অনলাইনে ইজরাইলের প্রতিবাদকারীরাই সঠিক পথে আছেন


3181146484_853c812e17_oগুপ্তগোষ্ঠী ফ্রিম্যাসনারির কথা। আমার লেখা প্রথম একক বই। বইটির কাজ করতে গিয়ে সব কিছু লেখা হয়ত সম্ভব হয়নি, কিছু বিষয়ে আমার ধারণাও ছিল অস্পষ্ট। বিশেষ করে সেই লক্ষ বছর আগে কাল্ট সভ্য সমাজে কিভাবে চলে। কিভাবে একটি মৌলবাদী ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নীলনকশা করে তার বাস্তবায়ন করা হয়। বিশ্বের নানা দেশে ঘটে যাওয়া সম্মিলিত কেলেঙ্কারির রহস্যটাই বা কি? বিশ্বের সব টাকা কারা কুক্ষিগত করে রেখেছে। পুঁজিবাদের বিরুদ্ধাচারণে কথা বললেও মার্ক্স বেটা আসলে কি চেয়েছিল। এখানে মূল পুঁজি কি জ্ঞান নাকি অর্থকড়ি বিস্তর বিষয় এড়িয়ে যেতে হয়েছে লেখার ক্ষেত্রে।
তবে মজার বিষয় হচ্ছে তখন যে বিষয়গুলো বুঝিনি অস্পষ্ট ছিল সেগুলো এখন স্পষ্টভাবে চোখের সামনে এসে ধরা দেয়। একটু চোখ কান খুললেই বোঝা যায় ইজরায়েল রাষ্ট্রের দুগ্ধপোষ্য বেজন্মারা আমাদের দেশে, আমাদের চারদিকে ঘিরে আছে। বোগদাদীর মত খলিফা নামে ইসলামোফোবিক মেশিন যেমন ম্যারিকার হাতিয়ার, তেমনি এইসব পর্দার আড়ালে লুকানো ফ্রিম্যাসন থার্ড ডিগ্রি মেম্বাররাও ইজরাইলের হাতিয়ার।
আমরা কমবেশি সবাই জানি মৌলবাদী সন্ত্রাসী ইজরাইল এবং তার সরকার ঘোষণা দিয়েছে যারা অনলাইনে ইজরাইলের পক্ষে প্রচারণা চালাবে তাদের টাকা দেয়া হবে। ঠিক তখনি খেয়াল করুন বাংলাদেশের অনেক সেলিব্রেটি মাযায় গামছা বেঁধে নেমে গেছে। দুই লাইন ইংরেজি লিখতে গিয়ে অম্বলের ব্যাথায় ক্যাঁকু ক্যাঁকু করে ওঠে, তারাও এখন লিখছে ইংরেজিতে। আর হ্যাশট্যাগ ঠিকই দিচ্ছে। খেলছে রিভার্স, তাদের প্রত্যেককেই আমরা জানি, বুঝি ও চিনি অনলাইন একটিভিস্ট হিসেবে। কিন্ত এখন তারা নাকি কান্না জুড়েছেন এভাবে অনলাইন একটিভিজম করে কি হবে।
অনেক হতভাগা আবার বলছে ইজরাইলের পণ্য বর্জন করে কি হবে। অনেক দিন আগে ব্লগ ছেড়ে দিলেও আপনাদের আচরণ পুরাতন দিনের কথা নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে। আর বাধ্য হয়েই বলতে হচ্ছে ডিয়ার ইজরাইল বেনিফিশিয়ারি বাস্টার্ডস পিগটেইল ইজ আ ডিফিকাল্ট থিং টু হাইড, এট লাস্ট ইউ কান্ট হাইড দিস। যাক তবুও অনলাইন একটিভিস্ট ও সাধারণ ইউজারদের সামনে সুযোগ এসেছে এসব লুকানো দালালদের চিহ্নিত করার। সেই সাথে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে আহ্বান করবো আপনারা হিন্দু মুসলিম, খ্রিস্টান বৌদ্ধ যাই হন না কেনো প্রশ্নটি মানবতার। আর যাই হোক বিশ্ব মানবতাকে একটি মৌলবাদী ইহুদি রাষ্ট্রের বলি হতে দেয়া যায় না। মৌলবাদ যেখানে নিজ ধর্মের জন্যও ক্ষতিকর সেখানে বিশ্ব মানবতাও এর কাছে নিরপদ নয়। তাই এর প্রতিবাদ হতে হবে, বিশ্বের প্রতিটি প্রান্ত থেকে প্রতিবাদ হতে হবে। সেই প্রতিবাদ আপনি সশরীরে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেন, আর অনলাইনে একটি স্ট্যাটাস কিংবা টুইটের হ্যাশট্যাগ দিয়েই করেন।
আপনারা যারা সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইজরাইলকে অনলাইনে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা ঠিক পথেই আছেন। এটা নিয়ে জিওনিস্টদের দালালরা যে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য অনলাইনে ছড়াচ্ছে সেটা নিছক গুজব মাত্র। আপনাদের ভুলে গেলে চলবে না ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা যেমন সাগর গড়ে তোলে, আপনার এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিবাদী আয়োজন একদিন সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইজরাইলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে সরিয়ে ধর্মভিত্তিক সন্ত্রাসের কালিমা থেকে বিশ্বমানবতার শাপমুক্তি ঘটাতে যথেষ্ঠ হবে। এই হ্যাশট্যাগ এবং প্রতিবাদ বিষয়ে জেনে নিন মইনুল ইসলাম রাকীবের পোস্ট থেকে

