কৌতুক কালেকশান পর্ব -০১


বিভিন্ন বাংলাব্লগ ঘুরলে প্রচুর কৌতুক পড়া হয়। এগুলো বিভিন্নভাবে সংগৃহীত। এগুলো কেউ কেউ রচনাও করে থাকেন। তাই কৌতুক সংগ্রহ করে রাখছি। বিভিন্ন যায়গা ঘেটে বুকমার্ক থেকে পড়া অনেক দুষ্কর। তারথকে একজায়গায় থাকলে সেগুলো পড়া অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই এই কৌতুক সংগ্রহের চেষ্টা।

মূলপোস্ট:

সোভিয়েতস্কি কৌতুকভ সংগ্রহ

ক্যাপ্টেন সৈনিকদের ক্লাশ নিচ্ছিলেন, একজন সৈনিক দাঁড়িয়ে বললো, স্যার কুমির কি উড়তে পারে?
ক্যাপ্টেন বললেন, না, কুমির উড়তে পারেনা।
ক্যাপ্টেন ক্লাশের পড়ানোয় মন দিলেন। সৈনিকটি দাঁড়িয়েই রইলো। কিছুক্ষণ পর আবার বললো, স্যার কুমির কি উড়তে পারে?
ক্যাপ্টেন একটু বিরক্ত হয়ে বললেন, যাদের বুদ্ধি হাটুতে তাদের জন্য বলছি, কুমির উড়তে পারে না।
যথারীতি ক্যাপ্টেন পড়াচ্ছেন আর সৈনিক দাঁড়িযেই আছে। আবার একটু পর সৈনিক বললো, স্যার কুমির কি উড়তে পারে?
ক্যাপ্টেন এবার রেগে গিয়ে বললেন, যাদের মাথায় গোবর ভরা তাদের জন্য বলছি, কুমির উড়তে পারে না।
এবার সৈনিকটি বললো, কিন্তু স্যার, জেনারেল স্যার যে বলছিলেন, কুমির উড়তে পারে!
ক্যাপ্টেন এবার কয়েক মূহুর্ত ভেবে বললেন, ও জেনারেল স্যার বলেছেন নাকি? তাহলে কুমির উড়তে পারে তবে খুব নিচ দিয়ে!

২.
জঙ্গলে পশুদের ডাক্তার শেয়াল। এক নেকড়ে জ্বরের ওষুধ নেবার জন্য শেয়ালের গুহায় গেল। গিয়ে দেখলো এক সুন্দরী মাদী খরগোস চুপচাপ শুয়ে আছে। নেকড়ের মাথায় কুবুদ্ধি চেপে গেল। শেয়ালকে বললো, শেয়াল ভায়া আবার তো জ্বর, এখন কি মদ খাওয়া চলে?
শেয়াল বললো, ওটাই তো এখন সবচেয়ে বড় ঔষধ হুজুর।
নেকড়ে শেয়ালকে কড়কড় টাকা দিয়ে মদ কিনতে পাঠালো। শেয়াল ফেরার আগেই মাদী খরগোসের সঙ্গে ৩ বার সঙ্গম করে ফেললো। কিন্তু খরগোসের তেমন কোনো ভাবান্তর হল না, বাধাও দিল না।
শেয়াল ফিরতেই নেকড়ে জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা ভায়া, এই খরগোসটা কে?
শেয়াল বললো, ও পাশের গ্রাম থেকে এসেছে, এইডস সারাতে!

৩.
এক সৈনিক গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বাড়িতে এসে বাবা-মার সাথে লনে বসে চা-খাস্তা খাচ্ছে। বাসার সামনে দিযে প্রায় অর্ধউলঙ্গ তিনটা নারী হেঁটে যাচ্ছে। সৈনিক সেদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। বাবা-মা ভাবছেন, ছেলে বড় হয়েছে, এবার বিয়ে দেয়া দরকার।
মেয়েগুলো হেঁটে চলে যাওযা মাত্রই সৈনিকটি বলে উঠলো, দেখলে বাবা মেয়েগুলোকে? একসাথে তিনজন হাঁটছে কিন্তু একজনের কদম মিলছে না!

৪.
দুই সৈনিকের মধ্যে কথা হচ্ছে।
প্রথম সৈনিক: হিব্রু ভাষাটা শেখা দরকার।
দ্বিতীয় সৈনিক: হিব্রু ভাষা কেন?
প্রথম সৈনিক: স্বর্গে নাকি হিব্রু ভাষা চালু আছে!
দ্বিতীয় সৈনিক: তুই স্বর্গে যাবি নাকি? নরকে গেলে কি করবি?
প্রথম সৈনিক: কেন রুশ ভাষা জানা আছে তো!

৫.
সেই সৈনিককে মৃত্যুর পরে যমদূত এসে নিয়ে গেল।
অনেক আরাম আয়েশ করে দিন কাটাতে থাকলো। স্বর্গে অনেক শান্তি। কিন্তু সোভিয়েত রাশিয়ার সৈন্য বাহিনীর কারো স্বর্গ প্রাপ্তি হয়েছে বলে সে জানে না।
একদিন সে এক প্রহরীকে বলে বসলো, আচ্ছা আমি এমন কি পূণ্য করেছি যে আমাকে তোমরা স্বর্গে পাঠালে?
প্রহরী: কে বললো এটা স্বর্গ?
সৈনিক: কেন, এখানে তো অনেক সুখ শান্তিতেই আছি আমি।
প্রহরী: তুমি কোথা থেকে এসেছো বলতো?
সৈনিক: সোভিয়েত রাশিয়া!
প্রহরী: ও তাহলে তো ঠিকই আছে…।

৬.
একবার প্রেসিডেন্স ক্রুশ্চেভ গেলেন আমেরিকা সফরে। সেখানে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট তাকে শ্রমিকদের সাথে এক মত বিনিময় সভায় নিয়ে গেলেন এবং ক্রুশ্চেভের সামনে ঘোষনা দিলেন, “আজ থেকে তোমাদের বেতন দ্বিগুণ করা হলো”। শ্রমিকরা খুব খুশি। তখন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বললেন, “দেখলেন আমাদের শ্রমিকরা কত খুশি!”

