কিছু কিছু কথা আর কিছু পরিচয়


ভার্সিটি থেকে ফেরার সময় প্রতিদিন আমিন বাজারের কাছে জ্যামে পড়তে হয়। আজও অন্যথা হয়নি। বাসের জানালায় মাথা রেখে ঢুলছিলাম। হটাৎ কানে আসলো অলকা ইয়াগনিকের পরিচিত কণ্ঠস্বর। আশে পাশে তাকালাম কে যেন গানটা বাজাচ্ছে… এর আগে শোনা হয়নি। তবুও খারাপ লাগেনি। দুটো লাইন মনে ছিল।

সন্ধার পর নেটে সার্চ দিলাম। গুগল থেকে খুজেও পেলাম। গানটার কথা ছিল অনেকটা এমন

কিছু কিছু কথা আর কিছু পরিচয়……….

মনে মনে চুপি চুপি  দোলা দিয়ে যায়,

কিছু কিছু মুখের হাসি, দিয়ে যায় চাওয়ার বেশি।

ভরে যায় খুশিতে তখন এ হৃদয়।

আমি হটাৎ একটি গানকে কেনো টেনে আনলাম ????

সত্যি গানটা এমন একটা সময়ে কানে এলো যখন আমাদের ছেড়ে মহাকালের পথে যাত্রা করেছেন দেশের সেরা উপন্যাসিক হুয়ামুন আহমেদ। তিনি সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ঠিকই। কিন্তু পাথেয় হিসেবে রেখে গেছেন এদেশের মিডিয়াকে। যারা যারা সুযোগ বুঝে ব্যবসা করেছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে, ঘৃণ্য রাজাকার নিয়ে। এরপর থেকে শুরু করে সেলিব্রেটিদের আলখেল্লা থেকে অন্তর্বাস সবই তাদের ব্যবসার অংশ। এই হতভাগার দল যেমন ভারতের অমিতাভ বচ্চনের ছেলের বিয়ে থেকে পুত্রবধুর সন্তান প্রসব নিয়ে ব্যবসা করেছে। তেমনি ব্যবসা করেছে পর্নস্টার সানি লিওনি থেকে শুরু করে পাওলি দমকে নিয়ে।

ছবি কৃতজ্ঞতা: ব্লগার বিডি আইডল।

এদের কাছে একজন মহানায়কের মৃত্যু যতটা না পীড়ার তারথেকে ঢের ব্যাবসায়িক আবেদন নিয়ে আবির্ভূত হয়। সত্যি এরা তার প্রমাণ রেখেছে।

এরা আজ হুমায়ুন আহমেদের জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ এর নামে সৃষ্ট নতুন ব্যবসায় ব্যস্ত। তাদের রঙিন দুনিয়ায় সাদাকালো দিনের গল্প সত্যি হারিয়ে গেছে।
তাদের আয়নায় ডিজিটাল ফটোগ্রাফ চোখে ধাঁধা লাগায়। কিন্তু সেখানে উপস্থিতি নেই ধূসর সেলুলয়েড।
তাইতো তাদের ফ্লাশ বাল্পের আলো একটি পরিচিত মুখকে কিছুতেই খুজেঁ পায় না। তিনি আর কেউ নন। হুমায়ুন স্যারের সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন। সত্যি একদিন তিনি হুমায়ুন স্যারের জীবনে আবির্ভূত হয়েছিলেন অনেকটাই আশার আলো হয়ে। সেই আলোর জ্যোতি ঠিকরে বেরিয়েছিল স্যারের লেখনীতে।

যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে তিনি আজ দেশের সবার নয়নের মণি। কিছু ফালতু সমালোচক তাকেঁ উপন্যাসিকের বদলে অপন্যাসিক বললেও কিছু যায় আসে না। দেশের তরুণ প্রজন্ম আর আপামর জনগণ আজ উপন্যাস আর লেখক বলতে শুধু একজনকে চেনে তিনি হুমায়ুন আহমেদ। নন্দিত কথাসাহিত্যিকের জীবনের একটা বড় অংশ জুড়ে তাঁর অস্তিত্ব থাকলেও আজ  সেই গুলতেকিন কেনো যেনো ইতিহাস।
সত্যি ভাবতে অবাক লাগে মানুষ আস্তে আস্তে সিড়ি ভেংগে চার তলায় ওঠে। তারপর মনের ভুলেও ঐ সিড়ির দিকে চোখ দেয় না। কিন্তু কিছু পরিচয় থাকে সেগুলো সত্যি মনের অগোচরে সামনে চলে আসে। নুহাশ পল্লীর ঐ আমবাগানে বা বকুল তলায় যখন স্যার হাটতেন তখন কি তার একেবারেই মনে পড়তো না গুলতেকিনের কথা। হয়তো পড়তো। না পড়লেই কি ?? তিনি তো অনেক উপর তলার মানুষ। এটা নিয়ে অতোশতো ভাববার সময় কোথায় আমাদের মিডিয়ার।

যে যাই বলুক একজন পাঠক হিসেবে  আমি মনে করি হুমায়ুন আহমেদের পাশে শাওনের থেকে গুলতেকিনকেই বেশি মানায়। আর স্যারের বিয়োগে স্মৃতিচারণে সবাই উপস্থিত থাকলেও তিনি কেনো হারিয়ে গেলেন এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নাই।

যাই হোক শুধু তাই মনে করে উনাদের একটি ছবি শেয়ার কর্লাম। সাথে বাংলাদেশ ফটো আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত তিন ভাইয়ের একটি ছবিও এড করে দিলাম। যারা স্মৃতিচারণ ভালবাসেন তাদের কাছ খারাপ লাগবে না আশা করি।

তিন ভাই : ড. জাফর ইকবাল, হুমায়ুন আহমেদ ও আহসান হাবীব।

…………………………………………………………………………………………………………

বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ও তার সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন দু’জন দু’ভুবনের বাসিন্দা। অনেক আগেই একে অপরের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে গেলেও হুমায়ূন ও গুলতেকিন একই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরছেন। হুমায়ূন ফিরছেন লাশ হয়ে। আর গুলতেকিন সুস্থ। তারা একই দিনে দেশে ফিরলেও কেউ কাউকে দেখার সুযোগ পাবেন নি।

হুমায়ূন আহমেদ এখন সকল অনুভূতির ঊর্ধ্বে। তবে তার দেয়া কষ্টগুলো আজও গুলতেকিনকে তাড়া করে বেড়ায়।  হুমায়ূনবিহীন তাকে অনেক সংগ্রাম, কষ্ট, আর একাকী পথ চলতে হয়েছে। তাকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। ছেলেমেয়েদের বড় করতে হয়েছে।  সবকিছুর পরও একটা জায়গায় হুমায়ূনের অবস্থান রয়েই গিয়েছিল। কিন্তু অভিমানী গুলতেকিন আর কোনদিন চিন্তা করেননি তার কাছে ফিরে যাওয়ার।

হুমায়ূনের মৃত্যুর খবরে গুলতেকিন চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। কেঁদেছেন এক সময়ের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির জন্য। পুরনো দিনের স্মৃতিগুলো মনে পড়ে গেছে। তিনি হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর খবর পান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মেয়ের বাসায়ই। তবে একই দিন দেশে ফিরলেও গুলতেকিন যাবেন না হুমায়ূনের লাশ দেখতে। এমনটাই জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।

