কানে আঙুল গুঁজে রই


jafrikalহটাৎ কি মনে করে আজ দৈনিক সমকাল খুলেছিলাম। সেখানে প্রকাশিত সাদাসিধে কথায় দেখলাম স্যার আমার বলেছেনে কান পেতে রই। বুঝলাম অজ্ঞাত কোনো কারণে অঙ্গ হিসেবে কানের গুরুত্ব বাড়ছে। আর এই গুরুত্বের রাজনৈতিক অনুপ্রাস কতটা বিস্তৃত তার জন্য একটু এন্টেটা খাড়া করা প্রয়োজন। সেই সাথে রিসিভার এডাপ্টার এবং অ্যাম্প্লিফায়ারগুলোও শক্তিশালী করা দরকার। কান এখন সত্যি অনেক আলোচিত শব্দ। বিশেষ যখন কান চলচিত্র উৎসবে একের পর এক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। কোনো অভিনেত্রীর কাপড় উড়ছে তো কারো ওয়ারড্রোব স্লিপ হচ্ছে। কেউবা টপলেস হচ্ছেন তো কারো সোনালি পোশাকে আবেগে কেঁদে দিচ্ছে পুরো বিশ্ব। এই সময় কান উৎসবে স্যার চোখ রাখতেই পারেন। কিন্তু এতোবড় একটা উৎসবকে স্যার কিভাবে পাইতে রাখতে চাচ্ছেন সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।

তবে স্যারের স্ট্যাটাস সবক্ষেত্রেই অন্যরকম হওয়াতে স্যারের রচনাগুলোরও রয়েছে ভিন্নার্থক ব্যঞ্জনা। তাইতো স্যার বাংলার সব পুলাপাইনকে নছিহত করা বাদ দিয়ে প্রিয় পুলাপাইনকে নিয়ে আবেগে কাইন্দা দিলেন। মনের সব আগ্রহ উদ্দীপনা আর চেতনার জববায় উদ্বেল হইয়া স্যারে লিখলেন তোমরা যারা…………..। তারপর আর পিছনে ফিরা তাকাইতে হয় নাই। বজ্জাত পুলাপাইন এইটারে নিয়া গোল্লাছুট তো দিলোই সেই সাথে স্যারের ইজ্জত নিয়া শুরু করলো ডাংগুলি খেলা। এরপর থিকা স্যারের সাধাসিধা কথার শব্দ কানে আসার ভয় আমার কান খুলতেই ভয় হয়। তাইতো সারাদিন স্যারের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে চেষ্টা করি। স্যারের মতো রবি বাবুর ঝিমানি আর ঘুম পাড়ানি গান শুনতে পারিনা। তবুও স্যারের সবথেকে প্রিয় দেশটির রাষ্ট্রভাষায় বানানো সিনেমার গান শুনতে চেষ্টা করি। সারাটিন এই ভয়ে কানে হেডফোন গুজে রই যেনো কোনো সাদাসিধে কথা কানে ঢুকে কানের খৈলগুলা ফালাইয়া না দেয়।

1424538_174409652766534_151704029_n
পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচিত্র তোমরা যারা নৌকায় চড়ো এর শুর্টিং চলাকালে

আমি জানতাম স্যারে আমার জিনিস। স্যারের মাথা যে মালে গিজগিজ করে এইডা জানতে গেলে চোখ থিকা সানগ্লাস নামাইলেই চলে। কষ্ট কৈরা এন্টেনা খাড়া করার দরকার হয়না। তাইতো অনেকটা দেওয়ানবাগী খোদারখাসি স্টাইলে তিনি ওয়াজ ফরমাইতেছেন। তোমার আবার যদি কখনও আত্মহত্যা করার ইচ্ছে করে আমার কাছে চলে এসো।’  । এযেন রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দের প্রতি কটাক্ষ। তোমার যেখানে সাধ চলে যাও, আমি বাংলায় রয়ে যাবো। কিন্তু ঘটনা হৈতেছে আত্মহত্যা করার আগে জাফর স্যারের পবিত্র সাদাসিধা খোমা দেখতাইবে ক্যান। আমার তো ডর হয়, অনেক পুলাপাইন এখন এই দেশেই পয়দা হইছে যারা স্যারের পবিত্র খোমা দেখামাত্রও সুইসাইড খাইতে পারে। আর তাই আমার ভয়ও অনেক বেশি।

স্যার !!

ও স্যার

স্যারগো। আপনি কি আমি আপনার মত কান পাইতা রবীন্দ্র সংগীত শুনতে পারিনা। তবে শুনি যদি সেটা শ্রেয়া ঘোষালের গাওয়া হয়। তবে ঐটা শুনতে গেলে দুইদিক থিকা বিপদ। বেশি সচ্চরিত্রবান পুলাপাইন বলবে তুই হালা লুইচ্চা, ক্লাসিক হাম্বারা বলবে শ্রেয়া ঘোষাল ঠাকুরের ঠ্যাং ধৈরা টানতেছে তুই হালা ওর গান শুনিস, তুই একটা আস্ত হাঁদারাম, সংস্কৃতি বিদ্বেষী। অনেকে বইলাই বসবে ভারত আমাদের পানি দেয় নাই, আমরা ওদের নিয়মিত গ্যাস স্যালুট দেই। তারপরেও খা. পু রা বর্ডারে আমগের লাশ ফেলায়। তুই হালা পুরাপাই মোদির দালাল, এখনি বালুর ট্রাকে চইড়া দিল্লী যা। অনেকের চেতনা চেগাইয়া উইঠা বলতে পারে তুই হালা ফাকিস্তানের দালাল।

nouka Arifa
স্যারের রোল মডেল আড়িপ্যা ওরফে মডেল আরিফ খান। তোমরা যারা নৌকায় চড়ো মুভির শুর্টিং ডেমো।

গোপন সূত্রে আশ্রম মামা তার আমু ব্লগে খবর দিছে শ্রেয়া ঘোষালের বয়ফ্রেন্ড ফাকিস্তানি। তাই তুই তার গান শুনিস। বিম্পি নেত্রীকে তো শুধু বালুর ট্রাক দিয়া ঠেক দেয়া হইছে। তুই শ্লা আস্তা হ্রামি । তরে বালুর বস্তায় ভইরা গুম করা উচিত। কি আর কইতাম। আর যাইহোক ঐ সাদাসিধে কথা আমার কিছুতেই সহ্য হয়না। এই সব আতংকে আমার গান শোনাও বাদ। প্লিজ লাগে স্যার এই সব সাদাসিধে কথা বাদ দেন। আমরা মাইনাই নিতেছি আপনার সফেদ গোঁফের মত সাদা মনে কোন কাদা নেই, এই সাধাসিধে কথারও কোনো ভিত্তি নাই। আপনি তো কথা শুনবেন না, চান্স পাইলেই বইকা যাবেন। তাই কি আর করা আপনার এই কথা শুইনা আত্মগুম হওয়ার চাইতে কানে আঙুল গুঁজে রই। জয় হিন্দ। জয় বাংলা। বন্দে মাত:রম।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s