নারী ও শিশু অধিকার প্রশ্নে বিশ্বে প্রচলিত নীতির নেপথ্যের কিছু কথা (পর্ব-০১)


আজ পশ্চিম যেখানে ভারত পাকিস্তান কিংবা এশিয়া ও আফ্রিকার তথাকথিত তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলোতে শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা আর নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে লম্বা চওড়া শ্লোগান দিয়ে মুখে ফেনা তুলছে সেখানে খোদ আমেরিকা বা বিভিন্ন ইউরোপের দেশগুলোতে নারীদের অধিকার মারাত্মকভাবে হরণ করে নেয়ার পাশাপাশি শিশুদের জীবন দূর্বিসহ এক ঘুর্ণিপাকের মধ্যে পড়ে আছে যার খবর হয়তো আমাদের অনেকের ই অজানা। বাংলাদেশের পাশাপাশি পৃথিবীর বেশ কয়েকটি বিখ্যাত দেশের নামকরা ব্লগ গুলোতে আমার বিচরণ বহুদিনের। আর বর্তমান ভার্চুয়াল বিশ্বে সংবাদ পত্রের বদলে এই ব্লগই হয়ে উঠেছে সমাজের দর্পণ, যেকোন সংস্কৃতির স্পষ্ট প্রতিনিধিত্বকারী। আমি আমার এই লেখাতে তুলে ধরতে চাইছি একটি স্টেডিয়ামে যখন ডে নাইট খেলা চলে তখন ফ্লাড লাইটের আলোয় পুরো মাঠ আলোকিত হয়ে থাকলেও ঠিক ফ্লাড লাইটের নিচের অংশই যেমন মারাত্ত্বক অন্ধকারচ্ছন্ন থাকে তেমনি মুখে কথার তুবড়ি উঠলেও এশিয়ার বাইরে কিভাবে নারী নির্যাতন আর শিশুদের প্রতি অবহেলা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমরা যারা প্রত্নতত্ত্ব বা নৃবিজ্ঞানের ছাত্র তারা দেখেছি কিভাবে পশ্চিমারা তাদের আধিপত্য বিস্তারে বস্তুবাদকে গ্রহণ করেছে আর তার আলোকে একটি বিষয় কিভাবে অবিনির্মাণ সম্ভব তা নিয়ে খোদ পশ্চিমা বিশ্বেই মতভেদ স্পষ্টত লক্ষ্যণীয়। আমরা দেখি পশ্চিমারা আধুনিকতার ধারণার প্রকাশে একদিকে বেকন দেকার্তের দর্শনের আশ্রয় নিয়ে মিথ লিজেণ্ড ও লিখিত উপাত্তকে ইতিহাসের পাতা থেকে খারিজ করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে তারাই যখন সভ্যতার ধারণাকে নিজেদের প্রয়োজনে টেনে এনেছে তখন সভ্যতার মানদণ্ড হিসেবে লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার এবং নানাবিধ বিষয়কে বিবেচনায় আনা কোন বাঁধ সাধেনি। আজ তেমনি তারা অপশ্চিমাদের একটু হেয় করতে নিজেদের বড়ত্ব জাহিরের একটি সহজ মাধ্যম হিসেবে একটি ধারণার দৃশ্যায়ন করছে প্রতিনিয়ত। তা হচ্ছে অপশ্চিমা দেশগুলোতেই কেবল নারী নির্যাতন হয় আর শিশুদের কোন অধিকার নাই। তাই তারা কোটি কোটি টাকা অর্থলগ্নি করে ইউনিসেফ সহ নানান সংগঠণ খুলে এই সকল দেশের অসহায় মানুষের ভাগ্য বিধাতার আসন দখল করার এক সহজ সুযোগ নিতে চাইছে। কিন্তু বাস্তবতায় দেখতে গেলে আমারা সহজেই বুঝি এর আসল উদ্দেশ্য কি ?

