পৈশাচিক নেক্রোফিলিয়া বা শবাসক্তি (পর্ব-২)


Necrophilia 01নেক্রোফিলিয়ার প্রাথমিক অবস্থা তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি আমার প্রথম পোস্টে আর শেষ পর্বে আছে ইতিহাস। বিশেষত নেক্রোফিলিক বিকারগ্রস্ততায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের আচার আচরণ ও ক্রিয়াগত দিক বিচার করেই রসম্যান ও ফিলিপ এই শ্রেণিবিভাগগুলো করেছেন। তাদের মতে এই তিনটি ধরণ হচ্ছে নেক্রোফিলিয়া হোমিসাইড, নেক্রোফিলিয়া ফ্যান্টাসি ও রেগুলাল নেক্রোফিলিয়া। তবে প্রতিটি ধরণই কার্যক্ষেত্রে এক ধরণের কুটিল ও পৈশাচিক মনোবৃত্তির পরিচায়ক। এগুলো ধারাবাহিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলো।

নেক্রোফিলিয়া হোমিসাইড
মারাত্বক আসক্তির এক পর্যায়ে এই সকল কুচক্রী তাদের কুটিল কর্ম সম্পাদনের উদ্দেশ্যে ভিকটিমকে হত্যা করে। তবে এদের সংখ্য নিতান্তই মামুলী। আমরা কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার টেড বান্ডি এর জীবনের উপর নির্মিত আমেরিকান ইংরেজী মুভি ‘টেড বান্ডির’ কথা বলতে পারি। এখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন মিচেল রেইলি বার্কে এবং তার হতভাগ্য বান্ধবীর চরিত্রে অভিনয় করেন বটি ব্লিস। এই চলচিত্রে নেক্রেফিলিয়া হোমিসাইড এর ধারণা পাই। টেড বান্ডি একজন খুবই স্মার্ট ও সুদর্শন যুবক ছিল। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সে ওয়াশিংটন, কলোরাডো, উতাহ, মিশিগান, ফ্লোরিডা সহ নানা স্থানের তরুনীদের বোকা বানিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলতো। এপর সময় সুযোগ অনুযায়ী প্রায় একশ এর মতো নারীকে হত্যা করে সে। তার অপকর্মের মধ্যে ত্রিশটির প্রমাণ মিলেছে। মারত্মক জঘন্যতার প্রমান মেলে যখন টেড বান্ডি তার অপকর্মের কথা স্বীকার করে। সে তার জবানবন্দিতে বলে সে এই সকল নিহত যুবতীদের মৃতদেহের সাথে কথা বলতো, তাদের রক্ত গায়ে মাখতো এবং তাদের সাথে মিলিত হতো। এই বিকৃত মানসিকতার অধিকারীর প্রথম শিকার তার বান্ধবী জেটা। জেটা টেড এর আচরণ সুবিধের নয় দেখে তার থেকে সরে যেতে চেষ্টা করেন। কিন্তু টেড তাকে হত্যা করে মৃতদেহের সাথে দীর্ঘদিন মিলিত হয়। পাশাপাশি অন্য যাদের হত্যা করেছিলো টেড বান্ডি সেক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিলো। এই ধরণের মারাত্মক ঘটনাকে গবেষকগণ দৈবাৎ বলেই দাবি করার পক্ষপাতী।

