দেশ কিংবা সাহিত্যের মালিক


Mustaches of the American Westভোদকা এবং চিংকু বাম কিংবা ইসলামিস্টদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হওয়া আর যাই হোক পুঁজিপতিদের উপকৃত করেছে। নিওলিবারেল যুগের সুবিধাভোগী লুম্পেন বুর্জোয়া শ্রেণির ধান্দাবাজির রাজনীতিও এতে অনেক আয়েশের মধ্যে দিনযাপন করছে বৈকি। ইসলামিস্টরা যদি বাস্তব অর্থে এক হইতো তাইলে সব শক্তি এক হলেও তাদের একটা লেঞ্জার বাড়ি সহ্য করার ক্ষমতা অবশিষ্টদের হইতো না। আর বিশ্বের সব বাম যদি দলমত নির্বিশেষে এক হইতো তাইলে বিশ্বে পুঁজি বলতে আর কিছু অবশিষ্ট রইতো না। কিন্তু সেটা তো আর হচ্ছে না।
বাস্তবে দেখা গেছে মানুষের পশ্চাদদেশ যেমন দুইভাগে বিভক্ত বাম রাজনীতিকরাও তেমনি দুইভাবে বিভক্ত। তাই বিভক্তি আর পতনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী এরা বিরোধী দল হিসেবে বেশ সফল। রাজপথে হই হুল্লোড় কিংবা গলাবাজির রাজনীতিতে এরা এককাঠি সরেস। কিন্তু সৃষ্টিশীল কোনো কাজ করতে গেলে এরা দানব হয়ে ওঠে। ঢাকা সাহিত্য সম্মেলনে দুই গ্রুপের কাদা ছোড়াছুড়ি এবং একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষেদগার সত্যি অবাক করেছে। হটাৎ কতিপয় পণ্ডিতকে বাংলা সাহিত্যের দ্বারপালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখে কিছুটা খুশি হয়েছিলাম। ভাবছিলাম এবার কিছু একটা হবে। কিন্তু হওয়ার ভাঁড়ে ভবানী, অকাজের ঢেঁকিদের কাজটা তো জানি।
খেয়াল করে দেখলাম একটি গ্রুপ সাহিত্য সম্মেলনের নামে লুম্পেন বুর্জোয়া শ্রেণির দেহাসক্তির সিনেমা পিঁপড়াবিদ্যার প্রোমোশন চালাচ্ছে। অন্য গ্রুপ ব্যর্থ প্রেমিকের বিচ্ছেদ পরবর্তী ঘটনার পুনারাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। ময়দানভীতি থাকা এসব আধা-বামদের আস্ফালনের জায়গা ফেসবুকে এখন চলছে স্ট্যাটাস জিহাদ।  লড়াই জমেছে মযহার গ্রুপ বনাম এন্টি মযহার গ্রুপের। আর তা থেকে নির্মল বিনোদন নিতে নিতান্ত বেরসিকও এখন মজেছেন ফেসবুকে। একজন স্ট্যান্ডার্ড কমেডিয়ান যে কিনা ইহজনমে আলতু-ফালতু দুই একটা কবিতা বাদে আর কিছু লেখে নাই সেও এখন নিয়মিত  ফাল দিচ্ছে। চুটকি টাইপ লেখায় একটা দুইটা প্রশ্ন করে নিজ ভক্তকূলকে উষ্কেও দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর আমরা আমজনতা বললো। ওরে পাগলা চুলকোতে থাক। ভালো তো, ক্যান ভালো না ??

ঢাল নাই, তলোয়ার নাই এমুন নিধিরাম সর্দারও এখনকার যুগে নিজেকে নেপোলিয়ন ভাবে। আর সবার ভাবনাকে শ্রদ্ধা করি তাই বলতে চাই ভাবতে দোষ কি। কিন্তু নিজেকে বাংলা সাহিত্যের ত্রাণকর্তা যদি ভেবে বসেন তবে বলবো আপনার আর অর্থ মন্ত্রণালয়ে ঢুকে পড়ে নিজেকে দেশের মালিক দাবি করা লোকটির কোনো পার্থক্য নেই। তাই দেশের মালিককে তো অর্থ মন্ত্রণালয়ের লোকেরা অর্ধচন্দ্র দিয়েছিলো।

আপনারা বাড়াবাড়িটা একটু কমাবেন কি ? নাইলে আপনাদের মত সাহিত্যের মালিকদের অর্ধচন্দ্র দিতে দেশবাসী যদি এগিয়ে আসে তখন কোথায় যাবেন না। সুপার মডেলদের অন্তর্বাস সমতূল্য আপাদের সবেধননীলমণি ঐ ছবির হাটও নাই। শাহবাগ এবং আজিজ মার্কেটও হয়তো ঠাঁই হবে না আপনাদের। তাহলে যাবেন কোথায় ?

তাইলে আপনার সাহিত্য ভাবনা আপনার, দেশবাসীর যাতনা তাদের।  প্রত্যেককে নিজের ভাবনা নিয়ে শান্তিতে থাকতে দিননা। আর আপনাদের ভাবনা যদি বেশি বেড়ে যায় তাহলে আশনা হাবিব ভাবনা অভিনীত নাটক দেখুন। সব ভাবনা কেটে যাবে। আরেকটু শুধরে বলি,  যার যা বুঝ, কাট দাঁড়ি রাখ মুচ, খা ঠাণ্ডা পানি, গরম পানিতে ছুঁচ। নাইলে জনৈক পাগলার আখ্যা দেয়া ক্যালকেশিয়ান কিংবা পেটি চরিত্রের রোবট হতে খুব বেশি দেরি নাইরে ভূপেন।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s