আমাদের উত্তর-ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্ত্ব ও বাংলা দাবাং চলচিত্রের অশ্লীলতা


মডার্ন ডিসকোর্স অভিজ্ঞতাবাদীদের সাথে একাত্ম হয়ে ইম্পিরিয়ালিস্টিক নলেজকে সংজ্ঞায়িত ও উপরিস্থাপিত করতে চায়। এক্ষেত্রে স্বঘোষিত, স্বরূপায়িত ও স্বপ্রণোদিত একটি ডিসকোর্সকে প্যারামিটার হিসেবে নির্ধারণ করে নিয়েছে উপনিবেশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। এখানে অশ্লীলতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে পশ্চিম, শালীনতার সংজ্ঞা দেয়ার এখতিয়ার তাদের হাতেই বলে তারা মনে করে। তাইতো মেরিলিন মনেরোরা যখন শরীরের শেষ সুতোটিও খুলে ফেলে সেটা হয় সংস্কৃতির অনুসঙ্গ। আফ্রিকানরা ল্যাংট পরলে সেটা হয় অসভ্যতা।

সুচিত্রা সেনরা সুইমিং পুলের পাশে মোচড়া_মুচড়ি করলে সেটা হারিয়ে হায় চোখের চাউনি কিংবা তথাকথিত মিষ্টিমধুর হাসির বিবরণের আড়ালে। সালমাদের গানে বাসর ঘরের বাত্তি নিভানোর সংলাপ আসলে সেটা অশ্লীল হয় সেটাকে ব্যান করতে হয়। কিন্তু হানি শিং নারীদেহের প্রতিটি ভাঁজের বিবরণ রসিয়ে রসিয়ে দিতে থাকলে মডার্ন ডিসকোর্স সেটাকে বেশ ন্যাকামির হাসি হেঁসে বরণ করে নেয়। মোনালি ঠাকুরের গানে ক্যাটরিনা কাইফ চুম্বা দেয়ার আশায় খড়ের গাদায় রেস দিতে থাকলে সেটা কোনোভাবেই অশ্লীল হয়না। কিন্তু অশ্লীল হয়ে যায় দক্ষিণ ভারতের তথাকথিত বি গ্রেড অভিনেত্রী নামিথা_দিব্যাজ্যোতি_বিষ্ণুপ্রিয়াদের মোটা মোটা ঠ্যাং প্রদর্শন কিংবা অপেক্ষাকৃত ভারী হয়ে যাওয়া বিশেষ অঙ্গের ঝাঁকুনি।

চিকনি চামেলী গানের ঝাঁকুনি মুহুর্ত

চিকনি চামেলী গানে ক্যাটরিনা কাইফ যখন এই একই অঙ্গ কুৎসিৎ ভঙ্গিমায় ওষুধের বোতলের মতো ঝাঁকুনি দিতে থাকে বোদ্ধারা তখন চুপ থাকেন। কেউ হয়তো জিহ্বায় কামড় লাগিয়ে বসেন। উফফফ মাল… এমন শব্দও বেরিয়ে আসে অনেকের মুখ থেকে। তাদের কোনো অভক্তি নেই সানি লিওনের কিংকর্তব্যবিমূঢ় অঙ্গভঙ্গি কিংবা আকার ইঙ্গিতে সব করে ফেলার অভিব্যক্তিতে। তাদের সমস্যা হয়ে যায় শুধু দাবাংয়ের ক্ষেত্রে।

যেমনি ব্রিটনি স্পিয়ার্সের নেড়া মাথায় বোদ্ধাদের অরুচি হয়নি কিন্তু নিষিদ্ধ নারীকে সবাই নিষিদ্ধ সিনেমা হিসেবেই দেখতে চেয়েছেন। এই ধরণের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও উপস্থাপনিক ষণ্ডাতন্ত্র তো বহুপুরাতন। মেকুলের হাত ধরে কলোনী যে সব ঔপনিবেশিক জ্ঞানতাত্ত্বিক বাচ্চার প্রজনন ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলো সেগুলোই এর মধ্যে প্রতিফলিত। যারা বেঁকে বসে তারা উপনিবেশিত জ্ঞানতত্ত্বের জারজ সন্তান।

