ইতিহাসের ধারাক্রমে ওয়াহাবীবাদ ও আইসিসদের পাশবিকতা (পর্ব-১)


isis-iraqসৌদি আরবের ওয়াহাবিদের সম্পর্কে না জানলে আইসিসের পাশবিকতার নেপথ্যে থাকা কারণগুলো অজ্ঞাতই থাকবে, ঠিক এমনটিই বলতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনপ্রিয় অনলাইন মাধ্যম হাফিংটনপোস্ট। ইরাকে আইসিসের নাটকীয় উত্থানে পশ্চিমের অনেকেই আতঙ্কিত এমনটাই বর্তমান মিডিয়ায় চটকদার সংবাদ হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।কিন্তু মূল বাস্তবতা কী ? তা বোঝার জন্য গভীরে দৃষ্টি দেয়াটা জরুরী। হাফিংটন পোস্টে পাবলিশ হওয়া ঐ প্রবন্ধের সূত্র ধরে তার মধ্যে কৃত কিছু মিথ্যাচার সংশোধনের মাধ্যমে লেখার চেষ্টা করেছি।

আইসিস কাদের জন্য আতংক

মানুষ ধর্মের নাম ব্যবহার করে এই তথাকথিত মুসলিম খিলাফত ঘোষণাকারীদের বর্বরতায় হতাশ ও ক্লান্ত। এর এমন কি মন্ত্রবলে সুন্নি যুব সমাজকে এমন জিঘাংসার দিকে ঠেলে দিচ্ছে যা আদতে ইসলাম সমর্থন করেনা, এ নিয়ে বিশ্ববাসীর প্রশ্নের শেষ নেই। সবাই যখন আইসিস নিয়ে এতো ভাবছে, সৌদি আরব কেনো নিশ্চুপ? পুরো বিশ্ব তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এতো আতঙ্কিত, তাহলে সৌদি আরব কেনো এদের নিয়ে বিচলিত নয় ?
সবথেকে বড় কারণ হচ্ছে সৌদির ক্ষমতাসীনরা নীতিগত অবস্থান ও প্রভাববলয় বিস্তৃতির উদ্দেশ্য দ্বিধাবিভক্ত। তারের মধ্য থেকে একটি দল পাশবিক উন্মত্ততায় হাততালি দিচ্ছে। তাদের ধারণা ইরানের শিয়াদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে আইসিস। তারা রাজনৈতিক স্বার্থের সামনে এদের সব ধরণের অপকর্ম যেমন অহেতুক খুন, হত্যা, ধর্ষণ এমনকি মেয়েদের বিক্রি পর্যন্ত করে দেয়ার পক্ষে সাফাই গাচ্ছে। অন্য একটি দল ইসলামী রীতি ও আকিদার উপর বিশ্বাস স্থাপন করে আইসিসের এহেন ঘৃণ্য আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে একটি কল্পিত ও তথাকথিত সুন্নি রাষ্ট্রের উত্থান অনেক উগ্রপন্থি সুন্নি জাতীয়তাবাদীকে আগ্রহী করে তুলেছে যারা নামে মুসলমান হলেও মজ্জাগতভাবে জিওনিস্টদের মনোভাব ধারণ করে। তারা সুন্নি জাতীয়তাবাদের সাথে সাথে সালাফিস্ট উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে দিনের পর দিন চালিয়ে যাচ্ছে পাশবিকতা।
অন্যদিকে আরেকটি দল ওয়াহাবিস্ট ইখওয়ানের একত্রীকরণ করতে গিয়ে আবদেল আজিজের বিরুদ্ধেও একটা সময়ে বিশেষ কারণে অস্ত্রধারণ করেছিলো। তবে পরে এ শীতল সম্পর্ক প্রশমিত হয়ে যায়। এক্ষেত্রে একটি কথা বলে রাখা ভালো এর সাথে কেউ ভুলে মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমুনকে মিলিয়ে ফেলবেন না। এরাই সেই তথাকথিত ইখওয়ান যারা ওয়াহাবিজমের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে এবং তার হাত ধরেই সৌদ রাজবংশ আরব ভূখণ্ডের উপর ক্ষমতা বিস্তার করে। এদিকে সৌদের বংশের নামানুসারে বিশ্বজুড়ে এই ভূখণ্ডের নামই হয়ে যায় সৌদি আরব। এই বিষয়গুলো নিয়ে যারা জানেন ও বুঝেন তারা প্রথম থেকেই আইসিসের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে আসছেন। এই কর্মে সৌদি আরবের উলেমাদের পাশাপাশি পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীদের সমান্তরাল অবস্থান নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতেই পারে।

