন। বাস্তবে হয়েছিল ঘোড়ার আণ্ডা। এখন বাস্তব ঘটনাটা ঘটছে। বলার কোন স্কোপ নাই। সরাসরি দেখানো হচ্ছে। তোরা যে যা বলিস ভাই আমাদের সবগুলো সিটি মেয়র চাই। যার ভাবানুবাদ করলে হয় ভোটে জিততে দে হারামজাদা। নইলে তোর ঢাকা সিটিই খাই হালামু।
আমরা দেখেছিলাম সেই তাহরীর স্কোয়ার আর তিউনিশিয়ার বিপ্লব। আর বিশ্বব্যাপী আজ যে ‘অকুপাই মুভমেন্টে’র জন্ম হয়েছে তা সত্যিই বিপ্লবের সনাতন সংজ্ঞাকে বদলে দিয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি ‘অকুপাই ওয়ালস্ট্রিটে’র দৃষ্টান্ত নিউইয়র্ক ছেড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আটলান্টিকের ওপারের দেশগুলোতে। একই সঙ্গে অকুপাই পোর্টল্যান্ড ক্যালিফোর্নিয়ার পোর্টল্যান্ড পোর্টে অনুষ্ঠিত হলেও তা ছড়িয়ে গেছে প্রশান্ত মহাসাগরের অপর পাড়ের দেশগুলোতে। সূক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, প্রতিটি অকুপাই মুভমেন্টের পেছনে কাজ করছে একটি জিনিস, তা হচ্ছে সমাজন অসমতা, বৈষম্য ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা সীমিত এক শ্রেণীর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিরুদ্ধে এক সরব প্রতিবাদ। নিউইয়র্কের ‘অকুপাই ওয়ালস্ট্রিট’ আন্দোলন ৬০ দিন পর ভেঙে দেওয়া হলেও এর রেশ রয়ে গেছে। আন্দোলন বন্ধ হয়নি। বিক্ষোভকারীরা দিনের পর দিন নিউইয়র্কের ওয়ালস্ট্রিটের পাশে জুকোটি পার্কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছিল। প্রচণ্ড শীত ও তুষারপাতের মধ্যেও শত শত বিক্ষোভকারী তাঁবু টানিয়ে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিল। আন্দোলনের এতটুকুও কমতি নেই। সর্বশ্রেণীর মানুষের সমর্থন তারা পেয়েছিল। অকুপাই ওয়ালস্ট্রিটের মতো ওয়াশিংটনের ফ্রিডম প্লাজা দখল করে নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
আর আমাদের দেশের প্রতিবাদীরা কোথায়। হতভাগার দল কেবল পারে টিভি সেটের সামনে বসে তাদের মুখ দিয়ে বাঘ মারতে। আর একে অন্যের সমালোচনা করতে। আর ঘন্টা মেপে কিছু টাকা পকেটে পুরে বাসায় গিয়ে বৌ ছেলে মেয়েকে সময় দিতে। এদের কাছে কিছু টাকার বিনিময়ে দেশ কেন নিজের মাকে বিক্রি করাও সময়ের ব্যাপার।
বলছিলাম ঐতিহ্যের ঢাকা নগরীর বিভক্তির কথা।
এটা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সেই বঙ্গভঙ্গের কথা।
যাহোক এটা কার স্বার্থে ???
কেনই বা এতো বড় ঢাকা আমাদের মান্যবর সরকার পরিচালনাকারীদের চক্ষুশূল হলো ???