স্নেহভাজন খন্দকার রাকিব কিছুক্ষণ আগে দেরিদা অবিনির্মাণসহ কিছু বিষয় প্রাসঙ্গিকভাবে উচ্চারণ করে এমন বিষয়গুলোকে মুখোশ থেকে টেনে বের করতে চেয়েছে। কিন্তু সেখানে সংজ্ঞাদানের প্রসঙ্গ এনে সে একটি কাঠানো দাঁড় করিয়ে ফেলে। একজন পোস্ট মডার্ন ডিসকোর্সের অনুসারী হিসেবে ঐ কাঠামোকে আমি অস্বীকার করি। ডিসকার্সিভভাবে কোনো বিষয় দেখতে হলে সেটাতো আগে পুরোপুরি ভাঙ্গতে হবে। তারপর প্রতিটি খণ্ডকে কোনো রকম উপরিস্থাপন বাদে একজন স্ব স্ব অবস্থানে রেখে আগে যাচাই করতে হবে।

তারপর উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ছেড়ে দেয়া হোক তৃতীয় পক্ষের হাতে। ইউরোপীয়দের বার্বিকিউ যখন শ্লীল আফ্রিকার মাংসপোড়াও শ্লীল। ট্যাটুর আঁকিবুকি যখন সভ্য, কোনো অসভ্যতার লেশমাত্র নেই আফ্রিকানদের উল্কির ছাপে। রেড ইন্ডিয়ানদের অদ্ভুদ মুখোশ আর পাখির পালক অসভ্য হলে পশ্চিমাদের হ্যালুইন নাইটসের ভৌতিক আকিবুকিও অসভ্য। উপনিবেশের চাপিয়ে দেয়া জ্ঞানতত্ত্ব থেকে আমরা আগে বেরিয়ে আসি। তারপর নিজেদের চিন্তার জগৎকে একটু প্রসারিত করে ভাবতে চেষ্টা করি বাস্তবতা। এবার না হয় কোনো ব্যাপারে সংজ্ঞায়ন আর সিদ্ধান্ত প্রদানের দু:সাহস দেখাই। অন্তত তার আগে কিছু না পারি, চুপ তো থাকতে পারি।

আলোচিত দাবাং মুভির পোস্টার
ভালবাসার রঙ মুভির একটি দৃশ্য
একটি অশ্লীল মুভির পোস্টার।

পাদটীকা: রাকিবের স্ট্যাটাসটি কোর্ট আনকোট কপি করা হলো..

অশ্লীলতার সংজ্ঞা নিয়া পড়ছি বিশাল ক্যাচালে। এক্ষেত্রে ‘দর্শনের ত্রাস’ বেচারি জ্যাক ডারিডার অন গ্রামাটোলজি আর ডিকন্সট্রাকশনের বয়ান আমারে একটু হেল্পাইছে। বাঙ্গালী নারীর জীবনে অবিস্মরণীয় প্রভাব বিস্তারকারি অভিনেত্রী সুচিত্রার মৃত্যুর সমসাময়িককালে দাবাং মুভ্যি বের হওয়ার লগে লগেই বাংলাদেশের এক হেজেমনিক মিডিয়া ‘দাবাং’রে অশ্লীল বলা শুরু করছে!!! যা বুঝলাম দাবাংয়ের নায়িকা বিন্দিয়ার অপরাধ জাস্ট ময়ূরী পরবর্তী প্রজন্মে তার অর্ধ উলঙ্গ শরীরটা একটু মোটা!! ববি, মাহির মত সিডাকটিব না! ববি মাহিরা অর্ধ উলঙ্গ হইলে দেখতে খারাপ দেখায়না, ভালোই লুল আসে। অতএব তারা অশ্লীল হওয়ার প্রশ্নই আসেনা! সুচিত্রাও না! যেমন না কিশোর আলোর প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদ পেজে পোজ দেয়া অর্ধউলঙ্গ মেয়েগুলা! শুধু দোষ বিন্দিয়াদের, কারণ তার অর্ধ উলঙ্গতা মাহিদের মত কাম জন্মায়না!!!!  আমার বক্তব্য সোজা, দাবাং অশ্লীল ছবি না!!!বরং অন্য ছবির তুলনায় অনেক অনেক শ্লীল!!!

পোস্টটি শেয়ারের শর্ট লিংক: http://wp.me/p1DnUE-i1

Advertisements

2 thoughts on “আমাদের উত্তর-ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্ত্ব ও বাংলা দাবাং চলচিত্রের অশ্লীলতা”

  1. অশ্লীলতা, অশ্লীলতাই- সেটা না কোন দেশ, না কোন ধর্ম সমর্থন। কোন জ্ঞানতত্ত্ব এটিকে সিদ্ধ করতে পারে না যত উত্তর উত্তর উত্তর আধুনিকতারই বাহক হন না কেন।

  2. খন্দকার রাকিবের এই স্ট্যাটাসে দেরিদা কি কইরা কাজে লাগল !!!! দুইটা নাম মুখস্ত করলেই সেইটা উল্লেখ করতে হবে গাধার গাধারা । আবালে ভইরা গেল দেশটাতে ।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s