প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ইউনিসেফের গাড়ী হাকিয়ে বেড়ানো কর্মকর্তাদের কোন বস্তিতে ঢুকার ফুরসত মিলে না তারা তাদের অধিকাংশ সময় ব্যায় করেন পাচতারা হোটেলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষেই। আর অনেকটা কষ্ট করে যে সকল বক্তব্য সেমিনার সিম্পেজিয়ামে উত্থাপন করেন তার অনেকটাই সবার কাছে অস্পষ্ট। আর আমারা তাদের কাছ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে কেবল একটা সুন্দর কথা শুনতেই অভ্যস্ত। ‘উই আর কনসার্নড’। তারা শুধু আমাদের শিশু আর নারীর অধিকার নিয়ে কনসার্নড ই থাকেন। নারী নির্যাতনের সমাধান আর শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠাতে হিসাবে পশ্চিমা বিশ্ব সমস্ত পৃথিবীব্যাপী তাদের একটি সাধারণীকৃত মডেল প্রদান করার প্রয়াসী। নারী অধিকারে জন্য তার নারীর স্বাধীনতাকে জোরের সাথে প্রচার করলেও, প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার মিথ্যা শ্লোগানের পেছনে চাপা পড়ে থাকে নিগ্রহের শিকার হাজারো নারীর করুণ আর্তনাদ, হাজারো কুমারী মায়ের যন্ত্রণা ভরা জীবনের ইতিবৃত্ত। হতাশা থেকে জীবনের দিশা হারিয়ে নেশায় চুর হওয়া কিংবা আত্মহননের পথ বেছে নেয়া হাজারো নারীর করুণ কাহিনীর পৃষ্ঠা হয়তো কোনদিনই উল্টানোর সুযোগ তাদের হয়নি হয়তোবা হবেও না। আর কুমারী মায়ের সন্তান হওয়ার সুবাদে একটি নিরীহ শিশু যে পৃথিবীর আলো দেখার পর থেকেই কতটা নিগ্রহের শিকার হতে থাকে তার কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পশ্চিমের চোখধাধানো জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে নারীরা কিভাবে এক অভিনব দাসত্বের শৃংখলে আবদ্ধ আর তার পাশাপাশি নিরপরাধ হাজার হাজার শিশু কিভাবে বিপথগামী হয়ে উঠে তার একটি কেস স্টাডি গোছের লেখা তুলে ধরার চেষ্টা করবো। বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগীতা, বিকিনী প্রতিযোগীতা,সেলিব্রেটি গেম শো,মডেলিং, ফ্যাশন ম্যাগাজিন কিংবা বিজ্ঞাপনের সাহায্যে আজ নারী আর পণ্যের মধ্যে কোন পার্থক্য খুজে নেয়া দুষ্কর। এর পাশাপাশি পেন্টহাউস ম্যাগাজিন, বাটম্যান,প্লে বয়, ম্যাক্সিম, দ্য ম্যান, ইরোটিকা সহ বিভিন্ন পর্ণোগ্রাফিক ম্যাগাজিন গুলো তাদের মডেল খুজতে কি ধরণের পাশবিক পথ অবলম্বন করছে তা যে ভাষায় বলা যাবে তা হয়তো একটি সভ্য সমাজের ভাষাতে সেন্সর পাওয়ার মতো না। অন্যদিকে পর্ণো মুভি তৈরী করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দরিদ্র দেশ থেকে নারীদের পাচার করে পশ্চিমে নিয়ে তাদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো। হয় তাদের নিজের সত্তাকে হরন করে একটি অমাননিক সত্তায় পরিণত করতে তাদের উপর না রকম জুলুম অত্যাচারের পরীক্ষা চালানো হয়। তাদের অনেকে অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে মারা যায়, অনেকে জীবনের থেকে সবকিছু হারিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয় আর অনেককে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়। অন্যদিকে