তোমরা যারা নিরপেক্ষতার সওদাগর


12ফেসবুক, ব্লগ, টুইটার কিংবা ডিগ ইনস্টাগ্রাম যাই বলিনা কেনো এগুলোর সবই এখন মিডিয়া। স্ট্রিমের ভিত্তিমে প্রিন্সিপাল কিংবা সাবঅডিনেট যেখানেই ফেলি কিংবা ফেলতে চাইনা কেনো এগুলোকে বিচার বোধ ও অবস্থানিক জটিলতার নিরীখে যাচাই করার সুযোগটা কম। সেই সোশ্যাল মিডিয়াতেই হটাৎ ঝড় তুলেছেন যুবতী বধুর বার্ধক্যে উপনীত দামাল স্বামী ফারুকী ভাই। সত্যি, ভাইয়ে আমার সেইরকম বুদ্ধিমান। এ বুদ্ধি যে বুদ্ধি না। তিনিই এদ্দিন গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় প্রবাদ ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চাকে টাইনা আনলেন সিনেমার টাইটেলে। কইয়া বসলেন ওরে বাঙ্গালের দল বহুত হইছে এইবার দেখ তোরা দেখরে চাইয়া ‌থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার। সত্যি ফারুকী ভাই সেই ব্যক্তি যিনি ব্যাচেলর লাইফের কষ্টের দিনগুলাকে বুঝতে পারছেন, তিনি পুলাপাইনকে সুন্দরভাবে লিটনের ফ্লাটে গিয়া কেম্ন ফ্লার্ট করতে হয় সেইটা শিখাইতে পিছপা হন নাই। তাই ফারুকী ভাইয়ের সত্যি জবাব নাই।

ভাই আমার পারেনও। গতকাইল তামাম মিডিয়া যেখানে মোদির জেতার খবর পাইয়া লাশের পাশাপাশি লাশের খবর পর্যন্ত গুম কইরা দিল সেখাণে ভাইয়ের কিবোর্ড হুট কৈরা চেগাইয়া উঠলো। ব্যাচেলর লাইফের ফোর্সড অর্গাজমে ভাই আর বিশ্বাস রাখতে পারলেন না। তিনি এবার প্লানড ওয়েতে কিবোর্ড মাস্টারবেটিং করলেন। উত্তেজক ছবির অর্ধেক দৃশ্যপটে রাখলেন, বাকিটুকু থাকলো কল্পনায়। ভাইয়ে কীর্তন ফরমাইলেন……..

সখা, তুমি কার? নিজেরে এই কথা শুধাই! জিয়াউর রহমানের আমলে বিমান বাহিনীর বিদ্রোহ দমনের সময় নিহত বিমান সেনার বউকে নিয়ে টেলিফিল্ম আয়েশা মঙ্গল বানানোর পর ইনকিলাব উপ সম্পাদকীয় লিখে বললো “আমি আওয়ামী লীগের দালাল”! থার্ড পারসন সিন্গুলার মুক্তির পর আমার বিরুদ্ধে মানব বন্ধন হইলো, ফেসবুকে গ্রুপ হইলো, আমাকে বলা হইলো ভারত আর প্রথম আলোর দালাল। স্পার্টাকাস 71 দেখে আওয়ামী বন্ধুরা খুশী হলো। সেটার সিকুযেল “এমন দেশটি…..” দেখে দুই জন আওয়ামী বুদ্ধিজীবী আমাকে “soft to jamaat” হিসাবে সনাক্ত করলো। ফেসবুকে বঙ্গবন্ধুর 7 মার্চের ভাষণের প্রশংসা করে আবার আওয়ামী হয়ে উঠলাম। ইদানীং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বা সাংস্কৃতিক লেনাদেনা নিয়ে কথা বলার পর আমি হয়ে উঠলাম non-awami.

