দ্বিধাবিভক্ত ঢাকা নগরী, উত্তাল তাহরীর স্কোয়ার ও অকুপাই ওয়ালস্ট্রিট মুভমেন্ট।


বাংলা সিনেমা মেড ইন বাংলাদেশের একটা ডায়ালগ ছিল। বিরোধীদল আপনাদের বলছি। বিগত নির্বাচনে জনগণ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে তাই এখন এই সংসদে আপনাদের কোন মতামত দেয়ার ও অধিকার নাই। তখন কথাটি শুনে কত হেঁসেছি তার ইয়ত্তা নেই। আজ সেটা বাস্তবে দেখতে পাই তবু হাসির বদলে চোখ থেকে কান্না ছুটে আসে। :((
আমরা শুনেছি……
খুব পুরাতন একটা কথা । :k
কুত্তা যদি ক্ষুধার্ত হয় তাকে এক টুকরো রুটি দাও। আর যদি সেটা পাগলা কুত্তা হয় ওকে বাড়ি দিয়ে মেরে ফেল। বিষয়টি খুব করুনভাবে হলেও ফলতে যাচ্ছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। আমরা তাহরীর স্কোয়ার দেখেছি। দেখিছি ওয়ালস্টিট অকুপাই হতে। কিন্তু বাংলাদেশ আর বাঙালির বিবেক। এরা নিভৃতে থেকে গেছে।
ট্রানজিট হলো। দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়লো। আর মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ হিসেবে আসলো টিপাইমুখ।
আরও কত কি:-W:-W:-W
আমাদের প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা মনে হয় নিদ্রা গেছেন। তাঁরা তো যেতেই পারেন। কারন সময় তাদের অনুকূলে। কিন্তু অনুকূল স্রোতের বিপরীতে যাঁরা বসে আছেন আর গ্রীষ্মের খররোদ্দুরের আঁচ যাদের গায়ে প্রতিনিয়ত লাগছে তাঁরা এখন নিশ্চুপ কেন???
আমি জানি জাতির মৃত বিবেক তার শুকনো কণ্ঠে এই কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে হয়তো কাশতে শুরু করবে। থাক সে রুগ্ন আখ্যান।
ঐতিহ্যের নগরী ঢাকার প্রাচীনত্য নিয়ে যখন একটি স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠী বানিজ্য শুরু করেছিল তখন আঁতকে উঠেছিলাম । পত্র পত্রিকায় বিস্তৃত পরিসরে লেখালেখি করা আর বিভিন্ন সেমিনার সিম্পোজিয়ামে প্রতিবাদের ঝড় এই হটকারিতাকে রুখে দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু আজ পরিস্থিতি আরো এক কাঠি সরেস। এখন কথা উঠেছে ঢাকা নগরীকেই ভেংগে চুরমার করা হবে। আহহারে রঙ্গভরা বঙ্গদেশ। :k
এতদিন শোনা গেছে কেবল নামকরণের রাজনীতি আর নাম পরিবর্তনের কূটনীতি। এখন দেখি মানচিত্রটা নিয়ে টানা হেঁচড়া শুরু হয়ে গেল। রফিক আজাদ বলেছিলেন “ ভাত দে হারামজাদা নইলে মানচিত্র চিবিয়ে খাব। উনার আসলে কিছু করার ছিলনা। কথায় বলে অবলার মুখই সম্বল। তখনকাল অবলা রফিক আজাদ চিতকার ম্যাতকার করেছিলেন। বাস্তবে হয়েছিল ঘোড়ার আণ্ডা। এখন বাস্তব ঘটনাটা ঘটছে। বলার কোন স্কোপ নাই। সরাসরি দেখানো হচ্ছে। তোরা যে যা বলিস ভাই আমাদের সবগুলো সিটি মেয়র চাই। যার ভাবানুবাদ করলে হয় ভোটে জিততে দে হারামজাদা। নইলে তোর ঢাকা সিটিই খাই হালামু।
আমরা দেখেছিলাম সেই তাহরীর স্কোয়ার আর তিউনিশিয়ার বিপ্লব। আর বিশ্বব্যাপী আজ যে ‘অকুপাই মুভমেন্টে’র জন্ম হয়েছে তা সত্যিই বিপ্লবের সনাতন সংজ্ঞাকে বদলে দিয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি ‘অকুপাই ওয়ালস্ট্রিটে’র দৃষ্টান্ত নিউইয়র্ক ছেড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আটলান্টিকের ওপারের দেশগুলোতে। একই সঙ্গে অকুপাই পোর্টল্যান্ড ক্যালিফোর্নিয়ার পোর্টল্যান্ড পোর্টে অনুষ্ঠিত হলেও তা ছড়িয়ে গেছে প্রশান্ত মহাসাগরের অপর পাড়ের দেশগুলোতে। সূক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, প্রতিটি অকুপাই মুভমেন্টের পেছনে কাজ করছে একটি জিনিস, তা হচ্ছে সমাজন অসমতা, বৈষম্য ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা সীমিত এক শ্রেণীর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিরুদ্ধে এক সরব প্রতিবাদ। নিউইয়র্কের ‘অকুপাই ওয়ালস্ট্রিট’ আন্দোলন ৬০ দিন পর ভেঙে দেওয়া হলেও এর রেশ রয়ে গেছে। আন্দোলন বন্ধ হয়নি। বিক্ষোভকারীরা দিনের পর দিন নিউইয়র্কের ওয়ালস্ট্রিটের পাশে জুকোটি পার্কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছিল। প্রচণ্ড শীত ও তুষারপাতের মধ্যেও শত শত বিক্ষোভকারী তাঁবু টানিয়ে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিল। আন্দোলনের এতটুকুও কমতি নেই। সর্বশ্রেণীর মানুষের সমর্থন তারা পেয়েছিল। অকুপাই ওয়ালস্ট্রিটের মতো ওয়াশিংটনের ফ্রিডম প্লাজা দখল করে নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
আর আমাদের দেশের প্রতিবাদীরা কোথায়। হতভাগার দল কেবল পারে টিভি সেটের সামনে বসে তাদের মুখ দিয়ে বাঘ মারতে। আর একে অন্যের সমালোচনা করতে। আর ঘন্টা মেপে কিছু টাকা পকেটে পুরে বাসায় গিয়ে বৌ ছেলে মেয়েকে সময় দিতে। এদের কাছে কিছু টাকার বিনিময়ে দেশ কেন নিজের মাকে বিক্রি করাও সময়ের ব্যাপার।
বলছিলাম ঐতিহ্যের ঢাকা নগরীর বিভক্তির কথা।
এটা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সেই বঙ্গভঙ্গের কথা।
যাহোক এটা কার স্বার্থে ???
কেনই বা এতো বড় ঢাকা আমাদের মান্যবর সরকার পরিচালনাকারীদের চক্ষুশূল হলো ???

