বাঙালি সেকুলারের মন (পর্ব-০১)


murad_05_1282935433_1-1বাঙালি সেকুলারের মন। অনেকটা বর্ষার আকাশে দেখা রংধনুর মত। হটাৎ আলো ঝলমল করে উঠে তারপর মিলিয়ে যায়। এর সাথে রাস্তার পাশের সুলভ শৌচাগারেরও অনেক সাদৃশ্য আছে। ছবিতে সাইনবোর্ডে দেখতে সুন্দর, কাছে গেলে দুর্গন্ধ, বমি ঠেলে আসতে চায়। এখানে নামটা শৌচাগার মলত্যাগ-মুত্রবিসর্জন সবাই চলে সেখানে। আর নামটা সেকুলার সেখানে ঈদের সময় ইসলাম, পুজোয়-বৈশাকে হিন্দুয়ানি কিংবা বড় দিনের কেকটাও বেশ মজা করে খাওয়া চলে। দোল পুর্নিমার দিনে বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে সুন্দরী ভিক্ষুনীদের দিকে ক্ষুধার্ত শকুনের মতো শ্যেন দৃষ্টি দিতেও বাঙালি সেকুলারের জুড়ি নাই।

ঈদের দিনে তেমন সুবিধা করতে না পারায় তারা দূর্গোৎসবের কুমারি পূজার দিন ডি.এস.এল আর নিয়া ভিড় জমায় মণ্ডপে মণ্ডপে। দোল খেলতে গিয়ে চোখ মেলে চারদিকে দেখে কোথায় মেয়েদের জটলাটা। তারপর শুধু বালাম পিচকারি, তুনে মুঝে মারি বাজার অপেক্ষা। এরপর টিভি টকশো, পোশাকের উগ্রতায় তারা এককাঠি সরেস, নারী অধিকারের নামে কথার তুবড়ি ছোটে তাদের। কিন্তু কখনো তাদের কথায় আসেনি শহরে মেয়েদের জন্য হলেও গণশৌচাগার প্রয়োজন। মেয়েরা সন্ধার পর নিরাপত্তাহীনতা বোধ করে, পাব্লিক বাসে তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা বাড়ানো দরকার। লোকজনের ভিড় ঠেলে তারা বাসে উঠতে পারেনা। কিভাবে তাদের সুযোগ দেয়া যায় এগুলোও বাঙালি সেকুলারের হৃদয় স্পর্শ করেনা।

বিভিন্ন বাসায় যখন গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয় তখন বাঙালি সেকুলার ধুতির কাছায় গিট্টু দিয়ে দাঁত খেলাল করে। যখন সংখ্যালঘু নির্যাতন হয় তখন তাদের মন আকুপাকু করে, ইশশ টিভি ক্যামেরার বুমটা কেনো মুখের সামনে আসছে না। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশে যখন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় শতশত সংখ্যালঘু মারা যায় তখন বাঙালি সেকুলার চোখে টিনের চশমা দিয়ে বসেন। বাঙালি সেকুলারের অসাম্প্রদায়িকতার দর্শন খুব সুন্দরভাবে ছুঁয়ে যায় কানাডিয়ান অভিনেত্রীর দেহবল্লরে নাক ডুবিয়ে দিয়ে কিংনা নিষিদ্ধ ওয়েব সাইটগুলোতে রাত জেগে জেগে ঢুঁ মারার মাধ্যমে। সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের কথায় মুখে তুবড়ি ফোটায় তারা কিন্তু সুযোগ হলে নিজেদের বাইরে অন্যসব সংস্কৃতিকে গুঁড়িয়ে দিতে চায়।

বাঙালি সেকুলারের এন্টেনা এমনিতেই অনেক বেশি দুর্বল। তবে সে এন্টেনার দুর্বলতা আরো প্রকট হয় যখন সে দিকভ্রষ্ট হয়ে এন্টেটাটা জোর করে চীন কিংবা রাশিয়ার দিকে ঘুরাতে চেষ্টা করে। হয়ত দেখা গেছে বরফ পড়ছে রাশিয়ায়, বাঙালি সেকুলার চেইতা গেছেন খোদ ঢাকাতেই। মর্দাঙ্গি দেখাইয়া বউয়ের গায়ে একটা লাত্থি মাইরা বলছেন হারামজাদী তুই রাজাকার নাকি? জানিস না রাশিয়ায় বরফ পড়তেছে, আমার ওভারকোট বাইর করবে কেডা ! তর বাপ। বাংলাদেশে যে গরম পড়ছে, এখানে ওভারকোট দিয়ে কি হবে? চুপ কর ছেমরি, বেশি কথা কবি তো এক্কেবারে ঐভাবে ব্রাশ ফায়ার কৈরা মারবো, যেমনে মহান লেনিন কামান বন্দুক দিয়া জঙ্গীবাদী মুসলমানদের মারছিলো। ঠিক ঐভাবে চটকাইয়া পিষ্টাইয়া মারবো যেভাবে স্টালিন বিদ্রোহীদের সাইজ করছিলো, কথা বুঝা গেছে !! নয়তো দেখা গেলো একজন শুকনার দিনে ছাতা ফুটাইয়া হাঁটতেছে। পাশ থেকে কেউ জিগাইলো। কি কমরেড ছাতা মাথায় ক্যান! আপনি দেখি মাইয়্যাদের মতো কিউটনেসফিলিয়ায় ভুগতেছেন। সরাসরি উত্তর আরে বেকুব, জানো না গত রাত্তিরে বেজিং এ সিরাম বৃষ্টি হৈছে। লোকটা কৈলো ও আচ্ছা……….।
………………………………………………………………(চলবে……….)

Advertisements

One thought on “বাঙালি সেকুলারের মন (পর্ব-০১)”

  1. আমি আমাকে কখনই উপস্থাপক করতে পারি না। Especially in writing. Its one of best writing I have ever read. Thanks. Keep writing.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s