বিশ্বমানবের স্থাপত্যকলা বিকাশের এক উজ্জল নিদর্শন: মিশরের পিরামিড


পিরামিড
অন্য কিছুর কথা বাদ দিলেও শুধুমাত্র স্থাপত্য শিল্পের জন্যই মিসরীয় সভ্যতা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এই স্থাপত্য শিল্পগুলোর মধ্যে পিরামিড এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। অন্যান্য কারন থাকলেও মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে এই স্থাপনা গুলো নির্মান করা হয়েছিল বলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারনা করেছেন। মৃত্যুর পর মানুষের আত্মাগুলো যেন শান্তিতে থাকে এবং জীবিতদের উপকার করে-এমন ধারনা থেকে ঐ সময়ের সমাজের উঁচু শ্রেণীর মানুষ যেমন: ফারাও (সম্রাট), পুরোহিত, রাজ কর্মচারী- এদেরকে সমাহিত করার এমন পদ্ধতি খুজে বের করে যাতে মৃত্যুর পরও তাদের দেহ অবিকৃত ও সুরক্ষিত করে রাখা যায়। মূলত এভাবেই পিরামিডের উৎপত্তি। প্রায় ১৩৮ টি পিরামিড আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলো ফারাও ও তার সঙ্গীদের সমাধি হিসেবেই তৈরি করা হয়েছিল।
পিরামিড বলতেই চোখের সামনে তিন কোনাকার প্রিজমের মতো স্থাপনা ভেসে উঠলেও প্রথমদিককার পিরামিডগুলো ছিল আয়তাকার। এগুলোকে বলা হয় মাস্তাবা (Mastaba)।
মাস্তাবা (Mastaba)
আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার পূর্বে তৃতীয় রাজবংশের ফারাও জোসার (Djoser)- এর রাজত্বকালে ২৬৩০- ২৬১১ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে (Saqqara) সাক্কারা-তে প্রথম পিরামিড তৈরি করা হয় যার উচ্চতা ছিল ২০৪ ফুট। তিনিই প্রথম ধাপযুক্ত পিরামিড তৈরি করেছিলেন। Step Pyramid বা ধাপযুক্ত পিরামিড তৈরির পেছনে একটি কারন প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারনা করেছেন। সম্ভবত তারা এই ধাপগুলোকে স্বর্গের সিড়ি মনে করত। অর্থাৎ ফারাওরা এই সিড়ি দিয়ে স্বর্গে পৌছবেন এমন ধারনা থেকে সম্ভবত এই ধরনের পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল।
Step Pyramid বা ধাপযুক্ত পিরামিড
৪র্থ রাজবংশের ফারাও (Sneferu) স্নেফরু সর্বপ্রথম ২৬০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে (Dahshur) দাসুর- অঞ্চলে বর্তমান পিরামিডগুলোর প্রায় সমরুপ একটি পিরামিড নির্মান করেছিলেন। একে Bent Pyramid বা তির্যক বা বাকানো পিরামিড বলা হয়ে থাকে। এর উচ্চতা ছিল ৩৪৪ ফুট। এই পিরামিডের সাথে বর্তমান পিরামিডের পার্থক্য হলো এর ধারগুলো। বর্তমান পিরামিডগুলোর ধারগুলো এর তুলনায় অনেক মসৃন ও তিক্ষ্ণ। মূলত এর পরেই পিরামিডগুলো বর্তমান রূপ পেয়েছিল।
Bent Pyramid বা তির্যক পিরামিড
ভুবন বিখ্যাত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পিরামিড নির্মান করেছিলেন ফারাও (Sneferu) স্নেফরু-র ছেলে ফারাও (Khufu) খুফু। ২৫৮৯-২৫৬৬ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে (Giza) গিজায় নির্মিত এই বিখ্যাত পিরামিডটি অন্য পিরামিডগুলোর তুলনায় বিখ্যাত হয়ে আছে এর বিশেষ নির্মানশৈলির কারনে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা গবেষনা করে যে সকল তথ্য পেয়েছেন এই পিরামিড সম্পর্কে তা আজও এই আধুনিক পৃথিবীর মানুষকে চরম বিস্মিত করে তোলে।
Pyramid at Giza (Front view)

প্রায় ৪৫০০ বছর আগে যে পিরামিডটি নির্মান করা হয়েছিল সেটির ভিত্তি ছিল পুরো বর্গাকার। ২৩০০০০০টি পাথরের ব্লক যেগুলোর প্রতিটির গড় ওজন ২.৫ টন। পুরো পিরামিডটির ওজন প্রায় ৬০০০০০০ টন। অবাক করা বিষয় হলো যে বর্গাকার ভিত্তির উপরে এটি নির্মান করা হয়েছিল তার অবস্থান পুরোপুরি উত্তর-দক্ষিন মেরু বরাবর নির্দিষ্ট। একচুল পরিমানও এদিক-সেদিক নয়। আরেকটি অবাক বিষয় হলো এর উচ্চতা দিয়ে এর পরিধিকে ভাগ করা হলে পাওয়া যায় সেই ধ্রুব সংখ্যাটিকে যার রহস্য আজও বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা। হ্যাঁ, সেই ধ্রুব সংখ্যাটি হলো π (পাই)। এই পিরামিডের উচ্চতা ৪৮১ ফুট। এটি এমনভাবে নির্মান করা হয়েছিল যে, মিসরের যেখানেই সূর্য উঠুক সর্বপ্রথম আলোকরশ্নি এর চূড়ায় পৌছবে।
Giza pyramid complex
সংক্ষেপে আজ এ পর্যন্তই। অন্য কোনদিন আরও পিরামিডের নির্মান কৌশল, কারন, বর্তমান অবস্থা বিশদভাবে লেখার চেষ্টা করব।
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s