এই বাক্যবাণে আহত, নিহত, বিদ্ধস্ত হইয়া কুম্ভীরাশ্রু স্কুইজ করতে শুরু কইরা দিল বাংলার তামাম আবালকুল। এক আবালকুল নেতা প্রচণ্ড আবেগে তার স্ট্যাটাস ইজাকুলেট করল ফারুকি বাই আমার দেশের শিবাজি। ভাই আর গ্রেট, ওয়ান ম্যান আর্মি যে পরণের প্যান্ট কাইট্যা থ্রি কোয়ার্টার কৈরা পরে। বাচ্চালোগ তোমরা চুপ ক্যান তালিয়া বাজাও। আমার প্রচণ্ড হাতে ব্যাথা, মনে ব্যাথা হৃদয়েও চোট। আর কারণটা হচ্ছে আমি আবার উগ্রপন্থি কিনা, ভাইয়ের মতো সব সময় আনন্দে ধেই ধেই কইরা নাচতে পারিনা। নামমাত্র পোশাক পরাইয়া যারে তারে ক্যামেরার সামনে নাচাইতেও পারিনা।

কিন্তু আমার চোখটা একটু খারাপ। অনেক দিকে দৃষ্টি যায়। বলতে গেলে চোখটা একটু খোলা রাখি, কানটাও রাখতে হয় খরগোসের মত খাড়া, অবিশ্যি মাথাটা ভাইয়ের মতো ন্যাড়া না। মুখে ভাইয়ের মতো রামদেব স্টাইলের দাঁড়ি নাই তবে মুচ আছে। হাড়িতে রান্নাকরা ভাত খাই, কারণ আমার রাইস কুকার নাই। যাকগে ভাইয়ে তো খুব ওয়াজ ফরমাইলেন তিনি কারো দালাল, কারো দালাল নন। তিনি খুব সুন্দর ভাবে পোকার খেলার চাল দিলেন। বললেন তিনি নাকি নন আওয়ামী। কিন্তু আমার প্রশ্ন তিনি আসলে কী ? আসুন একটু ঘোটলা দিয়া দেখা যাক !! এখন এমনই এক যুগ যখন জেন্ডার লিখতে গেলে অনেকগুলো অপশন থাকে। প্রথমে নারী, পুরুষ, সমলিঙ্গ ইত্যাদি লিখে তারপর লেখা থাকতো অন্যান্যের ঘর। কিন্তু এখন অন্যান্যের ঘর নাই সেখানে থাকে বাই সেক্কুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার, শিমেল প্রভৃতি। কিন্তু ভাইয়ের পার্টিগত কীর্তনের ভাষায় মনে হৈতেছে তিনি নারী, পুুরুষ, সমলিঙ্গ কিছুই না। তাইলে এতো লিঙ্গ নিয়া টানাটানি না কৈরা সবাই একবাক্যে এক্ষেত্রে বাই ও ট্রান্স কিংবা শিমেল বৈলা ফালাইলে দোষ কোথায়? দোষ আছে ! দোষটা অন্যখানে। দোষটা হচ্ছে মিডিয়ার। যে মিডিয়া সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য আর রংকে সাদাকালো করে। কচ্চিৎ সাদাকালোর উপরে বার্জার পেইন্ট ঢাইলা হলুদ রঙও মাখাইতে তারা পটু।

প্রখ্যাত তাত্ত্বিক নোয়াম চমস্কি সুন্দভাবে বিষয়টা নিয়া খোলসা কইরা বইলা গেছেন। চমস্কি দাদুর আবার  এন্টেনার জোর অনেক বেশি ছিলো কিনা। উনি সুন্দরভাবে বইলা গেছেন কেনো মিডিয়ার প্রচারের দিকে দৃষ্টি দিতেহবে। বিশেষ করে মিডিয়া একটা ইন্সটিউটিউশন। এখানে ফারুকী ভাই আর কিছু না  আওয়ামী, বি.এন.পি এবং জামাত প্রত্যেকের কারো কারো পশ্চাতে লাত্থি কষেছেন, কারো কারো গুহ্যদ্বারে কিঞ্চিত সুড়সুড়ি দিয়ে মাইন্ড অর্গাজম ঘটাতে চাইছেন। এক্ষেত্রে সরাসরি কোট করছি চমস্কি দাদুর সেই অমর উক্তি যা থেকে পেয়েছি এই বিষয়ে দু কথা বলার অনুপ্রেরণা……..You look at the media, or at any institution you want to understand. You ask questions about its internal institutional structure. You want to know something about their setting in the broader society. How do they relate to other systems of power and authority? If you’re lucky, there is an internal record from leading people in the information system which tells you what they are up to (it is sort of a doctrinal system). That doesn’t mean the public relations handouts but what they say to each other about what they are up to. There is quite a lot of interesting documentation…….

