বিভাগের বোকাঘুড়ি শিক্ষার শূন্য সুতোর নাটাই


floating-schoolপ্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা রাখছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ করে গুণগত দিক থেকে অনেক প্রশ্ন উঠলেও সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বের অনেক দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে এটি এগিয়ে থাকবে নিঃসন্দেহে। পুরো দেশের প্রায় সব কলেজ, যেগুলো উচ্চশিক্ষার সঙ্গে জড়িত, সেগুলোকে একই ছাতার নিচে এনে পরিচালনা চাট্টিখানি কথা নয়। ফলে আকৃতি ও কলেবরের এ বিশালতা একই সঙ্গে একে যেমন করেছে বৈচিত্র্যময়, তেমনি নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশের উচ্চশিক্ষা। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় অবস্থিত ক্যাম্পাসে যোগ্যতম শিক্ষকদের যুক্ত হতে এক ধরনের অনীহা লক্ষ করা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রীতি মেনে অনেক অনুষদের পাঠদান চলছে। তার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বরাদ্দকৃত কক্ষগুলোর বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরছে। সকাল থেকে বিকাল অবধি বেশ জনসমাগমও হচ্ছে ঠিকই। তবে পাঠদান ও পাঠগ্রহণের মানদণ্ডে সেটি কত দূর এগিয়ে যেতে পেরেছে, তা নিয়ে উত্কণ্ঠা দেদার।

এমন পরিস্থিতিতে দৈনিক পত্রিকাগুলো থেকে জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোয় ছয়টি নতুন বিভাগ চালু করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের  সভাপতিত্বে একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় বিভাগগুলো চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কলেজ পর্যায়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ, মিউজিক, অ্যারোনটিক্যাল অ্যান্ড এভিয়েশন সায়েন্স ও এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট— পাঁচটি বিষয়ে অনার্স চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে থিয়েটার স্টাডিজে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পর ওইসব বিভাগ-সংক্রান্ত রেজুলেশন ও সিলেবাস অনুমোদন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, আমাদের জাতীয় চাহিদা ও উন্নয়ন ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আরো নতুন নতুন বিভাগ ও বিষয় চালু করতে হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া শেষে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

দেশে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় যেসব বিভাগে পাঠদান করা হচ্ছে, সেখান থেকে পাস করে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান কোথায় হবে, সে প্রশ্নের সুরাহা হয়নি। বাংলাদেশের বাস্তবতায় দিনের পর দিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তার বিপরীতে উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগও তেমন তৈরি হয়নি। বিশেষ করে বিষয়ভিত্তিক উচ্চশিক্ষার পর শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবদান রাখার সুযোগ পাচ্ছেন না।

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন বিষয়েই শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, যার চাকরিবাজারে মূল্য কম। শিক্ষার্থীদের অনেকের মনে বদ্ধমূল ধারণা, যেকোনো বিষয়নির্ভর পাঠে চাকরি মেলে না। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বেসরকারি পর্যায়ে অসহনীয় মাত্রায় হওয়ায় তাদের শেষ আশ্রয় হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়তো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েই। এক্ষেত্রে উপযুক্ত বিষয়ে যথাযথ সিলেবাস মেনে পড়তে হওয়ায় দিনকে দিন সমস্যা বেড়ে চলেছে। এ বিষয়গুলো চিন্তা করলে শুধু নতুন বিভাগ খুলতে পারলেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে যাবে, এমনটা ভাবার অবকাশ নেই। বিষয়নির্ভর উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত যুবকদের ঠিক তার শিক্ষা অনুযায়ী কর্মস্থল বেছে নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি এখন সময়ের দাবি। না হলে এমন নিত্যনতুন বিভাগের বোকা ঘুড়ি তার শূন্য সুতোর নাটাই ছেড়ে উড়ে যাবে ওই অনিশ্চিত গন্তব্যেই।

Advertisements

2 thoughts on “বিভাগের বোকাঘুড়ি শিক্ষার শূন্য সুতোর নাটাই”

  1. বিশ্ববিদ্যলয়ের কয়জন প্রথম শ্রেণি পাওয়া ছাত্র বিসিএস শিক্ষা ক্যডার হয়? শিক্ষা ক্যডার হলেই কেউ একজন প্রথম শ্রেণি পাওয়া ছাত্রের মত পড়াতে পারবে না। সত্যি বিচিত্র এ দেশ, কোনো কোনো প্রথম শ্রেণি পাওয়া ছাত্র লবিং এর জোরে বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষক হলেও বিসিএস ছাড়া কলেজের মাস্টার হতে পারে না!! নতুন বিভাগসমূহ থেকে ঘোড়ার আণ্ডা মিলবে।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s