প্রতিবাদী রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ


রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৬ই অক্টোবর। বাবা ছিলেন পেশায় ডাক্তার। রুদ্রের জন্মের সময় তাঁর কর্মস্থল ছিল বরিশাল। অবশ্য কবির জন্ম বরিশাল হলেও তাদের মূল বাড়ি বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার মিঠেখালি গ্রামে। দ্রোহ ও প্রেমের কবি রুদ্রের শৈশব কাটে মংলাতেই। এরপর চলে আসেন ঢাকায়। ১৯৭৩ সালে ঢাকা ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুল থেকে তিনি এস.এস.সি এবং ১৯৭৫ সালে এইচ.এস.সি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত ছিলেন। একবার ডাকসুর ইলেকশনও করেছিলেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন হরতাল মিছিল কর্মসূচিতে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত দেশে এমন কোন আন্দোলন নেই যাতে রুদ্র’র সশরীর অংশগ্রহণ ছিলো না। কলম থেকে শুরু করে রাজপথ যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে গেছেন।

১৯৮৬ সালে গ্রীন রোডের একটি রেস্তোরায় ৮-১০ জন মানুষ একজন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর গুণগান করছিল সেই টেবিলের সামনে গিয়ে তিনি তীব্র প্রতিবাদ করলেন। ৮-১০ জন মানুষের সাথে একাই লড়লেন কবি। তারা সেদিন রুদ্রকে মেরে রক্তাক্ত করেছিল। মাথায় দুটি সেলাই লেগেছিল কিন্তু তারপরেও তাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারেনি। এরপর আরেক দিন পশ্চিম রাজাবাজারের রাস্তায় একটি ওয়াজ মাহফিলের প্রচারে আরও একজন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর নাম মাইকে প্রচার করতে থাকলে তিনি রাস্তায় নেমে সেই মাইক বন্ধ করে দিয়েছিলেন। রুদ্র ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠকদের মাঝে একজন এবং এর উদ্যোক্তাও তিনি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় একবার ময়মনসিংহে কবিতা পাঠের আসর থেকে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা পুলিশ পাঠানো হয়। ভক্তদের বাধার মুখে সেদিন পুলিশ পারেনি তাকে নিয়ে যেতে। সেদিন থেকেই সমমনা কবি, শিল্পী, অভিনেতা, আবৃত্তিকার ও ছাত্রনেতাদের সঙ্গে নিয়ে শুরু হলো সংগ্রামী সাংস্কৃতিক জোট গড়ার উদ্যোগ। পরবর্তী সময়ে যা রূপান্তরিত হলো সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটে। ১৯৮৭ সালে এরশাদ ও তার ভাড়াটে কবিরা তাদের বাহাদুরি দেখাতে ঢাকায় আয়োজন করেন কবিতা উৎসব, বিপরীতে রুদ্র দাড়িয়ে যান “জাতীয় কবিতা উৎসব” নিয়ে। নব্বইয়ের পরে যখন সব কবিরা দলে দলে ভাগ হয়ে গেলো, বিভিন্ন দলের ছাতায় আশ্রয় খুঁজতে শুরু করে তখন তিনি একা হয়ে গেলেন। ১৯৯১ সালের ২১ জুন এই কবি ইহলোক ত্যাগ করেন। তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ তার ৩৪ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ভালো আছি ভালো থেকো সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন।

[সংগৃহীত ]

নিজেরো মনে নেই একটা লেখা থেকে ডিরেক্ট কপি পেস্ট করে রেখেছিলাম। তাই সূত্র মনে নেই। আর আপনার যদি চান কতো বই আছে পড়তে পারবেন। জানতে পারবেন।

One thought on “প্রতিবাদী রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ”

  1. বিয়ে সন্তান কি জন্য মারা যান ,এসব বিষয় থাকলে আরও ভাল হত ।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s