যে বৈষম্যের কোনো অবসান নেই


অনেক দু:খের সাথেই বলতে হয় তথাকথিত নারীবাদী পোলাপাইন ও তথাকথিত বিজ্ঞজনের চিৎকার ম্যাৎকারে দুনিয়া গরম হওয়ার জোগার। আমিও নিজের লেখনীকে একজন উত্তর-নারীবাদী লেখকের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছি অনেক দিন আগে থেকে। তাই এখানে শুধু গায়ের জোরে সুবিধাজক উদ্ধৃতিগুলো বেশ করে প্রচলিত গরুর রচনা লেখার সুযোগ থাকে না। যেখান দেশের বেশিরভাগ নারীবাদীর মুখস্থ গরুর রচনায় রয়েছ নারী নির্যাতন, নিপীড়ন, উৎপীড়ন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো। তবে এর পেছনের নির্মম সত্য হচ্ছে এই ধরণের মুখস্থ বুলি যারা আওড়াতে অভ্যস্থ তাদের বেশিরভাগই হচ্ছেন এক বিশেষ শ্রেণির নারী। আমি  তাদের বিশেষ শ্রেণির নারী বলছি কারণ তাদের হাতেও নারীরা নির্যাতিত হন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাদের জীবনের সাথে যে সকল অভিশপ্ত পুরুষ যুক্ত হন তাদের কথা না হয় বাদই দিলাম।

উদ্ধত ধরণের আচরণ, মেকী প্রতিবাদী ভাবের সাথে উত্তপ্ত বেশভূষা আর উদ্ভট ধরণের কেশবিন্যাস নিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বামী পরিত্যক্তা বা জীবণসঙ্গির খোজে ব্যর্থ এই নারীকূল যখন বক্তৃতার মঞ্চে মাইক সামনে পান তখনকার কথা ধরা যাক। তাদের সামনে উপস্থিত থাক তাদের জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো। বেশিরভাগের ক্ষেত্রে পরকীয়াঘটিত বা অন্যকোন কারণে যেখানে সাংসারিক ক্ষেত্রে নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা ঘটে, সেই সাথে বাসায় প্রতিনিয়ত তারা অসহায় কাজের মেয়েটির উপর নির্যাতন করে হাত পাকিয়ে থাকেন। তাদের ক্ষেত্রে এর বাইরে গিয়ে বক্তৃতা দেয়া বেশ কঠিন হয়। বক্তৃতার বিষয় ঠিকই থাকে শুধু চরিত্রগুলো পাল্টে যায় এই আরকি।

তেমনি এই শ্রেণির নারীরা তাদের উদ্ভট ধরণের উত্তপ্ত বেশভূষা হেতু পোলাপাইন কর্তৃক টিজিং এর শিকার হন। ঘুরিয়ে বললে উনারা এতে অনেকটা পূলক অনুভবও করেন তাই সেটাই হয়ে ওঠে তাদের আলোচনার মূল শিরোনাম। সেই সাথে তাদের গুরুদের  শতবর্ষপূর্বে লিখে যাওয়া কুমীরের বিবরণতো থাকছেই। আসলে শীতকালের গ্রীষ্মের পোশাক পরলে যা হয়। রাশিয়া বা ফ্রান্সের ধারায় লেখা বইগুলোর অনুবাদ করে তারা যে বিবরণ তৈরি করেন তার সাথে বাংলাদেশের সামাজিক সামাজিক বাস্তবতার কোনো যোগসূত্র থাকেই না বললে চলে। তাই এই ক্ষেত্রে সামাজিকক্ষেত্রে সত্যিকারেরর নির্যাতিত নারীদের অবস্থানের কোনো উন্নয়ন হচ্ছেনা। বরঞ্চ তারা দিনের পর দিন আরো করুণ পরিণতির শিকার হচেছ।

