তালগাছ বৃত্তান্ত


ae6a3c6a4a205210846806da7c7192bfইহুদি ধর্মবিশ্বাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তালগাছ। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে ইস্টার উৎসবের আগে যে রবিবার আসে তাকে বলা হয় পাম সানডে যেটা কারো একার নয়। তবে এ সময়ে জেরুজালেমবাসীর উদ্দেশ্যে একটি আশ্চর্যজনক তাল গাছ স্রষ্টার থেকে উপঢৌকন হিসেবে এসেছিলো বলে মনে করা হয়। অর্থডক্স ইহুদি ও জায়নবাদীদের অনেকে মনে করে ঐ তালগাছ অল্টার অব ডেভিডে তথা দাউদের বেদির কাছাকাছি কোনো এক স্থানে হবে। জায়নবাদী দর্শনে তালগাছ সমৃদ্ধি ও শান্তির প্রতীক, এদিকে জনপ্রিয় বাংলা প্রবাদ, বিচার মানি কিন্তু তালগাছটা আমার। আসলে পবিত্র কুরআন, বাইবেল এবং ওল্ড টেস্টামেন্ট সবখানেই তালগাছের উল্লেখ থাকাতে তালগাছের ধর্মীয় গুরুত্বটা বহুলাংশে বেড়ে গেছে।
তাইতো বাঙালি দর্শনে এতো গাছ থাকতে আর কিছু না তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার তালগাছটিই চাই রীতি প্রচলিত। আসলে তালগাছ নিয়ে গ্রামবাংলায় অনেক প্রবাদ ও জনশ্রুতি প্রচলিত। কিন্তু বাস্তবতার ভাঁড়ে ভবানী, অন্ত:সারশূন্য লোকগাথাই হয়ে গেছে বাস্তবতা। হতে পারে তালগাছ ও মৃত্যু সংক্রান্ত কিছু কুসংস্কার গ্রামের দিকে আছে আর তা বাস্তবের সাথে কোথাও কোথাও মিলেও গেছে। আসলে তালগাছ ফল দিতে দেরী করাতে এমনটা হতে পারে। আর গ্রাম্য বিশ্বাসের মূল প্রতিপাদ্য ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায় টাইপের। যেহেতু অধিকাংশ মানুষ তাল গাছ লাগিয়ে এর ফল খেয়ে যেতে পারেন না। তাই বিশ্বাস জন্মেছে এই গাছ লাগানোটাই অশুভ। আর অবাক হলেও সত্য বেশির ভাগ মানুষ মধ্য কিংবা শেষ বয়সে এসে তালগাছ লাগাতে পছন্দ করেন। মধ্য কিংবা শেষ হয় আবার আব্বা পরিণত বয়সে একটা তালগাছ লাগিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত ঐ তালগাছের ফল তিনিও খেয়ে যেতে পারেন নাই। আম্মা বিশ্বাস করে বসেছিলেন তাল গাছ লাগানোটাই তার জন্য অশুভ পরিণতি বয়ে এনেছে। কিন্তু কি আর করা ঐ তালগাছ আমি আর ছোট ভাই মিলে কেটে ফেলেছিলাম আব্বা মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যেই।
আমার খুব আগ্রহ ছিলো আঙ্গিনাতে একটা তাল গাছ লাগাবো, ট্রাই করবো ঐটার ফল খেতে পারি কিনা। কিন্তু আম্মার ঘোর আপত্তির কারণে সেটা হয়ে ওঠেনি। যাইহোক যে তালগাছ জনমনে এতো আবেগ দিয়ে রাজনীতিবিদদের বিবেকশূন্য করেছে তার সম্পর্কে আমাদের জানার পরিধিটাও অনেক কম। মরুজ কিংবা প্লাবন সমভূমির দেশ সবখানেই বিচিত্র ধরণের প্রায় আড়াই হাজার প্রজাতির তালগাছের দেখা মেলে। ফলে বিশ্বজুড়ে এমন কোনো দেশ নাই যেখানে তালগাছের দেখা মিলবে না। কিন্তু সেখানকার তালগাছ যিনি লাগিয়েছিলেন তিনি এর ফল খেতে পেরেছেন কিনা তা নিয়ে নিশ্চিত করে বলা যাবে না। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা মনে করেন সব তালগাছই আসলে আবার গাছ না।
