সৌদি রাজপরিবারের ইতিহাস


abdull-1024x682সৌদি আরব হলো কোনো ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠিত পৃথিবীর একমাত্র মুসলিম দেশ। অন্য কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কোনো ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রিয়াদের নিকটস্থ দিরিয়া নামের একটি কৃষিবসতির প্রধান ছিলেন মুহাম্মদ বিন সৌদ। এই উচ্চাভিলাষী মরুযোদ্ধা ১৭৪৪ সালে আরবের বিখ্যাত ধর্মীয় নেতা মুহাম্মদ বিন ওয়াহাব [ওয়াহাবী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা]-এর সাথে মৈত্রী চুক্তি করে “দিরিয়া আমিরাত” গঠন করেন। তুরস্কের উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে শিরক-বিদাত পালনের অভিযোগে এই দুজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ শুরু করেন। ওই “দিরিয়া আমিরাত”-ই বিশ্বের প্রথম সৌদি রাজ্য/আমিরাত। মুহাম্মদ বিন সৌদ তার পুত্র আবদুল আজিজের সাথে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের মেয়ের বিয়ে দেন। এভাবেই সৌদ পরিবার ও ওয়াহাবী মতবাদের মিলনযাত্রা শুরু হয়। ১৭৬৫ সালে মুহাম্মদ বিন সৌদ-এর মৃত্যু হলে তার ছেলে আবদুল আজিজ দিরিয়ায় ক্ষমতাসীন হয়।

এই আবদুল আজিজ তত্কালীন বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী মোড়ল ব্রিটেনের সাথে হাত মিলিয়ে তুরস্কের খলিফাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে থাকে। শ্বশুর ইবনে ওয়াহাবের ধর্মীয় মতবাদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তথাকথিত শিরক-বিদাত উচ্ছেদের নামে ব্রিটিশদের সাথে তুর্কি খিলাফত ধ্বংসের কাজে লিপ্ত হয় আবদুল আজিজ। ১৭৯২ সালে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের মৃত্যু হয়। ১৮০১/২ সালে আবদুল আজিজ তুর্কি খিলাফতের কাছ থেকে ইরাক দখল করে হজরত আলী (রা.) ও হজরত হুসেন (রা.)-এর মাজার শরিফ ভেঙে ফেলে। এর প্রেক্ষিতে ১৮০৩ সালে একজন শিয়া মুসলিম আজিজকে দিরিয়ায় আসরের নামাজরত অবস্থায় হত্যা করে। 

এর পর আবদুল আজিজের ছেলে সৌদ বিন আবদুল আজিজ ক্ষমতায় এসে তুর্কিদের পরাজিত করে ১৮০৩ সালে মক্কা ও ১৮০৪ সালে মদিনা দখল করে নেয়। দুই পবিত্র নগরী দখল করে তারা ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালায়। তারা মক্কা-মদিনার বহু মুসলিমকে হত্যা করে। সবই করা হয় সেই শিরক-বিদাত উচ্ছেদের নামে! ওয়াহাবী মতবাদের ধর্মীয় শুদ্ধি অভিযানের অজুহাতে তারা বহু সাহাবীর কবরস্থান ধ্বংস করে। এমনকি খোদ মহানবী (সা.)-এর পবিত্র কবরে ছায়াদানকারী মিম্বরগুলোও এরা ভেঙে ফেলে! মহানবী (সা.)-এর পবিত্র রওজাকে তুর্কি খলিফারা যেসব মণি-মুক্তায় সাজিয়েছিলেন, শুদ্ধি অভিযানের নামে সেসবও তুলে ফেলে সৌদ-এর বাহিনী। এসবই চলে ব্রিটিশদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা নিয়ে।

ইরাক-মক্কা-মদিনায় সৌদিদের এই ধ্বংসযজ্ঞে তত্কালীন তুর্কি খলিফাগণ ভীষণ রুষ্ট হন। ১৮০৮ সালে খলিফা ২য় মাহমুদ ক্ষমতাসীন হয়ে সৌদিদের দমনে শক্তিশালী সেনাদল পাঠান। ব্রিটিশ বাবারা এবার আর সৌদিদের বাঁচাতে পারেনি। ১৮১৮ সালে সৌদের ছেলে, তত্কালীন সৌদি শাসক আবদুল্লাহ বিন সৌদ তুর্কিদের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

আবদুল্লাহ বিন সৌদকে বন্দী করে ইস্তাম্বুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই পবিত্র নগরী ও বহু মসজিদ ধ্বংসের শাস্তি হিসেবে খলিফা ২য় মাহমুদ-এর নির্দেশে আবদুল্লাহ বিন সৌদ ও তার দুই ছেলেকে ইস্তাম্বুলে প্রকাশ্যে শিরচ্ছেদ করা হয়। এভাবেই প্রথম সৌদি আমিরাত (১৭৪৪-১৮১৮)-এর পতন হয় ও পবিত্র মক্কা-মদিনাসহ আরবে উসমানিয়া খিলাফতের শাসনকর্তৃত্ব ফিরে আসে।

সৌদ পরিবারের দিরিয়ার আখড়া ১৮১৮ সালে ধ্বংস হয়ে গেলে প্রথম সৌদি আমিরাতের শেষ আমীর আবদুল্লাহর তুর্কি নামের এক পুত্র মরুভূমিতে পালিয়ে যায়। এই তুর্কি বিন আবদুল্লাহ পালিয়ে বনু তামিম গোত্রে আশ্রয় নেয়। পরে ১৮২১ সালে সে আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে এসে উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

১৮২৪ সালে তুর্কি বিন আবদুল্লাহ উসমানিয়াদের নিয়োজিত মিশরীয়দের হটিয়ে দিরিয়া ও রিয়াদ দখল করে নেয়। রিয়াদকে রাজধানী করে গঠিত এই “নজদ আমিরাত” ইতিহাসে দ্বিতীয় সৌদি রাজ্য নামে পরিচিত। দ্বিতীয় সৌদি রাজ্যটি অবশ্য খুব কম এলাকাই দখলে নিতে পেরেছিল। এটি বেশিদিন টিকেওনি। এই নজদ আমিরাতের প্রধানকে “ইমাম” বলা হত এবং ওয়াহাবী মতাবলম্বীরাই ধর্মীয় বিষয়ে কর্তৃত্বশীল ছিল।

তবে এবার সৌদ পরিবারে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কথিত ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহকে তাঁর এক জ্ঞাতি ভাই মুশারি বিন আবদুর রহমান বিদ্রোহ করে ১৮৩৪ সালে হত্যা করে। তবে ক্ষমতা পায়নি মুশারি। তুর্কির ছেলে ফয়সাল এরপর নজদ আমিরাতের ইমাম হয়।

সৌদ পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্ব চলতেই থাকে। অবশেষে ১৮৯১ সালে মুলায়দার যুদ্ধে উসমানিয়াদের অনুগত রাশিদী বাহিনীর হাতে দ্বিতীয় সৌদি আমিরাতের পতন ঘটে। সৌদিদের শেষ ইমাম আবদুর রহমান বিন ফয়সাল তার সাঙ্গোপাঙ্গসহ পালিয়ে যায়। বিশাল বালুকাময় রুব আল খালি মরুভূমি পাড়ি দিয়ে আবদুর রহমান তার পুত্র আবদুল আজিজকে [একে মনে রাখুন – পরবর্তী গাদ্দার] নিয়ে দক্ষিণপূর্বে মুররা বেদুইন গোত্রে গিয়ে পালায়। সেখান থেকে তারা বাহরাইনের রাজপরিবারের কাছে গিয়ে কিছুদিন আশ্রয় নেয়। তার পর ১৮৯৩ সালে আবদুর রহমান ও তার পুত্র শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ দালাল কুয়েতি আল-সাবাহ রাজপরিবারের আশ্রয় পায়।