গ্রামগঞ্জ বা মফস্বল শহরগুলোতে স্কুল-কলেজগামী মেয়েরা যেসব কুলাংগারের জন্য ইভটিজিং এর শিকার হয় তার সাথে এই নারীদের বিবরণের কোনো মিল নেই। এক্ষেত্রে সামাজিক অবস্থান, মোড়লদের আধিপত্য আর আইনি জটিলতা কুলাংগারদের বাচার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু শহরগুলোর কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিজিং এর জন্য নারীরাই দায়ী। সরাসরি এই ঘটনাগুলো সৃষ্টির জন্য কাউকে একক দায়ী না করে উভয়কেই দায়ী করা যায়। শুনতে অশ্লীল হলেও বলতে হয় একটি যাত্রীবাহী বাসে যখন কোনো প্রেমিকা-প্রেমিকা তাদের ভালবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে কারো গাল টিপতে থাকে, বা চুলে বিলি কাটতে থাক তখন সহজাত প্রবৃত্তির বশেই অন্যযাত্রীরা সেদিকে নজর দেয়। এক্ষত্রে তাদের যে কটুক্তি শুনতে হয় তা অনেকটাই স্বাভাবিক। তেমনি নিরীহ স্কুল-কলেজগামী মেয়ের উত্ত্যক্তকারী নপুংশক বরাহশাবকদের বিষয়টি এর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেখানে কেবলমাত্র সামাজিক সচেতনতাই পারে সমাধান দিতে।

এতগুলো আজগুবি কথা হটাৎ কেনো লিখলাম। এর জন্য দায়ী ফেসবুকিয়ান Helal M Rahman এর নিম্নোক্ত স্ট্যাটাসটি।

উনি বলতে চেয়েছেন……….

পুরুষ মানুষের দামি একটা শার্ট ১২০০-১৫০০ টাকা অন্যদিকে নারীদের জামার দাম ৪-৫ হাজার, পুরুষের মধ্যম মানের লুঙ্গীর দাম ২০০-৩০০ টাকা হলেও মহিলাদের সাধারন শাড়ির দাম ২-৩ হাজার টাকা, পুরুষ মানুষ যেখানে এক টুকরা আয়নার সামনে নিজেদের সৌন্দর্য চর্চা করেন সেখানে মহিলারা হস্তী সাইজের দামি ড্রেসিং টেবিলের সামনে করে তাদের রূপচর্চা, পুরুষেরা যেখানে ১০-১৫ মিনিটে নিজেদের রুপচর্চা শেষ করে সেখানে মহিলারা ক্ষেত্র বিশেষে ২-৩ ঘণ্টা সময়ও ব্যয় করে, মহিলারা পারচুনা-খাইচুনা নামক পার্লারে গিয়ে মাসে কয়েক হাজার টাকা দিয়ে এলেও পুরুষ মানুষ মোড়ের দোকান থেকে ৩০-৪০ টাকায় দাড়ি-মোছ কামিয়ে আসে, বাজারে জামা কাপড় কিনে ব্যাগ ভরান মহিলারা আর সেই ব্যাগ কাঁধে বাচ্চা সহ টানা লাগে পুরুষদের…এমন হাজারো বৈষম্যে পুরুষ জাতির মাঝে আজ চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। আবার কেউ কেউ বোবাকান্নায় বুক ভাসাচ্ছেন। তাই সরকারের কাছে অবিলম্বে আমাদের আহবান অবিলম্বে নারী’র মত পুরুষের অধিকার নিশ্চিতে আইন প্রনয়ন করার জন্য।

এর কিছু ঘটনার সাথে বাস্তব জীবন পুরোপুরিই মিলে যায়। কিছু ক্ষেত্রে আমার অবিশ্যি দ্বিমত রয়েছে। বিষয়টি ফেসবুকে স্ট্যাটাস হিসেবে দিতে পারতাম কিন্তু সেখানে এর এডিটের সুযোগ কম। তাই লিখেই ফেললাম পোস্টটি।….

