বখত বিনতের মসজিদ


সাম্প্রতিক গবেষণায় হাজার বছরের নগরী ঢাকার ঐতিহ্য নিয়ে অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়েছে। ঢাকা শহরে রয়েছে নানা যুগ পর্বের প্রত্ন স্থাপনা। একসময় ঢাকাকে বলা হতো ‘মসজিদের শহর’। বলা বাহুল্য, সাধারণ বিচারে এ শহরে মসজিদের আধিক্যের কারণেই অমন পরিচিতি যুক্ত হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে মসজিদ স্থাপত্য সমকালীন সময়ে মুসলিম সমাজের অস্তিত্বের কথাই প্রচার করে। সমাজ ইতিহাস নির্মাণে তাই মসজিদ বরাবর আকর সূত্র হিসেবে গৃহীত। আধুনিক ইতিহাসবিদরা অপ্রতুল তথ্যসূত্রের কারণে একসময় ধারণা করেছিলেন, মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আগে অর্থাৎ সতেরো শতকের আগে ঢাকায় মুসলিম বসতি স্থাপন হয়নি। মোগলরাই ঢাকা শহরের পত্তন করেন এবং মুসলিম সমাজের বিকাশ ঘটান। প্রত্নসূত্র এখন এ ধারণার পরিবর্তন করছে। পনেরো শতকের মাঝ পর্বেই ঢাকায় নির্মিত মসজিদ শনাক্ত করা গেছে। আর সময়ের বিচারে এ পর্বের আদিতম মসজিদের মূল অংশটি বহু সংস্কারের পথ ধরে এখনো টিকে আছে। এটি ঢাকার নারিন্দায় অবস্থিত বখত বিনতের মসজিদ। যদিও অনেক লেখক-গবেষকের অসাবধানী শব্দ ব্যবহারে এটি সাধারণ্যে ‘বিনত বিবির মসজিদ’ নামে অধিক পরিচিত।

ঔপনিবেশিক যুগে বাংলার ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে গবেষণা শুরু হয় বেশ জোরেশোরে। তখন ১৮৩২ সালের দিকে ঢাকায় নিযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেট জর্জ হেনরি ওয়াল্টার একটি প্রতিবেদনে ঢাকায় মসজিদের সংখ্যা দাবি করেন ১৫৩। আর পরিসংখ্যান বলছে, এ সংখ্যা ধীরে ধীরে আরও বেড়েছে। আর সময়ের আবর্তে ঢাকা পরিণত হতে থাকে অসংখ্য মসজিদের এক নগরীতে। জনবহুল শহর হিসেবে গড়ে ওঠা এ রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী অনেক মসজিদ হারিয়ে গেছে; নতুন করে নির্মাণ করতে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বেশ কয়েকটি। আলোচ্য বখত বিনতের মসজিদও এর বাইরে নয়। বেশ কয়েক দফা সংস্কার ও নির্মাণে মসজিদটি হারিয়ে যেতে বসেছিল তার পূর্বতন বৈশিষ্ট্য থেকে। ঐতিহ্য অনুরাগী স্থানীয় ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে আরো অনেকের চেষ্টায় সে যাত্রা রক্ষা পায় মসজিদটি।

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তান থেকে অনুমান চার কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে টিকাটুলির খ্রিস্টান কবরস্থান পার হয়ে নারিন্দার মোড়ে প্রধান সড়কের পাশেই মসজিদটির অবস্থান। মসজিদের গায়ে সংযুক্ত ফার্সি অক্ষরে লেখা শিলালিপি পাঠে জানা যায়, ১৪৫৭ সালের দিকে মোগল  সেনাপতি ইসলাম খানের বাংলায় আসার আনুমানিক ১৫০ বছর আগে নির্মাণ করা হয় এ মসজিদ। ইতিহাস থেকে দেখা যাচ্ছে, তখন বাংলার শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত স্বাধীন সুলতানি আমলে দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী শাসক নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ। শিলালিপিতে উল্লিখিত মসজিদ নির্মাণের তারিখ ৮৬১ হিজরি, অর্থাৎ ১৪৫৭ খ্রিস্টাব্দ। লিপিসাক্ষ্য অনুযায়ী সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসনামলে জনৈক মারহামাতের মেয়ে মুসাম্মাত বখত বিনত এটি নির্মাণ করান; নামকরণটি তার নামেই। আলোচ্য শিলালিপিটি মূল মসজিদের প্রধান প্রবেশপথেই লাগানো হয়েছিল। তবে এখন তা উত্তর দিক থেকে দ্বিতীয় প্রবেশপথের ঠিক উপরে রয়েছে।

