বি, সি, এস পরীক্ষার নামে বুদ্ধি প্রতিবন্ধকতার এই জনজোয়ার বন্ধ হোক


বি সি এস পরীক্ষা শুরু হবে আগামী কাল। চারদিকে এর তুমুল প্রস্তুতি। মনে হয় ১৯৭১ এ ক্রাকডাউনের আগেও পুরো বাংলাদেশ এই প্রস্তুতি নেয়নি। আজ সবার প্রস্তুতি দেখে এক মহারণের কথাই মনে হয়। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেশের মেধাবী তরুণদের উচিত এই আজগুবি পরীক্ষা প্রতিরোধ করে এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনে সোচ্চার হওয়া।

সহজ প্রশ্নপত্র আর দয়াদাক্ষিণ্যের মার্ক নিয়ে এ প্লাস পা্ওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের মেধা যেভাবে হত্যা করা ঠিক সেই নিহত মেধার কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে বি, সি, এস পরীক্ষার কথা বলা যায়। মাত্র ৬০ মিনিটের এক ঘৌড়দৌড় আর পুরো জীবনের মীমাংসা। এখানে বিচারকের থেকেও অনেক সময় বড় হয়ে ওঠেন মামা, চাচা খালুরা। তাদের জোরে অঘাচণ্ডিরা যেমন মহাজ্ঞানী হয়ে ওঠে তেমনি মেধাবীর অপমৃত্যুও ঘটে।

ওলন্দাজ ব্যান্ড ভেংগাবয়েজেরসেই গানটা খুব মনে পড়ছে আজ:-W
অনুপম রোমান্টিকতা ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে সেখানে বলা হয়েছিল

My heart goes shalala lala, shalala in the morning.
Oh oh oh shalala lala, shalala in the sunshine.
Shalala lala, shalala lala in the evening.
Shalala lala shalala lala just for you
Shalala lala shalala lala just for :Dক্ষমতাসীন দল

বি, সি , এস এর নামে আজ এই রোমান্টিকতা লক্ষ করা যায় রাজনৈতিক দলের ক্যাডারদের সার্টিফাই করার ক্ষেত্রে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের আজ ভিক্ষুকের কাতারে এনে দাঁড় করিয়েছে বি, সি এস পরীক্ষার কোটা সন্ত্রাস। আজ সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধারা জীবিত থাকলে এই কোটা সন্ত্রাস রুখে দাড়াতে সোচ্চার হতেন। তারা চেয়েছিলেন একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। তারা কখনই তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে সরকারের দ্বারস্থ হওয়ার জন্য যুদ্ধ করেননি। এখন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান থেকে নাতি নাতনী পেরিয়ে তার জামাইরা পর্যন্ত কোটার আওতায় আসছে। সেখানো অবশিষ্ট জনগোষ্ঠী হয়ে গেছে ঢেউটিন।

দেশের ১৬ কোটি জনগণের জন্য আছে শতকরা ৪৫ ভাগ আর বাকিটা আছে বিবিধ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিদের জন্য। এখানে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি বলতে চাইছি এজন্যই কোটা হতে পারে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য। কিন্তু কোটাধারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার মানে একটি জাতির প্রতিবন্ধিদের কাধে সওয়ার হওয়া। কোটা হিসেবে যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে সেটা হাস্যকর এবং পুরো জাতির জন্য ঘৃণা ও ধিক্কারের।

কোটা পদ্ধতি বাদ দিলে অদ্ভুদ এই পরীক্ষার ধারা ও নিয়মনীতিও সমান প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার দাবি রাখে। বিশেষ করে একজন প্রকৌশলীর কোনো দর্কার নাই বঙ্গবন্ধু সেতুর পিলার সংখ্যা কতো, কিংবা তৈমুর লঙএর স্ত্রীর নাম কি ছিল। তেমনি একজন চিকিৎসকের কোনো প্রয়োজন নাই দেশের ইকোপার্কগুলোর নাম কি। হাস্যকর জগাখিচুড়ি টাইপের মানহীন প্রশ্নে প্রিলিমিনারীর নামে কিছু বুদ্ধিপ্রতিবন্ধির সহজ উত্তোরণের সুযোগ হয় বৈ কি। তারপর তারা কোটার আওতায় সহজে পার পেয়ে যায়। অন্যদিকে ফালতু এই প্রশ্নপত্রে তাদের থেকে বেশি মার্ক পেয়েও বাদ পড়ে যায় প্রকৃত মেধাবীরা। ফলে দেশ ধীরে ধীরে নিপতিত হচ্ছে গভীর এক দুর্যোগের দিকে।

বলতে দ্বিধা নাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর দেখেছি গঞ্জিকায় চুর হওয়া এক বিশেষ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চেহারা কোনদিন শ্রেণিকক্ষে দৃষ্টিগোচর হয়না। কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে বন্ধু/বান্ধবীদের মারফত তারা নোট সংগ্রহ করে ঠিকই পরীক্ষা পাট টেনেটুনে উতরে যায়। অন্যকোনো টেনশন না থাকায় কিছু সাধারণ জ্ঞানের বই কিনে তারা দিনের পর দিন সেগুলো খোদার খাসির মতো মুখস্থ করতে থাকে। আর বি সি এস নামের এই তামাশায় সেগুলো বমি করে তারা। তারপর মামা খালুর তদবির আর সেই বাপ দাদার সম্পত্তি কোটা। ব্যাস কেল্লা ফতে..
এরাই হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিদ্যাপীঠের শিক্ষক। কিংবা পুলিশ কিংবা অন্য কিছু। তাদের কাছ থেকে কি ফলাফল জাতি আশা করে ??
এক কথায় বলতে গেলে কিছুই না সোজা ঘোড়ার আন্ডা।

আমি জানি এই পোস্ট অনেকের জ্বলূনির কারণ হবে। আমি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে নিয়ে কিছু বলিনি। জাতির ভবিষ্যতের ঘোর অন্ধকার বিবেচনা করেই পোস্ট করতে বাধ্য হলাম। এখানে কেউ কষ্ট পেলে সেটা তার দৈন্যতা। আমার বা আমার মতো ভুক্তভোগীদের কিছু করার নেই।

আমি এই পরীক্ষা নামের তামাশাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। দেশের তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি শিক্ষার নামে যে তামাশা করা হচ্ছে তার প্রতিবাদ করা। অন্তত বি, সি এস এর কোটা পদ্ধতি আর প্রশ্নপত্রের ধরণে পরবর্তন না আনা পর্যন্ত এই ফালতু পরীক্ষা বর্জন করা। দেশের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের। তাই তারা বি,সি এস নামের এই প্রলোভনে পা দিয়ে বসে বার বার হতাশ হয় সেটা শুধু দু:খের বিষয় নয়। বীরের জাতি হিসেবে আমাদের জন্য ঘৃণা, ধিক্কার ও কলংকেরও বটে।
[-x:-W

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s