রাতজাগা ক্ষতিকর নয় আসুন রাত জাগি


1125759003_3580Germany, Emmering, Teenage girl sleeping in computer labসৃষ্টিশীল মানুষের সাথে রাতের ঘূম আর সমাজের বৈরিতা চিরকাল। এই কথা কারোক্ষেত্রে জন্মলগ্ন থেকে ধ্রুব সত্য হয়ে যায় কেউবা ভাব ধরেন। তবুও এক ধরণেরঅবস্থা তৈরি হয়েছে যেখানে মেনে নিতেই হচ্ছেসৃষ্টিশীলতা আর নিয়মানুবর্তিতা দুটি ভিন্ন গ্রহের উপমা। আমরা যারা রাত জেগে কাজ করি পরিবারের সবার তাদের নিয়ে চিন্তার অন্ত নেই। কিন্তু এবার তাদের চিন্তাথেকে মুক্তির পথ বাতলে দিয়েছে মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশ্ব বিদ্যালয়। ডেইলি মেইলে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে এমনি দেখতে পেলাম। সেখানে মানুষের রাত জাগা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন উদ্দিষ্ট গবেষকগণ।

প্রারম্ভে শয়ন আর কাকডাকা ভোরে জাগরণের সেই বাঙালি ঐতিহ্যকে অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিতে যাচ্ছে এই গবেষণা। এই গবেষকদল মনে করেনসকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা বা রাতে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া তরুণদেরচাইতে রাতজেগে কাজ করা তরুণরাই তুলনামূলক প্রখর বুদ্ধির অধিকারী। এরা বাকিদের তুলনায় অনেক বেশি কষ্টসহিষ্ণু ও পরিশ্রমী হওয়াতে কর্মক্ষেত্রে এদের সফলতার হারও তাই অনেক অনেক বেশি। তারা প্রায় এক হাজার তরুণের উপর একটি জরিপ পরিচালনা করে। জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যারা রাতে অনেকটা সময় জেগেথেকে কাজ করেন তারা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অন্যদের ঢের এগিয়ে গেছেন।

বিশেষ করে রাতের নীরবতা তাদের কাজে একাগ্রতা এনে দেয়। একমনে কাজ করতে পারায় সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডে তারাই সবথেকে বেশি ভূমিকা রাখছে। সময়ের আবর্তে তারা অধিক বুদ্ধিমান বিচক্ষণ হয়ে উঠে। অন্যদিকে এর থেকে আয় উপার্জনেও সফলতার মূখ দেখে তারা। হেলেন লসন ডেইলি মেইলে যে প্রবন্ধ লিখেছেন সেখান থেকে দুটি কথা সরাসরি কোর্ট করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। তিনি আমাদের মুরুব্বিদের মতো কোনো ভনিতা না করে সরাসরিই বলেছেন।

1.      University of Madrid researchers tested nearly 1,000 teenagers

2.       Early risers do well at school but are outstripped by night owls at work

মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকগণ এখানে কয়েকটি বিশেষ মানদণ্ডে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের তাদের ঘুমের অভ্যাসের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়। এর পাশাপাশি তাদের শিক্ষাক্ষেত্রের ফলাফলও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে এখানে কিছু তরুণকে দেখা গেছে সৃষ্টিশীল কাজ ও ক্লাসের ফলাফল দুটি  ক্ষেত্রেই এগিয়ে যেতে। তারা দেরিতে ঘুমানোর দলে পড়ে। বিশেষ করে নানা ক্ষেত্রে সফল প্রতিচারজনের একজন তরুণ তাদের দ্রুত ঘুমাতে যাবার অভ্যাস রয়েছে বলে জানান।

ডেইলি মেইল এক্ষেত্রে বলতে চাইছে ‘The study also found that night owls’ achievements at school was rated lower than that of larks, by about eight per cent – possibly because morning school timetables did not create the right conditions for them to learn’.

তারা এই গবেষণার ক্রস চেকিং করার জন্য বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ও সৃষ্টিশীল মানুষের জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরেন। বিশেষ করে চার্লস ডারউইন, উইনস্টন চার্লিল, কেইথ রিচার্ডস, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে প্রমুখের কথা বলা হয়। অন্যদিকে বিখ্যাত বিজ্ঞানী থমাস আলভা এডিসন রাত না জেগে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতেন। তবে হিসেব করে বলতে গেলে তিনি রাত্রে খুবই কম ঘুমাতেন। বিজ্ঞানী নিউটনও গভীর রাত অবধি জেগে কাজ করতেন।উনারা রাত জাগাতে যখন কোনো পাপ হয়নি তাই আমাদের রাত জাগা বৈধ।  

শেষ করবো লাফবফ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Loughborough University) শিক্ষক জিম হর্নের (Jim Horne)উদ্ধৃতিটি দিয়ে শেষ করছি।,   Evening types tend to be the more extrovert creative types, the poets, artists and inventors, while the morning types are the deducers, as often seen with civil servants and accountan,’ তাই নো টেনশন ডু ফুর্তি। আসুন রাত জাগি। ফেসবুক ব্লগে বসে অসংখ্য ঘোড়ার ডিমের অমলেট আর মরীচিকার পরোটা বানিয়ে নাস্তা করি।

রাতজাগা পাব্লিক চার্চিল।
চিরচেনা ডারউইন কাকা, তিনিও রাত জাগতেন
সেই বিখ্যাত লেখা যেখানে আমি খবরটি পেলাম।

Early to bed and early to rise won’t make you wealthy and wise, research shows

2 thoughts on “রাতজাগা ক্ষতিকর নয় আসুন রাত জাগি”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s