একই দেহে দুই সত্তার উপস্থিতি বা শি-মেল তৈরীতে কিংবা টি এস সিডাকশনের ক্ষেত্রে মারাত্মক ধরণের অস্ত্রোপচার করা হয় যা কেবল বিকৃত রুচির মাণুষের পক্ষেই সম্ভব। এতক্ষণ বলতে চেষ্টা করেছি পর্দার পেছনের কাহিনী। আর যখন আমরা পশ্চিমকে একটি পর্দায় সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত ও দৃশ্যায়িত হতে দেখি স্বাধীন সমাজে তাদের ভূমিকা নির্ধারণের ক্ষেত্রে, স্বাধীন পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে কিংবা স্বাধীন পুরুষের সাথে সম্পর্ক তৈরীর ক্ষেত্রে নারী আর পুরুষ সমান অধিকারই ভোগ করে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তাদের শরীরের ওজন, প্রতিটি অঙ্গের মাপ, পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে সাজসজ্জা পর্যন্ত সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয় ফ্যাশন, ডায়েট কিংবা কসমেটিকস ইন্ডাস্ট্রীর দ্বারা। সমাজের নির্দেশ মানতে গিয়ে তারা নিজেকে পরিণত করে সস্তা বিনোদনের পাত্রে। আর, মুক্ত-স্বাধীন হবার জন্য বাধ্যতামূলক ভাবে কাঁধে তুলে নেয় দেহ কে ভিত্তি জীবিকা উপার্জনের মতো নোংরা ও কঠিন দায়িত্ব। আর প্রগতির কথা বলতে গিয়ে একটু আনন্দ করতে গিয়ে তারা দিনের পর দিন আনন্দের ফসল হিসেবে আনছে তাদের আনন্দের ফসল কুমারী মায়ের সন্তানদের।

পশ্চিমের এই সমাজ কাঠামোকে তারা এমনভাবে নিজেদের মতো করে তৈরী সেখানে এটি এমন এক জীবনব্যবস্থা, যার মূলভিত্তি স্বার্থসিদ্ধি হলেও যাদের স্বার্থ প্রতিনিয়ত হরণ করা হয় তাদের মুখে রা টি আনার কোন সুযোগ নেই। এ সমাজব্যবস্থায় মানুষের নেই কারো কাছে কোন জবাবদিহিতা বরং দেখা যায় লাগামহীন ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারীতার সুযোগ। তাই, পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত সমাজে জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি আর চূড়ান্ত ব্যক্তি স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে মানুষ, অন্যের চাওয়া-পাওয়া, আবেগ-অনুভূতি, অসহায়ত্ব এমনকি নারীকেও পরিণত করে ভোগ্যপণ্যে আর তা ক্রমশ হয়ে ওঠে ব্যবসায়ের পুজি। আর যারা ধর্মনির্ভর নারী অধিকার এর কথা বলেন তাদের দৃষ্টিতে পুঁজিবাদী সমাজ নারীকে দেখে নিরেট ভোগ্যপণ্য ও মুনাফা হাসিলের উপকরণ হিসাবে যার জন্য দায়ী নারী নিজেই। আসলে আমাদের সমাজের নারীবাদী চেতনার মূল কথা হয়ে দাড়িয়েছে নাস্তিক্যবাদ। কিন্তু এই যারা উপরোল্লিখিত পর্ণোগ্রাফিক ম্যাগাজিন বা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা তাদের সবাইযে নাস্তিক আবার সবাই যে ধর্ম বিশ্বাসী এমনটা নয়। আসলে আমদের সমাজের জ্ঞান আর ধারণার অনুশীলন এমন একটা দুরাচারী পর্যায়ে গেছে যে নারীদের এক শ্রেণী ভাবে তাদের পোশাক পায়ের গোড়ালি তেখে যতটা উপরে উঠবে (অনেক সময় মাত্র দুই খন্ড অনেক সময় থাকেও না) তারা ততই প্রগতিশীল আর আধুনিক হবে অন্যদিকে আর এক শ্রেণী মনে করে তাদের নিজেদেরকে যতটা এক্কেবারে চাপা দিয়ে রাখবেন তারা ততটাই প্রকৃতির নিয়মের অধীনে আছেন । তাদের এই