টেড বান্ডি সিরিয়াল কিলার মুভির পোস্টার

রেগুলার নেক্রোফিলিয়া
নেক্রোফিলিয়া আক্রান্ত রুগীদের মধ্যে এই ধরণের রুগীর সংখ্যাই বেশি। এই ধরণের বিকৃত রুচীর অধিকারী ব্যক্তিরা মৃতদেহের সাথে মিলিত হয়ে এক ধরণের পুলক অনুভব করে থাকে। এই অপকর্ম সেই সুপ্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে। ২০১০ সালে ফিপিপাইনের জামবোয়াগনা শহরের একটি কবরস্থান হতে বেশ কিছু শবদেহ চুরি হতে দেখা যায়। তাদের বেশির ভাগই ছিল তরুণীদের মৃহদেহ। পরে পুলিশ এই সকল মৃতদেহ কবরস্থানের পাশের কিছু খুটিতে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় লটকানো দেখতে পায়। এখানে শবদেহের সাথে মিলিত হওয়ার চিহ্ন ছিল। কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে একদল নেক্রোফিলির কাজ বলে মনে করে। পরবর্তীকালে এই ঘটনার দায়ে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের মধ্যে যারা এই অন্যায় স্বীকার করে তারা বেশিরভাগই ছিল ড্রাগসেবী এবং মস্তিকের বিকারগ্রস্ত। আর কয়েকজন ছিলো কবরস্থানের কর্মী। অন্যদিকে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি হাসপাতালের মর্গে কাজ করা কিছু ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে কয়েকজন রয়েছেন চিকিৎসক। মর্গের লাশগুলোর সাথে তারা সময় সুযোগ বুঝে মিলিত হয় এমন তথ্য ফাঁস হওয়ার পর তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে কারো প্রতি গভীর ভাবাবেগ থেকে এমনটি হতে পারে।

316a17d0-8146-4798-9b8d-b76afe892c72
নারীরাও নেক্রোফিলিক হতে পারে
অ্যালান কোয়াটারমেইন বইটির প্রচ্ছদ

নেকরোফিলিক ফ্যান্টাসি
আমরা ব্রাম স্টোকারের ড্রাকুলা বইটির বিবরণীতে এই ধরণের বিষয়ের প্রতি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেখতে পাই যেটা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যাবে। এখানে বস্তুত জোনাথন হারকাররের প্রতি তার প্রয়াত বান্ধবী লুসি ওয়েস্টেনরার একধরনের ভৌতিক ভালবাসা স্থান পেয়েছে। এই ধরণের বিকারগ্রস্তরা ফ্যান্টসি বা কল্পনাতে থেকেই  মৃতদেহের সাথে মিলিত হওয়ার আনন্দ উপভোগের চেষ্টা করে। কিন্তু বাস্তবে এদের ততটা হটকারী না আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে দেখা যায় না। ড্রাকুলার কাহিনী ব্রাম স্ট্রোকার পেয়েছিলেন পিচাশ শাসক রক্তপিপাসু ভ্ল­াদ দ্য ইম্পেলরের কাহিনীতে। এখানে বর্ণিত কাহিনী গুলোতে অনেক ক্ষেত্রে ফ্যান্টাসিক নেক্রোফিলিয়ার কথা এসেছে। অন্যদিকে প্রখ্যাত লেখক সিডনি শেলডনের রচনাতে অনেক ক্ষেত্রে ফ্যান্টাসিতে মৃতদেহের প্রতি ভাবাবেগের কথা এসেছে।

নন্দিত লেখক হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর একটি উপন্যাসে অ্যালান কোয়ার্টারমেইনকে এই ধরণের ভাবালুতায় আচ্ছন্ন হতে দেখা গেছে। লেখক এখানে তাদুকি নামক নেশাদ্রব্যের মাধ্যমে একটি তন্দ্রচ্ছন্ন ইমেজ খুঁজে নিতে চেয়েছেন। ফলে দেখা গেছে বাস্তবের অ্যালান কোয়ার্টারমেইন ফ্যান্টাসিতে ললীলার মাঝে খুঁজে নিতে পেরেছেন তার প্রয়াত প্রেয়সীকে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রার বাইরে এসে উদ্ভট আচরণ মানুষের জন্য নতুন কিছু নয়। তবে এই পৈশাচিক নেক্রোফিলিয়া সত্যিই গা ছমছমে একটি বিষয়। এর ঐতিহাসিক নানা বিশ্লেষণ করা হবে তৃতীয় ও শেষ পর্বে যেখানে ইতিহাস ও বর্তমান তুলনামূলকভাবে উপস্থাপিত হবে।

এর আগে পড়ে নিন
পৈশাচিক নেক্রোফিলিয়া বা শবাসক্তি (পর্ব-১) সাথে আরো পড়ুন
পৈশাচিক নেক্রোফিলিয়া বা শবাসক্তি (পর্ব-৩) |
Advertisements

3 thoughts on “পৈশাচিক নেক্রোফিলিয়া বা শবাসক্তি (পর্ব-২)”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s