আমি একটি নির্মম সত্য ফাঁস করিতেছি। যেটা আমার ফ্যামিলীর কেউ দেখলে খবর আছে। আমার চাচাত/মামাত/ ফুফাত বোনদের প্রায় সবাই প্রেম করিয়া বিবাহকর্ম সম্পাদন করিয়াছে। তারপরেও তাদের নিয়ে কেউ চিন্তা করেনি। বরঞ্চ ধুমধাম চিৎকার ম্যাৎকার করিয়া তাদের অনুষ্ঠানাদি সম্পাদিত হইয়াছে। নিরীহ লোক কেবল ফেসবুক ব্লগে যেটুকু লাফালাফি করি, বাইরে দুই একটা আলোচনা অনুষ্ঠান কিংবা সেমিনার সিম্পোজিয়ামে যাই তবুও বাসায় ফিরতে দেরী হইলে বাসায় অগ্নুৎপাত শুরু হয়।
আমাদের একটা জামা কেনার খবর কারো থাকেনা। অথচ জংলির মতো বেড়াই। সারাদিন প্রাচীন সভ্যতা সংস্কৃতি লইয়া পড়াশুনা করিয়াও ফাপর খাইতে হয় আমাদের পোশাক আশাকে সভ্যতা নাই। অথচ এক দেড় মাস না যাইতেই ভগ্নিকূলের বেশভূষায় রূপান্তর ঘটাইতে উদ্যোগের অন্ত থাকেন। একটি ল্যাপটপ আহ্বান করিতে বাড়ির সবাই মনে করিয়াছিল তাহাদের কারো হৃৎপিণ্ড ছিনতাইয়ের হুমকি দেয়া হইয়াছে।  তথাপি ভগ্নিকূল তাদের প্রয়োজন মেটাইতে একটিবার উচ্চারণ করিলেই উহা পারিবারিক সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে হাঁ ভোট পাইয়া আমাদেরকে বারংবার হা করাইয়া দেয়। পরীক্ষার ফলাফলের দিক থেকে আমি বর্তমানে সবার থেকে আগাইয়া থাকলেও আমার পড়ালেখা নাকি বাড়িবাড়ি রকমের। উহাতে কোনো ভদ্রস্থরূপ নাই। অধিক রাত্রিজাগরণ করা নাকি মনুষ্যজাতির কর্মনয়। উহা কেবল চোর সমাজে স্বীকৃত। তাই আমার ভালো ফলাফল বিষয়ক আলোচনা বাদ দিয়া রাত্রিজাগরণের অপঘাতে বার বার ধিকৃত হইতে হয়।

স্নাতক সম্মানের শেষ বর্ষে উপনীত হইবার পর একটি বিষয়ে তিনটি অনুশীলনী পরীক্ষায় আমি সবার থেকে ভালো করিয়াছিলাম বলিয়া প্রদত্ত গ্রেড থেকে প্রতীয়মান হইয়াছিল। তবুও ঐ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করার পর দেখিলাম সংখ্যামান অনুযায়ী নারীকূল আমার সমতলে অবস্থান করিতেছে। পরে কারণ অনুসন্ধান করিতে গিয়া জানিতে পরিলাম উনাদের ভর্তুকি দিয়া শিক্ষিকা মহোদয়া কৃতার্থ হইয়াছেন যাহা থেকে আমার তিন বন্ধু যথারীতি বঞ্চিত হইয়াছেন। যার চিহ্ন ছিল শেষপর্বের ফলাফলেও।

যাহা হইক একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের বদৌলতে সুদীর্ঘ প্যাচাল শেষ করিতেছি। এইরূপে চলিতে থাকিলে জাতির শনির দৃষ্টিলাভ করিতে আর কতপ্রহর অবশিষ্ট রহিয়াছে তাহা স্বংয় খোদাতায়ালা ব্যতিত আর কেহই অবগত নন।

ধন্যবাদ।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s