সৌদির আরবের দ্বৈতনীতি
নৈতিক অবস্থান থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে সৌদির রাজশক্তির সাথে আইসিসের সখ্যতার পরিচয় মেলে। বিশেষ করে খিলাফাহর পতন এবং আরব ভূখণ্ডে রাজবংশীয় শাসন প্রতিষ্ঠার পটভূমিতে সৌদবংশের উগ্র জাতীয়তাবাদী আচরণ এবং পাশবিক হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস আজও অজ্ঞাত। তবে সৌদি আরবের বর্তমান ক্ষমতাসীনরা আসলে মুহাম্মদ ইবনে আবদেল ওয়াহাবের অনুসারী যিনি ছিলেন বিশ্বব্যাপী ওয়াহাবিজমের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ইসলামের সাথে জাতীয়তাবাদের মিশ্রণে নতুন ধরণের ধর্মচার ও রাষ্ট্রপরিচালনার নীতি গ্রহণ করেছেন যাকে সরাসরি র্যা ডিক্যাল এবং এক্সক্লুশনিস্ট পিউরিটানিজম হিসেবে আখ্যা দেয়া যেতে পারে। আরো সহজ করে বললে গোঁড়া মতাদর্শিক ফ্যাসিজম প্রতিষ্ঠার পথ করে দিয়েছিলেন তিনি, পৈশাচিক উন্মত্ততায় যার সফল বাস্তবায়ন করে ইবনে সৌদ।
সৌদি রাজনীতির দ্বৈততা বিশ্লেষণ করতে গেলে ১৯২০ সালের দিকে বাদশাহ আবদেল আজিজের নেতৃত্বে সংঘটিত সংঘাতের দৃষ্টি দিতে হয়। ওয়াহাবি ইখওয়ানের নামে একদল ক্ষমতালোভী পাষণ্ড তখন নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় আরব ভূখণ্ডে। তারা একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করতে জাতিধর্ম নির্বিশেষে হত্যাযজ্ঞ চালায় পুরো এলাকায়। তাদের এ হত্যাকাণ্ডের মূলে কাজ করে মুসলিম উম্মাহকে খিলাফাহর শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে ব্রিটেন কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদলে একটি জাতি রাষ্ট্র গড়ে তোলার উদ্দেশ্য। অন্যদিকে ক্ষমতালোভী সৌদরা এভাবে নিজেদের ক্ষমতাও আজীবনের মত পাকাপোক্ত করতে চেয়েছিলো। ওয়াহাবী উগ্রপন্থাকে তখন প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে জনপ্রিয় করে তোলার একটা চেষ্টাও চালানো হয়, প্রচুর অর্থকড়ি খরচ করে বিশ্বব্যাপী তাদের পক্ষে জনমতও গড়ে তোলার কাজে হাত দেয়া হয় তখন। কোটিকোটি পেট্রোডলারকে কাজে লাগায় তারা। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী তাদের সন্ত্রাসবাদী চরিত্র ধামাচাপা দিয়ে ওয়াহাবিজমের পক্ষে একটি সংস্কৃতিক পরিসর তৈরি করতে সক্ষম হয় তারা। সাচ্চা মুসলিমের লেবাছে বিশ্বের প্রতিটি দেশে তখন সক্রিয় হয় ওয়াহাবি ভাঁড়েরা। তারা আসলে জাতিগতভাবে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিছুই না তাদের মূল উদ্দেশ্য হয়ে যায় ইসলামকে সামনে রেখে মানুষকে বিভ্রান্ত করে সৌদের বংশধর ও সৌদি রাজতন্ত্রকে বিশ্বব্যাপী বৈধ করা। কিন্তু ফরাসি বিপ্লবের সময় জ্যাকোবিনরা যেমন হিংস্র আচরণ করে একের পর এক মানুষকে গিলোটিন করে, আবদেল ওয়াহাবের চেলাও বিশ্বব্যাপী তাদের বিরোধীদের দমন করতে হয় ফতোয়া, নয়তো কল্লাকাটার বিধান জারি করে। এতে করে একদিকে তাদের দ্বিমুখী লাভ হয়। প্রথমত, তাদের বর্বরতা দেখে পুরো ইসলাম ধর্মের উপরেই মানুষের একটা ঘৃণা আর ভীতি জন্ম নেয় যা তাদের সর্বেসর্বা করে তোলে। ইসলামিস্টদের দমন করার কাজে এহেন অগ্রগতি দেখে পশ্চিমারাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ওয়াহাবিদের দিকে।

