কোন কোন বৃষ্টি কাউকে ভেজায় না (বুক রিভিউ কিংবা ফাউ আলোচনা)


1939763_10152626392170410_1795227864_oঝুম বৃষ্টিতে ভিজে একাকার একটি সদ্য কৈশোর পেরুনো ছেলে স্কুটি চালিয়ে উত্তরা থেকে মিরপুর ফিরছিলো। ঘটনাটি সাজাতে গেলে বলতে হয় আজ থেকে বছর চারেক আগের কথা। শ্যাওড়াপাড়ার মোড়ে কোনো শ্যাওড়াগাছ কিংবা তাতে ভূত পেত্নীর আনাগোণা না থাকলেও সেখানে ছিলো এক হাঁটু পানি। উপর থেকে বৃষ্টির ধারা আর নিচের জমে থাকা এঁদো ড্রেনের পানি স্কুটির চাকায় টংকার তুলে ভিজিয়ে দিচ্ছিলো চারিপাশ। তবুও সেই মানুষটির মনে কিসের যেনো শূন্যতা, হৃদয় গহীনে মরুর শুষ্কতা যাকে স্পর্শ করেনি শ্রাবণের হিমশীতল ধারা। ভাবনার শুরুটা সেখানেই।

মনের অতৃপ্তি, চাওয়া পাওয়ার মাঝে বিস্তর ফারাক, প্রিয়জনের বিশ্বাসঘাতকার চরম নজিরের পাশাপাশি আটপৌরে জীবনের নানা দিক টংকার তুলতো মনের তানপুরায়। স্মৃতির আয়না থেকে টুপ করে ভেসে উঠতো কিছু প্রতিবিম্ব যার অনুরনণ ঘটেছে কি-বোর্ডের ঠুকঠাক শব্দে কিংবা খাতা-কলমের খসখসানির নৈবেদ্যে। তাইতো মানের না বলা কথাগুলো ভাষা খুঁজে নিতে গিয়ে পেরিয়ে গেছে চার চারটি বছর। যখন জীবনের গল্প বাকি আছে অল্প কল্পকথায় গল্পের ডালি সাজানো থেকে কাব্যচর্চায় সুবোধ বৌধায়ন কম কিসে ? হ্যা বইমেলাতেও পেরিয়ে গেলো ২৫ টি দিন, গলায় শান দিয়ে আবৃতিকরা সেই প্রিয়মুখ শিমুল মুস্তফা উন্মোচন করলেন শিশিরের স্বপ্নের মোড়ক, ভাষা খুঁজে নিলো হাজার বর্ষায় হৃদয় নৈনিতালে নিনাদ করা সে কাব্য। শত বিনিদ্র রাত্রির শেষ প্রহরের অনিয়ন্ত্রিত ঘুম যেমন ইনসমনিয়াকে জয় করতে পারেনা তেমনি কিছু অতৃপ্তি থেকেই যায়। কিছু অতৃপ্তি আর না পাওয়াকে কেন্দ্রে রেখেই এগিয়েছে এই মন ফড়িং এর ডানায় ভর করা কাব্যভাষা, হৃদয় গহীন থেকে নাম খুঁজে নিয়েছে, কোন কোন বৃষ্টি কাউকে ভেজায় না। আমি বলবো কোন বৃষ্টি কার হৃদয়ে প্লাবন এনেছে সেটা বড় কথা নয়, এই কাব্যগ্রন্থটির গ্রন্থিত অনেক অপলাপে আপনি খুঁজে পাবেন আপনাকেই, শুনতে পাবেন হৃদয়ের অনেক না বলা কথা।

নতুন শহরের কবি, অদেখা একজন, ভুলমানুষ, অপ্রেমিকা, অফেরতযোগ্য, পরীক্ষার্থী, কবিতার শহরে, ভালবাসা বিষয়ক অকবিতা, ওভারটেক, ক্রসিং, দর্শক, অপ্রয়োজনীয়, ইনসমনিয়ায় ঠাসা এসব কবিতা পড়লে একসময় মনে হতেও পারে আবেগে মরে যেতে ইচ্ছে করছে খুব। শীতার্ত কিছু কবিতায় আপনার মন অজান্তেই বলে উঠতে পারে একটু আগুন হবে, হয়তো ভেবে বসবেন একদিন বৃষ্টি এসেছিলো। কোন কোন কবি তার শেষ আবিষ্কারে কিসের নেশা লাগায় দৃষ্টিশ্লাঘায় আত্নদহনে নিশিযাপন করতেন তার ভূলভাল গলিপথগুলোতেও ঘুরে আসার সুযোগ হবে দেদার। যদি বল কেমন আছি, কি আছে এই কবিতায় যা আমার ভালো ভালো লাগলো কিংবা বিরক্ত হলায় কিংবা কিছুই হয়নি। আমি বলবো আশরাফ শিশিরের কবিতামাত্রই নতুনত্ব, সেখানে রোমাঞ্চ এডভেঞ্চার আর নিজেকে খুঁজে নেয়ার দুরন্ত সুযোগ তো রয়েছেই। আর সেদিক থেকে বিচার করলে এই কোন কোন বৃষ্টি কাউকে ভেজায় না অন্তত আপনাদের হতাশ করবে না।

বই সম্পর্কিত তথ্য:

নাম: কোন কোন বৃষ্টি কাউকে ভেজায় না।

কবি: আশরাফ শিশির।

প্রকাশক: প্রতিভূ প্রকাশন।

প্রচ্ছদ: আশরাফ শিশির।

প্রচ্ছদ লিপি: তাজ মোহাম্মদ

আলোকচিত্র: রুদ্রনীল রবিন।

আর বেলা শেষে যে কথাটুকু বলতে হয়……

অন্ধকারই ছিলো.

অন্ধ করোই ছিলো না………….

তারপরেও কারো চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন দিতে তার একটুও বাধে নাঃ

হাঁ ঈশ্বর,

এই পৃথিবীর যারা খুব একা

তারা যদি সব একা হয়ে যায়………..

তারপর…………..।

পুরোটা খুঁজে নিতে আজই সংগ্রহ করে পড়ুন বইটি।

শর্ট লিংক: http://wp.me/p1DnUE-iw

যাকে নিয়ে বলছি এতোগুলো কথা।
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s