দিস ইজ বেয়াদবি, এক্কেবারে বেয়াদবি তাও বাজেট নিয়ে


displayপাস হয়ে হয়ে গেলো স্বনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট। বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকের ঝাঁঝালো মন্তব্য। টিভি ক্যামেরার ফোকাস, স্ট্রিল ক্যামেরার ফ্লাশবাল্বের আলোয় মন্ত্রীমহোদয়ের চুলবিহীন চকচকে মাথাটা আরো গ্লেস দিচ্ছে। এই সময় কিছু অপছন্দের প্রশ্ন করে উনাকে বিব্রত করতে চাইনি। কারণ গণ্ডমুর্খ হলেও আমরা জানি দিস ইজ বেয়াদপি, এক্কেবারে  বেয়াদপি। তবুও আপনি নিজের নেত্রীর ইচ্ছায় আমাদের মতামতের তোয়াক্কা না করে স্বনির্বাচিত সাংসদ তারপর মন্ত্রী। অনিচ্ছা এবং নিতান্ত বিরক্তি থাকলেও কিছু প্রশ্নর উত্তর যে আমাদের দিতেই হয়।

* বাংলাদেশের বাজেট মানেই বিদেশী বিনিয়োগ নির্ভরতা। একেকটি দুর্বল মেরুদণ্ডবিশিষ্ট সরকার সময় মত সেটা বাড়িয়ে তাদের মেরুদণ্ড শক্ত করেছে। কিন্তু আপনি এমন কি করলেন যে এবারের বাজেটে  বৈদেশিক বিনিয়োগ অর্ধেক হয়ে গেছে। 

* কালোটাকা সাদা করার ইস্পিত বিধান মোতাবেক যে পরিমাণ কালি সাফ হয়ে পুরো সাদা হয়েছে সেখানে আর নতুন করে ভাববৈকল্য ঘটানোর প্রয়োজন আপনার ছিলো না। কিন্তু জানতে বড় ইচ্ছে করে সরকারি  খাতের বিনিয়োগ থেকেও যারা তশ্রুফ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কি ?

*বিশ্লেষকগণ মনে করছেন এবার বিদেশি বিনিয়োগ বাড়েনি কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক ষণ্ডাতণ্ত্র, গুম, খুন থেকে শুরু করে লালফিতার দৌরাত্বের কারণে। আপনার বাজেট বক্তব্য এই ধরণের স্পর্শকাতর বিষয় স্পর্শ না করেই শেষ হয়ে যায় কিভাবে ?

* বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রাণশক্তি প্রবাসী রেমিটেন্সেও ভাটা পড়েছে। শুনে টাস্কি খাইলাম গত ১০ বছরে এই প্রথম ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। কিন্তু কেনো ?

* চামে চিকনে প্রবৃদ্ধি বড় দেখাতে আপনি ইনফ্লেটেড করেছেন। কিন্তু তারপরেও প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ শতাংশ আমজনতার সামনে বিড়াল বলে যে বাঘ দেখালেন। সে বাঘের সাইজও তো বেড়ালের থেকে অনেক অনেক বেশি ছোট।

* রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতায় বেসরকারি বিনিয়োগও প্রায় শূন্যের কোটায়।

* ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যাকে আরো উষ্কে দিয়ে আপনার এই বক্তব্যে কর্মসংস্থানের কোনো হিসাব মিলেনি কেনো ?

* ঢাকা শহরের এই দুরাবস্থার পরেও আপনি কি মাল মাথায় নিয়ে কারের দাম কমালেন সেটা একমাত্র আপনিই বলতে পারবেন। আমাদের বোঝার সাধ্য নাই।

* খুব সহজেই বুঝে নেয়া যায়  কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক কোনো তথ্য নেই। হয়তো সে ফলাফল ঋণাত্মক হবে ভেবেই তা আপনি উহ্য রেখেছেন।

* আপনার এই বাজেট বক্তব্য শেষ হওয়ার পর সবথেকে বড় আশংকার নাম হবে মুদ্রাস্ফীতি।

* আপনার আরোপিত ট্যাক্স আর রাজনৈতিক অস্থিরতার ভয়ে মানুুষ বিনিয়োগের সাহস পাবে না। ফলে ব্যাংকগুলোর রিভার্জ বেড়ে গেলেও আশংকার নাম হবে সীমাহীন লিকুইডিটি বা তারল্য।

* আবাসন ও টেলিকম খাতের উপর জনস্বার্থ পরিপন্থিভাবে অনৈতিক কর আরোপ কোন দিক থেকে ঠিক আছে সেটা বলবেন কি ?

* বিলাসদ্রব্য বলে যেগুলোর কথা বলেছেন তার আদর্শ মানদণ্ড ও সংজ্ঞায়ন হয়নি, কেনো ?

* নেশাদ্রব্য, তামাক থেকে শুরু ক্ষতিকর অ্যালকোহল ও পারফিউম-কসমেটিকসে কেনো সম্পুরক শুল্ক বসানো হয়নি ?

অথচ বক্তব্য শেষে আপনি অবলীলায় বলে দিলেন এই বাজেট বাস্তবমুখি নাকি বাজেট? আমি জানি দিস ইজ বেয়াদবি এক্কেবারে বেয়াদপি। তবুও বাংলাদেশের অর্থনীতির ডুবন্ত সমুদ্র আপনার কাছে জানতে চাই এমন জনস্বার্থ পরিপন্থি বাজেট পাস করেছেন ভালো তারপক্ষে কোন মানদণ্ডে তার পক্ষে হুটহাট বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এই অসমতল বাজেট একদিকে আমাদের দেশের জন্য যেমন মোটেও উপযোগী হয়নি, তেমনি আপনার স্বনির্বাচিত সরকারের ভিত্তিকেও আরো দুর্বল করে দিয়েছে। সম্পুরক প্রস্তবনায় এই ভুলগুলো কাটিয়ে উঠলে জাতি ঘোরতর সংকট থেকে মুক্তি পাবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

Advertisements

One thought on “দিস ইজ বেয়াদবি, এক্কেবারে বেয়াদবি তাও বাজেট নিয়ে”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s