বিষয়টিকে এভাবে বিশ্লেষণ করা যায়।

সরকারের এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কর্পোরেশনের সেবা নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছানো তো দূরে থাক সৃষ্টি করবে নানা প্রতিবন্ধকতার । শুধু তাই নয়, সিটি কর্পোরেশন দু’টি পরিচালনায়ও নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
[প্রথমত] , বিভক্তির ফলে ডিসিসির দক্ষিণে পড়বে ৫৬টি ওয়ার্ড, আর উত্তরে পড়বে ৩৬টি। এর ফলে আয় ও ব্যয়ের দিক দিয়ে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হতে বাধ্য। কেননা ডিসিসির বেশি আয় হয় দক্ষিণ অঞ্চল থেকে। এখন বিভক্তির ফলে দক্ষিণ অঞ্চল থেকে রাজস্ব আসবে ৭০ শতাংশ। আর উত্তর অঞ্চল থেকে রাজস্ব আসবে মাত্র ৩০ শতাংশ। এর ফলে একাধিক সমস্যা সৃষ্টি হতে বাধ্য।

[দ্বিতীয়ত] উত্তর অঞ্চল থেকে রাজস্ব কম আসলে, সেখানে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। একই সাথে উত্তর অঞ্চলের মানুষ সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।
[তূতীয়ত], দুই মেয়র দায়িত্ব নেয়ার পর ক্ষমতা পরিচালনা করতে গিয়ে এদের মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে। আর আমাদের দেশের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, তাতে করে এ দ্বন্দ্ব যদি সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেয়, তাতে আমি অবাক হবো না।
[চতুর্থত], সিটি কর্পোরেশনের একটা বড় কাজ হচ্ছে স্থানীয় বাজার, রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করা। কিন্তু ডিসিসি ভাগ হলে এক ধরনের সমন্বয়হীনতার সৃষ্টি হবে। লোকবলের অভাব হেতু বর্জ্য-ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
[পঞ্চমত] দু’টি কর্পোরেশন গঠিত হলে সরকারের খরচও বাড়বে। কেননা দ্বিতীয় মেয়রের জন্য অফিস তৈরি, জনবল নিয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারকে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পাবে। সে ক্ষেত্রে এই সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ওয়ার্ডসমূহের কাউন্সিলদের সাথে, বিশেষ করে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের সাথে মেয়রের একটা দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হতে বাধ্য
[যষ্ঠত] এই অনর্থক খাতে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হবে, অর্থনীতির এ মন্দার যুগে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে ডিসিসিতে রয়েছেন, তাদের কেউই নতুন সৃষ্ট সিটি কর্পোরেশনে যোগ দিতে চাইবেন না। তাদের ট্রান্সফার করা হলে, তারা উচ্চ আদালতে ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিট করতে পারেন। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ট্রান্সফারের বিষয়টি একটি বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

[সপ্তমত] সরকার যেভাবে সীমানা চিহ্নিত করে সিটি কর্পোরেশন উত্তর ও সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণ করেছেন, তা আইনগত জটিলতায় জড়িয়ে যেতে পারে।

[অষ্টমত] ভুক্তভোগী যে কোন নাগরিক ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের প্রতিকার চাইতে পারেন। উচ্চ আদালতের যে কোন সিদ্ধান্ত নানা জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