আতংক ও বিভ্রান্তি ছড়ানো
ওয়াহাবিদের উত্থানের প্রেক্ষাপটটা কিন্তু অদ্ভুদ রকমের। এর প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের নাম ব্যবহার করলে ক্ষমতা কিংবা রাজনীতির ময়দানের এদের অবস্থান ঠিক আইসিসের এখনকার মতই ছিলো। স্টিভেন কোল এর বর্ণিত সূত্র থেকে যে বিশ্লেষণ এসেছে সেখানে ওয়াহাবী আন্দোলনের সূচানপর্ব সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংযোজিত হতে দেখা গেছে। ১৪ শতকের পণ্ডিতগণ ইবনে তামাইয়্যা এবং আবদেল ওয়াহাব ও তার চেলাদের অনেকগুলো চরিত্র তুলে ধরেছেন যেগুলো তাদের দীর্ঘস্থায়ী সফলতার পাথেয় হিসেবে কাজ করে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মিশরসহ বিশ্বের নানা স্থান থেকে আগত তামাকসেবী ধূমপায়ী, হাশিশ খোর, মাতাল থেকে শুরু করে নেশাসক্তদেরও সহজে ঠাঁই মিলতে থাকে তাদের দলে। এদের অনেকে আবার মক্কায় আগত অটোমান অভিজাতদের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে।
কিছুদিন পর তারা ধারাক্রম পাল্টে ফেলে। আবদেল ওয়াহাব তার চেলাদের উদ্দেশ্য বয়ান করে বসেন এরা কেউই মুসলিম না। এদের থেকে সৌদি আরবের নানা স্থানে অবস্থানরত ভবঘুরে বেদুইনরাও অনেক ভালো। এভাবে খুব দ্রুততার সাথে বৃহত্তর সৌদি জাতীয়তাবাদের অধীনে বেদুইনদের একত্রীকরণ সম্ভব হয়। অন্যদিকে তিনি আরবের বাইরে থেকে আগত মুসলিমদের স্বভাবের মধ্যে অনেক কিছুকে শরীআতের দৃষ্টিতে অবৈধ তথা বিদআত হিসেবে ঘোষণা করে বসেন। বিশেষ করে বহিরাগত মুসলিমদের সাধু-সুফিদের প্রতি অতিভক্তি, তাদের সমাধি তৈরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের কুসংস্কার দেখে যার পর নাই বিরক্ত হয়েছিলেন আবদেল ওয়াহাব।
এসময় শরীআত পালনের ক্ষেত্রে অনেকগুলো নীতি তৈরি করে ওয়াহাবীরা। তারা মুখে দাবি করে মদীনার ইসলামী রাষ্ট্র যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে তার আলোকে তাদের সরকার চলবে। কিন্তু কার্যত হতে থাকে অন্যথা। তারা বিশ্বের সব মুসলিমের মানার জন্য বিশেষ শরীআহ বোর্ড তৈরি করে পত্তন করে উগ্রপন্থি সালাফিবাদের। একই সময়ে তাইমইয়্যা শিয়া মতবাদ, সুফিবাদ ও গ্রিক দর্শনে বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে বসেন। তারা মদীনায় রাসূল সা. এর রওজা দর্শন থেকে শুরু করে ঈদ ই মিলাদুন্নবী পালন, শবই বরাত পালন এবং ইত্যকার নানা অনুষ্ঠান উদযাপনকে শরীআতের দৃষ্টিতে অবৈধ ঘোষণা করে। এই সময় আবদেল ওয়াহাব প্রতিটি মানুষকে রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত হওয়ার জন্যও বিশেষ উপদেশ প্রদান করেন।