কুয়েতি রাজপরিবারের সহায়তায় সৌদিরা উসমানিয়া খিলাফতের কর্তৃত্বাধীন নজদে একের পর এক চোরাগুপ্তা হামলা চালাতে থাকে। ওয়াহাবী মতবাদের আলোকে পরিশুদ্ধ ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে এসব হামলা চলতে থাকে। কিন্তু এসব হামলায় সৌদিরা তেমন কোনো বড় সাফল্য পায়নি। ১৯০১ সালে সারিফের যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে আবদুর রহমান তার হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারের সব উদ্যম হারায়।

১৮৯৯ সালের জানুয়ারিতে কুয়েতের আমির মুবারক আল সাবাহ ব্রিটেনের সাথে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করে কুয়েতকে ব্রিটেনের করদরাজ্য (Protectorate)-এ পরিণত করেন। তুরস্কের উসমানিয়া খিলাফতের প্রভাবের বিরুদ্ধেই কুয়েত এই চুক্তি করে ব্রিটেনের সাথে।

সৌদ পরিবারের লড়াইটিও ছিল উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধেই। তাই ১৯০১ সালে সারিফের যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে পিতা আবদুর রহমান হতোদ্যম হলেও পুত্র আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ আবারও আশার আলো দেখে। আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ ১৯০১ সালের শেষের দিকে কুয়েতের আমির মুবারকের কাছে উসমানিয়াদের নিয়ন্ত্রিত রিয়াদ আক্রমণের জন্য সাহায্য চায়। ব্রিটিশ মদদপুষ্ট কুয়েত সানন্দে ইবনে সৌদকে ঘোড়া ও অস্ত্র সরবরাহ করে। ১৯০২ সালের ১৩ জানুয়ারি ইবনে সৌদ সৈন্যসহ রিয়াদের মাসমাক দুর্গ আক্রমণ করে। মাসমাকের উসমানিয়া অনুগত রাশিদী প্রশাসক ইবনে আজলানকে হত্যা করে সৌদিরা। ইবনে সৌদ যুদ্ধজয় শেষে ইবনে আজলানের ছিন্নমস্তকটি নিয়ে দুর্গশীর্ষে আসে এবং নিচে সমবেত উদ্বিগ্ন রিয়াদবাসীর দিকে ছুঁড়ে মারে।

https://en.wikipedia.org/wiki/Battle_of_Riyadh_(1902)

আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের রিয়াদ আমিরাত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইতিহাসে তৃতীয় সৌদি রাজ্যের সূচনা হয়।

এর পর সৌদিরা একে একে রাশিদীদের নজদের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হটিয়ে দিতে থাকে। ১৯০৭ সালের মধ্যে সৌদিরা নজদের বিরাট এলাকা নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়।

১৯০৯ সালে ব্রিটিশরা সামরিক অফিসার William Henry Irvine Shakespear-কে কুয়েতে নিয়োগ দিলে সৌদ পরিবার আরো শক্তিশালী হয়ে উঠে। শেক্সপিয়ারকে ইবনে সৌদ সামরিক উপদেষ্টা বানিয়ে নেয়। ১৯১৩ সালে সৌদিরা উসমানিয়া সৈন্যদের কাছ থেকে পূর্ব আরবের গুরুত্বপূর্ণ মরুদ্যান হাসা শহর দখল করে নেয়। এর পর পার্শ্ববর্তী কাতিফ শহরও সৌদিরা দখলে নেয়।

পরের বছর ১৯১৪ সালে বিশ্বজুড়ে ১ম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। ব্রিটেন-ফ্রান্স-রাশিয়ার মিত্রশক্তি জার্মানি-উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। রিয়াদে ব্রিটিশরা শেক্সপিয়ারের মাধ্যমে সৌদিদের সাথে উসমানিয়া অনুগত রাশিদীদের যুদ্ধ লাগায়।

https://en.wikipedia.org/wiki/Battle_of_Jarrab

১৯১৫ সালের জানুয়ারিতে সংঘটিত এই যুদ্ধে রাশিদীরা জয়ী হয় ও শেক্সপিয়ারকে হত্যা করে। রাশিদীরা শেক্সপিয়ারের শিরশ্ছেদ করে ও তার হেলমেট উসমানিয়াদের কাছে হস্তান্তর করে। উসমানিয়ারা সৌদিদের সাথে ব্রিটিশদের সম্পর্কের প্রমাণস্বরূপ শেক্সপিয়ারের হেলমেট মদিনার প্রধান ফটকে ঝুলিয়ে দেখায়।

শেক্সপিয়ারকে হারিয়ে বিপর্যস্ত ইবনে সৌদ ১৯১৫ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটিশদের সাথে দারিন চুক্তি স্বাক্ষর করে। ব্রিটিশদের পক্ষে ব্রিটেনের মধ্যপ্রাচ্য প্রধান মেজর জেনারেল স্যার পার্সি কক্স ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি মোতাবেক সৌদি রাজত্ব ব্রিটিশদের করদরাজ্য (Protectorate)-এ পরিণত হয়।

https://en.wikipedia.org/wiki/Treaty_of_Darin

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেন-ফ্রান্স-রাশিয়ার মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে জার্মান-উসমানিয়া খিলাফতের দুর্বল অবস্থা ও আল-সৌদ পরিবারের সাথে ব্রিটিশদের সখ্য দেখে চিন্তিত হয়ে ওঠেন মক্কার উসমানিয়া সমর্থিত শাসক হুসাইন বিন আলী।

হুসাইন বিন আলী

হুসাইন বিন আলী

১৯১৫ সালের ১৪ জুলাই থেকে হুসাইন মিশরের ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার হেনরি ম্যাকম্যাহনের গোপনে পত্র যোগাযোগ শুরু করেন। ৩০ জানুয়ারি ১৯১৬ পর্যন্ত এই পত্র আদান-প্রদান চলতে থাকে। উসমানিয়া খিলাফতের অন্তর্ভুক্ত বিশাল আরব ভূ-খণ্ডের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা মতবিনিময় করে।

https://en.wikipedia.org/wiki/Hussein-McMahon_Correspondence

ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মদদে মক্কার শাসক সেই হুসাইন বিন আলী উসমানিয়াদের বিরুদ্ধে আরব বিদ্রোহ তৈরি করে। ব্রিটিশ সামরিক অফিসার টি.ই. লরেন্সের প্রত্যক্ষ পরিচালনায় বিশ্বাসঘাতক হুসাইন মিডল-ইস্টার্ন ফ্রন্টে উসমানিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শুরু করলে বহু উসমানিয়া সৈন্য বন্দী হয় ও অবশেষে উসমানিয়ারা ১ম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হয়।

