রহস্য পত্রিকার রহস্যময় আচরণ


আগে শুনতাম যারা লেখাপড়া করেছেন, যাদের মধ্যে সৃষ্টিশীলতা আছে কিংবা মানব জাতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতার জন্য নতুন কিছু দিতে পারে তারাই দুই এক কলম লেখালিখি করে। কিন্তু আস্তে আস্তে দেখতেছি কিছু অপদার্থ ইতরের পদচারণায় লেখালিখির জগত ডোমিন্যাটিক্স পর্নগ্রাফি সমতূল্য হতে চলেছে। বিশেষত বলতে চাই রহস্য পত্রিকার কথা। আমার পাঠক জীবনের হাতেখড়ি সেই ক্লাস থ্রি-ফোরে থাকতে আর তাও এই সেবা প্রকাশনীর হাত ধরে।

এই রহস্য পত্রিকার সাথে আমার পরিচয় ক্লাস ফাইভে। বলতে গেলে তার অন্ধ ফ্যান ছিলাম। কিন্তু কিছুদিন যাবৎ লক্ষ করছি সচলায়নের অচল পয়সা কিছু লেখক নামের চটিবিদ তাদের বিদ্যে জাহির করতে গিয়ে রহস্য পত্রিকাকেও কলুষিত করতে শুরু করেছে। আপনাদের বেশি সুড়সুড়ি, ইসলাম নিয়া কিংবা কোনো ধর্ম নিয়া না চুলকাইলে আপনাদের রাস্তাঘাটে অটোঅর্গ্যাজম হৈয়া যায়, এতো ঘোরতর বিপদের কথা। তাইলে বাছা, লেখালিখি কেনো, প্রয়োজনে আপনার গার্লফ্রেন্ড থিকা একটা স্যানিটারি ন্যাপকিন চাইয়া সেইডা পরা শুরু করেন। অন্তত ইরেগুলার অর্গ্যাজম থিকা রক্ষা পাবেন।

তাছাড়া আপনাদের সবেধন নীলমণি যৌবনযাত্রার সামাজিক ভার্সন সচলায়তন আছে। দরজা বন্ধ কৈরা সেখানে ল্যাদান, দুর্গন্ধটা অন্তত বাইরের জগতের সভ্য মানুষদের নাকে না আসুক। আমি আপনাদের আরো একবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই ধর্ম যার যার আর দেশটা সবার। এখানে কারো বিশ্বাসকে নিয়ে আঘাত করা কিংবা কেউ অবিশ্বাসী হলে তাকেও শারিরীক কিংবা মানসিক আক্রমণ করার অধিকার কারো নয়।

কিন্তু আপনারা মুখে মুখে নাস্তিক্যবাদ কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার বয়ান ছড়ান। বাস্তবে চান ঐ নাস্তিক্যবাদ কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতাকে ব্যবসার পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে কলাটা-মুলোটা কামাতে। আমি আপনাদের আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছি, ধর্ম ব্যবসা কিংবা নাস্তিক্যবাদের ব্যবসা দুটোই পরিত্যাজ্য কারণ এদুটোই ব্যক্তি-গোষ্ঠী স্বার্থে ব্যবহৃত আর অবশ্যই তা সমাজের বিরুদ্ধে।

আপনারা অনেক বড় নাস্তিক, আপনারা অনেক বড় বুঝদার ভালো কথা। ক্ষমতা থাকে এর পক্ষে যুক্তি দেখান, লেখালিখি করেন, তর্কে আসেন। কিন্তু না আপনারা আসলে আস্তিক-নাস্তিক কিছুই হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। মধ্যযুগের ধর্ম ব্যবসায়ী পোপ, আজকের যুগের আল কায়েদা, তালেবান, শিবসেনা, রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘের মৌলবাদী ডাকাতদের সাথে আপনাদের কোনো পার্থক্য নাই। তারা সুযোগ পাইলে যেমন যারে তারে আক্রমণ করে।

