জ্যোতির্বিদ অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম


বাংলাদেশের বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক ক্ষ্যাতিসম্পন্ন জ্যোতির্বিদ অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম। চট্টগ্রামের এক বেসরকারি হাসপাতালে মাত্র ৭৪ বছর বয়সেই থমকে গেছে উনার জীবনচক্র। মহাবিশ্বের উদ্ভব ও পরিণতি নিয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন যা কেমব্রিজের মতো বিশ্ববিদ্যালয়কেও আলোড়িত করেছিল। হাজারো বিবেকবর্জিত শিক্ষকনামের জড়পদার্থের ভিড়ে খুঁজে পাওয়া একটি উজ্জল নক্ষত্রকে হারালো বাংলাদেশ। কিছু শিক্ষক যেখানে নিজেদের জন্মস্থান পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সন্ত্রাসীদের আস্তানা বানিয়ে প্রাইভেটফার্মে মুর্গিচরাতে ব্যস্ত। ঠিক সেই দেশে জন্মেও টাকার কাছে বিবেক আর দেশের প্রতি ভালোবাসা বিক্রি করেন নাই শ্রদ্ধেয় জামাল নজরুল ইসলাম স্যার। কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়কে তুচ্ছ ভেবে থেকে গেছেন দেশে, তাও চাটগাঁইয়া পাড়াতে। ভাবলৈতে ঢাকাতেও আসেননি।
বড় কষ্ট হয় যখন মান্যবর জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারদের মতো মানুষ বুয়েটের নুন খেয়ে এতো বড় হয়ে শেষ পর্যন্ত গুণ গান ব্রাকের। অবাক লাগে উনারা কিভাবে বলেন পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয় নষ্টমির আখড়া। শিক্ষক নামের অনেকে জোকার আছেন যারা বিভিন্ন অজুহাত আর অছিলায় ক্লাস ফাঁকি দিতে বেশ পারঙ্গম। আজ মেয়ের বিলাইয়ের জন্মদিন, আগামী কাল নানাত ভাইয়ের বেয়াইনের চল্লিশা, পরশু বিগত দিনে কোনো এক গার্লফ্রন্ডের ছেলের জন্মদিন এভাবেই তাদের চলে যাচ্ছে বেশ। তাদের ধ্যান, জ্ঞান আর প্রেম এসবই মুখস্থ বিদ্যাকে ঘিরে আবর্তিত হয়। তাই নিজেরা যেমন নতুন সৃষ্টির ক্ষেত্রে অনেকটাই ক্লীব তেমনি সৃষ্টিশীল শিক্ষার্থীদের প্রতি খড়গহস্ত হতে তারা কেমন যেনো পৈশাচিক আনন্দ পান। তারা হয়তো সৃষ্টিশীলতার মতো বিষয় আর অনাসৃষ্টির প্রতিশব্দ একই রকম ভেবে থাকতে পারেন। এটা তাদের আলুর দোষ।
আরব্য রজনীর একচোখা দৈত্যের মতো তাদেরও চোখ একটি। ঐ চোখে তারা শুধু প্রিয় বিষয়গুলো দেখেন। অপ্রিয় সত্যের ব্যাপারে তারা মনুসংহিতার ঐ প্রবাদের বিশ্বাসী ::: ছাতইয়্যাম বদো, আপ্রিয়া ছাততিয্যাম মাবদো। যার মানে কিনা সত্য বলো কিন্তু অপ্রিয় সত্যের ধারে কাছে যেয়ো না। কিন্তু ভাবতে কষ্ট হয় স্যার আপনি এদেশের মানুষ। আপনি দেশকে নিয়ে ভেবেছিলেন। কেম্ব্রিজের বর্ণিল আলো থেকে মাতৃভূমির মাটি আপনার কাছে অনেক বেশি আবেদন সৃষ্টি করেছিলো। টাকার বিনিমনে বিবেক আর বিদ্যে বিক্রির এই তালিকায় যখন এক একটি নতুন ব্যক্তি যুক্ত হচ্ছেন তখনি জাতি হারালো এই উজ্জল নক্ষত্রকে। দেশের এই ক্রান্তিকালে তাই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি স্যার আপনাকে। আল্লাহ আপনাকে শান্তি দিন। আপনার মতো অন্তত ১০০ জন শিক্ষক জন্ম নিক বাংলাদেশের এই অনুর্বর জমিনে। এই প্রত্যাশা করতেই পারি। সত্যি বলছি স্যার আপনার প্রতি সম্মান দেখাতেই আগামী একমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের চরম অপদার্থ শিক্ষকটিকেও তার যোগ্যতার অতিরিক্ত সম্মান দেবো। তবুও আপনি শান্তিতে ঘুমোন এই প্রত্যাশা করতে চাই। তাই সবশেষে আপনার জন্য এই অধমের টুপিখোলা অভিবাদন স্যার।
এক নজরে জামাল নজরুল ইসলাম স্যার
………………………………..

জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯ (বয়স ৭৪) ঝিনাইদহ জেলা, বাংলাদেশ
মৃত্যু: মার্চ ১৬, ২০১৩ (৭৪ বছর) চট্টগ্রাম
ক্ষেত্র: পদার্থবিজ্ঞান,গণিত,জ্যোতির্বিজ্ঞান,বিশ্বতত্ত্ববিদ্যা
প্রতিষ্ঠান: কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, University of Maryland, College Park, University of Washington, ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি, City University, London
Clare Hall, Cambridge, Cardiff University, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় ,Institute of Astronomy, Cambridge
বিস্তারিত জানুন……
উইকিতে:
http://bn.wikipedia.org/wiki/জামাল_নজরুল_ইসলাম
কালের কন্ঠ.
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=27&dd=2013-03-17&ni=129054
প্রথম আলো:
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-03-17/news/337263

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s