ব্রিটিশ সামরিক অফিসার টি.ই. লরেন্স - আরববিশ্বে আরব জাতীয়তাবাদের স্রষ্টা - হলিউডের বিখ্যাত "Lawrence of Arabia" (১৯৬২) মুভিটি একে নিয়েই নির্মিত

ব্রিটিশ সামরিক অফিসার টি.ই. লরেন্স – আরববিশ্বে আরব জাতীয়তাবাদের স্রষ্টা – হলিউডের বিখ্যাত “Lawrence of Arabia” (১৯৬২) মুভিটি একে নিয়েই নির্মিত

১৩০০ বছর পর মধ্যপ্রাচ্য মুসলিম খিলাফতের হাতছাড়া হয়ে যায়।

পুরস্কার হিসেবে ব্রিটিশরা ১ম বিশ্বযুদ্ধের পর হুসাইন বিন আলীর দ্বিতীয় ছেলে আব্দুল্লাহকে জর্ডানের রাজত্ব ও তৃতীয় ছেলে ফয়সালকে ইরাকের রাজত্ব দেয়। হুসাইনকে রাখা হয় হেজাজ (পবিত্র মক্কা-মদিনা ও তাবুক অঞ্চল)-এর শাসক হিসেবে।

এভাবে ১ম বিশ্বযুদ্ধ আল-সৌদ পরিবারকে কিছুটা বেকায়দায় ফেলে। কেননা ব্রিটিশদের পা-চাটার ক্ষেত্রে তাদের প্রতিপক্ষ হুসাইন পরিবার এগিয়ে যায় এবং যুদ্ধ শেষে হুসাইন ও তার দুই ছেলে মিলে তিন দেশের রাজত্ব পায়। তবে নজদ (রিয়াদ ও তদসংলগ্ন অঞ্চল)-এর শাসক সৌদিরাই থেকে যায়।

দারিন চুক্তির আওতায় আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ ব্রিটিশদের কাছ থেকে বহু অস্ত্র ও মাসে ৫,০০০ পাউন্ড ভাতা (দালালির পুরস্কার) পেতে থাকে।

তথ্যসূত্র: Abdullah Mohammad Sindi, “The Direct Instruments of Western Control over the Arabs: The Shining Example of the House of Saud”

যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা ইবনে সৌদকে ১ম বিশ্বযুদ্ধের উদ্বৃত্ত বিপুল গোলাবারুদ দিয়ে দেয়। ওই ব্রিটিশ অস্ত্র ও গোলাবারুদের সম্ভার নিয়ে সৌদিরা ক্রমধ্বংসমান উসমানিয়া খিলাফতের অনুগত রাশিদীদের ওপর দক্ষিণ-পশ্চিম আরব অঞ্চলে আক্রমণ শুরু করে। ১৯২০ থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত লড়ে রাশিদীরা শেষ পর্যন্ত সৌদিদের হাতে পুরোপুরি পরাজিত হয়। ফলে আরবে আল-সৌদ পরিবার নিয়ন্ত্রিত ভূ-খণ্ডের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। ইরাকে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত Percy Cox-এর মধ্যস্থতায় ১৯২২ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত Uqair Protocol-এর আওতায় ওই বিশাল অঞ্চলে সৌদি রাজত্ব স্বীকৃতি লাভ করে।

http://en.wikipedia.org/wiki/Uqair_Protocol_of_1922

এ-সময় পর্যন্ত আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ কখনোই ব্রিটিশ অনুগত হেজাজের শাসক হুসাইনের সাথে সংঘাতে জড়ায়নি।

১৯২৪ সালের ৩ মার্চ আরেক ব্রিটিশ দালাল মুস্তাফা কামাল পাশা তুরস্কে অফিসিয়ালি খিলাফত বিলুপ্ত করে। সারা বিশ্বের মুসলিমদের সাথে মক্কার হুসাইন বিন আলীও মহানবী (সা.) আমল থেকে ১৩০০ বছর পর্যন্ত চলমান মুসলিমদের রাষ্ট্র খিলাফতের পতনে ব্যথিত হন। পৃথিবী থেকে খিলাফত মুছে গেছে, এটা হুসাইনের চেতনায় আঘাত করে। ব্রিটিশদের ক্ষিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা সত্ত্বেও ৫ মার্চ হুসাইন নিজেকে মুসলিমদের খলিফা ঘোষণা করেন।

ব্যস, এ-সুযোগটিই কাজে লাগায় খিলাফতের দীর্ঘদিনের শত্রু আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ। ব্রিটিশরা স্বাভাবিকভাবেই হুসাইনের নিজেকে খলিফা ঘোষণা করা মেনে নেয়নি এবং হেজাজের শাসক হিসেবে হুসাইনের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।

আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ কালবিলম্ব না করে হেজাজ আক্রমণ করে এবং ১৯২৫ সালের শেষ নাগাদ পুরো হেজাজ দখলে নিয়ে নেয়। ১৯২৬ সালের ৮ জানুয়ারি আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ মক্কা-মদিনা-জেদ্দার গোত্রীয় নেতাদের সমর্থনে নিজেকে হেজাজের “সুলতান” ঘোষণা করে। ১৯২৭ সালের ২৭ জানুয়ারি ইবনে সৌদ আগের নজদ ও বর্তমান হেজাজ মিলিয়ে Kingdom of Nejd and Hejaz ঘোষণা করে। ৪ মাস পর সেই বছরের ২৭ মে জেদ্দা চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশরা Kingdom of Nejd and Hejaz-কে স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

http://en.wikipedia.org/wiki/Treaty_of_Jeddah_(1927)#1927

নতুন জেদ্দা চুক্তি, ১৯২৭-এর মাধ্যমে ব্রিটিশ-সৌদের “Protectorate” স্ট্যাটাসের দারিন চুক্তি, ১৯১৫-এর সমাপ্তি ঘটে।

পরবর্তী ৫ বছর আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ তার দুই রাজত্বকে আলাদা রেখেই শাসন করে। অবশেষে ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ইবনে সৌদ তার দুই রাজত্বকে একত্রিত করে তার নিজের ও বংশের পদবি অনুসারে দেশের নাম “Kingdom of Saudi Arabia” (আরবি: المملكة العربية السعودية‎ al-Mamlakah al-‘Arabiyyah as-Su‘ūdiyyah) ঘোষণা করে।

এভাবেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির উসমানিয়া খিলাফতবিরোধী নীতির প্রকাশ্য সমর্থক হিসেবে, পদে পদে ব্রিটিশদের মদদ নিয়ে, দালাল আল-সৌদ পরিবার ১৯৩২ সাল থেকে Kingdom of Saudi Arabia নামে মুসলিমদের পবিত্র ভূমি দখলে রেখে শাসন করে যাচ্ছে।

                              ……………….      …………………          …………………

১. মিশরের মুরসি সরকারের পতনের পর সৌদি সরকারের ভূমিকায় মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এই দালাল রাজপরিবারের ইতিহাস তাই মুসলিম উম্মাহর জেনে রাখা প্রয়োজন। বিশেষত বাংলাদেশে যেসব গণতন্ত্রবাদী কথিত ইসলামপন্থী বাস্তবে সৌদি রাজপরিবারের গুণমুগ্ধ ও মার্কিন দূতাবাসে নিয়মিত হাজিরাদানকারী হয়েও মুরসি ও মুসলিম উম্মাহর ভক্ত সেজে ব্লগে-ফেসবুকে মায়াকান্না করেন, তাদের এই দালাল রাজপরিবারের গোড়ার কাহিনি জানা বেশি প্রয়োজন।