বিষয়টিকে এভাবে বিশ্লেষণ করা যায়।

সরকারের এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কর্পোরেশনের সেবা নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছানো তো দূরে থাক সৃষ্টি করবে নানা প্রতিবন্ধকতার । শুধু তাই নয়, সিটি কর্পোরেশন দু’টি পরিচালনায়ও নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
[প্রথমত] , বিভক্তির ফলে ডিসিসির দক্ষিণে পড়বে ৫৬টি ওয়ার্ড, আর উত্তরে পড়বে ৩৬টি। এর ফলে আয় ও ব্যয়ের দিক দিয়ে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হতে বাধ্য। কেননা ডিসিসির বেশি আয় হয় দক্ষিণ অঞ্চল থেকে। এখন বিভক্তির ফলে দক্ষিণ অঞ্চল থেকে রাজস্ব আসবে ৭০ শতাংশ। আর উত্তর অঞ্চল থেকে রাজস্ব আসবে মাত্র ৩০ শতাংশ। এর ফলে একাধিক সমস্যা সৃষ্টি হতে বাধ্য।

[দ্বিতীয়ত] উত্তর অঞ্চল থেকে রাজস্ব কম আসলে, সেখানে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। একই সাথে উত্তর অঞ্চলের মানুষ সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।
[তূতীয়ত], দুই মেয়র দায়িত্ব নেয়ার পর ক্ষমতা পরিচালনা করতে গিয়ে এদের মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে। আর আমাদের দেশের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, তাতে করে এ দ্বন্দ্ব যদি সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেয়, তাতে আমি অবাক হবো না।
[চতুর্থত], সিটি কর্পোরেশনের একটা বড় কাজ হচ্ছে স্থানীয় বাজার, রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করা। কিন্তু ডিসিসি ভাগ হলে এক ধরনের সমন্বয়হীনতার সৃষ্টি হবে। লোকবলের অভাব হেতু বর্জ্য-ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
[পঞ্চমত] দু’টি কর্পোরেশন গঠিত হলে সরকারের খরচও বাড়বে। কেননা দ্বিতীয় মেয়রের জন্য অফিস তৈরি, জনবল নিয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারকে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পাবে। সে ক্ষেত্রে এই সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ওয়ার্ডসমূহের কাউন্সিলদের সাথে, বিশেষ করে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের সাথে মেয়রের একটা দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হতে বাধ্য
[যষ্ঠত] এই অনর্থক খাতে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হবে, অর্থনীতির এ মন্দার যুগে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে ডিসিসিতে রয়েছেন, তাদের কেউই নতুন সৃষ্ট সিটি কর্পোরেশনে যোগ দিতে চাইবেন না। তাদের ট্রান্সফার করা হলে, তারা উচ্চ আদালতে ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিট করতে পারেন। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ট্রান্সফারের বিষয়টি একটি বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

[সপ্তমত] সরকার যেভাবে সীমানা চিহ্নিত করে সিটি কর্পোরেশন উত্তর ও সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণ করেছেন, তা আইনগত জটিলতায় জড়িয়ে যেতে পারে।

[অষ্টমত] ভুক্তভোগী যে কোন নাগরিক ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের প্রতিকার চাইতে পারেন। উচ্চ আদালতের যে কোন সিদ্ধান্ত নানা জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