[নবমত], সিটি কর্পোরেশনের বিভক্তি সংক্রান্ত বিলটি সংসদে পাস হয়ে গেলে সরকার দু’টি সিটি কর্পোরেশনে দু’জন প্রশাসক নিয়োগ করবে। সরকার ১২০ দিনের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন দেবে। সরকার এমনিতেই ডিসিসির নির্বাচন দিতে পারেনি। বর্তমান ডিসিসির মেয়র ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার টার্ম শেষ হয়ে যাবার পরও বর্তমান সরকার নির্বাচন দিতে পারেনি। যে সমস্যার জন্য সরকার নির্বাচন দিতে পারেনি, সেই সমস্যা থেকে যাবে। ফলে ডিসিসির বিভক্তি কোন কাজে আসবে না।
[দশমত] সবথেকে বড় সমস্যা সৃষ্টি হবে যদি প্রশাসকরা রাজনীতিবিদ হন যেটি হতেই হবে , তাহলে তারা নিজেরাও নানা কৌশলে ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইবেন। ফলে নতুন নতুন সমস্যা তৈরি হবে।
[এগারতম] চুরি চাট্টা আর নজির বিহীন দূনীতির ফলে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সাথে দাতা সংস্থাগুলোর সম্পর্ক ভালো নয়। পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক অর্থ ছাড়করণ বন্ধ রেখেছে এটা কারো অজানা নয়। এখন ডিসিসির বিভক্তির সিদ্ধান্ত দাতা সংস্থাগুলোকে মারাত্বক ক্ষুদ্ধ করতে পারে।
[বারোতম] এই সিদ্ধান্ত অতিলোভে তাতী নষ্ট কিংবা বুমেরাং হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিষয়টির বিশ্লেষণ প্রসংগে আমরা চীনের তিয়েন আনমেন এর ঘটনা কিংবা মিশরের বিল্পবের কথা বলতে পারি। মিসরের রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ারের ঘটনাবলি পৃথিবীর মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছিল ২১ বছর আগে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়েন আনমেন স্কয়ারে সংঘটিত সংঘর্ষের কথা। বিল্পব জোর করে করানো যায়না। মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকলে পরিস্থিতির দায় মেটাতে বিল্পব সংঘটিত হয়। মার্ক্সের মতে
শোষিতশ্রেণী বা প্রলিটারিয়েট শ্রেণী হচ্ছে বিপ্লবের অন্যতম হাতিয়ার। শ্রমিকশ্রেণী বিপ্লবকে সংগঠিত করবে ও রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করবে। তবে একুশ শতকে এসে এই ধারণাটি পুরো পাল্টে গেছে যেখানে বিল্পবের নেতৃত্ত্বে এসেছে তরুণ প্রজন্ম। হাতিয়ার হয়েছে ব্লগ ফেসবুক।

আমরা সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধ আর টিপাইমুখ বিরোধী গনজোয়ার সৃষ্টি হতে দেখেছি। যা থেকে নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে বাংলাদেশের আসন্ন বিল্পবের বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যায়না। তবুও আমরা কেউ সেই অশান্তি চাইনা।

কারণ আমাদের দেশ মিশর তিউনিশিয়া নয়। এটি ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত। এখনো একটি জনগণ নির্বাচিত সরকার শাসন করে। তাই সরকারের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান । আপনারা জনগণের স্বার্থ বিরোধী কাজ একের পর এক করা বন্ধ করুন। আমজনতাকে একটি বিল্পবের পথে উষ্কে দিবেন না। কারণ

বায়ান্ন, উনসত্তুর, একাত্ত্বর, নব্বই এর কোনটিই আপনাদের অজানা নয়। তাই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিষয়টি ভালোভাবে বিবেচনা করে এই ধরণের হটকারী অবস্থান থেকে সরে আসাটাই মঙ্গলের বিষয় বলে আমাদের মতো একজন সাধারণ নাগরিকের কাছে মনে হয়েছে। আমরা দেশের মাঝে শান্তি চাই। আমাদের কেউই প্রত্যাশা করিনা আমাদের দেশে একটি তিয়েন আনমেন, ওয়ালস্ট্রিট বা তাহরীর স্কোয়ার জন্ম নিক।

আমাদের দেশ হোক লিবিয়া আফগানিস্তান। আমাদের দেশে যদি অকুপাই ওয়ালস্টিটের মতো কোন ঘটনা ঘটে সেটা অনভিপ্রেত এবং সত্য কথায় বিড়ার বেজার হলেও বলতে হয় তার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।
ঢাকার প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে আমার দুটি লেখা শেয়ার করছি।
ঢাকার চারশ’ বছর উদযাপনে ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে গেছে আরও চারশ’ বছর
রাজধানী ঢাকার চারশ’ বছর শিরোনামে ইতিহাস বিকৃতিকারী এই হটকারীতার অবসান কবে হবে ?

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
শিক্ষার্থী, কলামিস্ট ও লেখক।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট
aurnabmaas@gmail.com

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s