কেন আজ দেশদ্রোহী হতে ইচ্ছে করে ??


লাখো শহীদের রক্তলাভায় প্লাবিত হয়ে যখন স্বাধীন বাংলাদেশের উত্থান ঘটেছিল তখন আমজনতা কিংবা মন্ত্রী মহোদয়ের ভাষ্যমতে আমাদের মতো টোকাই ছাত্রসমাজ সবাই ভেবেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের জমিনে আর কখনো রক্ত ঝরবে না। আজ আমরা স্বাধীন, কতটুকু স্বাধীন সেটা বলার সাংবিধানিক অধিকার আমাদের নেই তবু এটুকু আমরা জানি আমাদের এখনো অধিকার আদায়ে, নিজের দেশের সম্পদ পাচার বাঁচাতে কিংবা মা বোনদের ইজ্জত লুঠকারী পিশাচদের বিচারের দাবিতে মাঠে নামতে হয়। কোন বৃটিশ বাহিনী বা পাকসেনা নয় আমাদের দেশের জনগণের দেয়া রাজস্বে লালিত পুলিশ বাহিনীর আক্রমনে আমাদেরকেই রক্তাত্ব হতে হয়। সেইসাথে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদ গঠনকারী সরকারের ভূমিকায়

মুখের কথা সেমিনার আর মিটিং মিছিলের গণতন্ত্র বার বার ভূলুণ্ঠিত-লাঞ্ছিত হয়ে ক্রমশ এক সংকটময় অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। যে লোকটাকে দেখে কোনদিন তেমন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়নি সেই কবি শামসুর রহমানের উক্তিটিই আজ কেন যেন ধ্রুব সত্য হয়ে ধরা দিয়েছে। অদ্ভুদ এক উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। আমরা সেই উটের পেছনে পেছনে দৌড়ে যাচ্ছি।

কিংবা হয়তো আমদের দেশকে নিয়ে স্বাধীনতার পর চারদশক ধরে চলছে কোন টেস্ট ম্যাচ। বিশাল রানকে তাড়া করতে গিয়ে প্রতিদিন বি এস এফ এর গুলিতে এক একটি উইকেট পড়তেই আছে। দ্রব্যমুল্যের আকাশছোঁয়ার স্বপ্ন যেন আজ বাস্তব । দেশের মানুষের স্বপ্ন যেখানে গলাটিপে হত্যা করা হয় ।
দৈনিক আমার দেশের একটি সংবাদ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হলো। আসলে মানুষ যদি জানোয়ারের সাথে নৃশসংতায় পাল্লা দেয় তবে জানোয়ার মানুষকে বলবে গুরু তোমায় লাল সালাম। আমার দেশে প্রকাশিত গৃহকর্মী রোমেলার সেই ক্ষতবিক্ষত পিঠের সাথে আমাদের দেশের খানা খন্দকে ভরা রাজপথ বাদে আর কিছুকেই মেলানো যাবেনা । শুধু একটা শব্দজোড় [ পৈশাচিক বর্বরতা] বলে এই অপকর্মকে আটকে রাখা যাবে না।
একটি অসহায় শিশু শুধু দুমুঠো অন্নের সংস্থানে তার বাবা মায়ের কাছ থেকে দুরে পাড়ি দিয়ছিল। তার ভাগ্যে এমন ঘটনা ঘটবে সেটা ভাবাটাও তো পাপ। ফেরাউনের জল্লাদের হাতে পড়লে আমার মনে তার মনে কি প্রতিক্রিয়া হতো জানিনা। কানিবালিজম বা নরকমাংসভোজে অভ্যস্ত উপজাতীয় গোষ্ঠীর কাছ থেকেও হয়তো এহেন বর্বরতা আশা করা যায় না। তবুও সেটি ঘটেছে আমাদের বাংলাদেশে। যে দেশ নাকি স্বাধীন। যার জন্য জীবন দিতে হয়েছে ত্রিশ লক্ষ মানুষকে।
একাত্তরের ইতিহাসে ফিরে গেলে দেখি

