এফ.জি. এম তথা নারীযৌনাঙ্গচ্ছেদ নিয়ে ধর্মীয়-সামাজিক অবস্থানের বিপরীতে পশ্চিমা অপপ্রচার


বলতে চাইছি পশ্চিমের নারী বিষয়ক আলোচনায় স্থান পাওয়া কুখ্যাত Female genital mutilation (FGM) এর কথা। মধ্যযুগের ক্যাথলিক ধর্মাচারের বিরুদ্ধে প্রোটেস্ট্যান্টরা প্রটেস্ট করার অন্যতম মূল কারণ এটা। বিশেষ করে চার্চ নির্ভর ক্যাথলিক ধর্মাচারে মঠের প্রাধান্য দিতে গিয়ে নারী-পুরুষের স্বাভাবিক সম্পর্ককে অস্বীকার করে বৈরাগ্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক নির্মম ও অপমানজনক হলেও সত্য যে এই সময় থেকেই বিকৃত যৌনাচার যেমন Bisexuality, Lesbianism, Gay,এর পাশাপাশি উদ্ভব ঘটেছিলো নেক্রোফিলিকপেডোফিলিক বর্বরদের। নৃ-বিজ্ঞানের বাইরে থেকেও যাঁরা যৌনতার উদ্ভব ও বিকাশ তথা ইতিহাস নিয়ে আগ্রহ দেখান কিংবা কিঞ্চিত পড়ালেখা করেন তাদের বিষয়টা জানা থাকার কথা বিকৃত রুচির উদ্ভাবন হয়েছে সামাজিক বাধা কিংবা নৈরাজ্যকে উপজীব্য করেই।

ক্লুনির মঠ থেকে কিংবা খোঁড়া লয়লা বা ইগ্নিয়াস লয়লার জেসুইট দল মাস্টারবেটিং ও ফিংগারিং এর যে ন্যাক্কারজনক অধ্যায়ের সূচনা করেছিলো তা পর্নগ্রাফিক ও ওয়েস্টার্ন অভিধায় জনপ্রিয় হয় সেলফ অর্গ্যাজম ও স্কুইজিং নামে। নব্য নাস্তিক্যবাদের উত্থান আর কিছু করুক না করুক অন্তত একটি পথ বাতলে দিয়েছে তা হচ্ছে ধর্মকে গালাগালের নামান্তরে অনৈতিক বহুগামিতাকে নৈতিক করে তোলা, অবৈধ পরকীয়কে বৈধ করা কিংবা যৌন অযাচারকে ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশে আড়াল করা। এমনকি কিছু বেজম্মা নাস্তিক্যবাদের ব্যাবসা তুঙ্গে ওঠাতে গিয়ে বলতে ইনসেস্টিক ব্রুটালিটিকে যায়েজ করতে চায়।

যন্ত্রণাকাতর শিশু

ইউরোপীয়রা তাদের দেশে নানামুখী নির্যাতনকে আড়াল করে মুখে মুখে আর প্রচারযন্ত্রে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় অতি উৎসাহী। তারা বার বার বলে আসছে কেবলমাত্র আফ্রিকার নানাস্থানে ধর্ম এবং ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে মেয়েদের ওপর চলে নানা অমানুষিক নির্যাতন৷ প্রহার, বেঁধে রেখা নির্যাতন, গণধর্ষণ, একজনের সাথে একাধিক ব্যক্তির যৌনমিলন এমনকি যৌনাঙ্গচ্ছেদের মতো ঘটনা সেখানে অহরহ ঘটে। বিশেষ করে চাদ, সোমালিয়া, মালি, কঙ্গো, মোজাম্বিক ও জায়ারে এই ধরণের ঘটনা অহরহই ঘটতেদেখা যায়। ইউরোপ আমেরিকার পর্নব্যবসায়ী সমাজ একদিকে যেমন মুসলিম সমাজের পর্দাপ্রথা-হিজাবকে কটাক্ষ করে কিংবা হিন্দু ধর্মের জন্ম জন্মান্তরের সম্পর্ক নিয়ে অট্টহাসি করে আমাদের উপর নারী অধিকারের ছড়ি ঘোরাতে চায়। অন্যদিকে অাফ্রিকা তথা নিগ্রো সমাজের মধ্যে যা ঘটে সেটাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বাজারে বিক্রি করতে পারলে তাদের পোয়াবারো।