ধ্যান ধারণার ফলে একটি শ্রেণী বরাবর ধর্মীয় অনুশীলন করার ফলে বারবার নিগৃহীত হচ্ছে অন্যদিকে অপর শ্রেণী বেশি উপরে উঠে একসময় হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। আমি বলতে চাইছিলাম একটি সীমারেখার কথা কোন কিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি করা ঠিক না। আমাদের দেশের উষ্ম আর্দ্র আবহাওয়াতে আমাদের জীবন বাচানো যেখানে দায় সেখানে যদি পশ্চিমের ঠাণ্ডা পরিবেশের অনুকরণ করতে যদি গ্যালন গ্যালন মদ গেলা হয় আর পশ্চিমের নারীদের অনুকরণে আমাদের নারীরাও যদি ধীরে তাদের পোশাকের আকৃতি ছোট করে উপরের দিকে তুলতে থাকে তবে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবেনা। এর জন্য প্রয়োজন সময় ও কাল উপযোগী ধারণা আর বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ। আমরা আলোকপর্বের ইউরোপের সমাজের ক্রমপরিবর্তনের কথা বিচার করতে গেলে সহজেই এই ধারণাটি বুঝতে পারি। সাইবেরিয়ার ঠাণ্ডায় যেমন পহেলা বৈশাখের মতো লুঙ্গি কাছা দিয়ে লাঠি খেলা যায় না তেমনি আমদের দেশেও ওদের সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। কারণ জোর চেষ্টায় বাঘকে ট্রেনিং দেয়া যায় তাকে আমার ট্রেইন্ড বলি কিন্তু কখনই শিক্ষিত বলতে পারবো না।

ফলে, দেশের সমাজ সংস্কৃতির সাথে মিল না রেখে স্বপ্রণোদিত নারী সমাজের কোন সম্মানিত সদস্য হিসাবে বিবেচিত না হয়ে, সমাজে প্রচলিত অন্যান্য পণ্যের মতোই বিবেচিত হয়। মুক্ত সমাজ, মুক্ত মানুষ, মুক্ত অর্থনীতি ইত্যাদি পশ্চিমা পুঁজিবাদী জীবনদর্শনের মূলমন্ত্র হলেও, মুক্ত সমাজের মুক্ত জীবনের ধারণা নারীকে মুক্তি দেয়নি বরং বহুগুনে বেড়েছে তার উপর অত্যাচার আর নির্যাতনের পরিমাণ আর আষ্টেপৃষ্ঠে করেছে শৃঙ্খলিত। বাস্তবতা হলো, স্বাধীনতার ধারণা পশ্চিমা সমাজের মানুষকে ঠেলে দিয়েছে স্বেচ্ছাচারী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন এক জীবনের দিকে। যেখানে স্বাধীনতার অপব্যবহারে নির্যাতিত হচ্ছে নারী, পুরুষ , বৃদ্ধ কিংবা শিশু সে যেই হোক না কেন?। জবাবদিহিতার অনুপস্থিতিতে এক মানুষের স্বাধীনতা হচ্ছে অন্য মানুষের দাসত্বের কারণ হয়ে দাড়ায় তা কেউ বোঝে না কিংবা বোঝার চেষ্টাও করে না। আর, ব্যক্তি স্বাধীনতার চূড়ান্ত অপপ্রয়োগে তাদের সমাজে বাড়ছে ধর্ষণ, যৌন কেলেংকারী, কুমারী মাতৃত্ত্ব, শিশু দের অবহেলা ও অযত্ন প্রভৃতি অমানবিক ও পাশবিক ঘটনা। এছাড়া, সীমাহীন স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীগুলোও শুধুমাত্র লাভবান হবার জন্য নারীকে পরিণত করছে নিখাদ ভোগ্যপণ্যে যা এই সব পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত নারীরাও বোঝে না বোঝার চেষ্টাও করে না বরং এই ধরণের পণ্যে পরিণত হওয়াকে তার তাদের গৌরব হিসেবেই দেখতে আগ্রহী। বর্তমানের সমাজে তথাকথিত অধিকার প্রতিষ্ঠাকারীরা কিভাবে নারী নির্যাতন ও শিশুর অধিকার হরন করছে তা তুলে ধরার চেষ্টা করি।

শোবিজ জগৎ সিনেমা মডেলিং ও ফ্যাশান