হানাদার পাকবাহিনী আর তাদের দোসরদের হাতে মা বোনদের সম্ভ্রমহানির পর যখন স্বাধীনতার লাল সূর্য কিনতে পেরেছিলাম । তার পর কেউ ভাবিনী আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশেও রোমেলার মতো শিশুদের একমুঠো অন্নের জন্য এই নারকীয় যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে। আমরা কখনই ভাবতে পারিনি কোন শিশু ভিকারুননিসার মতো নামকরা বিদ্যায়তনে গিয়ে তারই শিক্ষক নামক বরাহ শাবক পরিমলের হাতে সর্বস্ব হারাবে, দেশের ক্ষুধার্ত শিশুরা নিজের জীবনের তাগিদে হাতে তুলে নেবে লোহার হাতুড়ি।

যেদিন একটি নির্মানাধীন ভবনের নিচে একটি চার বছরের শিশুকে দেখেছিলাম হাতুড়ি দিয়ে পাথর ভাংছে। সেদিন আমার মন একটি কথা বলতে চেয়েছে তোরা এই হাতুড়ি দিয়ে শক্ত পাথর ভাংতে পারিস। আমাদের পাষন্ড নীতিনির্ধারকদের হৃদয় কেন ভাংতে পারিস না। খোদ মন্ত্রী মহোদয় বলেন আমরা নাকি টোকাই আমরা । হায় আফসোস !!

টিভির রিমোর্ট হাতে নিলেই চোখে পড়ে যতো সব শুশীল কুমিরদের দেশের জন্য মেকী কান্না আর কান ভারী করা নানামুখী আদেশ উপদেশ। তারা কেউবা শিশুদের অধিকারের কথা বলেন, মানব সম্পদ উন্নয়নের কথা বলেন, আর সংখ্যালঘু প্রশ্নে নিজেদের উদারতা প্রকাশে সদা ব্যাকুল থাকার পাশাপাশি একটি নতুন এজেণ্ডা এদেশের পাহাড়ী জনগোষ্ঠীতে আদিবাসী হিসেবে প্রমাণ করার নানা আয়োজন তো থাকছেই। তাদের বকবকানিতে অতিষ্ট জনতা পারলে টয়লেটের দুর্গন্ধ সহ্য করে পনের মিনিট বেশি সেখানে বসে থাকতে চায় তবুও টিভির রিমোর্ট হাতে পেলে বাংলাদেমের চ্যানেল দেখতে চায় না।

আমজনতা আমাদের কি ই বা করার আছে। আমাদের দুই চোখ বেধে দিতে সদা ব্যস্ত আছে দেশ বিরোধী কিছু শুশীল নামক পদলেহী চক্র, দুই হাত আইনের বেড়াজালে বাঁধা, চারপাশ ঘিরে রেখেছে সংবিধানের মতো একটি শক্তিশালী বেষ্টনী। তাই একাত্তরের সেই হাতিয়ার গর্জে ওঠার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে । আমাদের মুখ গনতন্ত্রের লেবাসে বার বার সিলগালা করে দেয়া হচ্ছে যার প্রমান হিসেবে দেখেছি অন্যায়ের প্রতিবাদকারী একটি দৈনিকের বন্ধ হয়ে যাওয়া আর পত্রিকাটির সম্পাদকের দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ থাকা। আমরা আতঙ্কের সাথে লক্ষ্য করছি একাত্তর ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের পাশাপাশি আর একটি সারমেয় গোষ্ঠী সবার অগোচরে জন্ম নিয়ে পুরো জাতির উপরে অনেকটা ঘোড়ার জীনের মতো জাতির পিঠে সওয়ার হয়েছে আর সুযোগ বুজে জাতির উদরে একের পর এক স্পারের গুঁতা লাগিয়ে যাচ্ছে।