নতুন রূপে ওয়াহাবীবাদ
আবদেল ওয়াহাদের চেলাদের একটা বড় অংশ ততদিনে পরিচিতি লাভ করে তাকফিরি হিসেবে। এখানে বিশেষ মতবাদকে সামনে রেখে আবদেল ওয়াহাব ও তার চেলাবর্গ বিশ্বব্যাপী সৌদি বাদশাহর প্রভাব বলয় বিস্তৃতি ও রাজনৈতিক-সামাজিক স্বীকৃতি আদায়ে ব্রতী হয়।

আবদেল ওয়াহাব এই সময় সেসব মুসলমানদের তালিকা তৈরি করে যারা নাকি মৃতদের সম্মান করে, সুফি অনুরক্ত এবং দেবদূতে বিশ্বাস করে। তিনি এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে জানান এগুলো শরীআতে পুরোপুরি অবৈধ। পাশাপাশি আইন করে বিভিন্ন মাযারে পূণ্যার্থীদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করণের পাশাপাশি বিশেষ মসজিদ, ধর্মীয় উৎসব এবং রাসূল সা. এর জন্মদিন উদযাপনকে পর্যন্ত বাতিল ঘোষণা করে তারা।

এদিকে মৃতদেহ দাফনের পর সেখানে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সেনোটাফ বসানোর বিরুদ্ধেও অবস্থান গ্রহণ করা হয়। কোনো ভনিতা না করে ওয়াহাবী চেলাদের উদ্দেশ্যে ওয়াহাব মিয়া চিল্লাপাল্লা করে বলেন [[ “Those who would not conform to this view should be killed, their wives and daughters violated, and their possessions confiscated,]]। ওয়াহাব মিয়ার এই চিল্লাপাল্লা আর তার চেলাদের দাপাদাপি থেকে তখন খুব সহজেই একটা বিষয় বোঝা যায়। বিশ্বে বেঁচে থাকতে হলে মানুষকে ওয়াহাবীদের ছাতার নিচেই থাকতে হবে নয়তো তার কল্লা যাবে, ইজ্জত যাবে, বউ-বাচ্চা পর্যন্ত নিরাপদে থাকতে পারবে না।

মিডিয়াতে ওয়াহাবীবাদের স্ট্যান্টবাজি

মানুষের ধর্মচারের একটা মানদণ্ড তৈরিতেও ওয়াহাব মিয়া খুব একটা বেশি সময় নেয়নি। তার ঘোষণার সাথে সাথেই তার চেলারা ফাল দিয়া ওঠে, তারপর ইচ্ছেমত সাইজ করতে থাকে বিরুদ্ধমতের মানুষগুলোকে। এদিকে তারা নিজের একমাত্র মুসলিম দাবি করাতে বিশ্ববাসীর সামনে ইসলামের একটি নেতিবাচক চরিত্র ফুটে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা মিডিয়া এগুলোকে খুব সুন্দর করে কাজে লাগাচ্ছে। আর ওয়াহাবীদের মতো উগ্রপন্থিদের ইতরামির কারণে মুসলমানরা কিভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে তার বাস্তবসম্মত বিশ্লেষণ করেছেন এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাইদ।