আইচ্ছা সেটা না হয় বোঝা গেল। কিন্তু ফারুকী ভাই আপনি কি মনে করেন মানুষ আপনার চোখে দেখবে, আপনার মনে ভাববে, আপনার বুদ্ধিতে চিন্তা করবে। হুম তাই যদি ভেবে থাকেন তাইলে কেউ কেউ আপনার দাড়ি ধরে দান দেবে, আপনার থ্রি কোয়ার্টার প্যান্টটাকেও অনেকে নিজের মনে করে একটু টান দেবে, আপনার মুখটাকে নিজের মুখ মনে করে কিছুক্ষণ পর পর দাড়ি খেলাল করবে, মোচে পাক দেবে। আর সেখানেই তো আপনার সমস্যা। আর তাই যদি হয় তাহলে অন্তত  এই সমাজ অচল হয়ে পড়বে তা নিশ্চিত করে বলা যায়। কারণ এইটা গরীব দেশ, সবার বউ হেলিকপ্টার নিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে যায় না। অনেকের বউ হাড়ি-পাতিল ছুইড়া মারে, কারো কারো বউই নাই।

তো  ভাইসাপ !! আপনি বিএনপি-আওয়ামীলীগ অথবা জামায়াত এর কোনটাই করেন না?  এভাবে কিছু না করার চল তো বাংলার জনগণের অভ্যাসের মধ্যে পড়ে না। আমি গ্যারান্টি দিয়া বলতে পারি ভাই এখানে কেউ কিছু না কিছু করে, আর এখানে তিনটা জেন্ডার আছে প্রথমত নারী, দ্বিতীয়ত পুরুষ আর তৃতীয়ত হিজড়া। যেমন রাজনৈতিক দলও তিনটা প্রথমে ১৮+আওয়ামী লীগ, দ্বিতীয়ত চারদলীয়+ বিএনপি জোট আর নেক্টট হিজড়া সদৃশ বাকি দল। অবাক কাণ্ড আপনি তৃতীয় শক্তি হিসেবে চুপ থাকাটা ভালো হইত না ভাই। কিন্তু আপনি কি করলেন চুপ তো থাকলেনই না দেখাতেই শুরু করলেন খেল।

ভাইসাপ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এইসব কইরা লাভ নাই। একটা স্মার্ট ছেলে রাস্তায় বেরুল মেয়েরা আড়চোখে লক্ষ করে। সুন্দরী মেয়েরা রাস্তায় নামলে লোকে মুগ্ধ চোখে দেখে, চলাফেরা উগ্র হলে চান্স বুঝে অনেকে সিটিও মারে। কিন্তু হিজড়া। তারা যতই ফটাপট তালি বাজাইয়া দে না ভাই দশটাকা করুক, লোকে বলে ধুর বাল !! সইরা খাড়া। তাই কই কি ভাইসাপ এম্নে পইচা কি লাভ। থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার সিনেমা বানাইছেন ভালো তো, ক্যান ভালো না। তাই বইলা বাংলাদেশে রাজনীতির থার্ড জেন্ডার হইয়া ফটাফট তালি বাজাইয়া ভাই দশটা টাকা দে না কৈরা কি লাভ। মানুষ যার যা খুশি করে, তাদের করতে দেন। আপনার পছন্দ না হইলে তফাতে গিয়া খাড়ান। কিন্তু ফটাফট হাতে তালি বাজাইতে গেলে বিপদ।

