অখণ্ড ভারত উপমহাদেশ


1498095_10201573942175555_1516657526_oএকদা এই ভারত উপমহাদেশে একটি জাতি ছিলো যারা ফ্যান্টাসিক্রান্ত, বাস্তবতা বিবর্জিত, অনুকরন প্রিয় ও হিপ্নোটাইজড। তারা অতীতে ফিরে যাবার ব্যার্থ চেষ্টা করতে করতে অবশেষে সফল হয়েছে। খন্ডিত ভারত উপমহাদেশকে জোড়া লাগাতে এই জাতির অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই, এরা নিজেরা ধ্বংস হয়ে গিয়ে আমাদের পূর্ণতা দিয়ে গেছে। তাদের ভ্রাতৃত্ববোধ এতটাই বেশী ছিলো যে আমরাও আভিভুত।
তারা প্রথমে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে নদীর পানি দিয়ে দিলো তারা বলল আমাদের এত পানি দিয়ে কি হবে যেখানে আমাদের ভাইরা ওই পাড়ে পানির অভাবে আছে। এরপর তারা গ্যাসও দিয়ে দিলো। আমরা বলেছিলাম সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন আর বঙ্গোপসাগর আমাদের দরকার নেই, তারা বলেছে খালি আওয়াজ দিবেন। যাই হোক এরপর আমরা তাদের সংস্কৃতি কেড়ে নেই এতে তারা খুশিতে দিগম্বর হয়ে আনন্দ উৎসব করলো। তারা বিশ্বাস করতো হিন্দী তাদের ফার্স্ট ল্যাঙ্গুয়েজ, যদিও তারা সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজে কথা বলতো। তারা এরকমটা কেনো করতো সেটা একটা গবেষণার বিষয় বর্তমানে। এবং এই রহস্য এখনো বের করতে পারে নাই আমাদের বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীরা।
তারপর আমরা আমাদের ভাইদের চিকিতসার জন্য সীমান্তে ঔষধের কারখানা বসালাম আর তারা আমদের কাছে এলো আরোগ্য লাভের আশায়। আমাদের বিশ্বমানের ঔষধে তাদের পিনিক হলো এবং তখন তারা খেয়াল করলো তাদের চেতনা দন্ডের উত্থান। এদিকে আমরা আবার আসন্ন অলিম্পিকের জন্য সীমান্তে শুটিং প্রশিক্ষনের আয়োজন করি যেখানে ভলেন্টিয়ার হিসেবে আমাদের ভাইদের নাম স্মরণ করতে চাই। তারা না থাকলে আর তাদের উপর হাত না পাকালে আমাদের অলিম্পিক জেতার কোনো চান্সই ছিলো না।
ওদিকে নতুন প্রাপ্ত চেতনা দণ্ড পেয়ে এতটাই আভিভুত ছিলো তারা যে সব তরকারিতেই চেতনা দণ্ড চুবাতে শুরু করলো এবং ফলাফল আজকের এই অবস্থানে পৌঁছে গেলো।

এতটুকু লিখে রতন খেয়াল করলো সকাল কখন হয়ে গেছে টেরই পায়নি। দিল্লির যান্ত্রিক শহরে শুধু সকাল হওয়াটাই সুন্দর আর কিছু সুন্দর না। রতন প্রতিদিন রাত জেগে লেখালেখি করে আর ভোরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে চা খায় আর সকাল হওয়া দেখে। কিন্তু আজকে মিস হয়ে গেছে দুটোই। ধ্যাত আজকের পুরো রাতটাই বেকার গেলো আর সকালটাও। যাই হোক কাজের মেয়েকে ডেকে চা দিতে বলে রতন আজকের খবরের কাগজ আনতে ড্রয়িং রুমে চলে এলো।
খবরের শিরোনাম গুলো পড়ে রতনের মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছে করে। শিরোনাম গুলো ছিলো এরকম, বাংলার আগুনে কলকাতা পুরে ছারখার, কাশ্মীরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রন এখন পাকিস্তানের হাতে, সেভেন সিস্টারস হাতছাড়া, লাদাখে চীনের বিমানবাহিনীর ভারী বোমা বর্ষণ। আর পড়তে ইচ্ছে করে না রতনের, শুধু কেন্দ্র সরকারকে গাল পাড়ে, কেন যে আরেকজনের পুটুতে মরিচ ডলতে গিয়েছিলো, উফফ কি ঝাল ।

লিখেছেন: বিশিষ্ট ফেসবুকার ইব্রাহিম বিন হাসেম।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s