 ২. সৌদি রাজপরিবারের সমালোচনাকে ওয়াহাবী মতবাদের সমালোচনা হিসেবে ভেবে যারা ক্ষুব্ধ হন, তারা লক্ষ করুন – এই নোটে কোথাও ওয়াহাবী মতবাদের প্রশংসা/সমালোচনা করা হয়নি – এটা এখানে প্রাসঙ্গিকও নয়। এখানে স্রেফ বলা হয়েছে – সৌদ পরিবার মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক উসমানিয়া খিলাফত ভাঙতে ওয়াহাবী মতবাদকে ব্যবহার করেছিল। আর সৌদ পরিবার জেনে-বুঝে দালালি করেছে তত্কালীন বিশ্বমোড়ল ও খিলাফতের শত্রু ব্রিটেনের।

 ৩. মাজারকেন্দ্রিক শিরকের চর্চা আর কবর জিয়ারত এক কথা নয়। মাজারকেন্দ্রিক শিরক পরিত্যাজ্য, কিন্তু কবর জিয়ারত একটি প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ।

 ৪. এই নোটে বহু বই থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে – তবে তথ্যগুলো এতই ব্যাপকভাবে স্বীকৃত যে, কম-বেশি সব তথ্যই Wikipedia-য় আছে। এমন কি, সৌদি দূতাবাসের ওয়েব সাইটেও আছে [অবশ্যই ব্রিটিশদের দালালির বিষয়টি বাদ দিয়ে]: http://www.saudiembassy.net/about/country-information/history.aspx

৫. যারা সৌদি আরবের ইতিহাস সামগ্রিকভাবে একটি বই থেকেই জানতে চান, তারা Cambridge University Press থেকে ২০০২ সালে প্রকাশিত Madawi al-Rasheed-এর লেখা A History of Saudi Arabia বইটি পড়তে পারেন। আমি এই বই থেকে সাহায্য নিয়েছি।

৬. প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ সিন্দি রচিত ২২ পৃষ্ঠার নিবন্ধ/বুকলেট “The Direct Instruments of Western Control over the Arabs: The Shining Example of the House of Saud” এ-বিষয়ে একটি অনবদ্য রচনা। সময়ের অভাবে আমি এটা অনুবাদ করতে পারছি না। কেউ যদি অনুবাদ করে দেন, আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।]

আরো পড়ুন:

১. সৌদিদের ভণ্ডামি: https://www.facebook.com/meghnawa/posts/218599681623127

২. Madawi al-Rasheed-এর লেখা A History of Saudi Arabia:

https://www.google.com.bd/url?sa=t&rct=j&q=&esrc=s&source=web&cd=3&ved=0CDgQFjAC&url=http%3A%2F%2Fcatdir.loc.gov%2Fcatdir%2Fsamples%2Fcam033%2F2001043609.pdf&ei=zKEXUuTtJIGSiQKp_YCADQ&usg=AFQjCNEX9HJNqVDrSc41cDnmuMio4U0Wgw&bvm=bv.51156542,d.bmk&cad=rja

৩. প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ সিন্দি রচিত “The Direct Instruments of Western Control over the Arabs: The Shining Example of the House of Saud”:

https://www.google.com.bd/url?sa=t&rct=j&q=&esrc=s&source=web&cd=1&ved=0CCgQFjAA&url=http%3A%2F%2Fwww.social-sciences-and-humanities.com%2FPDF%2Fhouse_of_saud.pdf&ei=TaEXUq2dFsmLiALim4GIDw&usg=AFQjCNEQ7aDtX2Y8iqWswFaDmeqmHfAmPA&bvm=bv.51156542,d.bmk&cad=rja

Advertisements

34 thoughts on “সৌদি রাজপরিবারের ইতিহাস”

  1. chomotkar lekha. ami saudi rajporibarer eto govir british-connectioner kotha jantam na. 1700 theke 1800 sal ebong 1900 nal theke 1932 sal porjonto je lineupti pelam ekhane, ta aamar janar aakangkhake aro bariye dilo.

  2. – মহানবী (সা.)-এর পবিত্র রওজাকে তুর্কি খলিফারা যেসব মণি-মুক্তায় সাজিয়েছিলেন, শুদ্ধি অভিযানের নামে সেসবও তুলে ফেলে সৌদ-এর বাহিনী।
    – ইরাক দখল করে হজরত আলী (রা.) ও হজরত হুসেন (রা.)-এর মাজার শরিফ ভেঙে ফেলে।

    এগুলো বলার পরে যদি কেউ বলে,

    মাজারকেন্দ্রিক শিরকের চর্চা আর কবর জিয়ারত এক কথা নয়।

    তাহলে বলতেই হয়, মাজার পূজার প্রতি দুর্বলতা থাকেল বুক ফুলিয়ে স্বীকার করা উচিত, শিয়াদের তাকিয়ার মতো মুনাফেকি করা উচিত নয়।

    1. বর্তমানে কবর জিয়ারতের বৈধতা নিয়াও প্রশ্ন উঠেছে। তা নাকি কুরআন-সুন্নাহ সমর্থন করে না।

    2. মাযার জিয়ারত যদি শিরিক হয় তোর মত ভন্ড দুনিয়ার জমীনে আর কে আছে বল?

    3. এটা এমন কোনো বিষয় নয় যার জন্য খেলাফত ধ্বংস করে ইজরাইল তৈরী করতে হবে। এটা তো শান্কিপূর্ণ সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমেই সমাধান করা যায়।

    4. এটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমেই সমাধান করা যেত।ইংরেজদের সহায়তায় খেলাফত ধ্বংস করে নয়।

  3. read Cradle of Islam: the Hijaz and the Quest for Identity in Saudi Arabia by Dr. Mai Yamani for more information
    She was born in Cairo, Egypt in 1956 to an Iraqi mother from Mosul and a Saudi Arabian father from Mecca. Her father is Sheikh Ahmed Zaki Yamani who gained international fame as Saudi Arabia’s Minister of Petroleum Affairs.

  4. চমৎকার হয়েছ্ । অনেক তথ্য জানতাম না। আপনার পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ।

  5. তুর্কী খেলাফত ইসলাম নামের ছত্র ছায়ায় দুর্নীতিতে দুনিয়ার শীর্সে অবস্তান করছিল। দুনিয়ার ইতিহাস যারা পড়েন তারা ভালভাবেই জানে। এর উপর যদি ধর্মের নামে কুফর, বিদাত ও শিরকের আস্তানা হয় তাহলে ওহীর পবিত্র যমিনে,নবী রাসুলদের পুন্ন ভুমীর মর্দে মুজাহিদ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওহহাবের মত সঠিক আকীদা বিশ্বাসের আলেম,ও সিপাহ সালারের মত লোকেরা কেন তাদেরকে বিতারিত করবেনা? তাঁদের উক্ত মহান কাজ ইসলাম ও মুসলমানদের হারামাইন শরিফাইন রক্ষা করেছে। একই সাথে দুর্নীতির কবল থেকেও জাতীকে বাচিয়েছ। এতে আপনার কেন এতো মায়া কান্না লাগলো বুঝে আসলনা।

    1. ব্রিটিশ গুপ্তচর হ্যামফ্রের সাথে তার কি সম্পর্ক ছিল?