আপনাদের ধ্বজভঙ্গ জ্ঞান শুধু আপনাদের ক্ষমতা দিয়েছে খোজাকৃত পাঁঠার মতো ইসলামের গন্ধ পাইলে সেখানে দিয়া একটু নাচাকুঁদা করে আসতে।  এর বাইরে আর কিছু করার ক্ষমতা আপনাদের নাই। কিন্তু একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবে বাংলাদেশ স্মরণাতীত কাল থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ দেশ অর্থাৎ এখানে সবাই স্বাধীনভাবে তাদের ধর্ম পালনের অধিকার পেয়েছে। মাঝখান থেকে তসলিমা নাসরিনের মতো কিছু এথিস্টিক স্কুইজারের আবির্ভাব ঘটেছে। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ দেইখ্যা নিজেই ভাগছে ভারতমাতার কোলে, সেখানে বৈসা প্রতিনিয়ত ভাইব্রেট আর স্কুইজ কৈরা চলছে। আমার গীতও জুড়ে তারে নাকি লেদাইতে না দিয়া খেদাইয়া দিছে বাংলাদেশ। হায় নিয়তি !!।

দেশবাসী এটা ভালো করেই জানেন যে আহমেদ শরীফ সাহেব কিংবা হুমায়ুন আজাদের মৃত্যুর পর এদেশে নাস্তিক্যবাদের মৃত্যু ঘটেছে। আর তাদের শবদেহকে পুঁজি করে অনেকটা কবর ব্যবসার মতো এদেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে নাস্তিক্যবাদের ব্যবসা। বাবা কাকেশ্বর-বকেশ্বর-নর্তেশ্বরের মাযার ঘিরে যেমন মুরিদরা হুক্কা হুয়া করে আর গাঞ্জা টানে। তেমনি আপনাদের মধ্যেও কতিপয় ব্যক্তি মনে করেন নাস্তিক্যবাদ মানে ইসলামকে গালিগালাজ করা। কিন্তু অবাক করার বিষয় আপনারা কেনো, কিভাবে, কিসের জন্য নাস্তিক হয়েছেন সেটা নিজেই জানেন না।

আরেকটি বার স্মরণ করিয়ে দেয়াটা ভালো যে ঢাকা শহরে প্রায় প্রতিদিনই গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ এলাকা দিয়ে প্রায় কয়েকশ ট্রাক মহিষ ঢুকে। কিন্তু পরদিন সকালে যখন ব্যাগ হাতে করে মহিষের মাংস খুঁজতে বের হই, দেখি সবগুলো গুরুর মাংস নামে বিকোচ্ছে। আর আপনারাও ঠিক তাই। অবাক লাগে ব্লগ-ফেসবুকে ঠিকই ইসলামকে ঝাঁটা হাতে দৌড়ানি দিচ্ছেন। ঠিক শুক্রবার দিন বউ আপনাকে বাথরুমের ব্রাশ নিয়ে দৌড়ানি দিচ্ছে, দৌড়ে টুপিখানি মাথায় দিয়ে ঢুকছেন মসজিদে। জুম্মা না পড়লে বৌ যেহেতু ভাত দেয়না, তার সাথে তর্ক করার হিম্মতও আপনার নাই। ছ্যা ছ্যা, ওয়াক থু !! ধিক্কার আপনাদের জন্য, আপনাদের অবিশ্বাসের জন্য ঘৃণা আর ধিক্কারের মল-মুত্র বমির মিক্সার নিক্ষেপ করলাম। তাই আপনাদের ভাষাতেই বলছি সময় থাকতে লাইনে আসুন। গাড়ি ট্রাকে থাকা অবস্থাতেই ব্রেক কষুন। একবার লাইন থিকা নাইম্যা গেলে গাড়ির ব্রেক ধরবেন নাকি কাছা সামলাবেন টের পাবেন না।

N.B: [[ যাঁদের সম্পর্কে লিখছি তারা বেশিরভাগই আমার ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত। তাই কারো নাম উল্লেখ না করে শুধরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। কিন্তু এর পরেও বন্ধুমহল, অনলাইন কিংবা অন্য কোথাও ট্যাগিং এর দু:শাহস যদি কেউ দেখান তাহলে এখান থেকে পশ্চাৎদেশে একটা লাত্থি মারবো গিয়া সোজা পড়বেন রেপটাউন দিল্লীর রাস্তায় কিংবা নেদারল্যান্ডে সেই আমস্টারডামের সেক্স মার্কেটে।]]

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s