গুলতেকিন সবকিছুর মধ্য থেকেও ছিলেন একাকী। প্রিয় মানুষ হুমায়ূনবিহীন থাকতে ও জীবনকে চালিয়ে নিতে অনেক কষ্ট ছিল তার। গুলতেকিন ও হুমায়ূনের ঘনিষ্ঠ একজন জানান, গুলতেকিন গত মাসে তার ছোট মেয়ের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে তার ছোট মেয়ে নোভা ও মেয়ের জামাই থাকেন। তারা দু’জনই পিএইচডি করছেন। হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে গুলতেকিনের পরিচয়, পরিণয়, সংসার জীবন, সন্তানদের জন্ম, তাদের বেড়ে ওঠা কত স্মৃতি। হুমায়ূনকে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা চিঠি লিখতেন। তিনিও জবাব দিতেন। বাঁধভাঙা প্রেম ছিল তাদের। গুলতেকিন হুমায়ূনের জন্য অনেক গল্পের প্লট দিতেন। তারা দু’জন একই পত্রিকায় গল্প লিখতেন। স্বামীকে সফল হওয়ার জন্য অনেক উৎসাহ দিতেন। এই সবই স্মৃতি।

আচমকা অনেক ঝড়েই তাদেরকে চলে যেতে হয় দুই ভুবনে। অনেক কষ্ট পান গুলতেকিন। তবে নিজের আত্মসম্মান, মান-মর্যাদার কারণে কোন ভাবেই আর সমঝোতা করতে পারেননি। এ কারণে তারা দু’জন আলাদাই রয়ে যান।  গুলতেকিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও হুমায়ূন আহমেদকে সেখানেও দেখতে যাননি। অভিমানই তাকে দূরে রেখেছে। এভাবেই নিজের সবযন্ত্রণা চেপে রেখেছেন ভীষণ আত্মসম্মানী এক নারী। আমরা এর দায়ভার শাওনের উপর চাপাতে পারি। যে কিনা মৃত হুমায়ুন আহমেদের লাশকেও শান্তিতে দাফন হতে দেয়নি। কিন্তু সহজ সমাধি গড়েছিল গুলতেকিনের সুখের সংসারের।

একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হুমায়ুন আহমেদ ও গুলতেকিন

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কিশোরী বয়সেই প্রেমে পড়েছিলেন প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁর নাতনি গুলতেকিন। প্রেমের কয়েক বছর পর ১৯৭৩ সালে তাদের বিয়ে হয়। ২০০৩ সালে তাদের বিয়েবিচ্ছেদ হয়। হুমায়ূনের সাহিত্যিক হিসেবে জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে গুলতেকিনের অবদান অনেক—যা হুমায়ূন নিজেও বিভিন্ন সময় স্বীকার করেছেন।

সব কীর্তিমান পুরুষের পেছনে যেমন থাকে কোনো নারীর অনুপ্রেরণা, তেমনি হুমায়ূনের পেছনেও ছিল গুলতেকিনের প্রেরণা। বিয়ে-বিচ্ছেদের পর ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অন্তরালে চলে যান গুলতেকিন। একপর্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানেই এখন আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে হুমায়ূনের মৃত্যু হলেও গুলতেকিন তাকে শেষবারের মতো দেখতে সেখানে যাননি। তিনি হুমায়ূনের মৃত্যুসংবাদ পেয়েছেন কি না—সে খবরও হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের কেউ জানেন না। হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব সাংবাদিকদের গুলতেকিনের অবস্থান সম্পর্কে জানান, ‘তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। সেখানকার কোন রাজ্যে বা কোথায় আছেন, তা জানি না।’

হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত লেখক হয়ে ওঠার পেছনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন তার প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন। তার প্রথম দিকের প্রকাশিত বইগুলোর উত্সর্গ করেছিলেন গুলতেকিনকে।  তিনি গুলতেকিন সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘জীবনের শ্রেষ্ঠ নারী গুলতেকিন।’ হুমায়ূনের আত্মজীবনী ‘আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই’ বইটিতেও তার লেখক হয়ে ওঠার পেছনে গুলতেকিনের অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন।  হুমায়ূনের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে। এর তিন বছর পর তিনি বিয়ে করেন গুলতেকিনকে। তাদের ছিল তিন মেয়ে ও দুই ছেলে। তিন মেয়ের নাম বিপাশা আহমেদ, নোভা আহমেদ, শীলা আহমেদ এবং ছেলের নাম নুহাশ আহমেদ। অন্য আরেকটি ছেলে অকালে মারা যায়। ২৯ বছর ঘর করেছেন সাবেক এবং প্রথম স্ত্রী গুলতেকিনের সঙ্গে।