    2. এটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমেই সমাধান করা যেত।ইংরেজদের সহায়তায় খেলাফত ধ্বংস করে নয়।

  6. Beta oitihasik toi kader dalal.Aamar baba Bolten =GORE VAT NAI GOPPO MARE DOI,SALA-KATAY SOIYA KOY AAMAR SAPPOR KHAT KOI.beta amar emon fesab dorce toor post pore tore paile ekhon tor oupore posrab kore santee paitam.ETTOO DEKCI BORO ROKOMER KAFER.TAOWBA KOR MUSLIM HOYE MORAR CESTA KOR.HAI-ONE. TORE ALLAH HEDAYET KOROK.IRANER DALALI TE DOI JAHAN HARABEE.MUSLIM HOYAR CESTA KOR.ALLAH HADEEK.

  7. আচ্ছালামুআলাইকুম,

    ভাই ব্লগার আসিফ রহমান হয়তো এই আর্টিকেলটি লিখেছেন মসূসলমানদেরকে বিষয়টি অবহিত করার জন্য। হয়তো তার উদ্দেশ্য মহৎ কিন্তু তিনি উম্মতের বর্তমান অবস্থার কথা যদি একটৃ গভিরতার সাথে ভাবতেন তাহলে হয়তো তিনি এই বিষয়টি লিখতেননা। ইসলামের শক্রুরা যেভাবে এই উম্মতের শক্তি নষ্ট্য করেছে তার কয়েকটি ট্রিক ছিল ‘ডিভাইড এন্ড রুল’,’Create hatred among the Muslim by spreading ones fault to other’, ‘Take the teachings of Quran and Sunnah away from their life so that they may fall into Bidah and Shirk and they will become Muslim bu name’ এবং আরও অনেক কিছু। দু:খজনক ভাবে ভাই ব্লগার আসিফ রহমান ও হয়তো সল্প জ্ঞ্যান হওয়ার কারনে তাদের ট্রেপে পরে এ্ই সব তথ্য সমূহ তুলে ধরেছেন। কিন্তু কাজটি ঠিক হয়নি এবং তার প্রমান এই ব্লগেই রয়েছে। এই তথ্য গুলো তুলে ধরে উম্মতের উপকারের পরিবরতে ক্ষতিই করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন; ‘ফিৎনার সময় যে আমার একটি সুন্নতকে ধরে রাখবে…..” আমাদের প্রয়োজন কোরান ও সুন্নতের শিক্ষ্যার ভিত্তিতে উম্মতের সমন্নয়, ভাংগন নয়। লক্ষ্য করুন উপরের পোষ্টটি mohammadsaid :August 25, 2013 at 11:06 PM এবং সেই পোষ্টটির জবাবে Anonymous said: August 26, 2013 at 5:48 AM ‘Beta oitihasik toi kader dalal.Aamar baba Bolten =GORE VAT NAI GOPPO MARE DOI,SALA-KATAY SOIYA KOY AAMAR SAPPOR KHAT KOI.beta amar emon fesab dorce toor post pore tore paile ekhon tor oupore posrab kore santee paitam.ETTOO DEKCI BORO ROKOMER KAFER.TAOWBA KOR MUSLIM HOYE MORAR CESTA KOR.HAI-ONE. TORE ALLAH HEDAYET KOROK.IRANER DALALI TE DOI JAHAN HARABEE.MUSLIM HOYAR CESTA KOR.ALLAH HADEEK.’

    এখন আপনারাই বিবেচনা করুন এই ব্লগটি কিভাবে এক মূসলমানকে আন্যের শক্রু বানাচ্ছে এবং বিভেদ তৈরি করছে? এইটি কি আমাদের বর্তমান অবস্থার জন্য কোন ভাল কিছু বয়ে আনছে? এই ধরনের বিষ ছড়ানোর কারনে আজ বাংলাদেশে মুসলমানদের মধ্যে পোলারাইজেশন এবং সিভিল ওয়ারের সুত্রপাত হচ্ছে। আমরা শয়তানের কুটণীতির শিকার হচ্ছি।

    ভাই ব্লগার আসিফ রহমান , আপনি জানেন ইসলামিক সংস্কারবিদ গন এই সব ইতিহাস জানেন এবং তারা কাজ করে যাচ্ছেন ইনশাল্লাহ যখন আল্লাহর হুকুম হবে তখন খিলাফত আসবে। ইমাম আহমেদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছে; ‘ইসলামী খিলাফা পূনরায় সেইভাবেই আসবে যেইভাবে পূর্বে এসছিল’ আমাদের প্রয়োজন নিজেদেরকে প্রথমে সহি ইসলামী শিক্ষ্যায় শিক্ষ্যিত করা আরপর আমাদের আহাল এবং পরিবারদেরকে অতপর আত্তিয় স্বজনদেরকে অতপর প্রতিবেশীদেরকে এইভাবে এগোতে হবে। অথচ আমরা প্রথমেই উম্মতকে নসিহত দিতে লেগে যাই অথচ নিজেদের দোষ সমূহ ভুলে যাই। আর। আল্রাহ কোরানে বলেছেন; ‘তোমরা অন্যকে সৎ কাজের কথা বলো অথচ নিজেদের বিষয়ে ভুলে যাও অথচ তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট্য কিতাব রয়েছে, তোমাদের কি কোন আকল নেই’ – সুরাহ বাকারাহ

    নামে কাউকে হত্যা করে, নিজেদের মধ্যে রক্তপাত করে, বিভেদ সৃষ্ট্যি করা কোরান ও সুন্নতের শিক্ষ্যা নয়। দয়া করে এই ধরনের প্রতিবেদন আর লিখবেননা বরং ধৈর্য ধরুন এবং আল্লাহর নিকট উম্মতের জন্য দোয়া করতে থাকুন।

    আপনার এক মূসলমান ভাই
    নিউ ইয়র্ক, ৩০ আগষ্ট ২০১৩ইং

    1. আলহামদুলিল্লাহ ভাই। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর ভাবে জবাব দেবার জন্য
      আসলেই, মুসলিমদের মাঝে একতাই এখন বড় প্রয়োজন। তবে লেখক ভাই এর লেখা পড়ে মনে হলো, সৌদি বাদশা দের ইতিহাস ঠিক ই আছে। তবে আব্দুল অয়াহাব কে জরানর মানে হয় না। উনি ইসলামের অনেক খেদমত করেছেন,

  8. মুসলিম বলে বর্তমান পৃথিবীতে আমরা যারা নিজেদেরকে দাবী করি, জেনে রাখুন, তাদের (অর্থাৎ আমাদের) একটি বিরাট অংশই আদৌ মুসলিম নেই। কাজে, কর্মে, কথায়, বার্তায়, চলনে, বলনে প্রতিনিয়ত আমরা শিরক, কুফুরি আর মুনাফেকি করেই চলেছি। আমরা ধরেই নিয়েছি, মুখে যেহেতু কলেমা পড়েছি, মনে যেহেতু বিশ্বাস করেছি, বেহেশতে যাওয়া ঠেকায় কে? অতএব ভোগ বিলাস আর ইন্দ্রিয় সুখের সাগরে নিজেকে ভাসিয়ে দেই। মরার আগে তওবা করে নিলেই হবে। মুশকিল হচ্ছে, মুসলিম যদি তার নিজ জীবনে ইসলামের চর্চা (কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনটাকে চালানো) না করে অনৈসলামিক জীবন যাত্রায় গা ভাসিয়ে দেয় (ডেটিং, হিন্দি সিরিয়াল দেখা, তাস পিটানো, ডিজে পার্টিতে যাওয়া, কনসার্টে যাওয়া, পর্ণ সাইটে ঘুরে বেড়ানো, পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়া, ইত্যাদি, ইত্যাদি এবং আরও অনেক), তাহলে মৃত্যুর মুহূর্তে ঈমানটা থাকবে কিনা (সারা জীবন দায়সারা ভাবে ঈমান থাকা সত্বেও), কলেমাটা মনে পড়বে কিনা – তার কোন গ্যারান্টি নেই।