#‎ট্যাগ‬ কি এবং কেন ফিলিস্তিন বা গাজার জন্য Hashtag ব্যবহার করবেন?
…………………………
টুইটার,ফেসবুক,ফ্লিকার,ইউটিউব,ভিকে,ইনস্টাগ্রাম বা ব্লগ ও মাইক্রোব্লগে ‘#’ চিহ্নটি ইদানিং ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হচ্ছে।সামাজিক,জাতীয় এমন কি আন্তর্জাতিক আন্দোলন সংগঠিত ও বিশ্বব্যাপী প্রচার করতে #ট্যাগ বা Hashtag ব্যবহৃত হয়।সাম্প্রতিককালে ফিলিস্তিনের#GAZA উপত্যকায় ‪#‎IllegalISRAEL‬ এর অমানবিক অত্যাচার বিষয়ে জনমত গঠনে ‪#‎Tag‬ বিপুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।সেকারণে আমাদের মধ্যে অনেকরই Hashtag সম্পর্কে জানার আগ্রহ রয়েছে।আমার সাধ্যমত বিষয়টি উপস্থাপন করলাম।

#ট্যাগ কি?(What is Hashtag?)
……………….
# চিহ্নটি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট জগতে হাইপারলিঙ্ক করতে প্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত হতো।যখন একটি পূর্ণ শব্দ বা বাক্যকে কোন স্পেস ছাড়া লিখে এর শুরুতে একটি # কে যুক্ত করা হয় তখন একে Hashtag বলে।Hashtag এর ফলে ঐ শব্দটি বা স্পেসবিহীন পুরো বাক্যটি # সহ অন্য সব শব্দ থেকে উজ্জ্বল হয়ে যায়।এর ফলে এটি সহজেই পাঠকের চোখে পড়ে।যেমন আপনি ফিলিস্তিনে অভিশপ্ত ইহুদীদের অত্যাচার নিয়ে একটি পোস্ট লিখলেন।আপনি চাচ্ছেন সবাইকে HATE ISRAELI BRUTALITY বা গাজা ছাড়ো বাক্যদ্বয় দৃষ্টিগোচর করতে।আপনি ‪#‎HATEISRAELIBRUTALITY‬ বা ‪#‎গাজাছাড়ো‬ লিখতে পারেন অথবা পৃথকভাবে হ্যাশ দিয়ে এদের পৃথকভাবে উজ্জ্বল করতে পারেন।