জীবনের দীর্ঘ সময় আনন্দ-বেদনার সাথি ছিলেন তারা দু’জন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে ছেলেমেয়েরাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন বাবার কাছ থেকে।  শাওনকে বিয়ে করার পর একপর্যায়ে পুরো পরিবার, বিশেষ করে ভাইবোন থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন হুমায়ূন। তবে হুমায়ূন আহমেদের ক্যান্সার ধরা পড়ার পরে তার ধানমন্ডির দখিন হাওয়া অ্যাপার্টমেন্টের বাসায় স্বামী ও সন্তানসহ মেয়েরা বাবাকে দেখতে এসেছিল।

২০০৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘দৈনিক আজকের কাগজ’ (অধুনালুপ্ত) পত্রিকায় প্রকাশিত হয় হুময়ায়ূন আহমেদের সঙ্গে শাওনের প্রেমের সম্পর্কের কথা। জানাজানি হয় পাঠকসমাজে। হুমায়ূন আহমেদ ও গুলতেকিনের বিচ্ছেদের পর ২০০৫ সালে বিয়ে করেন শাওনকে। ১৯৯০ সালের মধ্যভাগ থেকে মেয়ে শীলার বান্ধবী এবং তার বেশ কিছু নাটক-চলচ্চিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী শাওনের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের ঘনিষ্ঠতা জন্মে। শাওন ও হুমায়ূন আহমেদের ঘরে তিন ছেলেমেয়ে জন্মগ্রহণ করে। সেই সাথে সাথে গুলতেকিন পরিণত হন ইতিহাসে। আর বাকিটা পাঠক আপনাদের কারো অজানা নয়।

এইছবি গুলো শেয়ার করলাম। নাহলে আসল ইতিহাস থেকে সবাই বঞ্চিত হবে। থাকনা এসব বলে এখন কি লাভ। পদলেহী চাটুকারের দল কখন আবার হামলে পড়বে কে জানে। কিন্তু তাদের কিভাবে পাদুকা প্রহারে নিবৃহ করতে হয় সে কৌশল আমার অজানা নয়।

ধন্যবাদ ওয়ার্ডপ্রেস ও ফেসবুকের সকল বন্ধুকে।

29 thoughts on “কিছু কিছু কথা আর কিছু পরিচয়”

  1. গুলতেকিনকে নিয়ে কথা না বললেই ভালো। আজকের প্রজন্ম কি জানে? কতটুকু জানে এই নারী সম্পর্কে? ফেবুতে একজন লিখেছে দেখলাম, ” গুলতেকিনকে হুমায়ুন তার মায়ের চাপে পড়ে বিয়ে করেছিলেন। দরিদ্র ঘরের কন্যা গুলতেকিনকে হুমায়ুন কোনো দিন মন থেকে মেনে নিতে পারেন নি।
    প্রফেসর ইব্রাহিম খাঁ সাহেবের নাতনি, জজ পিতার কন্যা গুলতেকিন দরিদ্র? ধনী কাকে বলে সেটা তো হুমায়ুন গুলতেকিনকে বিয়ে করেই জেনেছিলো। এবং সেটা উনি স্বীকারও করেছিলেন।