নারী নির্যাতন প্রসংগে আমাদের দেশের শুশীল কুমিরদের চোখের পানিতে বুক ভাসানোর একটি সুযোগ এসেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রুমানা মনজুরের স্বামী নামের কলঙ্ক সাইদ যখন তাঁর নাক খুবলে খেয়েছিল তখন । টিভি চ্যানেল আর সংবাদ মাধ্যমগুলোতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বাক্যবানে জর্জরিত করেছিলেন দেশের পুরুষ সমাজকে। অবাক হয়েছিলাম একজন পুরুষ হয়ে সাইদের মতো একজন নপুংশককে মডেল ধরে দেশের সকল পুরুষকে দুষলেল কিভাবে, হয়তো তারাও এক ধরণের নপুংশক তাই এমনি হয়েছিল । যখন নারী নীতি ঘোষণার পাশাপাশি আমাদের দেশের টিভি চ্যানেল আর সংবাদপত্রগুলো মোটা অংকের অর্থলগ্নি করলো তখনও দেখেছিলাম এই সব ‘মহা পণ্ডিত’ শুশীলদের অত্যাচারে সংবাদ পত্রের সম্পাদকীয় পাতা খুলতেই ঘেন্না হতো । বাদশাহ আকবর বীরবলের সহায়তায় এক রাজাকে একপাত্র জ্ঞান পাঠিয়েছিলেন কিন্তু আমাদের টিভি চ্যানেলে প্রচারিত টক শো গুলোতে যে প্রশান্ত মহাসাগর তুল্য জ্ঞান বন্টন শুরু হলো রাত বারোটা নাগাদ জনগণ টিভি চ্যানেল টিউন করাই বাদ দিয়ে দিল। সকল অপরাধীর অপরাধ আড়াল করে ইভটিজিং আইনের নাম সংকীর্তনের এতটাই মাতোয়ার হলো তারা যেখানে বাস্তবতার কোন যোগই থাকলো না। এই সকল ‘মহা পণ্ডিত’ দেশের নারী সমাজের অধিকার হরণের জন্য কেবল মাত্র পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে দায়ী করে একের পর এক নিজেদের বানানো ফতোয়া জারি করতে শুরু করেন। যেখানে আইন করে আমিনীর মতো হুজুরদের ফতোয়া জারি করা আমাদের সরকার বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু আমি আইনের ছাত্র না তাই জানি না ওই আইনে কি বলা ছিল ‘ফতোয়া জারি হুজুরদের জন্য নিষিদ্ধ শুশীল বাচালদের জন্য নয়’। এই সব স্বঘোষিত পণ্ডিত বাচালদের প্যাচাল শুনে আমার মনে হয়েছে ‘অক্ষম পুরুষদের অক্ষমতাকে সক্ষমভাবে জনতার সামনে উপস্থাপনে সস্তা জনপ্রিয়তা লাভের অপচেষ্টাই নারীবাদ’। বেশ কিছু দিন পিছিয়ে গেলে ইভ টিজিং ও নারী নীতি বিষয়ক সরকারী নীতিমালা প্রকাশের পর বিষয়টি যখন হটকেক ঠিক তখনই আমাদের দেশের বেশ কিছু মডেল অভিনেত্রীর সাথে তাদের প্রাক্তন ছেলেবন্ধুর ফস্টি-নস্টির ভিডিও চিত্র প্রকাশিত হয়। আমাদের দেশের নারী নীতিতে মেয়েদের প্রতি কোন অশ্লীল উক্তি করা, অঙ্গভঙ্গির করার জন্য যেখানে শাস্তির বিধান হয়েছে তার নগ্ন চিত্র দুনিয়ার সারা দুনিয়ার মানুষের সামনে প্রকাশ করায় কি শাস্তির বিধান সেখানে ছিল না ? কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে অনেকে ভিকারুননিসার ঘটনার হোসনে আরার মিউচুয়্যাল তত্ত্ব হিসেবে বলেছিলেন বিষয়টিতে দুই জনের সম্মতি ছিল। তাহলে আপনাদের কথায় মেনেই নিলাম আপনারা বেশ্যবৃত্তিকে বৈধতা দিলেন। তাই বলে এই ভিডিও ক্লিপস এখনকার ডিজিটাল(?) যুগের প্রতিটি যুবক, কিশোর এমনকি শিশুদের মোবাইলে যখন ছড়িয়ে পড়েছে তাদের নৈতিকতাকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে এই বিষয় বিবেচনা করে শিশু অধিকার আর শিশুবিষয়ক সংগঠন গুলোর ও কিছু করার ছিলনা। সেই প্রভা-রাজিব থেকে শুরু একে একে আরো অনেক অভিনেত্রীর ভিডিও ক্লিপ নিজেরাই বাজারে ছেড়ে খবরে আসার চেষ্টা আমরা দেখেছি। আমি মানলাম ব্যাঙের সর্দি হয়না। যারা ক্যামেরার সামনে অর্ধউলঙ্গ পোজ দিতে পারেন তাদের নগ্নচিত্র বাজারে এলে তাদের কিছু হবে না। কিন্তু দেশের যুব সমাজ আর শিশু কিশোররা যে উচ্ছনে যাচ্ছে তার দায় ভার কে নেবে।