অস্বাস্থ্যকর সার্জিকাল উপকরণ

বিগত কয়েক দশক থেকে দেখা যাচ্ছে আমেরিকার ইউরোপের পিতৃপরিচয়ের সংকটে ভুগতে থাকা নারীখোর ড্রাগ-পর্ন ব্যবসায়ীরা প্রাচ্য নিয়ে একটু বেশিই মাথা ঘামাচ্ছে। তারা বার বার ঢাকঢোল পিটে প্রচার করছে আদিবাসী আফ্রিকান/আমেরিকানদের নানা বর্বরতার কথা। তারা তৈরি করেছে কানিবাল হলোকাস্টের মতো বিশেষ ধরণের ধিক্বার দিতে সক্ষম প্রামান্যচিত্র যাকে আমি বলবো আমেরিকার প্রয়োজনে তৈরি চলচিত্র। হয়তো এমনি প্রপাগাণ্ডার অংশ হিসেবে বহুল প্রচলিত হয়েছে আফ্রিকার একটি জঘন্য প্রথা। যৌবনে মেয়েরা যাতে পুরুষসঙ্গ উপভোগ করতে না পারে এইজন্য তারা শৈশবে বিশেষ বর্বর প্রথার আয়োজন করে। কথিত সতীত্ব রক্ষার নামে আফ্রিকার দেশগুলোতে নারীদের যৌনাঙ্গ তথা লেবিয়া মেজরা ও লেবিয়া মাইনরাসহ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্লাইটোরিস পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়। এই বর্বর প্রথামে মেডিকেল টার্মে Female genital mutilation (FGM) বলে পরিচিত করানো হয়েছ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এর পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় বিশ্বের প্রায় ২৯টি দেশের প্রায় ১২০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন নারী বর্বরোচিত ঘটনার শিকার হয়েছেন৷ আর এটাকে প্রচারের সুযোগটা চমৎকারভাবে লুফে নিয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা তথা বহুগামী, দ্বি-আকর্ষী, সমকামী, শবকামী সম্প্রদায়।

বর্বরতার শিকার একটি শিশু

মিডিয়া ডিসকোর্স নিয়ে যাদের একটু পড়ালেখা আছে তাঁরা সহজেই বুঝবেন প্রচারযন্ত্র কিভাবে সত্য পাল্টে দেয়। সত্যের পেছনের সত্যকে মিথ্যার ঝুড়িতে ধামাচাপা দিয়ে কিভাবে নতুন সত্য ক্যামেরার ফ্লাশবাল্বে নিজস্ব ভাষা খুঁজে নেয়। পক্ষান্তরে ইউনিসেফ বলতে চাইছে এই বর্বর প্রথা কেবলমাত্র অনগ্রসর সমাজে প্রচলিত। নৃ-বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক অভিধায় এই ধরণের ডিসকোর্সেকে প্রারম্ভিক বৈচয়নেই বিপরীত দ্বৈততার প্রশ্নে খারিজ করা যায়। কিন্তু পশ্চিমের ব্যবসায়িক নৃ-বিজ্ঞান এগুলোকে লুফে নিতে চাইছে। তাদের প্রচারে মূলসত্যগুলোকে আরেকটু পেছনে ঠেলে দিয়ে পেছনের কারণকে আড়াল করে শুধু ঘ্যান ঘ্যান করা হচ্ছে  মেয়েদের যৌনাঙ্গচ্ছেদের কারণে তাদের শরীরে তাত্ক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী নানান সমস্যা দেখা দেয়৷ অনের ভয় ও আতংকে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে। অবসাদ ও আত্মহননের পথ বেছে নেয় অনেক নারী। পাশাপাশি এই কুকর্ম করানোও হয় আনাড়িদের দিয়ে। কোনো ধরনের অ্যানেস্থেসিয়া ও এন্টিসেপটিক ব্যবহার ছাড়াই নোংরা পরিবেশে নন-স্টিরিলাইজড ছুরি-কাঁচিতে এ কাজটি করা হয়। এতে প্রারম্ভিকভাবে যেমন প্রচুর রক্তপাত হয় তেমনি অসহ্য ব্যথায় কুঁকড়ে যান ভিক্টিম৷ পরবর্তী জীবনে বাচ্চা প্রসবের সময় এই নারীরা মা হিসেবে ভোগ করেন এক নারকীয় যন্ত্রণা। ক্লাইটোরিস ইনফেকশন অনেক সময় ওভারি এবং মুত্রাশয় পর্যন্ত পৌঁছে গিয়ে অনেকের অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অনেক নারী মা হবার ক্ষমতা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেন৷ অত্যধিক রক্তক্ষরণে মারা যাওয়া নারীর সংখ্যাও কম নয়। এগুলো ঐ নির্মম প্রথার পরিচিতিমুলক কিছু কথা।

না বলুন এই পাষণ্ডতাকে

সবথেকে বড় কথা হচ্ছে নারী নিপীড়নকে কঠোরহাতে দমন করার জন্য বাবিলনের রাজা হাম্মুরাবি এক কঠোর আইন প্রচলন করেছিলেন বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়। আরবের মধ্যযুগীয় বর্বর সমাজে নিপীড়িত, নিগৃহীত নারীদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে বিশেষত অনৈতিক সম্পর্ক ও ধর্ষণ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তিকে নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে পাথর নিক্ষেপে হত্যা তথা রজমের বিধান পর্যন্ত ছিলো। পাশাপাশি অপরাধের মাত্রা বিচার করে যৌনাঙ্গচ্ছেদ করার কথা ছিলো। কিন্তু তার সাথে আদি পৌত্তলিক ও প্যাগান রিচুয়াল সম্পর্কিত এই নারী যৌনাঙ্গচ্ছেদের কোনো সম্পর্কের প্রমাণ ইতিহাসে নেই। বরাবরের মতো কিছু ধর্শনিরপেক্ষতা ব্যবসায়ী ঐ ধর্ষকের/ব্যাভিচারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদের ঘটনাকে রং চং লাগিয়ে কিংবা হিন্দু ধর্মের সাথে সম্পর্কিত পূরাণ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে নিজেদের মতো করে উপস্থাপন করে সুবিধা লুটতে চাচ্ছে।

