বিপ্লবী চে গুয়েভারা


আজকের এই দিনে অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়ে জীবন দিয়েছিলেন মহান বিপ্লবী চে গুয়েভারা। আজ সময় পাল্টেছে। তথাকথিত চের গায়ে মানেনা আপনি মোড়ল টাইপের ভক্তকূল চে কেও আজ পুজিবাদের পাল্লায় তুলেছে। তবুও চের মৃত্যু দিবসে এইটুকু বলতে পারি ডাক্তার সাহেব আপনি চলে গেছেন। চ্রম শ্বাসকষ্ট আর সংকটেও বিপ্লবের চেতনাকে ভুলেননি। আমরণ সংগ্রাম চালিয়েছেন। হয়তো আপনিও তখন ভাবতেন বোকাদের খাতায় তালিকাটা একটু দীর্ঘায়িত হলো আমায় নিয়ে। কারণ আপনি সংগ্রাম করেছেন মেহনতী মানুষের জন্য। মানুষকে সত্যিকার স্বাধীনতার স্বাদ পাইয়ে দেয়ার মানসিকতা নিয়ে। কিন্তু আজকে আপনার অনুসারী নামের হিপোক্রেটগুলো নিজেদের প্রচার প্রসারে আপনাকে ব্যবহার করছে। আপনার ইমেজ বিক্রি করে বাণিজ্যের পসরা খুলে বসেছে। তাই অনেকে ভূল করে বসতে পারে চে মানে আর কিছু নয়, কিছু ব্যাগ টুপি আর আজিজ মার্কেটের টি-শার্ট।

তবু আপনাদের মতো কিছু মহান ব্যক্তিকে সামনে রেখেই আমরা হতভাগ্যরা আজও স্বপ্ন দেখি। প্রতিবাদ করতে চেষ্টা করি, ধিক্কার শুনি, পরীক্ষায় কম মার্কস পাই, হিপোক্রেটদের গালি খাই তবুও একটা সাহস আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করি । বেকুবের মতো মনে হলেও আজও ভাবি কোন মানুষ বা তার চেতনাকে বার বার গলাটিপে হত্যা করলেই তার উদ্যমকে ধুলিস্যাৎ করা যায় না। তাই ঐ সব হিপোক্রেটদের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে সংগ্রাম চলতে থাকুক।
বিপ্লবীদের হত্যা করলেও বিপ্লব স্তব্ধ হয়না। সংগ্রামীদের নি:শেষ করা হলেও সংগ্রাম তার আপন গতিতে চলতে থাকে। পথের সন্ধানে থাকা ব্যক্তিদের পথে কাঁটা বিছিয়ে দিয়ে তাদের বিপথগামী করা যায়, কিন্তু তাদের পথ থেকে সরিয়ে দেয়া যায়না। শুশীলতার মুখোশ পরে বিপ্লবী শ্লোগানে টেলিভিশন চ্যানেলে শব্দ দূষণ ঘটানো যায়। কিন্তু বিপ্লব সহজ বিষয় না। সন্ধার পর গঞ্জিকা সেবন আর লম্বা চওড়া বক্তব্যই বিপ্লবের জন্য যথেষ্ট নয়। এখানে বাকযুদ্ধের থেকে কর্মস্পৃহা আর তৎপরতার মূল্যটা যে অনেক অনেক বেশি। আর বিপ্লবের সংজ্ঞাটাও যে অনেক অনেক প্রসারিত।
আমরণ বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক…

তাই সুনীলের ভাষায় বলতে হয়,……………..

চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়
আমার ঠোঁট শুকনো হয়ে আসে, বুকের ভেতরটা ফাঁকা
আত্মায় অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপতনের শব্দ
শৈশব থেকে বিষণ্ণ দীর্ঘশ্বাস
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়-
বলিভিয়ার জঙ্গলে নীল প্যান্টালুন পরা
তোমার ছিন্নভিন্ন শরীর
তোমার খোলা বুকের মধ্যখান দিয়ে
নেমে গেছে
শুকনো রক্তের রেখা
চোখ দুটি চেয়ে আছে
সেই দৃষ্টি এক গোলার্ধ থেকে ছুটে আসে অন্য গোলার্ধে
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়।
শৈশব থেকে মধ্য যৌবন পর্যন্ত দীর্ঘ দৃষ্টিপাত-
আমারও কথা ছিল হাতিয়ার নিয়ে তোমার পাশে দাঁড়াবার
আমারও কথা ছিল জঙ্গলে কাদায় পাথরের গুহায়
লুকিয়ে থেকে
সংগ্রামের চরম মুহূর্তটির জন্য প্রস্তুত হওয়ার
আমারও কথা ছিল রাইফেলের কুঁদো বুকে চেপে প্রবল হুঙ্কারে
ছুটে যাওয়ার
আমারও কথা ছিল ছিন্নভিন্ন লাশ ও গরম রক্তের ফোয়ারার মধ্যে
বিজয়-সঙ্গীত শোনাবার-
কিন্তু আমার অনবরত দেরি হয়ে যাচ্ছে

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s