    আজ গুলতেকিন অতিত, ধুসর পান্ডুলিপি। হুমায়ুনের এভাবে চলে যাওয়ায় তার পাজড়ের হাড় ভাঙ্গা কষ্ট হয়েছে এটা জানা কথা। ২৮ বছরের সাথী, ৫ সন্তানের পিতাকে কাগজের একটি আঁচড়ে কি ভুলে যাওয়া সম্ভব?
    আমার কিছুই লিখতে ইচ্ছে করছেনা। গুলতেকিনের সঙ্গে ২বার পারিবারিক আড্ডায় দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। যখন তারা পুত্র সন্তানের আশায় প্রায়ই সিলেটে মাজারে আসতো। আর সিলেটে এলেই উঠতো আমাদের পারিবারিক বন্ধু আমিনুর রশীদ চুনু ভাইএর বাসায়।
    প্রচন্ড আত্ম-সম্মান সম্মন্ন এই নারীর কাছে যাওয়ার সাহস কোনো সাংবাদিকের আজ পর্যন্ত হয়নি, আর হবেওনা।

    1. অনেক অনেক দুখখিত।
      আমি এই পোস্ট করার পর কেটে পড়ছিলাম।
      একটা বইয়ের কাজ করায় সেখানে মনোযোগ নিবিষ্ট রখতে হয়। তাই ব্লগ এখন আগের মতো সিরিয়াসলি লেখা হয়না। আপনি কিছু নির্মম সত্য তুলে এনেছেন। কিন্তু এই বিষয়গুলো কয়জন জানে। আমার চাচা হুমায়ুন স্যারের সরাসরি ছাত্র। সেই সাথে আমার এক বড় আপা শিলা আপার বান্ধবী হওয়াতে মূল সত্য আমি জানি। কিন্তু সব প্রকাশ করার উচিত হবেনা। অবাক হয়েছি মিডিয়ার নির্লজ্জতা দেখে। তাই এই কয়েক লাইনের লেখাটা লিখলাম। একটা কথাই বলবো যাই হয়েছে আল্লাহ বেচারাকে শান্তি দিন।

      1. পোস্টদাতা আপনাকেই বলছি আপনার পোস্টের কন্টেন্ট ঠিক আছে। কিন্তু তাই বলে গা ছাড়া উত্তর দিয়ে বঁাচার চেষ্টা করলে আপনার খবর আছে।

  2. গুলতেকিনের প্রতি আমার অশেষ শ্রদ্ধা। গুলতেকিনকে আড়াল করে হুমায়ুন আহমেদ অন্যায় করেছিলেন। তবূও ক্ষমা করা ছাড়া আর কিই বা করার আছে আমাদের !

  3. গুলতেকিনের প্রতি শ্রদ্ধা। কতটা নিবেদিত প্রান ছিলেন তিনি তা হুমায়ুন আহমেদ এর লেখার মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে। সম্ভবত সব অন্যায়ের ক্ষমা হয় না।

    1. একদম সত্যি কথা বলেছেন।
      কিন্তু নতুন প্রজন্ম আপনার এই বোধটুকু ধারণ করে কিনা।

  4. অজ্ঞাত; you right shob onnaer khoma hoina janina humaon Gultekin er kase khoma chaychilen ki na!!!!

    1. আমি মনে করি হুমায়ুন স্যারের মতো একজন উচু মাপের মানুষের ভার নিতে পারার যোগ্যতা নর্তকী শাওনের নাই। এটা যার ছিল মিডিয়া থেকে ভ্যানিশ করে দিয়েছে। স্যারকে তিনিই অবিশ্যি রিজেক্ট করেছিলেন।😦

    1. এইটা আমি আপনি বুঝলে তো হবে না। তাদের বুঝতে হবে যারা পাগলের মতো হুমায়ুন স্যার আর তার লেখাকে ভালবাসে কিন্তু ইতিহাসের নির্মমতা জানে না।

        1. সাহাদাত পড়ছি পড়ে ভালোই লাগলো। কিন্তু আমি শব্দনীড়ের পাসওয়ার্ড হারিযে ফেলেছি। দীর্ঘদিন ব্লগিং করা হয়না। ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

          1. ভাই কিছু মনে করলে একটা কথা বলি এই লেখাতে আপনি বিবেককে পকেটে ঢুকিয়ে আবেগকে সম্বল করতে চেয়েছেন। আপনার মতো গুণী লেখকের গড্ডলিক প্রবাহে গা ভাসানোটা মানায় না।

