সন্ত্রাসবাদী ইজরাইলের উত্থান ও পৈশাচিক বর্বরতার কয়েক দশক (পর্ব-০১)


10404401_887928837888696_853380996599090678_n
জন্মই যার আজন্ম পাপ, দুই অভাগা ফিলিস্তিন শিশু

বিশ্ব এখন ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত তাই হয়তো ইজরাইলের মত ক্যান্সারের ফলে ধেয়ে আসা মৃত্যুঘন্টা তাদের কর্ণকুহরে কোনো অনুনাদ সৃষ্টি করতে পারেনি। পবিত্র রজমানে বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায় যখন মহান আল্লাহ সান্নিগ্ধলাভে ইবাদত বন্দেগীতে ব্যস্ত ঠিক তখনি ফিলিস্তিনে চলছে এক নারকীয় গণহত্যা। কেউবা প্রিয় দলের ফুটবল খেলা দেখে সময় পার করছে, কেউবা মগ্ন আছে গভীর ইবাদত বন্দেগীতে। কিন্তু ইফতারের থালা সামনে নিয়ে বসেও হয়তো অনেক ফিলিস্তিনির ভাগ্যে ইফতার জুটছে না। সেহরী  খেয়েছে ঠিকই কিন্তু সাওম পালন শেষ হওয়ার আগেই সাঙ্গ হচ্ছে ভবলীলা এই খোঁজ ক’জন রাখেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পৈশাচিক গণহত্যা থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইজরাইলের উত্থান প্রসঙ্গে আজ থেকে চলবে ধারাবাহিক রচনা…………

সন্ত্রাসবাদী ইজরাইলের উত্থান ও পৈশাচিক বর্বরতার কয়েক দশক

10513335_887929474555299_8716084961313135908_n
কাঁদছে ফিলিস্তিন, সাথে পুরো বিশ্ব। প্রশ্ন একটাই… এ পৈশাচিকতার শেষ কোথায় ???

পর্ব-০১ (হিব্রুদের উত্থান প্রসঙ্গ)

মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে আরামীয়দের পাশপাশি আরেকটি জাতির উদ্ভব ঘটেছিলো। প্রাচীন ইতিহাসের এই জাতি হিব্রু, ইহুদি কিংবা জিওনিস্ট নানা নামে পরিচিত। অনেকে বলে থাকেন এই হিব্র“দের হাতেই খ্রিস্টান ধর্মের ভিত্তি রচিত হয়েছিলো। ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই হিব্র“রাই খুব সম্ভবত হযরত মূসা আ. এর অনুসারী সেই বনী ইসরাঈল যাদের উপর পবিত্র কুরআনে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা পর্যন্ত রচিত হয়েছে।

Ithna_a
গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ব্যবসায়ী সারমেয়গোষ্ঠীর কাছে এই অবুঝ শিশু হত্যাকাণ্ডের কোনো সঙ্গা আছে !!!

অন্যদিকে বাইবেলের অনেকটাই জুড়ে এই হিব্র“দের সৃষ্টি, বন্যার ইতিবৃত্ত, আইন কানুন প্রণয়ন প্রভৃতির পাশাপাশি ঈশ্বর সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় সূত্রে উপযুক্ত প্রমাণের পাশাপাশি মিসর ও মেসোপটেমিয়াতে হিব্র“ ধর্ম সম্পর্কিত অনেক তথ্য পাওয়া যায়। ইসলাম ধর্মে হযরত মূসা আ. ও ফেরাউনের যে সকল ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে সেগুলোর প্রায় সবই মিশরকেন্দ্রিক। ফলে মিশরের সাথে হিব্র“দের একটি সম্পর্ক ছিলো সেটা অনেকটাই প্রমাণিত। এরা ব্যবিলনীয় আইনের আদলে একটি উন্নততর আইন সংহিতা রচনার পাশাপাশি গ্রিক প্রভাবিত একটি দার্শনিক কাঠামো গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলো।
নৃ-বিজ্ঞানীরা হিট্টটাইটদের সাথে হিব্র“দের দৈহিক গঠনে মিল থাকার কথা বলেছেন। দৈনিক গঠনে হিট্টাইটদের কাছাকাছি হলেও হিব্রুরা যুদ্ধবিগ্রহ কিংবা শিল্প সংস্কৃতিগত দিকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেনি। বিশ্বাসঘাতকতা, কুটচাল, হিংসা বিদ্বেষ থেকে শুরু করে জিঘাংসা চরিতার্থ করার তীব্র বাসনা অন্য সকল জাতির কাছে হিব্রুদের ঘৃণার পাত্র করে রেখেছে। হিব্রুদের প্রকৃত নাম নিয়েও সন্দেহের অবকাশ রয়েছে যেখানে খাবিরু  কিংবা হাবিরু থেকে হিব্রু শব্দটির উদ্ভবের কথা বলা হয়।

গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে গেলে দেখা যায় ফ্রিম্যাসনারি কাল্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ হিরাম আবিফের নামের সাথে হিব্রুশব্দটির উচ্চারণগত মিল রয়েছে। মনে করা হয় হিব্রুদের অবিশ্বাসী আচরণকে সামনে রেখে তাদের বিরোধীরা এই নামকরণ করেছিলো যা অর্থ নিম্নবংশজাত বা বদমাশ জাতি। অন্যদিকে ইউফ্রেতিস নদীর অপর তীর থেকে এসেছে বলে এদের (Ever) বা (Eber) নামেও অভিহিত করা হয়েছে। যার অর্থ হিংস্র ও রক্তপিপাসু পিশাচ জাতি।
প্রাচীন আরব ভূমিতে হিব্রু জাতির প্রথম শক্তিশালী অস্তিত্ব আন্দাজ করা গেলেও এদের মূল বাস্তুভিটা এখানেই ছিলো তার কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু জিওনিস্ট ইতিহাসবিদগণ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাঈলকে বৈধতা দিতে কল্পলোকে এক ভিন্ন ধরণের সভ্যতা গড়ে তুলেছিল। আর কয়েকটি মিথের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সন্ত্রাসী রাষ্ট্র এখন ফিলিস্তিনি গণহত্যার মূল কারণ।

হিব্রুরা ধর্মীয় ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারণা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। এক ঈশ্বরের ধারণা প্রথমত জোরেশোরে প্রচার করে হিব্রুরা। হিব্রুদের ভেতর থেকেই ভবিষ্যতে খ্রিস্টান ধর্ম আবির্ভাবের ভিত্তি তৈরি হয়ে যায়। নতুন ধর্ম হিসেবে খ্রিস্টানরা প্রতিষ্ঠিত হলেও ইহুদিরা তাদের কূটচালে প্রান্তিক অবস্থানেই থেকে যায়। কিন্তু তাদের কাছে সফলতার ধরা দেয় দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধোত্তরকালে। প্রতিষ্ঠিত হয় অবৈধ ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইজরাইল। কখনো জাতিসংঘের মত পদলেহী প্রতিষ্ঠান, কখনো ইয়াসির আরাফাতের মত নোবেল লোভী বেজন্মা কিংবা শান্তিরক্ষী মিশনের রুইকাতলার প্রশ্রয়ে এখানে চলছে গণহত্যা যার শেকড়টা আরো গভীরে প্রোথিত। বিশেষত এই সংঘাতের ইতিহাসটা সহস্রাব্দ প্রচাীন।

মেসোপটেমীয় অঞ্চলে ক্ষুদ্ররাষ্ট্রসমূহের যুগে আরেকটি জাতির উত্থান ঘটে। সভ্যতার ইতিহাসে এদের হিব্র“ বলা হয়। ইস্রাইলী বা ইহুদী নামেও এরা পরিচিত। সভ্যতার ইতিহাসে বিভিন্ন জাতি কোন কোন ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। যেমন মিসরীয়রা পিরামিড নির্মাণে বা মমী তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল, ব্যবিলনে হাম্মুরাবি লিখিত আইন জারি করেছিলেন, সিন্ধু সভ্যতায় তৈরি হয়েছিল পরিকল্পিত নগর।