আজ রোমেলার ঘটনার মতো ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই দৈনিক পত্রিকায় নজর দিলে চোখ পড়ে। নারী নির্যাতন আর বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতনের খবর যেন রুটিন করে পত্রিকায় ছাপা হয়। আমার দেশ পত্রিকার সাহসী একজন রিপোর্টার তুলে ধরেছিলেন দেশে গৃহকর্মী নির্যাতন কতটা মারাত্বক পর্যায়ে পৌছেছে। নির্মম নির্যাতনে গৃহকর্মীর মৃত্যুর পর আমরা পত্রিকায় পাতায় দেখেছিলাম একজন দ্বিতীয় শ্রেণীর অভিনেত্রী যার বিরুদ্ধে বেশ্যাবৃত্তি আর পর্ণগ্রাফীরও ঢের অভিযোগ আছে সেই নিশি গ্রেপ্তার হয়েছিল। কিন্তু কোন বিচারে তার শাস্তি হয়েছে এমন কোন খবর পত্রিকার পাতায় আসেনি। কয়েকদিন পূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনায় দেশের যুব সমাজ সোচ্চার হলে সাইদ গ্রেপ্তার হয় । কিন্তু তাকে আদেও শাস্তির আওতায় আনা হবে কিনা এ নিয়ে জনমনে সংশয় এখনো কাটেনি। আর ভিকারুননিসার মতো দেশের প্রথম শ্রেণীর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের হটকারী বক্তব্যের জন্য তার শাস্তি ছিল আবশ্যিক। তিনি এই নির্মম নির্যাতন আর ধর্ষণের ঘটনাকে মিউচুয়াল এর মাধ্যমে সংঘটিত ঘটনা বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু দেশের প্রচলিত আইন একজন নাগরিক হিসেবে আপনাকে বেশ্যাবৃত্তি করার অধিকার দিলেও কোন শিক্ষককে তার কিশোরী ছাত্রীর সাথে সমঝোতামূলক নির্যাতন করার অধিকার দেয়নি এটা আপনি বেমালুম ভুলে গেছেন। তাইতো আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ২০১০ প্রকাশিত মানবাধিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে ইভ টিজিং আর নারী নীতিমালা প্রকাশ করা হলেও আশংকাজনক হারে নিপীড়নের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবলমাত্র বিগত ২০১০ সালেই ৬২৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের মেরুদণ্ডহীন আচরণে মামলা হয়েছে মাত্র ৩২৩টি। অবাক করার মতো বিষয় এই ক্ষেত্রে ২৯ জন নারীকেই অমানুষিক নির্যাতন আর ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে। আতœহত্যাও করেছে পাঁচ নারী। গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৪৫ জন। কিন্তু আমাদের পদলেহী বাচাল শুশীল সমাজ নিজেদের অবস্থানের দায় মেটাতে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়েও