Nur A Alam Siddique মজা করে জানালেন তাল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Borassus flabellifer. এবং তালগাছ দীর্ঘজীবী। পৃথিবীর বহু দেশে তালগাছ আছে। এই গাছ কমবেশি ১০০ বছর বাঁচে। আর এই দীর্ঘজীবনের প্রায় পুরোটা সময়ই ফল দেয়। তাল গাছ সম্পর্কে আমি একটা ইন্টারেস্টিং তথ্য দেই, তাল গাছ হচ্ছে সাইকাস জাতিও উদ্ভিদ, অর্থাৎ আমরা যে সব তাল গাছ দেখি তা আসলে দুই ধরনের এক মর্দ, আর দুই মাদি। শুধু মাদি তাল গাছে তাল হয়, মর্দ তাল গাছে তাল হয় না।
এদিকে বিজ্ঞানীরা বলছেন তাল গাছের পাতা দুই ধরণের। একটা অরিজিনাল তালের মত, অন্যটা ঠিক সুপারির মত। অনেক উদ্ভিদ বিজ্ঞানী দাবি করছেন নারকেল কিংবা সুপারিগাছ তালগাছ গোত্রের। জেরোসিরি কিংবা মরুজ ক্রমাগমনের এক পর্যায়ে তাল কিংবা সুপারির উদ্ভদ হয়েছে। আর অবস্থা বিশেষে তাল, সুপারি কিংবা নারকেল এরা একই অবস্থায় ছিলো। ইয়াংকি ইন্ডিয়ান থেকে শুরু করে ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলে তালগাছকে বেঞ্চমার্ক হিসেবে ব্যবহার করা হতো। রেড ইন্ডিয়ানরা তালগাছকে তাদের পরিচিতিমূলক মনে করে বলে জানা যায়। অন্যদিকে তালগাছের রস যেমন সুস্বাদু পানীয় তেমনি এর থেকে গাঁজন ও পচনে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরণের চোলাই মদ। কুইন্ডিও ওয়াক্স পাম নামে পরিচিত কলম্বিয়ার তালগাছটিকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের সর্বোচ্চ বলে মনে করা হয়। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই গাছটির উচ্চতা প্রায় ১৯৭ ফুট।
প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষক হিসেবে তালগাছের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বটা প্রকাশ করার লোভ সামলাতে পারলাম না। বিশ্বের প্রথম দিকে গড়ে ওঠা মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় তালগাছের বহুল ব্যবহার সম্পর্কে জানা গেছে। বিশেষ করে ফল তারা খাদ্য হিসেছে গ্রহণ করেছে। তালগাছের আঁশ নানা কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। এদিকে তালের কাণ্ডকে তারা গৃহস্থালীর নানা কাজ, গৃহনির্মাণ এমনকি ক্যানোজাতীয় নৌকা তৈরিতেও ব্যবহার করেছে। জলপ্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকগণ বিশ্বের নানা স্থান থেকে তালগাছের তৈরি ক্যানো জাতীয় নৌকা আবিষ্কার করে মানব সংস্কৃতির সাথে এর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক খুঁজে বের করেছেন। অন্যদিকে এই তালগাছ জন গ্রিনলিফ হুইটারের মতো অনেক সাহিত্যিকের সাহিত্য কিংবা কবির কাব্য চর্চার পাথেয়।  তিনি বলেছিলেন-

IS it the palm, the cocoa-palm,
On the Indian Sea, by the isles of balm?
Or is it a ship in the breezeless calm?
A ship whose keel is of palm beneath,
Whose ribs of palm have a palm-bark sheath,
And a rudder of palm it steereth with.
Branches of palm are its spars and rails,
Fibers of palm are its woven sails,
And the rope is of palm that idly trails!
What does the good ship bear so well?

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s