    তাহলে কি করতে হবে? প্রচুর পড়তে হবে। কি পড়তে হবে? ইসলাম বোঝার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই পড়তে হবে। তারমধ্যে প্রথমেই পড়তে হবে কুরআন ও তার তাফসীর, এবং সহীহ হাদিসসমুহ ও তার ব্যাখ্যা। এবং পাশাপাশি যতটুকু জ্ঞান অর্জন হল সর্বদাই তার চর্চা করতে হবে।

    আল্লাহ্‌ মানুষকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তাঁর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। কীভাবে? তাঁর মনোনীত ধর্মের মাধ্যমে। মানুষ সারা পৃথিবীতে একদিন ইসলাম কায়েম করবে, আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করবে। বাগাড়ম্বর শোনাচ্ছে? কই? মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পর তো ১৪০০ বৎসর পার হয়ে গেল, ইসলাম তো সারা পৃথিবীতে কায়েম হল না! বরং, মুসলিমদের ভেতর অনৈক্যের বীজ ঢুকিয়ে দিয়ে খেলাফত ধ্বংস করে দিল ইংরেজরা। আরব ভুখণ্ডকে টুকরা টুকরা করে কতগুলো দেশে ভাগ করে ফেললো! মধ্যে দিয়ে বহিরাগত ইহুদীরা এসে নিজেদের জন্যও একটি দেশও বানিয়ে নিল! এখনও কয়েক বছর পরপরই একটি করে মুসলিম দেশে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে বিধর্মীরা! বসনিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, হালে সিরিয়ার উপর নজর পড়েছে! স্পেইনে একসময় মুসলিম শাসন ছিল… প্যাঁদানি খেয়ে বেরিয়ে এসে হাফ ছেড়ে বেঁচেছে মুসলিমরা!

    তাহলে? আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব কি কায়েম হবে না আল্লাহর এই পৃথিবীতে?! হবে, বিশ্বাস করুন হবে!

    কবে? যেদিন মুসলিমরা আবার ইসলামে ফিরে আসবে। ধনতন্ত্র, ইন্দ্রিয়তন্ত্র, গণতন্ত্র (হ্যাঁ, গণতন্ত্রও – প্রচলিত অর্থে আমরা যেই গণতন্ত্রকে চিনি), সমাজতন্ত্র, অঞ্চল বা ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদসহ সব ধরনের তন্ত্র, বাদ, ও ইজম-এর পশ্চাদ্দেশে লাথি মেরে মুসলিমরা যেদিন প্রকৃতই ইসলামের নীচে ফিরে আসবে, প্রতিটা কাজে, কথায়, কর্মে এক আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া আর কিছুই চাইবে না, সেদিনই পুরো পৃথিবী, হ্যাঁ, পুরো পৃথিবী ইসলামী রাষ্ট্রে, রাজ্যে, খেলাফতে পরিণত হবে।

    সবই বুঝলাম, কিন্তু সেটা কবে? একবারই হবে তা পৃথিবীর ইতিহাসে যখন সারা পৃথিবী মুসলিম শাসনাধীনে চলে আসবে। মাত্র একবার! এবং সে সময়ে মুসলিমদের নেতৃত্ব দেবেন আর কেউ না, স্বয়ং হযরত ঈসা আলাহিস সালাতু ওয়াস সালাম এবং ইমাম মাহদী! ইসলামের সেই সুবর্ণ সময়ের পর পৃথিবী ধীরে ধীরে আবারও শয়তানের দাসত্বে মেতে উঠবে… এবং তার পরেই আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইস্রাফীল শিঙায় ফুঁ দেবেন…

    ইন দ্য মীনটাইম, আমাদের প্রত্যেকেরই উচিৎ নিজের জীবনটাকে এমনভাবে আল্লাহর আনুগত্যে লিপ্ত করে দেয়া, যেন আগামীকাল ভোরে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করার আগেও যদি আমি মারা যাই, তাহলেও যেন কিছু পাথেয় আমার হাতে থাকে রোজ কেয়ামতের কঠিন সময়টা পাড়ি দেয়ার জন্য!

  9. একটি সহি হাদিসে মতনটি ছিল এই রকমঃ নাবী(সাঃ) আলি(রাঃ) বলছেন হে আলি আমি তোমাকে কি উপদেশ দিব,একটি উন্মুক্ত তরবারি দিয়ে সব কবরকে মাঠির সাথে সমান করে দিবে, আমার ঊম্মতের একটি বড় অংশ কবর পূজার সাথে জড়িয়ে যাবে।

    মহানবী (সা.)-এর পবিত্র রওজাকে তুর্কি খলিফারা যেসব মণি-মুক্তায় সাজিয়েছিলেন, শুদ্ধি অভিযানের নামে সেসবও তুলে ফেলে সৌদ-এর বাহিনী।
    ইরাক দখল করে হজরত আলী (রা.) ও হজরত হুসেন (রা.)-এর মাজার শরিফ ভেঙে ফেলে।

    মাজারকেন্দ্রিক শিরকের চর্চা আর কবর জিয়ারত ব্যবসার কথা রাসুল(সাঃ) আমাদের অনেক আগেই বলেচেন………।

    উপরুক্ত হাদিস দ্বারা প্রমান হয় যে , ইরাক দখল করে হজরত আলী (রা.) ও হজরত হুসেন (রা.)-এর মাজার শরিফ ভেঙে ফেলে…এটি রাসুল(সাঃ) এর নিদেশ অনুযায়ী হয়।

    মহানবী (সা.)-এর রওজা ভাঙ্গতে না পারা টা তাদের এক প্রকার ব্যর্থতা।

    1. ফহিন্নি তুই যদি হাদিস না জানস আগে শিখে আয় উল্টা পাল্টা হাদিস বলস কেন?
      “”আমার ঊম্মতের একটি বড় অংশ কবর পূজার সাথে জড়িয়ে যাবে।””