তেমনি হিব্রুরা সভ্যতায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছে ধর্মীয় ক্ষত্রে। হিব্রুধর্ম পরবর্তী সময়ে জন্ম নেয়া খ্রিস্টান ধর্মের ভিত্তি রচনা করেছিল। বাইবেলের বেশিরভাগ জায়গা জুড়েই রয়েছে হিব্রুধর্মের সৃষ্টি ও বন্যার কাহিনী।

হিব্রুদের মতই ঈশ্বর সম্পর্কে ধারণা রয়েছে খ্রিস্ট ধর্মে। শুধু ধর্ম নয় হিব্রুদের রাজনৈতিক ধারণাও আধুনিক রাষ্ট্রগুলোকে প্রভাবিত করেছিল। প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সংস্কৃতি হিব্রুসভ্যতাকেও প্রভাবিত করেছে। হিব্রু আইন অনেকটা ব্যাবিলনীয় আইনের মতই। তারপরও বলা যায় সভ্যতার ইতিহাসে হিব্রুরা একটি ভিন্ন ধারা তৈরি করতে পেরেছিল।
জিওনিস্ট ইতিহাসবিদগণ নানা সূত্র থেকে আরব মরুভূমিতে হিব্রুদের আদি নিবাস ছিলো বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করে চলেছে। এদেরকে বর্তমান সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাঈলের অধিবাসীদের আদি বংশধর হিসেবে পরিচিত করানোর একটি চেষ্টা চলছে যার মূল উদ্দেশ্য অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাঈলকে বৈধ করা।

ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরাঈলীদের অবস্থান বৈধ করতে এখন এও প্রচার করা হচ্ছে এরা অনেকটা ঐতিহাসিকভাবেই প্রথম বসতি স্থাপন করে উত্তর-পশ্চিম মেসোপটেমিয়াতে। বিভ্রান্তিকরভাবে জিওনিস্ট ইতিহাসবিদদের বরাত দিয়ে দাবি করা হচ্ছে আব্রাহামের নেতৃত্বে এদের একটি দল ১৮০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এখানে বসতি গড়ে তোলে। পরে আব্রাহামের ছেলে জেকবের নেতৃত্বে এরা প্যালেস্টাইনে এসে বসতি স্থাপন করে আর তারাই ইসরাঈলী। কিন্তু তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করে দেখা যায় এই ঐতিহাসিক তথ্যটি পুরো মিথ্যা বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর।
১৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে হিব্রুদের কয়েকটি গোত্র মিসরে আশ্রয় নেয়। মিসরের ফারাও এদের বন্দি করে দাস বানায়। এরপর এই হিব্র“দের মুক্ত করেন তাদের নতুন নেতা মুসা বা মসেস। এরা মিশরে এসে সিনাই উপদ্বীপে নতুন বসতি গড়েছিলো যেখানে তাদের নেতা মুসা ঈশ্বর সম্পর্কে নতুন ধারণা পান। তিনি ‘জেহোবা’ নামে এক ঈশ্বরের কথা প্রচার করেন যারপর হিব্রুরা স্বস্তিতে থাকতে পারেনি।

মিশরের প্রবল ক্ষমতাধর ফারাও তাদের এই সংস্কার ও ধর্মীয় চিন্তাকে সহ্য করতে পারেননি। মিশরে তখন ফারাওদের ঈশ্বরের বংশধর হিসেবে মনে করা হতো। হিব্রুদের এহেন চিন্তাধারা মিশরের রাষ্ট্রচিন্তার মূলে কুঠারাঘাত করে যা ফারাওয়ের জন্য এক অস্তিত্ববিনাশী হুমকি হিসেবে উপস্থিত হয়। তিনি এথেকে বাঁচতেই হিব্রুদের উপর নানামুখী অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন। এরপর হিব্রুদের এখান থেকে সেখানে নানা কারণে বারবার বিতাড়িত হতে হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠাঁই মিলেছে বর্তমান ভূখণ্ডে। আর তারপর থেকেই চলছে নারকীয়তা যার শেষ বলবে সাধ্য কার …..

ক্রমশ……………….

Advertisements

One thought on “সন্ত্রাসবাদী ইজরাইলের উত্থান ও পৈশাচিক বর্বরতার কয়েক দশক (পর্ব-০১)”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s