ভালবাসার ধূসর রঙ


গভীর রাত। রথি শুয়ে আছে। তার চোখে ঘুম নেই। ইদানিং প্রায়ই তার এমন হয়। ঘুম আসেনা। বিছনায় মরার মত শুয়ে থাকতে ভারী কষ্ট হয় তার। পাশের রুমে বাসার সবাই ভোস ভোস করে ঘুমায়। হটাৎ রথির খুব মন খারাপ হয়। শুধু ওই কেন আরো অনেকেই ঘুমায়। ওদের বাসার দারোয়ানটাও লাঠিতে ভর দিয়ে ঘুমায় । তবুও রথি কেনো রিমির কথাই ভাবে ??  হটাৎ মুচকি মুচকি হাসি আসে রথির। ভাবে এই রিমিটা যেনো কেমন? এতোদিন একসাথে থাকে।

এতো কাছের বন্ধু অথচ রথির মনের কথা পড়তে পারেনি একরত্তি। হারামিটা শুধু শুধু কষ্ট দেয় রথিকে। হটাৎ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে রথির

হটাৎ  করে উঠে বসে..

ধ্যাত সব অসহ্য।  রিমিইইইইই……. তুই যদি…..

আর ভাবতে পারেনা রথি।
পাশে থাকা বালিশটা ছুড়ে মারে রথি.
টেবিলের উপরে থাকা পানিভর্তি গ্লাসটা ঠক করে মেঝেতে পড়ে যায়।
বেড়ালটা ম্যাও করে উঠে দৌড় লাগায়।

মাথার সবগুলো চুল ছিড়ে ফেলার ইচ্ছে হয় রথির,

প্রবল আক্রোশে মাথা অবধি হাতও ওঠায় সে।

কিন্তু হায়, সেখানে তো অনাবাদি প্রান্তর কিছুই নেই,

রথি ছিড়বে কি……

মেয়েদের ব্যাপারে রথির তেমন কোনো আগ্রহ ছিলনা কোন কালেই। হটাৎ তার জীবনে রিমির আগমণ। রিমি যখন বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিয়েছিল প্রথমত রথি তাতে তেমন কোনো উৎসাহ দেখায়নি বললেই চলে। রথি চারপাশ দেখে বুঝতে পেরেছে ছেলেদের বন্ধুত্ব করা আর কোনো মেয়ের পোষা প্রাণির মতো ঘোরা এক কাজ নয়। সে জানে মেয়েরা তাদের বন্ধুদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাতেই পছন্দ করে। একদিন শিক্ষাজীবন শেষ হবে। মেয়েটার পরিবার তার জন্য নতুন করে সম্বন্ধ ঠিক করবে। সেদিন প্রশান্ত মহাসাগরের মতো দিলদরিয়া হৃদয়ে বললে তুই কেবলি আমার এক এবং একমাত্র ভাল বন্ধু ছিলি। বন্ধুকে তো আর বিয়ে করা যায়না।

রাতে বাসায় ফিরে রথি। দাঁত ব্রাশ করতে গিয়ে বেসিনের আয়নায় চোখ যায়। সুন্দর টাকটা আজ দেখি অতিমাত্রায় চকচক করছে। হায় একি অবস্থা। আর কয়েকদিন পর কি হবে। চিন্তায় পুরো রাত ঘুম হয়নি। পরদিন একটা হ্যাট পরে বের হয় রথি। চোখে গ্লাস। বন্ধুরা ভেবেছিল কোনো এলিয়েন আসছে। কিন্তু ঐ দিনই সবথেকে বড় সর্বনাশটা হয় তারা। সে রিমিকে হাঁ বলে দেয়।

তবুও সে প্রথমে এমন ভাব নিল যে তার মোটেও কোন মেয়ের বন্ধু হবার ইচ্ছে নেই।
রিমি মনে হয় এই কথাটা আশা করেনি।

সে ভাবলো জাফর ইকবালের ক্রুগো মনে হয় দুনিয়াতে চলে আসছে। আইজ্যাক আসিমভের চরিত্রগুলো আজ দুনিয়ায় ভোজবাজি খেলছে। বিস্মিত দৃষ্টি দিয়ে রথির দিকে রিমি এমন ভাবে তাকালো যেন দর্শকরা চিড়িয়াখানার বানর দেখছে। মনে মনে গালি দিলো। টাকলু শালা।

পরক্ষণের চোখে মুখে আশ্চর্য হওয়ার ভাব নিয়ে বললো এটা বলার কি হলো?

আমরা কি এখন শত্রু আছি নাকি ?

রথি বলে না আমি আসলে তা বলতে চাইনি। এবার আগ্রহী হয় রিমি।

তো কি বলতে চেয়েছেন স্যার!!! বলুন শুনি।

রথি লজ্জিত হওয়ার ভাব নিয়ে নিয়ে তো তো করে বলে।

আসলে আসলে আসলে ….. তো তো তোমার দাঁতগুলো অনেক সুন্দর। তবে বাম দিকের একটা পোকায় খাওয়া। এবার সত্যি হেঁসে দেয় রিমি। রথি সাহস সঞ্চয় করে বলেই দেয় মনে কথা এমন অবস্থা তবু কেনো যেনো থমকে যায়।  সে বাবে রিমি যদি তার এইসব কথা না মেনে নেয়। বরঞ্চ সে অবাক হয়ে লক্ষ করে বিস্ময় ভরা দৃষ্টিতে রিমি তার দিকে চেয়ে আছে। এবার খুব অস্বস্থি বোধ করে রথি।