      এই অংশ তুই কই পাইছস???? তোর জবাব দিয়েছে আমার এক সুন্নী ব্লগার।
      এই ওয়েবসাইটে তোর এই হাদিস এর জবাব পাবি। Category মাযার এ যাইস :

      http://sunni-encyclopedia.blogspot.com/?m=0

    2. মহানবী (সা.)-এর রওজা ভাঙ্গতে না পারা টা তাদের এক প্রকার ব্যর্থতা।” আসতাগফিরুল্লাহ নাউজুবিল্লাহ মিন গালিব । কখনো ঘোরতর কাফের মুশরিকরা হাজার বছর ধরে যা মুখে নেয়ার দুঃসাহস করতে পারেনি ,তা একমাত্র পূর্বের ন্যায় বলতে পারে একমাত্র অভিশম্পাতিত
      মুনাফিক মুরতাদেরা তা আবারো প্রমানিত হল।
      আপনি কি আল্লাহ’র রাসূল (সাঃ) প্রবর্তিত দ্বীন ইসলামে বিশ্বাসী মুসলমান না কুফরি মরদুদ মালাউন ব্রিট্রিশ এজেন্ট কতৃক প্রতিষ্ঠিত সৌদি হাওয়ান , জানা হয়ে গেছে …… আগে ভাবতাম ওহাবী রা কেবলমাত্র মুনাফিক মাত্র কিন্তু এত বড় জাহেল জাহান্নামের অভিশপ্ত কীট তা জানতাম না … আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে শোকরিয়া মুনাফিকদের প্রকৃত মনোভাব প্রকাশ করে দেয়ায় … ইয়া আল্লাহ আপনি বিশ্বের শতকোটি মুসলমান নবী প্রেমীক ভাইদের ইয়াহুদীবাদের দালাল মুনাফিক মরদুদ দাজ্জালের সহচর সালাফি-ওয়াহাবী জাহান্নামের কীটদের ফেতনার হাত থেকে ঈমান নিয়ে বেঁচে থাকার শক্তি প্রদান করুন … আল্লাহুম্মা আমীন , কাফের ও যদি হত তার হিদায়াতের মুনাজাত করতাম কিন্তু মুসলিম নামধারী ইসলাম-মুসলিম-মুসলমান দের সর্বকালীন দুশমন আল্লাহ’র হাবীব (সাঃ) এর প্রতি শত্রুতা পোষন কারী জবানার দাজ্জাল-এ-খবিশ এর প্রতি অভিসম্পাত দেওয়া অধম আমি মুসলমানের ফরজে আইন, তোর প্রতি লানত বর্ষণ হউক হে অনাগত দাজ্জালের পূজারী, তোদের ধ্বংস হউক ……

  10. আপনারা ইতিহাস পরে কেউ কেউ শিহরিত হচ্ছেন কেউ কেউ আবেগে আপ্লুত হয়ে একটি পক্ষ সমর্থন করে ফেলছেন , কাউকেই দোষ দেব না , কারণ বিষয়টি জটিল , আরো জটিল হয়ে ওঠে যখন ইতিহাসের রচয়িতারা চক্রান্তকারিতদের মাঝ থেকেই উঠে আসে, কে তারা ? সেই চক্রান্তকারীরা হচ্ছে ইহুদিরা | খিলাফত ধ্বংসই ছিল ইহুদিদের মূল উদ্দেস্য, আর এর জন্যে ইহুদিরা যে নকশা একেছিল সেটার একপক্ষের বর্ণনা উঠে এসেছে “দুরের যাত্রীর ” এই লেখাতে , বেচারা অনেক খাটা খাটনি করেছেন সৌদ পরিবারের আসল চেহারা প্রকাশ করতে !মজার অথবা দু:খের কথা যেভাবেই দেখেন , “দুরের যাত্রী” যে সমস্ত ঐতিহাসিক রেফেরেন্চ্সে দিয়েছেন তার রচয়িতারা ইহুদি পৃষ্ঠপোষকতায় ওই সমস্ত সৃষ্টি করেছে | এর বিপরীত সে সমস্ত ঐতিহাসিক রচনা আছে সেটাও ওই একই ইহুদিরাই লিখিয়েছে যাতে করে পরের প্রজন্মকে বিভ্রান্ন্ত করা যায় ,তাতে তারা সফল হয়েছে , এই পোস্ট এর কেউ কেউ এমন ভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন যা দেখে মনে হয় এই পোস্ট এর তথ্যগুলো জিব্রাইল (আ:) ওহি মারফত দিয়েছেন | ইতিহাস ইহুদিদেরই লেখা আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত | এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে সত্যি কি ? কাকে সমর্থন করবেন ? সত্য হচ্ছে কোরআন, সমস্ত কিছু পর্যালোচনা করতে হবে কোরআন এর দ্বারা | আপনারা কে কে কোরাআনের অর্থ খুব ভালো ভাবে জানেন আমি জানি না , কিন্তু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় যা দেখেছি বেশিরভাগ মুসলিম হোক সে অনারবি অথবা আরবী ভাষাভাষী , খুন কমই আছে যারা কোরআন এর অর্থ পুরোটা জানে, জীবনের সিধান্তগুলো নিতে কুরআনের শিক্ষাকে ব্যবহার করে | আল্লাহতায়ালা কোরাআনে বলেছেন চক্রান্তকারী যতই চক্রান্ত করুক আল্লাহর নিয়ন্ত্রেনেই সব থাকবে , সব ঘটবে, আর এ জন্যই সৌদ পরিবারেই বাদশা ফয়সাল এর মত মানুষ এসেছিলেন | “দুরের যাত্রী ” ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে যা বুঝিয়েছেন তা হলো মুসলিম বিশ্বের সব ক্ষমতাসীন পরিবারই শুধু ক্ষমতার জন্যই যুদ্ধ করে গেছে , তাহলে ইসলাম তো বিলুপ্ত হয়ে যেত ! তা হয়নি কেন ? কারণ “দুরের যাত্রী ” মূল বিষয় থেকে অনেক দুরে চলে গেছেন , মূল বিষয়টা হচ্ছে কে অথবা কারা ইসলামি চেতনাকে বারবার পুনরিজ্জিবিত করেছেন সেই বিষয়ে আলোকপাত করা | যখন ইসলাম ভরে উঠেছিল মাজার পূজা আর শিরকিতে , সুফিরা নাচ গান কবিতাকে ইসলামের মধ্যে মিশিয়ে দিতে চেয়েছিল , সেই সমেয়ই আল্লাহর হুকুমে কোনো একজন গর্জে উঠেছিল, ইসলামের মূল চেতনাকে পুনরজ্জীবিত করার জন্যে , প্রতি শতাব্দিতেই পৃথিবীজুড়ে কেউ না কেউ এসেছেন ইসলামের পক্ষে লড়বার জন্যে | শয়তান মানুষের শত্রু আর শয়্তান ব্যবহার করছে ইহুদিদের , zionist রা লুসিফারের উপাসনা এজন্যেই করে| আমাদের সবাইকে সতর্ক হতে হবে কাকে আমরা সমর্থন করছি সেই ব্যাপারে , ইতিহাস বলে আমরা যা জানছি তার গ্রহণযোগ্যতা কোরআনের জ্ঞানের আলোকে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে, আমরা কাকে সঠিক বলে জানব ? আমরা সেই দলকেই সঠিক বলে জানব যে দল কোরআনের শিক্ষার উপর আছে , আর কোরানের শিক্ষার উপর কোন দল আছে তা বুঝতে হলে সবার আগে আপনাকে কোরআন বুঝতে হবে , সুর করে তেলাওয়াত করলেই হবে না , কোরআন মুসলিমকে শিক্ষা দেয় আল্লাহর রজ্জুকে শক্ত করে ধরতে , বিভক্ত না হতে , তাই আপনারা সেই দলকেই সমর্থন করবেন যে দল অন্য মুসলিমকে ছোট করতে ব্যতিব্যস্ত থাকে না বরঞ্চ ঐক্যের কথা বলে , কোরআনের পথে মুসলিমদের ডাকে | যে দলই ভেদাভেদ করে , আকীদাগত বিষয় নিয়ে অন্য মুসলিমকে কাফির বলে, তারাই ভুল পথে আছে কারণ তারা কোরআনের শিক্ষাকে বিকৃত করছে | আমার অনুরোধ , সবার আগে কোরআনের অর্থ আত্মস্থ করুন , তারপর সেই জ্ঞানে এ সব কিছু পর্যালোচনা করুন , ইন-শা-আল্লাহ পথ হারাবেন না