প্রচলিত ইতিহাস আলেখ্যে অনেকে বলে থাকেন মধ্যযুগ অন্ধকার যুগ, তখন নারীর অধিকার ছিল না, তারা ছিল নির্যাতিত, নিগৃহীত ও নিষ্পেষিত। এ মসজিদ অমন ঢালাও মন্তব্য সমর্থন করে না। বখত বিনত এ মসজিদের নির্মাতা বলে সহজেই মন্তব্য করা যায়, পনেরো শতকে একজন মুসলিম নারী সমাজকর্মে অংশ নিতে পেরেছিলেন। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মসজিদ কিংবা প্রাচীন স্থাপত্যের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, এখানেও অনেকটা তা-ই। অর্থাৎ লোককাহিনীর অন্তরালে চাপা পড়তে পড়তে হারিয়ে যেতে বসেছে মূল ইতিহাস। অন্যদিকে ইতিহাসের প্রাথমিক সূত্র নিয়ে গবেষণা না হওয়া থেকে শুরু করে মধ্যযুগ গবেষণায় আমাদের দেশের গবেষকদের অনীহা এবং অনেকটা গা-ছাড়া ভাব থাকায় বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস বের করে আনাটা বেশ কঠিন।

বখত বিনতের মসজিদ তথা প্রচলিত নামে বিনত বিবি মসজিদের ইতিহাস বের করে আনার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে এখানে প্রাপ্ত শিলালিপির ভাষ্য। সুলতানি আমলে প্রাপ্ত লিপিগুলোয় সাধারণভাবে আরবি ভাষার দেখা মেলে। কিন্তু এখানে আরবির সঙ্গে মিশ্রভাবে ফার্সি লিপির ব্যবহারও দৃষ্টিগোচর হয়। এক্ষেত্রে লিপিটি প্রথম নির্মাণযুগের, নাকি পরে কোনো একটি সময়ে সংস্কার করে তখন স্থাপিত, তা নিয়ে বিতর্ক উঠতেই পারে। তবে গাঠনিক বৈশিষ্ট্য থেকে শুরু করে প্রাপ্ত লিপি মসজিদটিকে রাজধানীর প্রাচীনতম মসজিদের মর্যাদা দিতে যথেষ্ট হয়েছে।

স্থানীয় একটি পুল যাকে নারিন্দা পুল কিংবা হায়াত বেপারির পুল বলা হয়, তার উত্তর দিকে অবস্থিত নারিন্দা সড়ক। ঠিক এ সড়কের ধারেই নির্মিত মসজিদটি। দীর্ঘদিন ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদের দেখাশোনা করে আসছেন এলাকাবাসী। একটি কমিটি গঠন করে মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেন তারাই। ঐতিহ্যের সাথে সংঘাত হয়, এমন কোনো সংস্কার থেকে বিরত থাকতে তারা উদ্যোগও নিয়েছেন সম্প্রতি। তবে যা-ই হোক, মসজিদটির উত্তর পাশ বাদ দিয়ে বাকি প্রায় সব দিক সম্পূর্ণ সংস্কার করা হয়েছে। এতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে মসজিদটির ঐতিহ্যিক সব নিদর্শন। তার পর অতি সম্প্রতি মূল মসজিদের ওপর করা হয়েছে আরও নতুন দু’তলা। এ থেকে অনুমান করে নেয়া যায়, মসজিদটির ঐতিহ্যিক মূল্য সংরক্ষিত হয়েছে কতটুকু!

বহু মানুষের সমাগমে মসজিদটি এখন জামে মসজিদ হিসেবে ব্যবহূত ও পরিচিত। মূল মসজিদটির প্রাথমিক পর্যায়ে ভেতরের আয়তন ছিল ৩ দশমিক ২ মিটার, আর দেয়ালের গভীরতা ১ মিটারের মতো। উত্তর  দেয়াল ও গম্বুজের মোজাইক অলঙ্করণ পরবর্তী সময়ে সংযুক্ত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। প্রথমবারের সম্প্রসারণে ১৯৩০ সালের দিকে দক্ষিণ দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়। তখন মূল মসজিদের আয়তন বাড়ানো হয়। এমনকি গম্বুজটির আকারও বাড়িয়ে তোলা হয় বহুগুণ। তবে তখনকার সম্প্রসারণ ও সংস্কার ঐতিহ্যকে পুরোপুরি ম্লান করতে পারেনি। এদিকে দ্বিতীয় সম্প্রসারণ আরও ব্যাপক আকারে পশ্চিম দিকে এগিয়ে গেলে হারিয়ে যেতে বসে এর ঐতিহ্যিক মূল্য।