মেয়েদের দৃষ্টি উপেক্ষা করার সাধ্য খুব কম পুরুষেরই থাকে, রথির তাদের দলে নেই। তার তখন ইচ্ছে হয় রিমির হাতটা জাপটে ধরে বসে থাকে। কিন্তু সেদিন তার সাহস হয়নি। রথি খেয়াল করে জিন্স গোলাপি ফতুয়ায় আজ কেমন যেনো অন্যরকম লাগছে রিমিকে। ফার্স্ট ইয়ার থেকেই রথি চামে দেখে নিতো রিমি ওড়না পরে না। রথি প্রথম প্রথম ভাবতো রিমি চানাচুর আর ঝালমুড়ি ওয়ালাদের মতো তার সৌন্দর্য ফেরি করে বেড়াচ্ছে।

এই স্মার্টনেস তার কাছে অনেকটা গাধামির মতো মনে হতো। রথির ধারণা অনেকটা ঠিকও বলা যায়। বিশেষ করে এই তিন বছরে রথিদের সবার মধ্যে রিমিই পর পর চারটি অ্যাফেয়ার করেছে। তারপর একে একে সবগুলো ব্রেকআপও হয়েছে।

সমস্যা একটাই রিমি সবসময় চায় পুরো দুনিয়ার সব ছেলে তার পেছনে ঘুরুক আর সৌন্দর্যের তারিফ করুক। কোনো ছেলে যেটা কিছুতেই তার বান্ধবীর কাছ থেকে প্রত্যাশা করেনা। তবুও রিমি সে পথেই হেঁটেছে। ভেবেছে সবাই তার জন্য  পাগল।  ও একের পর এক ছেলেকে ঘায়েল করে অপমান করে তার শোধ নিতে চেয়েছে। রিমি সব কিছু হলেও ইমেজের কাছে হার সহ্য করতে পারে না। সে সব সময় জিততে চায়। সে চিন্তা করছে ঠিক কোন ভাষায় অপমান করলে রথির মানসিক যন্ত্রণাটা বাড়বে।

এই সময় হটাৎ উদয় হয় আরাফ। আরিশশালা…….

কিরে রথি কি করিস তুই এখানে। মালেক, তন্ময়, শশী, জাবির ঐ গুঁফ ওয়ালা চিড়িয়াটা কি যেনো নাম আর ইমু চাচা আমরা কতো আড্ডা দিলাম। তুই কই ছিলি। এখানে বসে বসে কি করিস। রথির মনটা ভাল নেই সে উদাসভাবে আরাফের দিকে তাকায়। নরম মনের আরাফ রথির অবস্থা থেকে এমন ভাব নেয় মনে হয় একটু হলেই কেঁদে দেবে। বলে কিরে তোর কি হয়েছে। এমন করছিস কেনো। তোর পাশে হ্যাংলা মতো এই ছেলেটা কে? রথি এবার রেগে যায়। বলে দুরে গিয়ে মর শালা। আমার বান্ধবীরে তোর ছেলে মনে হয়। বেচারা আরাফ রথির তাড়া খেয়ে ভ্যবাচ্যাকা খেয়ে যায়। সে কিছু বলতে গিয়ে থেমে যায়।
পরদিন

তারপরদিন,

তারপর.. তারপর…….

মাস তিনেক পরে কোনো এক বিকাল…

ডা. ইমু মুখ খোলে। কিরে মালাক তোর কি খবর। আচ্ছা রথির কি হৈছে। প্রতিদিন সকালে অফিসে যায় ঠিক। কিন্তু বিকেলে এতো দেরী করে ফেরে। ও যায় কোথায়…. কতোদিন ওরে দেখিনা।

আরাফ নীরবাত ভেঙে বলতে শুরু করে….. পুরো কাহিনী।

হটাৎ করে হন্তদন্ত হয়ে রথির প্রবেশ। চাচা টাকা দাও। ইমু বিনা বাক্যব্যায়ে ৫০০ টাকা দিয়ে দেয়। পাশের দোকান থেকে এক প্যাকেট সিগ্রেট কিনে রথি। সবাই হা করে চেয়ে থাকে। যে রথি কিনা দুইকাপ চা খেতে ভয় পেতো সে টানছে সিগ্রেট।

সামথিং রং…..

হটাৎ করেই মালেক জানতে চায় কিরে দোস্ত তুই না পরশু ৩৭,০০০ টাকা বেতন পেলি। কি করলি এটা।

হটাৎ ফোন আসে রথির.. সে উদ্ভান্তের মতো দৌড় লাগায়। মালেক তার প্রশ্নের উত্তর পায় আরাফ থেকে।

বলে বান্ধবীর জন্মদিনে যদি পছন্দসই উপহার দিতে হয় আর প্রতিদিনের ডিনার কে.এফ.সি তে করতে তাহলে কি হয়?

পাশ করে শশী বলে তাইতো বলি রথি ভাইয়া বেতন পাইলো কাউরে এক চাপ চাও খাইয়াইলো না।

কাহিনী কি…..

ডা. ইমু নীরব।

বলে সব ফাপরবাজ একদম ইশটপ, ইউ গাইজ ইশটপ

উড ইউ পম গানা ?

Advertisements

3 thoughts on “ভালবাসার ধূসর রঙ”

    1. আরে ভাই একজনকে পচাইলাম হাল্কার উপ্রে। বেচারা আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেল থেকে সরে পড়েছে তাই শায়েস্তা করার জন্য।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s