  11. ধ্যন্যবাদ আসিফ রহমান আপনার তথ্যবহুল লিখাটির জন্য এবং ধ্যন্যবাদ শাহরিয়ারকে এটা শেয়ার করে আমারে পর্যন্ত পৌছানোর জন্য!
    এ লিখাটি যারা সত্তিকারের ইসলাম সম্মন্ধে জানতে চায় বা মোহাম্মাদি দীন ও ইয়াজিদ তথা ইবলিশি দীনের মধ্যে পার্থক্য বুঝতেপেরে মুহাম্মদি দীন তথা দীনে এলাহীতে প্রতিষ্ঠীত থাকতে চায় তাদের অনেক উপকারে আসবে বলে আমার বিশ্বাস!
    এ লিখাটা যে ওহাবীদের গায়ে জ্বালা ধরাবে সেটাইতো স্বাভাবিক, বরং জ্বালা না ধরলেই আশ্চর্য হতাম।
    এলিখাতিতে সঠিক দিনখন, সময় উল্লেখ করে পকৃত ইতিহাস যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তাতে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনই অবকাশ নেই।
    যদি কেউ মনেকরে এতে ফেতনা সৃষ্টি হবে অবে আমি বলব ফেতনার ভয়েকি সারাজিবন ইবলিশের সাথে কাটাতে হবে!
    অনেকে দেখলাম ছদ্দ নামে আকূলিবিকুলি করছেন, যাদের নীজের নাম বা পরিচয় দেয়ার মতো যোগ্যতা বা সাহস নেই। তাদের বোধহয় দূরে থাকাই ভাল।
    যারা ইতিহাস রচয়িতা মুসলমান না ইহূদী খোজার চেষ্টা করেন তাদের জন্যতো ইহূদীর তৈরী ফোন বা ফেবু ব্যবহার একেবারেই কুল্লু হারামুন। ইহূদী উদ্ভাবিত প্রযুক্তির ব্যবহারই তাদের জন্য জাহান্নামের কারন হবে।
    অবশেষে কোরান শরিফের আলোকে শুধু একটি কথা বলব। কবর এবং মাজার কি? সাধারণ মানুষের সমাধী হল কবর আর কামেল বা বুজুর্গ ব্যক্তিদের সমাধী হল মাজার্। পবিত্র কোরানে বহু যায়গায় আল্লাহ পাক বলেছেন, ” ইন্নাল ওলিয়াল্লাহে লাইয়া মাওতু” অর্থাৎ আল্লার ওলিদের মৃত্যু নাই! আবার বলেছেন, ” ইন্নাল্লাহা ওলিয়াল্লাহে লা ইয়া খাওফুন ওলাহুম ইয়াহজানুন” অর্থাৎ আল্লাহর ওলিদের মৃত্যু নাই বরং তারা জীবিত! কোরানের এই বানীকে কোন অবস্থায়ই হাদীস দিয়ে খন্ডন করা যাবেনা কারন কোরান সরাসরি আল্লাহ কতৃক প্রেরিত আর হাদীস মানুষ কতৃক সংকলিত!
    এখন পবিত্র কোরানের বানী বা নির্দেশ আপনি মানবেন কিনা সেটা সম্পূর্ণ আপনার নিজের ব্যাপার্। ” ইন্নালিল্লাহি অইন্না ইলাইহে রাজেউন ” অর্থাৎ আল্লাহ হতে আমরা এবং আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন! এই প্রত্যাবর্তন আল্লাহর ইচ্ছামত করবেন না ইবলিশের ইচ্ছায় করবেন সে সিদ্ধান্তটিও সম্পূর্ণ আপনার নিজস্ব ব্যাপার! !
    হাসু

  12. আসসালামু আলাইকুম.. আসিফ রহমান সাহেব কে ধন্যবাদ সত্যের ইতিহাস টি তুলে ধরার জন্য। খান টিপু ভাইকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা যারা ইসলাম ধর্মের অনুসারি আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে আল আরব শুধু একটা রাষ্ট্র নয় এটা আমাদের প্রানের কেবলা ভুমি। আমাদের ইমানী রাজধানী। আমার অস্তিত্ত প্রানের কেবলাকে নিয়ে। আমি নামায পড়ি কেবলামুখী হয়ে, কেবলার দিকে মুখ করে কোন খারাপ কাজ করতে পারি না, আমরা কেবলার দিকে মুখ করে ঘুমাই। শুধু বেচে থাকতে নয় মানুষ মৃত্যু বরণ করলেও মুখ কেবলার দিকে করে কবর দেয়া হয়। কিন্তু সেই প্রানের কেবলা ভুমি তো বাতেল জালেম অপশক্তির আধারে ছেয়ে গেছে।এ আধার মিথ্যা- কুফুর- জুলুমের আধার, সইরতন্ত্র কায়েমের আধার, দস্যুতন্ত্র কায়েমের আধার, গোত্রবাদের আধার, ওয়াহাবি সালাফীর বিকৃত আধার। আমি মুমিন হিসেবে প্রানের ভুমিকে উদ্ধারের মাধ্যমে এই আআধার কে মুক্ত করে আলোর ধারায় ফিরিয়ে আনার কাজে যুক্ত থাকতে হবে।

  13. শিয়া দের মদদে লিখা এই সমস্ত সউদি ইতিহাসে লুকায়িত আছে অনেক কথা। মাজার পুজারি শ্রেণী কখনই সউদ দের কে সহ্য করতে পারেনি। তাই রটিয়েছে কিসসা ঘটিয়েছে বহু দূর ঘটনা। যদি তর্কের খাতিরে মেনেও নেই সউদ রা খারাপ= তবেও তো বলতে হবে শিয়ারা ওদের চেয়ে কোটি কোটি গুণ বেশী খারাপ। সুতরাং প্রকাশ্যে অথবা ইনিয়ে বিনিয়ে যে ভাবেই শিয়াদের সাপোর্ট করেননা কেন এটা খুব ই খারাপ কথা। আপনারাও তাদের এদেশিও এজেন্ট কিনা তাও তো জানতে হবে? তাইনা?!?!?!

    1. অভিশপ্ত সৌদরা খেলাফত ধ্বংসকারী, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান অশান্তির কারণ, কুলাঙ্গার।

  14. ভাই আমি ব্লগটি পড়েছি তবে মুহাম্মদ বিন ওহাব যে কাজটি করেছেন তা ছিল শীর্ক ও বেদাতের বিরুদ্ধ এ এক মহান আন্দোলন।আর তাছাড়া মুহাম্মদ বিন সৌদ এর সাহায্য ছাড়া তিনি এই কাজটি করতে পারতেন না।

  15. আরব রাই ধংস হক এদের সান্তি আসবে না না না

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s