আমেরিকান সেই প্রেসিডেন্টকে রাশিয়ায় দাওয়াত দিলেন ক্রুশ্চেভ, এবার তিনি শ্রমিকদের সাথে একটি সভায় নিয়ে গেলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে এবং বললেন, “দেখবেন আমাদের শ্রমিকরা কত খুশি এখানে।”
তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বললেন, “আজ থেকে সবার বেতন কমিয়ে অর্ধেক করা হলো।”
প্রচন্ড করতালি।
তিনি বললেন, “আজ থেকে প্রতি ১০ জনের একজনকে শ্রমশিবিরে পাঠানো হবে।”
প্রচন্ড করতালি।
তিনি এবার বললেন, “আজ থেকে প্রতি ২০ জনের একজনকে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে।”
এবারো প্রচন্ড করতালি। হঠাৎ একজন দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, “ফাঁসির দড়ি কি আমরা নিয়ে আসবো না ট্রেড ইউনিয়ন সরবরাহ করবে?”

৭.
প্রশ্ন: রাস্তার মোড়ে যদি কোন নারীর সাথে সঙ্গম করা হয় তাহলে কি হবে?
উত্তর: উপদেশের ঠেলায় কান ঝালাপালা হয়ে যাবে।

৮.
সৈনিকদের ক্লাশ নিচ্ছেন ক্যাপ্টেন। মাধ্যাকর্ষন সম্পর্কে বুঝাচ্ছেন। তিনি বললেন, কোন কিছু যত উপরেই ছুঁড়ে দেয়া হয় না কেন তা আবার মাটিতে এসে পড়বে।
হঠাৎ এক সৈনিক দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, স্যার মাটিতে না পড়ে যদি পানিতে পড়ে তাহলে?
ক্যাপ্টেন: ওটা নৌবাহিনীর ব্যাপার তোমার না জানলেও চলবে।

৯.
একলোক প্রতিদিন বারে যায় মদ খেতে। তবে খাওয়া শুরুর আগে দেয়ালে টাঙ্গানো স্তালিনের ছবির দিকে মুখ করে বসে এবং পেগের পর পেগ খেতে থাকে।
তো একদিন বারের ওয়েটার কৌতুহলী হয়ে জানতে চাইল, ‘স্যার প্রতিদিন ঐ লোকটার ছবি সামনে রেখে পান করেন কেন?’
‘যখন ঐ বাজে লোকটাকে ফেরেস্তা মনে হতে থাকে তখনই বুঝে যাই, আমার নেশা হয়েছে, আর খাওয়া ঠিক না।’

১০.
দুই গবেষক কথা বলছে-
– আচ্ছা সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা মার্কস, এঙ্গেলস আর লেনিনকে আমরা বিজ্ঞানী বলতে পারি?
– কখনোই না।
– কেন?
– কারণ বিজ্ঞানীরা তাদের ধারণার প্রথম প্রয়োগ করে আগে গিনিপিগের উপর, মানুষের উপর নয়।

১১.
জেনারেল ক্রুশ্চেভ একবার একটি শুয়োরের খামার পরিদর্শনে গেলেন। শুয়োরের খাচার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুললেন। কিন্তু সাংবাদিকরা পড়লো মহা বিপদে। কাল সকালে পত্রিকায় জেনারেলের ছবি আসবে কিন্তু ছবির ক্যাপশন কি লিখবে?
“শুয়োর পরিবেষ্টিত জেনারেল ক্রুশ্চেভ” – না হলো না।
“শুয়োরদের সাথে জেনারেল ক্রুশ্চেভ” – না এবারো হলো না।
পরদিন পত্রিকায় ছবি এল, ছবির ক্যাপশন হলো; “জেনারেল ক্রুশ্চেভ, বাম থেকে তৃতীয়”!

১২.
এক ক্যাপ্টেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে শুকিয়ে গেছেন। পুরানো প‌্যান্টগুলো ঢিলা হয়ে গেছে। তিনি রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে বারবার প‌্যান্টটাকে টেনে তুলছেন।
একভদ্রমহিলা সেটা অনেকক্ষণ ধরে খেয়াল করছিলেন। তিনি ক্যাপ্টেনের সামনে গিয়ে বললেন, বারবার এটা করা কি ভাল হচ্ছে?
তখন ক্যাপ্টেন বললেন, আপনার মতে প‌্যান্টটা ছেড়ে দেওয়াই কি ভাল হবে?

১২.
দুই বন্ধুর গল্প হচ্ছে।
– জানিস, আমার মেয়েটা না বড় হয়ে গেছে। সেদিন দেখি আয়নার সামনে দাড়িয়ে লিপস্টিক লাগাচ্ছে।
– হুম, আমার ছেলেটাও বড় হয়ে গেছে। সেদিন দেখি আয়নার সামনে দাড়িয়ে লিপস্টিক মুছছে।

Advertisements

One thought on “কৌতুক কালেকশান পর্ব -০১”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s