একজন বাংলাদেশীর মার্কেজ দর্শন


পুরাতন চাইল ভাতে বাড়ে, ছুইট্টা যাওয়া মাছের আকার বাড়ে আর কেউ মরলে তার দাম বাড়ে। একবাক্যে এটাই বাঙালি সংস্কৃতির হালচাল। স্বাধীনতার চার দশক পেরুলো, আমরা পেলাম বাংলাদেশ কিন্তু ঐ হতভাগা বাঙালিই থাকলাম, বাংলাদেশী হৈয়া স্বভাব পাল্টাইতে পারলাম না। বাইরের দেশে এক একটা রথি মহারথি মরে আমরা কাইন্দা এতো বেশি পানি ঝরাই মনে হয় ইন্ডিয়া ফারাক্কা বাঁধ মুর্শিবাদের ধুলিয়ানে না দিয়া আমগের চোউক্ষের সম্মুখে দিলে আরো বেশি ভালা ঐতো।

যাউকগা এইবার বাঙ্গালি কাইন্দা কাইট্যা লেপ-তোষক খ্যাঁতা ভিজাইতেছে Gabriel García Márquez কে নিয়া। বাস্তব কথা হচ্ছে এমুন লোকও কান্নাকাটি করতেছে যারা মার্কেজের একটা বই পড়া দূরে থাক, নামও মরার পর প্রথম শুনছে। ক্যারে ভূপেন এগের সমস্যা কুতায় !!
আমি জোর দিয়ে বলতে পারি বাংলাদেশে উনি কখনোই জনপ্রিয় ছিলেন না, এখনো নন। লোকে মনে করতেছে মার্কেজ নিয়া অন্তত একটা স্ট্যাটাস না কোপাইলে ইজ্জত থাকে না। তাই তারাও নাচতেছে যারা মার্কেজের একটা বইও পড়েনি।

এইডা হৈলো বাঙালির হাইপ কালচার। তারা কারণে অকারণে নিচে নাচে এমনকি অন্যকে নাচাতে ও নাচতে দেখেও মজা পায়। অনেক গুণী লেখক বড় ভাইকে দেখলাম ব্যক্তিগত অভিমত দিয়েছেন। কিন্তু সবথিকা ভয় হয় রাইসু ভাইয়ের কমেন্ট নিয়া। যথারীতি তিনি এবারও বেশ ভাবের সাথে কৈয়া বসছেন মার্কেজ মধ্যম শ্রেণির লেখক। বাস্তবতা হচ্ছে, তিনি কিংবা তার পীরবাবা আহমেদ ছফা সাহেব একমাত্র আয়নায় না খাড়াইলে দুনিয়ায় এমন কিছু দেখেন না যা উচ্চমানের। ছফার নাম নিয়া কিছু বলতেও আবার ভয় হয় তার তামাম মুরিদকূল হারেরেরেরে করে তেড়ে আসলে বিপদ।

কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করলে বলবো. মার্কেজ কেমন সাহিত্যিক ছিলেন সেটা নিয়ে একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমার মাথাবেথা নাই। কারণ যারা এখন মার্কেজ নিয়া ডান্স বেবি ময়না স্টাইলে নাচতেছে মার্কেজের বইয়ের দুইপাতা পৈড়া তার বাংলা করতে দিলে তারা যদি হাউমাউ কৈরা কান্নাকাটি শুরু করে সেটাও বিচিত্র কিছু হবে না। ফলে বাংলাদেশের পাবলিক ডিসকোর্স থিকা খুব সহজেই মার্কেজকে খারিজ করা যায়। সেই দিক থিকা বিচার করলে কোয়ালিটি না হোক অন্তত কোয়ান্টিটির জন্য আমি অনেক বেশি এগিয়ে রাখবো হুমায়ুন আহমেদকে। বলতে গেলে অনন্য এক গল্পকথক ছিলেন তিনি। অন্যদিকে মার্কেজ থেকে শতগুণ এগিয়ে রাখতে হয় আর্নেস্ট হেমিংওয়েকে। আর মৃত মানুষের সমালোচনা করা উচিত নয় তাই এদের নিয়ে সম্পুরক মন্তব্য নিয়তির হাতে ছেড়ে দিলাম। কি আর করা, জীবনের মূল্যবান সময় রবীন্দ্র সংগীত শোনা কিংবা মার্কেজ পৈড়া নষ্ট কৈরা আবাল হনু সাজার জন্য না। কোনো শুশীলের যদি এতো সমস্যা হয় এই স্ট্যাটাস থিকা দূরে গিয়া মুড়ি খান। সবথিকা বড় কথা আমি সাহিত্যিক মার্কেজকে কখনোই বড়-ছোট করে দেখার সময়, ইচ্ছা, সাহস কিংবা যোগ্যতা কোনটাই রাখি না। কিন্তু তাকে নিয়ে জ্বরাক্রান্ত বাঙালির প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s