পশ্চিমা সমাজে মূলতঃ তাদের ফ্যাশন,বডি বিল্ডিং জিম, ডায়েট আর কসমেটিক ইন্ডাস্ট্রিগুলোই নির্ধারণ করে নারীর পোশাক, তার সাজ-সজ্জা, এমনকি তার দেহের প্রতিটি অঙ্গের মাপ। স্বাধীনতার মিথ্যা শোগানে । তারপর, অর্ধনগ্ন সেইসব নারীদেহকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। ১৯৮৮ সালে টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বিউটি ইন্ডাস্ট্রিগুলো প্রতিবছর ৮.৯ বিলিয়ন পাউন্ড মুনাফা অর্জন করে থাকে। আর, সমস্ত বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিগুলো বছরে অর্জন করে মাত্র ১.৫ হাজার বিলিয়ন ডলারের মুনাফা। মডেলিং করতে গিয়ে গিয়ে বা শোবিজ জগতে প্রতিষ্ঠা পেতে নারীকে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে তার ওজন কমাতে হয়,তাকে বাধ্য করা হয় জঘণ্যভাবে দেহ প্রদর্শন করতে, কিংবা পরিচালক বা ইণ্ড্রাষ্ট্রির মালিকের সুদৃষ্টির প্রত্যাশায় তাকে বিছানাতেও সন্তুষ্ট করতে হয়। পরিণতিতে বন্ধ্যাত্ব, ভয়াবহ নিম্ন রক্তচাপ, অ্যানোরেক্সিয়া কিংবা বুলেমিয়ার মতো মারাত্মক রোগ হয় কোন কোন সময় বরণ করতে হয় অকাল মৃত্যুকে। আর অবাধ যৌনাচার এই সকল ক্ষেত্রে অনেকটা বাধ্যতামূলক হয়ে যায় যা এইচ আইভির মতো দুরারোগ্য রোগের বাহক হয়ে জীবনকে বিপন্ন করে অনেকে আত্মহত্যা পর্যন্ত করে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেনটাল হেলথ এর প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ২০ জনে ১ জন নারী অ্যানোরেক্সিয়া, বুলেমিয়া কিংবা মারাত্মক ক্ষুধামন্দার শিকার কিংবা মারাত্ত্বক যৌন রোগের শিকার হয় হয়। আর প্রতিবছর ১০০০ জন মার্কিন নারী অ্যানোরেক্সিয়া রোগে মৃত্যুবরণ করে। (সূত্র: আমেরিকান অ্যানোরেক্সিয়া/বুলেমিয়া অ্যাসোসিয়েশন)। বস্তুতঃ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিগুলোর বেঁধে দেয়া নিয়ম মতো দৈহিক কাঠামো অর্জন করতে গিয়েই পশ্চিমে অকালে ঝরে যায় এ সব নারীর জীবন। যা প্রথমত তারা বুঝতে পারে না কিন্তু পরে বুঝলেও এই ছকে বাধা জীবন থেকে বের হয়ে আসার সুযোগ পায়না। প্রত্যেকেই একটা নতুন খ্যাতির মোহে আচ্ছন্ন হয়ে চায় ফিগারটাকে জিরো করতে। পরিনামে এই পৃথিবীতে তাদের অবস্থান জিরো হয়ে তারা নিজেরাই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে ওপারে চলে যায়।

যৌন হয়রানির নতুন মাত্রা, নিযাতিত নারী ও শিশু
আমাদের এশিয়াতে যৌন নির্যাতন বলতে পুরুষ কর্তৃক নারী নির্যাতনের কথা বোঝা যায়। আর অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে আইন করে নারী নির্যাতন বন্ধে সরকার কঠোর উদ্যোগ নিয়েছে। আসলে আমাদের সরকার ও বিরোধী দল প্রত্যেকেই এই একটি ইস্যুতে অন্তত একাত্ম। ইভ টিজিং বিরোধী আইন কতটা কার্যকর হয়েছে বা হয়নি তার সমালোচনা আলোচনাতে না গিয়ে আমরা এটুকু বলতে পারি এটা একটা নজির সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। এটা করা গেছে আমাদের উপমহাদেশের পরিমণ্ডলে কেবল মাত্র পুরুষ কর্তৃক নারী অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয় বলে সকলে খুব সহজেই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি প্রতিবাদ আর বিচার করে তার দণ্ড পর্যন্ত দিতে পারেন।