সেকুলারিজম যখন এক আগ্রাসী ও মৌলবাদী ধর্মের নাম


MANJUL_CARTOON_300912pol_Advani_Gadkari_BJP_Secularismঅবাক হচ্ছেন!! আমি যদি বলি বাংলাদেশের নাস্তিক্যবাদ এবং ধর্মব্যবসার মূল শেকড়টা একই জ্ঞানতাত্ত্বিক পাটাতনে প্রোথিত। প্রথমে অবাক হবেন, কারণটা বুঝতেও একটু গভীর চিন্তা খুব জরুরী। বিশেষ করে বুঝতে হবে এই দুটো ধারায় কাদের স্বার্থের বীজ বপন করা হয়েছে। আর এর থেকে ফসলগুলোই বা কে ঘরে তুলতে পেরেছে!!

কারা আসলে মানুষের আবেগ এবং চিন্তা নিয়ে ব্যবসা করে নিজের আখের গুছিয়ে নিতে চেয়েছে। একটু খেয়াল করুন, বুঝবেন। কয়দিন থেকে অনলাইনে কিছু তথাকথিত নাস্তিক নামধারী বেজন্মা গাজাকে গাঁজা, গণহত্যাকে উইকেট পড়া হিসেবে কাউন্ট ডাউন করছে। কেউবা শুয়োরের মত দাঁত বের করে বলছে ফিলিস্তিনিরাই সন্ত্রাসী। আপনি খেয়াল করুন, নিজেই বুঝবেন নেহায়েত জানোয়ার না হলে কেউ ফিলিস্তিনের অসহায় শিশুর হত্যাকাণ্ডের সাথে ইসলামকে মিশিয়ে উপহাস করার কথা না।

সেটা যদি তাদের ভাষায় নাস্তিক্যবাদী ও সেকুলার আচরণ হয় আপনি খুব সহজেই বুঝে নিবেন তাদের উদ্দেশ্যটা আসলে কী। তারা মানুষের আবেগ ও টেম্পারমেট গেইম খেলতে চায়। ঠিক যেমনটা ধর্মব্যবসায়ীরা করে মানুষের বিশ্বাস নিয়ে। এই বোধোদয়টুকু প্রায় সবারই হয়। তবে সেটা হতে সময় লাগে অনেকের। কেউ কেউ আধোবেলায় বিষয়টি বুঝতে পারে। আমি অনেক আগে থেকেই নিতান্ত ছোট মুখে বড় কথা বলে আসছি সাহিত্যিক হিসেবে হুমায়ুন আজাদ কিংবা আহমেদ শরীফ ছিলো যাচ্ছেতাই মানের। লেখার অযোগ্যতা ঢাকতেই তারা নিধিরাম সর্দারের মত ধর্মবিদ্বেষ ছড়াতে শুরু করে।

তারা জানতো বাংলাদেশের মানুষ ধর্মঅন্তপ্রাণ। এখানে ইসলাম বিরোধী কথা বললে আর কিছু না হোক অন্তত কেউ বিরোধিতার খাতিরে হলেও তাদের কথায় রেসপন্স করবে। এক্ষেত্রে নাস্তিক্যবাদ তাদের মূল লক্ষ্য না, তাদের লক্ষ্য স্ট্যান্টবাজি।

বিশেষ করে বিখ্যাত হওয়ার জন্য তার নিজেরই ভাড়াটে গুণ্ডা কিংবা রগচটা মৌলবাদী গ্রুপ যেকেউ হামলা করে হুমায়ুন আজাদের উপর। ব্যস মিডিয়া সেটা ফলাও করে প্রচার করে। এরপর থেকে হুমায়ুন আজাদ নাস্তিক্যবাদের ইতিহাসে নায়ক বনে গেছে। তাছাড়া কতোনদী সরোবার, লাল নীল দীপাবলি কিংবা নারী নামের যে বইগুলো তিনি রচনা করে গেছেন সেগুলোকে সাহিত্যের ডাস্টবিনেও স্থান দেয়ার কথা নয়। অন্তত যে ভাষায় সে সাহিত্য রচিত সেটা কোনো সভ্য সমাজে পাতে দেয়ার যোগ্য নয় ।

প্রথমত, ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে নারী প্রসঙ্গে হুমায়ুন সাহেব প্রচুর কেচাল করেছেন। কিন্তু এই হুমায়ুন আজাদই যখন নারী নামের বইটিতে নিজের মা বোনের জাতি নিয়ে নিয়ে যে অশ্লীল বক্তব্য রেখে গেছে সেটা মুখে আনতে বমি চাপে। যে নারীদেহের বিবরণ থেকে শুরু করে নানা আঙ্গিকে যে বাক্যবাণ নিক্ষেপ করেছে সেটাকে পুরো নারী জাতিকেই সাহিত্য নির্ভর গণধর্ষণ করেছে এটা বলা যায়।

দ্বিতীয়ত, এগুলো নিয়ে যে প্রতিবাদ করতে গেলে সে হয়ে যাচ্ছিল মৌলবাদী। কিন্তু এইসব ফেমসিক মেন্টাল ফ্রিকগুলোর হাত থেকে মানুষ কিছুদিন মুক্তি পেয়েছিল। প্রথম প্রথম মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মিছিল সমাবেশ করলেও পরে ঘেন্নায় থুতুও দিত না। বলতে গেলে মানুষ তাদের এড়িয়ে চলতে শুরু করে। ঠিক যেভাবে মধ্যযুগের বর্বর ইউরোপে পোপদের প্রচারিত ক্যাথলিক ধর্মাচার থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো।