বিশেষত এগুলো করা গেলে নারীপাচার, ড্রাগব্যবসা, ধর্ষণ, পর্নগ্রাফি, ইনসেস্টে ডুবে থাকা পশ্চিমের পাপ কিছুটা হলেও খণ্ডানো যাবে। পশ্চিমের বন্ডেজ পর্নগ্রাফি, পাবলিক ডিজগ্রেস কিংবা টেডি বিয়ার সেক্স অর্গি পার্টির বৈধতা দিতে গেলে প্রাচ্যকে জব্দ করাটা একটা আবশ্যিকতা। আর এই ধরণের Female genital mutilation (FGM) এর মতো ঘটনা তাদের জন্য অন্ধের যষ্ঠি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তারা গ্রেকোরোমান অধিকায় প্যাগানিজমকে যেমন যায়েজ করতে চায়। শক্তির প্রতীক হিসেবে পারসিক অগ্নি উপাসনা আজ সব সমাজ এমনকি বাংলাদেশে পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত। এক্ষেত্রে শুধু বলে রাখা ভালো এই ধরণের জঘন্য প্রথামে কোনো ধর্ম, মানব সমাজ এবং প্রতিষ্ঠান সমর্থন করেনা। আর করার কথা প্রচারিত হলে ধরে নিতেই হবে সেটা পাশ্চত্যের প্রচারনা।

ডয়চে ভেলের মতো একটি পোর্টাল আজ বলতে চাইছে কোনো ধর্মেই নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ করার কথা উল্লেক নাই। কিন্তু প্রতিটি দেশেই ধর্ম ব্যবসায়ীর পাশাপাশি ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যবসায়ী থাকে। তারা সকল অপকর্মকে যায়েজ করতে চায়। আমদের দেশে মগাচীপ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা যেমন এগুলোর জন্য ওঁৎ পেতে থাকে। প্রয়াত বরাহশাবকটাকে নিয়ে আর কোনো কথা আপাতত বলছি না যে কিনা ১৪ ফেব্রুয়ারিতে বাবার ঔরসে মেয়ের কিংবা নাতনীর পেটে নানার সন্তান ধারণকে বৈধ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলো। একটু আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শিক্ষানবীশ ছোট ভাই ফোনে বললো ভাইয়া এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন। ওকে এমনিতেই বলতো হতো তাই সেটা সবার উদ্দেশ্যে শেয়ার করলাম।

১৮+ পোস্ট খিয়াল কৈরা শেয়ার দিয়েন। পড়তে সমস্যা নাই।

Advertisements

4 thoughts on “এফ.জি. এম তথা নারীযৌনাঙ্গচ্ছেদ নিয়ে ধর্মীয়-সামাজিক অবস্থানের বিপরীতে পশ্চিমা অপপ্রচার”

  1. ভালো লাগল পড়ে। তবে একটা ব্যাপার খটকা লাগছে পড়ে যে, অনৈতিক সম্পর্ক আর ধর্ষনের শাস্তি হিসেবে (প্রমান সাপেক্ষ; যদিও আপনি সেটা লিখেন নি) রজম করা সীকৃত তবে যৌনাজ্ঞচ্ছেদের ব্যাপারটা আমার কাছে নতুন। আসলেই কি সেই রকম কোন শাস্তি ছিল? ব্যাপারটা আরো ঘোলাটে যদি সেটি ধর্মীয় দৃষ্টিতে দেখা হয়। আমার জানা ধর্মীয় আইনে সে রকম কোন শাস্তি নেই।
    তাছাড়া, FGM ব্যাপারটি সম্পুর্ন আঞ্চলিক, এটাকে কেউ কেউ যদি ধর্মীয় রং দিতে চায় তবে তার শিক্ষা এবং মানসিক সুস্থতা উভয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

    1. পুরুষদের মধ্যে যদি কেউ লম্পট হয় আর তার নুনু কেটে দেয়া সাচ এজ পরিমল, জা.বি এর মানিক কিংবা আরো অনেক লোক যারা চামে চিকনে আকাম করে, ভিড্যু করে। তাইলে সেটা কি খুব বেশি অন্যায়। খলিফা মালেকের আমলে অনেক বেটা বাইঞ্চির নুনু এবং বিচি কেটে ফেলা হয়েছিলো লুলামির জন্য।

    1. রি-ব্লগড করার জন্য ধন্যবাদ কাম্রান ভাইয়া। 🙂 এই বিষয় নিয়ে আপ্নার কিছু বলার থাকলে বলতেন সেটা বরং ভাল হতো।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s