এব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি। আমি নারী নীতির স্বপক্ষে বেশ কিছু উপসম্পাদকীয় লিখে একে তীব্র সমর্থন জানালেও আজকে এর অসারতা পুরোপুরি ধরতে পারি। তথাকথিত নীতিমালা প্রকাশের পরে ২০১০ সালে মোট ৯৩টি এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলেও মামলা হয়েছে মাত্র ৩৯টি। দেশের শুশীল সমাজ যৌতুক আর পারিবারিক অশান্তিকে বার বার দায়ী করলেও এই ৯৩ টি ঘটনার মাত্র ২১টির সাথে পারিবারিক সমস্যা জড়িত। বাকিগুলো প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান আর পরকীয়ার জের ধরে হয়েছিল।
একটা কথা বলে রাখা ভাল এখানে যে লোকদেখানো মামলাগুলো করা হয়েছিল তার বদৌলতে কোন অপরাধীর সাজা হয়েছে পতিকার পাতায় হারিকেন ধরিয়ে খুজেও তার নজির পাওয়া যাবে না। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় আসাদের সুপ্রিম কোট থেকে ২০১০ সালে নারী নির্যাতনের বিচারাধীন মামলার যে পরিসংখ্যান জানা যায় সেখানে ৬৬হাজার ৮১৭টি বিচারধীন মামলা ছিল । নারী নীতিমালা প্রকাশের পর ২০১১ এসে সেই সংখ্যা কমে নি বরঞ্চ সেই মামলার ফাইলগুলো জমে দিনকে দিন হিমালয় সমান উচু হয়েছে আর আইনজীবিদের পকেট পুরার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১১ সালের জানুয়ারী মাসে এই সংখ্যা ছিল ৭৩হাজার ৮৫১টি বর্তমানে কি হয়েছে তা আল্লাহ মালুম।
আমাদের দেশের জনগণ বেশ মজা করে বলে থাকেন রাজনৈতিক বিবেচনা হচ্ছে অপরাধীকে আড়াল করার জন্য । আর রাজনৈতিক নেতারা কথা দেন তা না রাখার জন্য। অনেক দু:খ ও পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য আমাদের দেশের আইন আজ পরিণত হয়েছে এর ফাঁক ফোকর গরে অপরাধীকে রক্ষা করার হাতিয়ার হিসেবে। বাক্যবাণে জর্জরিত কাজের ক্ষেত্রে ঠনঠন এই অবস্থায় জাতি আজ হতাশ। স্বাধীনতার চারটি দশক পার করে ভুখা-দূর্বল উটের পিঠে চলমান দেশের নাগরিক আমাদের প্রত্যাশা খুবই সীমিত। আমরা মাছ মাংস চাই না দুটো ডাল ভাত খেয়ে বাঁচতে চাই। অ্যারোপ্লেনে নয় দেশের মসৃণ রাজপথে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চলতে চাই। দেশের এই করুণ অবস্থা দেখে নিজের পূর্বপুরুষদের রক্তে ভেজা মাটির উপর দিয়ে চলতে গিয়ে আজ দেশাদ্রোহী হতে ইচ্ছে করে। এর জন্য দায়ী কারা। উত্তর কারো অজানা নয়। আমরা এই সব নির্মম বর্বরতার অবসান চাই। সেই সাথে বাকবানিজ্য কারীদের কবল থেকে জাতির মুক্তি ঘটুক এই প্রত্যাশা করি।
Archaeology Of Humankind
মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
শিক্ষার্থ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
লেখক, ব্লগার ও কলামিস্ট
aurnabmaas@gmail.com

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s