এলো বাংলা ব্লগগুলো, তাদের নতুন করে ঘেউ ঘেউ করার সুযোগ হল। ব্লগগুলো চাইতো হিট। আস্তিক-নাস্তিক কেচাল ব্লগের জন্য হয়ে গেলো হটকেক। কিছু ব্যক্তি দেখলো বিখ্যাত হওয়ার কত সহজ সুযোগ। বাস্তবে হুমায়ুন আজাদের মত অক্ষম লেখক হয়েও বিখ্যাত হওয়ার সুযোগ তো হয়নি। সুতরাং কি আর করা, অন্তত ব্লগস্টার সেলিব্রেটি ব্লগার হওয়া তো খুব সোজা। আর হাতে কাজ না থাকা কিছু ধর্মপাগল ছেলেমেয়ে এদের বিরুদ্ধে কিবোর্ড ধরলো। আদতে তারা এই গাধাগুলোকে পিটিয়ে প্রথমে ঘোড়া, পরে দোপেয়েই বানিয়ে তুললো। বলতে গেলে এদের বিরুদ্ধে লেখা প্রতিবাদ এবং তোয়াজই তাদের ফর্ম ফিরিয়ে আনলো।

এইসব ব্লগীয় গাধা-গরু রামগরুড়ের ছানাগুলো দেখলো ধর্মবিদ্বেষ বিক্রি করায় পাড়া মহল্লার হুজুরদের ধর্মব্যবসার থেকেও অনেক বেশি লাভ। তারাও শুরু করে দিলো নতুন ধারায় ধর্মকে গালাগালি করা। বেশ জমে উঠলো নাস্তিক্যবাদের ব্যবসা। অনেকে পর্নগ্রাফিক সাহিত্যও লেখা শুরু করলো ধর্ম নিয়ে। আর ধার্মিক মানুষ সেগুলোর প্রতিবাদ করে দিনের পর দিন তাদের হিট বাড়িয়ে চললো। হিট এর দিক থেকে ব্লগগুলোও ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে। দেখাগেলো ধর্মের কিছু আসুক না আসুক বিশ্বাস অবিশ্বাসের বাণিজ্য বেশ জমে উঠেছে।

একদিকে কিছু মূর্খ কুলেখক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেমন লেখক মনে গেলো, তেমনি কিছু পুলাপাইন তার বিরোধিতা করে সহজেই দুইদিনে অনলাইনের হিরো বনে গেলো। মাঝখান থেকে দুইভাবে ভাগ হলো পুরো জাতি। নাস্তিক-আস্তিক নিয়ে শুরু হলো নতুন সংঘাত। প্রশাসনের মদদপুষ্ট হওয়ায় নাস্তিককূলের ধারা অনুসরণ করা গ্রুপটিই খুব সহজে অনলাইনে শাইন করলো।

তাদের এই সফলতার দীর্ঘমেয়াদী ফল হিসেবেই বাংলাদেশে নাস্তিক্যবাদ সবথেকে আক্রমণাত্মক, জিঘাংসী এবং ধ্বংসাত্মক মৌলবাদী ধর্ম।  এই ধর্মের দাপটে এখন সৃষ্টিকর্তার নাম মুখে আনা পাপ, অসহায় ফিলিস্তিনি শিশুর হত্যাকাণ্ডে প্রতিবাদ জানানোটা পাপ। বিশ্বজুড়ে মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে দুকলম লেখা তো এখনকার সেকুলিস্ট ধর্মের হিসেবে কবীরা গুনাহের শামিল। একটু খেয়াল করলেই যে কারো কাছে এই কাউন্টার ডিসকোর্সটি স্পষ্ট হবে। অন্তত নাস্তিক্যবাদ ব্যবসার এই জ্ঞানতত্ত্ব সবার কাছে পরিষ্কার হলে কেউ তাদের প্রতিবাদ কিংবা পক্ষাবলম্বন কোনোটাই করবেন না। এর যেকোনো একটি করাই তাদের সবথেকে বড় আকাঙ্খা। অন্তত সেদিক থেকে দেখলে এদের প্রতিবাদ এবং পক্ষাবলম্বন দুটিই তাদের পক্ষে যাচ্ছে। এখন এই দুটি কাজ করার মাধ্যমে আপনি তাদের হেল্প করবেন, নাকি বিশ্ব মানবতার স্বার্থে এই ধরণের ফেমসিক ফ্রিকগুলোকে কিক আউট করে  এড়িয়ে যাবেন, ইচ্ছেটা নিতান্তই আপনার উপরেই ছেয়ে দেয়া যায়।

Advertisements

One thought on “সেকুলারিজম যখন এক আগ্রাসী ও মৌলবাদী ধর্মের নাম”

  1. চমৎকার বিশ্লেষণ করেছেন।

    সেক্যুলারিজম আর নাস্তিক্যবাদ আসলে খোলসের অন্তরালে একই জিনিশ, এ এক চরম মৌলবাদী আগ্রাসী ধর্মেরই নামান্তর; প্রকৃত ধর্ম বিশ্বাসীদের বিশ্বাসের জায়গায় আঘাত করাই এই বুদ্ধি বেশ্যাদের টিকে থাকার রহস্য।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s