  5. ক্রিয়েটিভ মানুষদের অনেক অসংগতি থাকে। হুমায়ুন আহমেদও তার ব্যতিক্রম নন। হুমায়ুনের প্রচুর লেখায় গুলতেকিনের কথা পড়েছিলাম। যা পরবর্তী কালের অনেক কিছুর সাথে মেলে না। হুমায়ুন নিশ্চয় এইসবের জন্য দায়ী।

    গুলতেকিন নিয়া এখন কথা বলা মানে তার দুঃখ বাড়ানো। কি লাভ সে সব কথা বলে!

    1. ভাবতেছি মন্তব্য মডারেট করবো কিনা। কিন্তু করতে গেলে কিছু ঝামেলা হয় ভাই। অন্যদিকে মন্তব্য প্রকাশ না হলে অনেকে মাইণ্ড করেন । যাবো কই😦

  6. জানি না আমার কি বলা উচিৎ!
    আমি হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে কোনো লেখাই লিখিনি। আসলে লিখতে ইচ্ছে করেনি। হয়তোবা উনি খুব বড় মাপের সাহিত্যিক, হয়তোবা উনি খুব জনপ্রিয় লেখক, কিন্তু আমার কাছে উনি বরাবরই এমন একজন মানুষ যিনি নিজের প্রিয় মেয়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে বিয়ে করার জন্য ৩২ বছরের সংসার ভাঙ্গতে পারেন।

    আমার কখনোই তাঁকে নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করে না, কারণ আমার মূল্যবোধকে উনি বিশাল এক ধাক্কা দিয়েছেন বলে।

  7. তার ব্যাক্তি জীবন নিয়ে কথা না বলে আমাদের উচিৎ তার লেখা নিয়ে কথা বলা …….
    তাকে আমরা তার পরিবার দিয়ে নয় তার লেখা দিয়ে আমরা তাকে মনে রাখব,,,,,

  8. আপনার মত ঠিক এমনটিউ আমি চিন্তা করছিলাম। গুলতেনিক বুকে কতটা কষ্ট নিয়ে দূরে বসে দেখছে স্বামীর মৃত্যু খবর গুলো😦
    আপনার লেখাটা ভাল ছিল।

    তবে এই ব্যাপারে তর্ক বির্তক মধ্য আমি নেই। আমি শুধু এতটুকু বলব হুমায়ন আহমেদ ব্যাক্তি জীবনে যা করছে তাতে আমার বিন্দু মাএ আগ্রহ নেই।
    আমি উনার লেখা ভক্ত একজন লেখক হিসেবে ওনি মন্দ ছিল বলে আমার মনে হয় না।:)

    1. যদি বাড়িয়ে বলা মনে না করেন একটা কথা বলতেই হয়। এই ওয়াহিদুজ্জামান ভাইদের মতো কিছু মানুষ আছেন বলেই বাংলাদেশের মানুষ এখনো সত্য জানার ইচ্ছা প্রকাশ করে। সত্য জানতে চায়। হুমায়ুন আহম্মেদ এমন কোনো লাট সাহেব না যে তাকে মাথায় নিয়ে নাচতে হবে। কিন্তু জামাতীর যেভাবে ছাগলের মতো হুমায়ুনকে নিয়ে বিরোধিতা করে দাম বাড়ায় সেটাও ধিক্কারের। বাজার মূল্য বিবেচনায় হুমায়ুনের মতো প্রডাক্ট আমাদের প্রয়োজন আছে। তাই বলে এতো নাচানাচি করার কিছু নেই। অন্যদিকে মালাউনগুলো যেভাবে হুমায়ুন মানেই দেবতা হিসেবে হরিবোল করা শুরু করে সেটাও জঘন্য। একজন লেখককে লেখকের দৃষ্টিতে দেখতে হবে। তাকে নিয়ে দেবতার আসনে বসিয়ে পুজা করতে গেলেই বিপত্তি নির্ঘাত।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s