তাইতো আপনি খেয়াল করলেন না যখন কেবলমাত্র মুক্তিযুদ্ধের গল্পের দোহাই দিয়ে বলিউডের হিন্দী ছবি কেবলমাত্র বাংলায় ডাবিং করে ছাড়পত্র দেয়া হয়। অন্যদিকে যৌথ প্রযোজনার দোহাই দিয়ে একটি তামিল ছবির টালিউড ভার্সনকেও হলগুলোতে দেদারছে চলতে দেয়া হলো। কেবলমাত্র বাংলাদেশের নামমাত্র একজন অভিনেতা, সঙ্গীতশিল্পীকে রাখা হলো ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো। শুধুমাত্র বাংলাদেশের সংস্করণে ও পোষ্টারে স্থানীয় এক পরিচালকের নাম ব্যবহার করে সেটাও উৎরে গেলো। আপনাদের মতো তৃতীয় দলের লোকেরা তখন কি করছিলেন। অন্যদের কথা না জানলেও আপনারটা পাব্লিক জানে। অন্তত বিবাহিত লোক সজ্জন ও সচ্চরিত্রবান পুরুষ হিসেবে আর যাই হোক নিভৃতচারী হয়ে মাস্টারবেটিং অন্তত করেননি? প্রশ্ন হচ্ছে তখন আপনি কি করছেণ? দেশের চলচিত্রের সমাধি রচিত হয় তখন আপনি সেখানে তার সাহায্যে এগিয়ে আসেননি।  বরং দূরে দাঁড়িয়ে দেখেছেন কিভাবে কাঙালি ভোজের খিঁচুড়ির প্যাকেট আপনার দিকে আসে, আইমিন ভারতীয় কোনো চলচিত্র বাংলাদেশে ঢোকার আগে আপনি নিজের নাম সেখানে লেখাতে পারেন যৌথ প্রযোজক হিসেবে।  

ভাইসাপ, মনে কি পড়ে ছোট পরিসরের টেলিফিল্মগুলাকে হাল্কা লুতুপুতু ভাব নায়িকাদের ফুল জিন্স প্যান্টের বদলে আরেকটু চিপা থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, সুযোগ বুইঝা হাফপ্যান্ট পরাইয়া ছাইড়া দিলেন। ডুগডুগি বাজাইলে বান্দর যে কারিশমা দেখাইয়া নাচে তার থেকেও নিম্নমানের হাত পা ছোঁড়াছুড়ি সহযোগে জুইড়া দিলেন গান। ব্যাস টেলিফিল্ম হইয়া গেলো বাংলা সিনেমা। তারপর আপনারা নিজেদের চ্যানেলে নিজেরাই নমিনেশন দিলেন, নিজেরা পুরষ্কার দিলেন, নিজের হাতে নিলেন। এখন যেভাবে তৃতীয় লিঙ্গের মত হাতে তালি দিয়ে শব্দ তুলেছেন তখনো তালি আপনারাই দিয়েছেন। এবং সে তালি ছিলো নিতান্তই নির্লজ্জের মতো। পক্ষান্তরে আপনারা নিজেদের স্টিমের বাইরে কাউকে দাঁড়াইতে দিলেন না। আপনার পত্রিকা লিখলো সানি লিওন একজন লজ্জাবতী নারী, আর দাবাং জঘন্য ধারার কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল চলচিত্র। বাচ্চালোক তালিয়া বাজাও, আমি আবার সাকা চৌধুরীর ভাষ্যে স্পিকার হৈয়া গেলাম। স্পিকার অবস্থায় বলতে চাই তোমরা যারা নিরপেক্ষতার সওদাগর, জাহাজটা নিরাপদ দূরত্বে নোঙ্গর করো। যেখানে সেখানে জ্ঞান বোঝাই জাহাজ নোঙর কইরা জ্যাম বাধাইয়ো না। তবুও তেনার ওয়াজ মাহফিল এইজ স্টিল কন্টিনিউয়িং।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s