বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শঙ্খ শিল্প

6987436797_4a8a2ecdff_bইতিহাসের আবর্তন খুঁজতে গেলে পাথর যুগ থেকে শুরু করে সংস্কৃতি ক্রমোন্নয়নের স্বপ্ন সোপান বেয়ে আজকের বাংলাদেশ। সভ্যতার সংঘাতে কালজয়ী মানুষদের ইতিবৃত্ত এদেশকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ইতিহাসের পাতায় যেখানে গৌরবগাথা নিতান্ত মামুলী নয়। শক্ত খোলস বিশিষ্ট সামুদ্রিক প্রাণি শঙ্খ (ঞঁৎনরহবষষধ ঢ়ুৎঁস) এর শুভ্রতা আর বিশেষ গাঠনিক বৈশিষ্ট্যের কারণে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে। বাংলার লোক শিল্পের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের অনন্য সাক্ষ্য এই শাঁখা শিল্প একদিকে যেমন ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত অন্যদিকে অনুপম এক শিল্পমানের পরিচয়ও বহন করে। হাতে পরিধেয় শঙ্খবলয় যেমনি প্রত্যেক বিবাহিত হিন্দু রমণীর সতীত্ব আর গৌরবের প্রতীক, শঙ্খধ্বনি তেমনি শুভকাজের সূচনায় মঙ্গল বার্তা বয়ে আনে বলে তাদের বিশ্বাস। Continue reading বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শঙ্খ শিল্প

Advertisements

গারো নৃ-গোষ্ঠীর কৃত্যনির্ভর জীবন ও আচার

image_1324_368779বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা সুদীর্ঘকাল যাবৎ বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজস্ব জাতিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখতে সক্ষম হয়েছে। হাজার বছরের সহাবস্থান সত্ত্বেও তারা আত্মপরিচয় বিসর্জন দিয়ে বাঙালির ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি পূর্ণ আকৃষ্ট হয়নি। জাতীয়তা, স্বকীয়তা তাদের ব্যবহারিক জীবনের সব কর্মেই আজও পরিলক্ষিত হয়। সমৃদ্ধ সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী গারো নৃ-গোষ্ঠীরও রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান। Continue reading গারো নৃ-গোষ্ঠীর কৃত্যনির্ভর জীবন ও আচার

মধ্যযুগের ঢাকায় বিদেশিরা

image_1324_368797ঢাকা সুপরিচিত শহর হলেও পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী মহানগর হিসেবেও খ্যাতিমান। ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে ঢাকার নামকরণ করা হয়েছিল, তবে মোগল রাজধানী ঢাকায় প্রথম সুবাদার ইসলাম খান (১৬১০-১৬১৩ খ্রি.) এখানে আসার আগে থেকেই এই শহরের অস্তিত্ব থাকার কথা মির্জা নাথানের ‘বাহারিস্তান-ই-গায়বি’তে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। নতুন এই রাজধানীতে বিদেশিরা বিপুল সংখ্যায় যে আসবে, তা স্বাভাবিক। কিন্তু রাজধানী হওয়ার আগেও জনপদ হিসেবে ঢাকার অস্তিত্ব থাকায় বিদেশিদের আগমন ঘটা অস্বাভাবিক ছিল না। মানসিংহের আমলের দুর্গ ইসলাম খানের আগে থেকেই ছিল এবং সম্রাট আকবরের আমলে মোগল পক্ষের এই সমরকুশলী নিজেও বাংলা অঞ্চলের মানুষ ছিলেন না, কাজেই সামরিক গুরুত্বের কারণে রাজধানী স্থাপনের আগেও কিছু না কিছু বিদেশি ঢাকায় এসেছিলেন। ঢাকায় বিদেশিদের আগমনের সুস্পষ্ট লিখিত ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত মোগল যুগ থেকেই পাওয়া যায়। Continue reading মধ্যযুগের ঢাকায় বিদেশিরা

ইতিহাসের ধারায় মিশরের গণহত্যা

আন্দোলনকারীর আর্তচিৎকার

মিসরের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল, তা হচ্ছে মিসরের রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ারের বিপ্লব কি শেষ পর্যন্ত তার লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারবে? যারা সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেন, তারা জানেন সেনাবাহিনী একবার ক্ষমতা নিলে সে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়। মিসরের ক্ষেত্রে এমনটিই হতে যাচ্ছিল। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, অনেক বিপ্লবই তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। ফ্রান্সের সাধারণ কৃষকরা রুটির দাবিতে ১৭৮৯ সালে ভার্সাই দুর্গের পতন ঘটিয়ে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। কিন্তু এরপরের চার বছরের ইতিহাস অনেক করুণ। সেখানে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। আর এর মধ্য দিয়ে ১৭৯৯ সালে নেপোলিয়নের একনায়কতন্ত্রী শাসন শুরু হয়েছিল। ফরাসি বিপ্লব রাজতন্ত্রের পতন ডেকে আনলেও নেপোলিয়ন নিজেকে সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করে (১৮০৪)সেই রাজতন্ত্রই আবার চালু করেছিলেন। Continue reading ইতিহাসের ধারায় মিশরের গণহত্যা

সৌদি রাজপরিবারের ইতিহাস

abdull-1024x682সৌদি আরব হলো কোনো ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠিত পৃথিবীর একমাত্র মুসলিম দেশ। অন্য কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কোনো ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রিয়াদের নিকটস্থ দিরিয়া নামের একটি কৃষিবসতির প্রধান ছিলেন মুহাম্মদ বিন সৌদ। এই উচ্চাভিলাষী মরুযোদ্ধা ১৭৪৪ সালে আরবের বিখ্যাত ধর্মীয় নেতা মুহাম্মদ বিন ওয়াহাব [ওয়াহাবী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা]-এর সাথে মৈত্রী চুক্তি করে “দিরিয়া আমিরাত” গঠন করেন। তুরস্কের উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে শিরক-বিদাত পালনের অভিযোগে এই দুজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ শুরু করেন। ওই “দিরিয়া আমিরাত”-ই বিশ্বের প্রথম সৌদি রাজ্য/আমিরাত। মুহাম্মদ বিন সৌদ তার পুত্র আবদুল আজিজের সাথে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের মেয়ের বিয়ে দেন। এভাবেই সৌদ পরিবার ও ওয়াহাবী মতবাদের মিলনযাত্রা শুরু হয়। ১৭৬৫ সালে মুহাম্মদ বিন সৌদ-এর মৃত্যু হলে তার ছেলে আবদুল আজিজ দিরিয়ায় ক্ষমতাসীন হয়।

এই আবদুল আজিজ তত্কালীন বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী মোড়ল ব্রিটেনের সাথে হাত মিলিয়ে তুরস্কের খলিফাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে থাকে। শ্বশুর ইবনে ওয়াহাবের ধর্মীয় মতবাদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তথাকথিত শিরক-বিদাত উচ্ছেদের নামে ব্রিটিশদের সাথে তুর্কি খিলাফত ধ্বংসের কাজে লিপ্ত হয় আবদুল আজিজ। ১৭৯২ সালে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের মৃত্যু হয়। ১৮০১/২ সালে আবদুল আজিজ তুর্কি খিলাফতের কাছ থেকে ইরাক দখল করে হজরত আলী (রা.) ও হজরত হুসেন (রা.)-এর মাজার শরিফ ভেঙে ফেলে। এর প্রেক্ষিতে ১৮০৩ সালে একজন শিয়া মুসলিম আজিজকে দিরিয়ায় আসরের নামাজরত অবস্থায় হত্যা করে।  Continue reading সৌদি রাজপরিবারের ইতিহাস