#TAG এর বৃহত্তর ব্যবহার
…………………
সর্বপ্রথম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম Twitter হ্যাশট্যাগ নিয়ে আসে।ব্যাপকভাবে এর ব্যবহার হয় ইরানে সর্বপ্রথম আহমেদিনেজাদ সরকারবিরোধী আন্দোলনে।এরপর এটির কার্যকারীতা দেখে বিশ্বের অন্যান্য Social media এর ব্যবহার শুরু করে।হ্যাশট্যাগ কথিত আরব বসন্তে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।এছাড়া কোন সেলিব্রেটির নতুন বই,সংগীত,পোশা আশার কথাও হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।এরপরেও টুইটার সিদ্ধান্ত নেয় নতুন ফিচার আনার।এর নাম Trending Topics

Trending Topics কি?
…………………
এটি একটি সাম্প্রতিক ধারনা।যখন সমগ্র Twitter এ কোন একটি বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি Tweet করা হয় হ্যাশট্যাগ দিয়ে তখন সেই বিষয়টিকে Search অপশনের আওতায় আনা হয়।যেমন ‪#‎GAZAUNDERATTACK‬ সবচেয়ে বেশি Tweet করা হলো।এখন কেউ যদি Twitter এর Search option এ গিয়ে ‪#‎GAZA‬… লিখে তবে এ সম্পর্কিত সকল Tweet তার সামনে চলে আসবে।এভাবে যদি অনেক বেশি Tweet হয় তবে সেই বিষয়কে Homepage এ ও জায়গা দেওয়া হয়।আলোচিত বিযয়কে Social media তে Focus করার এই প্রক্রিয়াই হচ্ছে Trending Topics।এ কারণেই ফিলিস্তিনের মুক্তিকামীরা #TAG দিয়ে নিজেদের কথা প্রচার করে বা করতে বলে যাতে Trending Topics এর মাধ্যমে এটি সমগ্র মানবজাতি জানতে পারে।
Facebook এ হ্যাশট্যাগ ২০১৩ এর জুনের দিকে চালু হয়।ফিলিস্তিন বিষয়েই সবচেয়ে বেশি Hashtag আসলেও এখন পর্যন্ত তা Trending Topics হয়নি।সেকারণেই ফিলিস্তিন বিষয়ক যেকোন পোস্ট সেটা বাংলা বা যেকোন ভাষাতেই লিখেন ‪#‎SUPPORTGAZA‬ বা ‪#‎SAVEPALESTINE‬ বা ‪#‎HATEISRAEL‬ লিখবেন অবশ্যই,যা হয়তো মুহূর্তেই পৃথিবীর অপর পাশে চলে যাবে।

#ট্যাগ ও ফিলিস্তিন (Hashtag and Palestine)
……………
ফেসবুকের উপরে ও নিচে থাকা Search অপশনে # দিয়ে যেকোন শব্দ যেমন ‪#‎SAVEGAZA‬ লিখে পাঠান।দেখবেন Search results এ ফিলিস্তিন ও গাজা সম্পর্কিত পৃথিবীর নানা ব্যক্তির স্ট্যাটাস,মন্তব্য,ছবি বা ভিডিও পেয়ে যাবেন।এমনকি সংবাদ সংস্থার লিংকও।আমরা তথ্যের গুরুত্ব বুঝিনি,ঠিকই ইসরাইল অর্থ দিয়ে Online activist কিনেছে।তারা হ্যাশট্যাগ দিয়ে ISRAEL UNDER FIRE নামের ডাহা মিথ্যা প্রচার করছে।

কি পরিমাণ লোক ফিলিস্তিনের পক্ষে এটা নিয়ে বিশ্বগণমাধ্যমে সংবাদও প্রচার হয়।অতএব আর দেরি নয়।এখন থেকে ফিলিস্তিন নিয়ে পোস্টকৃত যেকোন ছবি,সংবাদ,ক্ষোভ এর আগে বা শেষে বা মাঝে লিখুন-
#SUPPORTGAZA
#SAVEGAZA
‪#‎FREEPALESTINE‬
‪#‎HATETERRORISRAEL‬
‪#‎STOPGENOCIDEONGAZA‬
‪#‎WORLDWITHPALESTINE‬

আশা করি ‪#‎ট্যাগের‬ (HASHTAG)সঠিক ব্যবহার করে কিছুটা হলেও অভিশপ্ত ইহুদীসহ যেকোন অত্যাচারীর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিরোধ করতে পারবো ।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s