হায়রে মানবাধিকার, হায়রে ধর্মনিরপেক্ষতা, দুটোর মুখেই ওয়াক থু !!!!!!!!!!!!!!


একটু আগে শ্রদ্ধেয় Akm Wahiduzzaman ভাইয়ের একটা স্ট্যাটাস দেখলাম। উনি বলেছেন

রুমি নাথ একজন সাংসদ। ভালবেসে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। সমস্যা হচ্ছে যাঁকে বিয়ে করেছেন তিনি মুসলমান। হিন্দু ধর্মমতে দ্বিতীয় বিয়ে করাও ঝক্কি ঝামেলার ব্যাপার, তাই রুমি নাথ বিয়ে করার আগে মুসলমান হয়ে রেশমা সুলতানা বা রাবেয়া সুলতানা কিছু একটা নাম গ্রহন করেছিলেন। ধর্ম নিরপেক্ষ ভারতের উদার মানুষ এতবড় অনাচার সইবে কেন? পিটিয়ে রুমির ভুত ছাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অবাক হয়ে ভাবছিলাম, শর্মিলা ঠাকুর মনসুর আলী খান পতৌদীকে বিয়ে করার জন্য মুসলমান হয়েছিলেন, হিন্দু ধর্মে দ্বিতীয় বিয়ে করার অপশন না থাকায় নায়ক ধর্মেন্দ্র হেমা মালিনীকে বিয়ে করার জন্য মুসলমান হয়েছিলেন। আমাদের দেশে ফেরদৌসী মজুমদার, রামেন্দু মজুমদারকে বিয়ে করে জীবন পার করে দিলেন। আমার অত্যন্ত প্রিয় Manosh‘দা Bonna ভাবীকে বিয়ে করে সুখের জীবন পার করছেন।

যাঁরা বিয়ে করবেন, তাঁদের সুখের কথা না ভেবে ধর্মের ঢোল বাজানো এরা কোন হরিদাস পাল? এই ধরনের ঘটনা সংক্রামক। আজ পাশের দেশে ঘটেছে, কাল বাংলাদেশে ঘটবে। বাংলাদেশের মৌলবাদীদের হাতে এমনভাবে কেউ নিগৃহিত হবার আগেই ‘বিশেষ বিবাহ আইন’ কার্যকর করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

এখানে আমার করা মন্তব্য ছিল…..
আমাদের দেশের মানুষ এখনো যে পরিমাণ লিবালের ও স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার লাভ করছে এটা পৃথিবীর অনেক দেশে নাই। দুই একটা ফতোয়া জারি কিংবা গ্রামগঞ্জে লাউগাছের জাংলার নিচে পরকীয়ায় বেত্রাঘাত করে সামাজিক সংহতি বজায় রাখার যে চেষ্টা করা হয় সেটাকে লাল, কালো,সাদা, হলুদ, বেগুনি রং লাগিয়ে যেভাবে উপস্থাপন করা হয় তা সত্যি নজিরবিহীন। বিষয়টি বুঝতে হলে আমাদের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে। ফিরে যেতে হবে সেই সুলতানী যুগ পূর্ব সেন শাসন আমলের যাতাকলে। বোঝা যাবে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা কি ভয়ানক একটি বিষয়। যার তোপে পড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই চেয়েছিল ব্রাহ্মণ সেনরা নিপাত যাক। মুসলমানরা ক্ষমতায় আসলে আসুক তবুও তো একটি পরিবর্তনে শাপমুক্তি ঘটতে। আজ সাংসদ রুমি নাথের উপর যে অত্যাচার চালানো হয়েছে তার মূল কারণ তিনি হিন্দু থেকে মুসলমান হয়েছেন। কিন্তু কোনো মুসলমান যদি হিন্দু হতেন সেখানে তারা উলুধ্বনি দিয়ে শাঁখ বাজিয়ে একটা জবরদস্ত বরণডালা সাজিয়ে বরণ করে নিতো। আমাদের দেশের উদাহরণগুলো দিয়ে ওয়াহিদুজ্জামান ভাই ব্যাপারটা বেশ সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন। কিন্তু তিনি যাদের উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন সেই মানুষগুলোর প্রতিই আমার আস্থা নাই। তবুও এটা ধর্মসহিষ্ণুতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপনের জন্য মন্দ নয়।
সবথেকে মজার বিষয় হচ্ছে আমাদের প্রচার মাধ্যম যার বেশিরভাগ বিকিয়ে আছে কর্পোরেট দুনিয়ার কাছে যা বহি:রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত কিংবা তাদের ভৃত্যকূল দ্বারা পরিচালিত। তাই তাদের হাতে যে দৃশ্যায়ন ঘটে তা উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার না করাই ভাই। আমি উদাহরণ প্রসঙ্গে ঈশ্বরদী নিবাসী একজন ডাইনীর কথা বলতে পারি যে কাজের পিচ্চিকে কমোডে মুখ টিপে মারতো। আমার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এর জন্য থানায় জিডি পর্যন্ত করেছিলেন। পরে এলাকার বিজ্ঞজনরা ঐ মহিলার কাছ থেকে পিচ্ছিটাকে উদ্ধার করে। পরে যখন ঢাকায় এলাম। শুনলাম ঐ ডাইনিটাই নাকি একটা মানবাধিকার সংস্থার সি ই ও। এখন বাকিটা আর বলছি না। আসলে গাছের গোড়া কাটা থাকলে যতোই সার পানি দেন না কেনো গাছটা আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাবে।

অপ্রাসঙ্গিক কিন্তু প্রাসঙ্গিকভাবে মানবাধিকারের প্রশ্নটি উঠে আছে। নিজে সারাজীবন এই বিষয়টি নিয়ে চিৎকার ম্যাৎকার করে গলা ফাটাই অথচ বারবার অধিকার বঞ্চিত হই আমিই। তারপর ক্ষমা করি, এগিয়ে যেতে দিই অপদার্থ গুলোকে। দয়াদাক্ষিণ্যের নম্বর আর এক আল্লাহ বাদে বাকি সবার করুণাকে লাথি মেরে সামনে এগিয়ে চলেছি স্কুল জীবন থেকে। তাই ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়েছে কম নয়। তাইতো ক্লাসের মধ্যে প্রথম হওয়ার পরেও আমি জীবিত থাকতেও প্রথম বালক বাদ দিয়ে দ্বিতীয় বালিকাকে নির্বাচিত হতে দেখি আলোচনায়। বলা হয় আমি নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাইনা। আমি নাকি অনিয়মিত। এর জবাব সুস্থ ভাষায় আমার জানা নাই।

নিশ্চিত বিশ্রি গালি দেবো তাই প্রসঙ্গ পাল্টাচ্ছি।

শুধু এটুকু জানি ক্লাস করতে রোজ ই যাই, অতটা দৃষ্টিগোচর হইনা কারণ তেল মারার প্রয়োজন বোধ করি না কাউকে। এমন কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষকের সাথে কাজ করি যাদের কোর্সই আমার নেই। তাই এমনটি মনে হতে পারে। তাই বলে এই গুমের যুগে জলজ্যান্ত একজন মানুষকে পাওয়া যায়নি এমনটি বলা যেমন মানবাধিকার পরিপন্থি তেমনি শোভনীয়ও নয়। যাক কি আর করা।

 

তাই বলি কি…….

মানবাধিকার আর ধর্মনিরপেক্ষতা এ দুটোর মুখেই থু !

 

One thought on “হায়রে মানবাধিকার, হায়রে ধর্মনিরপেক্ষতা, দুটোর মুখেই ওয়াক থু !!!!!!!!!!!!!!”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s