Ghetu putro

হুমায়ুন আহমেদ, ঘেটুপুত্র কমলা আর কিছু অজানা আশংকা পর্ব ০৩


এখন দেশের সবেচন জনগণের পক্ষে আমার প্রশ্ন হচ্ছে সমকামী জীবন নিয়ে এই মুভিটি বাংলাদেশের মানুষের প্রচলিত সমাজ সংস্কৃতির সাথে কতটুকু খাপ খায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এধরনের উদ্ভট কাহিনী নির্ভর চলচিত্রের যৌক্তিকতা কতটুকু। হয়তো অনেক তথাকথিত প্রগতিবাদী বলবেন মানব সমাজের সবচেয়ে বড় কাজ চোখের পর্দা টেনে অন্যায় আড়াল করা। আর অপরাধকে লূকিয়ে রেখে তার নিরাপদ বসতস্থান নিশ্চিত করা। আমি বিষয়টি বিশ্লেষণ করার আগে বলবো আপনারা এই সকল অপরাধ জনগণের সামনে এনে প্রচার করতে চাইছেন তখন এর বাইনারী অপোজিশান হিসেবে ভাল-মন্দ, ঠিক-বেঠিক দুটি দিকই বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। যেটি দেখাতো দুরে থাক এর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তার মুখ বন্ধ করার সার্বক্ষণিক চিন্তায় মগ্ন হতে দেখা গেছে।
আসলে আপনার বুঝলেন না পুজিঁবাদ কতো ভয়ানক জিনিস যেটি পুজিঁবাদবিরোধীদের নিজের কাজে ব্যবহার করে। কেন দেখেননা কি সুন্দর ভাবে মহান চে’র ছবি আকা টি-শার্ট, ব্যাগ, টুপি এগুলোর বানিজ্যিকীকরণ ঘটেছে। তখন আপনারাই এগুলো ব্যবহার করেন। এগুলো নিয়ে বানিজ্য করেন আর পরে চেচামিচি করে গলা ফাটান পুজিঁবাদ নিপাত যাক। আসলে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ যেটি সবার সামনে তুলে আনতে চাইছেন এটি অনেক আগেই বর্বর ইউরোপের মধ্যযুগে বিশেষত ক্যাথলিক চার্চ গুলোতে প্রচলিত হয়েছিল। জঘন্য এই অত্যাচার প্রতিনিয়ত চললেও পোপের সীমাহীন ক্ষমতার কাছে মাথা নুইয়ে এমনকি লোকলজ্জার ভয়ে কিছু বলতনা। কিন্তু হুমায়ুন আহমেদ মুভিটি বানিয়েছেন বাংলাদেশে। আমরা খুব ভালকরেই জানি বাংলাদেশ ও ইউরোপের সমাজ সংস্কৃতির দায় এক নয়। সেটি হুমায়ুন আহমেদের মতো নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও অভিজ্ঞ সিনেমা পরিচালক ভাল করেই জানেন। তবে তিনি এও জানেন কি করলে একটি মুভি হিট হয়, আরেকটু রস-কষ লাগিয়ে দিলে কিভাবে এটি হিট থেকে সুপারহিট কিংবা সুপার ডুপারহিট হয়। এই চিন্তাটিই তো তিনি করেছেন। তাঁর মতো একজন ব্যক্তিত্বের কাছে জাতির চাওয়া পাওয়ার পারদটা অনেক উচ্চে থাকলেও আমার মনে হয় মুভিটি প্রকাশের পর সেটি নেমে শূন্যের কোঠায় স্থান করে নেয়া অবাক হওয়ার কিছু হবে না।
আমরা জানি তরুণ সমাজ সবসময় নতুনকে স্বাগত জানায়। নতুনের জয়গান গায়। কিন্তু তারা নতুনের প্রতি অধিক আগ্রহ দেখাতে গিয়ে অনেক অপরাধও করে বসে প্রতিনিয়ত। নতুন আবিষ্কারের নেশা যেমন জাতির ভবিষ্যত আলোকিত করে তেমনি নেশার জগতে নতুনত্বের স্বাদ নিতে গিয়ে এই তরুণ সমাজই জাতির ভবিষ্যতকে ঠেলে দেয় ঘোর অমানিশায়। অনেকে বলবেন ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ বাংলার আবহমান সংস্কৃতিকে নতুন করে আবিষ্কার করেছে। এটি সামাজিক সচেতনতা তৈরীতে ভূমিকা রাখবে। আমি ক্রিশ, টেড বাণ্ডি কিংবা সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত বডিগার্ড মুভির রেফারেন্স টেনে বলতে চাই তরুন সমাজ এই ঘেটু কমলায় ফুটে ওঠা নতুনত্বের অনুশীলন শুরু না করলেই হয়। কারণ হতাশা, ব্যর্থতা, যোগ্যতার উপযুক্ত মূল্যায়ন না পাওয়ায় তরুন সমাজের মাঝে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। অন্যদিকে বার বার প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়া তরুণদের সমকামী হওয়ার একটা প্রবণতার কথা গবেষকরা বলেছেন। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোত মেয়েদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যার পাশাপাশি ছেলেদের সমাকামিতাও বাড়ছে। বাংলাব্লগ ও পত্রিকার পাতায় খোদ বাংলাদেশেই যখন সডোমীর ঘটনা ঘটেছে এমন খবর প্রকাশিত হয় সেখানে এই মুভিটি প্রচারের আলোয় আসলে কি হবে তা বলা মুশ্কিল। এই সকল দিকগুলো মাথায় রেখে আমাদের দেশে প্রচলিত সমাজ সংস্কৃতির সাথে অনেকটাই বেমানান কাহিনীর এই সিনেমা নিয়ে চকিতে কোন মন্তব্য না করাটাই শ্রেয় বলে মনে হলেও একটি অজানা আশংকা থেকেই যায়।

হুমায়ুন আহমেদ, ঘেটুপুত্র কমলা আর কিছু অজানা আশংকা পর্ব ০১

হুমায়ুন আহমেদ, ঘেটুপুত্র কমলা আর কিছু অজানা আশংকা পর্ব ০২

7 thoughts on “হুমায়ুন আহমেদ, ঘেটুপুত্র কমলা আর কিছু অজানা আশংকা পর্ব ০৩”

    1. জামি ভাই আপনার ব্লগ আমি অলরেডি ফলো করা শুরু করেছি। পুরো ওয়ার্ডপ্রেসে বাংলাদেশী/ বাংলাভাষী ব্লগারদের একটি শক্ত কম্যুনিটি গড়ে উঠুক এখন এই প্রত্যাশা আমার আরো দৃঢ় হয়েছে।

        1. বাট আমার পোস্টগুলো কেমন যেনো একঘেয়ে রকমের হয়ে যাচেছ। কাহিনী বুঝতেছি না।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s