[নবমত], সিটি কর্পোরেশনের বিভক্তি সংক্রান্ত বিলটি সংসদে পাস হয়ে গেলে সরকার দু’টি সিটি কর্পোরেশনে দু’জন প্রশাসক নিয়োগ করবে। সরকার ১২০ দিনের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন দেবে। সরকার এমনিতেই ডিসিসির নির্বাচন দিতে পারেনি। বর্তমান ডিসিসির মেয়র ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার টার্ম শেষ হয়ে যাবার পরও বর্তমান সরকার নির্বাচন দিতে পারেনি। যে সমস্যার জন্য সরকার নির্বাচন দিতে পারেনি, সেই সমস্যা থেকে যাবে। ফলে ডিসিসির বিভক্তি কোন কাজে আসবে না।
[দশমত] সবথেকে বড় সমস্যা সৃষ্টি হবে যদি প্রশাসকরা রাজনীতিবিদ হন যেটি হতেই হবে , তাহলে তারা নিজেরাও নানা কৌশলে ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইবেন। ফলে নতুন নতুন সমস্যা তৈরি হবে।
[এগারতম] চুরি চাট্টা আর নজির বিহীন দূনীতির ফলে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সাথে দাতা সংস্থাগুলোর সম্পর্ক ভালো নয়। পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক অর্থ ছাড়করণ বন্ধ রেখেছে এটা কারো অজানা নয়। এখন ডিসিসির বিভক্তির সিদ্ধান্ত দাতা সংস্থাগুলোকে মারাত্বক ক্ষুদ্ধ করতে পারে।
[বারোতম] এই সিদ্ধান্ত অতিলোভে তাতী নষ্ট কিংবা বুমেরাং হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিষয়টির বিশ্লেষণ প্রসংগে আমরা চীনের তিয়েন আনমেন এর ঘটনা কিংবা মিশরের বিল্পবের কথা বলতে পারি। মিসরের রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ারের ঘটনাবলি পৃথিবীর মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছিল ২১ বছর আগে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়েন আনমেন স্কয়ারে সংঘটিত সংঘর্ষের কথা। বিল্পব জোর করে করানো যায়না। মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকলে পরিস্থিতির দায় মেটাতে বিল্পব সংঘটিত হয়। মার্ক্সের মতে
শোষিতশ্রেণী বা প্রলিটারিয়েট শ্রেণী হচ্ছে বিপ্লবের অন্যতম হাতিয়ার। শ্রমিকশ্রেণী বিপ্লবকে সংগঠিত করবে ও রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করবে। তবে একুশ শতকে এসে এই ধারণাটি পুরো পাল্টে গেছে যেখানে বিল্পবের নেতৃত্ত্বে এসেছে তরুণ প্রজন্ম। হাতিয়ার হয়েছে ব্লগ ফেসবুক।

আমরা সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধ আর টিপাইমুখ বিরোধী গনজোয়ার সৃষ্টি হতে দেখেছি। যা থেকে নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে বাংলাদেশের আসন্ন বিল্পবের বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যায়না। তবুও আমরা কেউ সেই অশান্তি চাইনা।

কারণ আমাদের দেশ মিশর তিউনিশিয়া নয়। এটি ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত। এখনো একটি জনগণ নির্বাচিত সরকার শাসন করে। তাই সরকারের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান । আপনারা জনগণের স্বার্থ বিরোধী কাজ একের পর এক করা বন্ধ করুন। আমজনতাকে একটি বিল্পবের পথে উষ্কে দিবেন না। কারণ

বায়ান্ন, উনসত্তুর, একাত্ত্বর, নব্বই এর কোনটিই আপনাদের অজানা নয়। তাই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিষয়টি ভালোভাবে বিবেচনা করে এই ধরণের হটকারী অবস্থান থেকে সরে আসাটাই মঙ্গলের বিষয় বলে আমাদের মতো একজন সাধারণ নাগরিকের কাছে মনে হয়েছে। আমরা দেশের মাঝে শান্তি চাই। আমাদের কেউই প্রত্যাশা করিনা আমাদের দেশে একটি তিয়েন আনমেন, ওয়ালস্ট্রিট বা তাহরীর স্কোয়ার জন্ম নিক।

আমাদের দেশ হোক লিবিয়া আফগানিস্তান। আমাদের দেশে যদি অকুপাই ওয়ালস্টিটের মতো কোন ঘটনা ঘটে সেটা অনভিপ্রেত এবং সত্য কথায় বিড়ার বেজার হলেও বলতে হয় তার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।
ঢাকার প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে আমার দুটি লেখা শেয়ার করছি।
ঢাকার চারশ’ বছর উদযাপনে ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে গেছে আরও চারশ’ বছর
রাজধানী ঢাকার চারশ’ বছর শিরোনামে ইতিহাস বিকৃতিকারী এই হটকারীতার অবসান কবে হবে ?

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
শিক্ষার্থী, কলামিস্ট ও লেখক।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট
aurnabmaas@gmail.com