এখানে ওয়াহাবীরা তাদের নেতাকে মেনে চলা বাধ্যতামূলক করে দেয়। পশ্চিমা মিডিয়াগুলো খিলাফাহর সাথে ওয়াহাবিজমকে গুলিয়ে শরবত বানিয়ে খাওয়াতে চাচ্ছে। এখনকার বাস্তবতায় তারা নতুন খলিফাকে ধ্রুপদী ইসলামী খিলাফাহর সাথে মিলিয়ে ফেলতে চাইলেও বাস্তবতাটা ভিন্ন।

এর মূল সূর নিহিত আছে আবদেল ওয়াহাব ও তার সাঙ্গদের অতিরিক্ত দাপাদাপি করার ঐতিহাসিকতায়। সেখানে তাদের নেতার কথা না মানলেই তার কল্লা ফেলতে সময় লাগতো না বিশেষ কোতোয়ালের। সকল শিয়া, সুফি অনুরক্ত এবং ভিন্ন ধারার মুসলিমরা সবার আগে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তাদের কারো অঙ্গচ্ছেদ করা হয়, কাউকে বেত্রাঘাত করা হয় কারোবা সরাসরি কল্লা ফেলে দেয়া হয়।

আইসিস বনাম ওয়াহাবীবাদ

আবদেল ওয়াহাব তাদের মুসলিম হিসেবে মনে করতো না, ঠিক এখন বোগদাদী মিয়াও যেমন তার চেলা-চামুণ্ডদের বাদ দিয়ে বিশ্বের অন্য কাউকে মুসলিম মনে করে না।এই বেকুবের দল ওয়াহাব মিয়ার ষণ্ডাপাণ্ডাদের মত নতুন করে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। তারা একটি নেতা, একটি নিয়ম একটি মসজিদ নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে তিনস্তম্ভ বিশিষ্ট ইসলামী শাসনতন্ত্র বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে।

এই ঘোষণার সাথে সৌদি রাজতান্ত্রিক সরকারের গঠনতন্ত্রের বেশ মিল রয়েছে। তারা দাপ্তরিকভাবে ওয়াহাবিদের হর্তা-কর্তা-বিধাতা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতও হয়েছে অনেক আগে থেকে। ফলে নতুন করে আইসিসের উত্থান অন্যদেশের জন্য কি হবে তা বলা মুশকিলহলেও সৌদি রাজতন্ত্রের জন্য তারা মোটেও ক্ষতিকর নয়।

বিশেষত, পর্দার সামনে আমেরিকা তাদের বিরোধিতা করলেও পশ্চাৎপটে শক্তিশালী কোনো খুঁটি না থাকলে বোগদাদীর মত ভূঁইফোড় নেতা হুট করে বিশ্বজুড়ে আতংক ছড়াতে পারতো না। আর এদের কর্মকাণ্ডে আর যাই থাক কিংবা না থাক, সরাসরি গণহত্যা, শিরোচ্ছেদ, অঙ্গহানি, ধর্ষণ, নারীদের ধরে বিক্রি করে দেয়া এগুলো বিশ্ববাসী মেনে নিতে পারছে না। আর এই ধরণের গর্হিত কাজ ইসলাম দূরে থাক বিশ্বের কোনো ধর্মেই সমর্থিত নয়।

                                                                                        ক্রমশ…

N.B. [[সন্ত্রাসবাদী আইসিসের উত্থান প্রসঙ্গে হাফিংটন পোস্টের একটা লেখা অনুবাদ করা শুরু করেছিলাম। পরে দেখছি তাদের লেখার প্রথম প্যারাটা ঠিক ছিলো। পরে তারা শুরু করেছে ডাঁহা মিথ্যাচার। তবে ভাবনাটা সুন্দর। তাই অনুবাদের চিন্তা বাদ দিয়ে ঐতিহাসিক বাস্তবতার আলোকে ঐ বিষয়টি নিয়ে অর্ণব আর্কের খেরোখাতায় তিনপর্বে প্রকাশ করবো ভাবছি। আজ আপলোড করছি তার প্রথম পর্ব]]

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s