আর পশ্চিমের নারীরা একটু বেশিই স্বাধীন। তাদের যৌনকর্মে পুরুষদের বাদ দিয়ে তারা হয়ে ওঠে ক্রমাগত সমকামী। আর এইসব সমকামী নারীদের লালসার শিকার হয় অন্য অসহায় নারী। ম্যাকনাইট নিউজের বরাত দিয়ে একটি খবরে প্রকাশ করা হয়েছে ডেনমার্কে লেসবিয়ান বা সমকামী নারীদের হাতে নারী নির্যাতন আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২০০৪-২০১১ পর্যন্ত এটি শতকরা ২৭ শতাংশ হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ড্রাগস এর ব্যবহারে নারীর পুরুষালি চরিত্র ধারণ করার ফলে এক ধরনের আজগুবি প্রাণীর দেখা মেলে পশ্চিমে। তাদের নির্যাতনের শিকার পুরুষ এবং মহিলা এ দুইই। তাই আমাদের প্রচলিত ধারণা মোতাবেক নারী-পুরুষের লাগামহীন মেলামেশা আর প্রবৃত্তি পূরণের অবাধ সুযোগ প্রদানের ফলাফল স্বরূপ সমাজের নারীরা অহরহ যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে পশ্চিম অনেকাংশে এই ধারণাকে টপকে দিয়েছে। এমনকি এই বিকৃত আচরণ থেকে সে সমাজের নিষ্পাপ শিশুরা পর্যন্ত রেহাই পায় না। নারী স্বাধীনতার অগ্রপথিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে ধর্ষিত হয় একজন নারী, আর বছরে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় সাড়ে সাত লক্ষে। প্রখ্যাত লেখক মাইকেল প্যারেন্টি তার দি আগলি ট্রুথ নামক একটি রিডারে এটি উল্লেখ করেন। আর, বৃটেনে প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজন নারী ধর্ষিত হয় যার মধ্যে কেবল মাত্র ১০০ জনের মধ্যে একজন ধর্ষক ধরা পড়ে এটি নরওয়ের ব্লগে পড়েছি। আমার আলোচনার অনুষঙ্গে শিশুরাও যেহেতু আছে তাই তাদের কথাও বলতে হয়। এই সকল বিকৃত মানসিকার কারণে নানা অনৈতিক কাজ করে এই সব নারীরা শিশুদের জীবনকে ঠেলে দেয় অনিশ্চিতের দিকে। আর শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়ে তারা হতাশা আর অপ্রাপ্তির বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে নিজেকে নানা অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করার ফলে বিগত কয়েক বছরে শিশু ও কিশোর অপরাধীর সংখ্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপরের ঘটনাগুলো অনভিপ্রেত বা দূর্ঘটনা বললে আর একটি ঘটনার কথা বলতে হয় তা হচ্ছে কুমারী মায়েদের সন্তান ধারণ। এই ক্ষেত্রে এই সব সন্তান হয় তাদের মায়ের কোন বন্ধুর ভালবাসার ফসল কিন্তু মায়ের সাথে তার বন্ধুর ভালবাসার ইতি টানার পর যখন কোন নতুন সুতোয় টান পড়ে তখন মারাত্বক অবহেলা আর নিগ্রহের শিকার হয় এই সব অসহায় শিশুরা। আর শুধু মায়ের উদাসীনতা আর অনৈতিকতার শাস্তি বয়ে বেড়ায় এই সকল শিশু যারা তাদের অন্ধকার ভবিষ্যতকে কোনমতে দুর করার স্বপ্ন দেখার মূহুর্তে অপর একটি শিশুকে তারই অবস্থানে পাঠিয়ে দেয় ঠিক একই ভাবে যেমনটি তাদের বাবা মা তাদের সাথে করেছিল।

Advertisements

One thought on “নারী ও শিশু অধিকার প্রশ্নে বিশ্বে প্রচলিত নীতির নেপথ্যের কিছু কথা (পর্ব-০১)”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s