এখনও মসজিদের পূর্ব দেয়ালে তিনটি প্রবেশপথের দেখা মেলে। পূর্ব দিকে যুক্ত করা হয়েছে একটি বারান্দা। মসজিদটির প্রধান স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে শনাক্ত করা যায় এর আটকোনা স্তম্ভ, যা পাশে অবস্থিত। এর বর্গাকৃতির কক্ষের ওপর আধা বৃত্তাকার গম্বুজ গাঠনিক বৈশিষ্ট্যকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। অন্যদিকে উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে খিলানের ব্যবহার বেশ চোখে পড়ার মতো। তবে সাদামাটা অলঙ্করণ এখন পলেস্তারায় ঢাকা পড়েছে। বাঁকানো কার্নিশকেও এর স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে ধরা যেতে পারে।

বখত বিনতের মসজিদ রাজধানী ঢাকার ইতিহাসে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, এ আলোচনা করতে গেলে নগরী হিসেবে ঢাকা এবং এখানে রাজধানী গড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে হবে। আর সেখানে আদি নিদর্শন শনাক্ত করতে দুটো শিলালিপির উদাহরণ উপস্থাপন করা যায়। বাংলার স্বাধীন সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের (১৪৩৬-৫৬ খ্রি.) সময় খোদিত এ শিলালিপি দুটোর একটি থেকে স্পষ্টতই ধারণা করা যায়, ঢাকা তখন ইকলিম মুবারকাবাদের অন্তর্গত ছিল। প্রথম শিলালিপিটি ঢাকার নারিন্দায় অবস্থিত উপরিউক্ত মসজিদের গায়ে সাঁটা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আগেই বলা হয়েছে। দ্বিতীয়টি পাওয়া গেছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগারের কিছুটা পশ্চিমে গিরিদাকিল্লা নামের মহল্লায় নসওয়ালাগলি মসজিদের সামনের একটি তোরণের গায়ে। মসজিদ বা তোরণের অস্তিত্ব এখন আর নেই।

১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের ভূমিকম্পে এবং বিশ শতকের শুরুর দিকে বজ পাতে মসজিদটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। শিলালিপিটি প্রথমে ঢাকা কালেক্টরেটে ছিল। বর্তমানে তা জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। নারিন্দা শিলালিপির সূত্রে জানা যায়, মসজিদটি ৮৬১ হিজরি অর্থাৎ ১৪৫৬-৫৭ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত। নসওয়ালাগলি শিলালিপি উত্কীর্ণের সময়কাল জুন ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ। সময়ের হিসাবে দুটো শিলালিপিই সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের সময় উত্কীর্ণ। প্রথম শিলালিপির বক্তব্য বিষয় খুবই সীমিত। লিপি বিন্যাসে বোঝা যায়, ব্যক্তিগত উদ্যোগে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দ্বিতীয়টিতে মসজিদের সামনে তোরণ নির্মাণের সাক্ষ্য রয়েছে। এটি সরকারি উদ্যোগে নির্মাণ হওয়ায় সমকালীন সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের নাম উত্কীর্ণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হিসেবে খাজা জাহান নাম লেখা হয়েছে আর নির্মাণ অঞ্চল যে প্রদেশের বা ইকলিমের অন্তর্ভুক্ত, তার নাম লেখা হয়েছে ‘মুবারকাবাদ’। ভৌগোলিক অবস্থান অনুসারে মসজিদ দুটো ইকলিম মুবারকাবাদের অধিভুক্ত অঞ্চলের ভেতর ছিল। একটু খেয়াল করলেই স্পষ্ট হয়, রাজধানী ঢাকার ইতিহাস ও প্রাচীনত্ব নির্ধারণে মসজিদটির গুরুত্ব কতটুকু।

আমরা দেখেছি, তুঘলক যুগে দিল্লিতে প্রধান কর্মকর্তা বা উজিরকে খাজা জাহান উপাধি দেয়া হতো। সাধারণভাবে সুলতানি যুগে প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের উপাধি ছিল খাজা জাহান। ধারণা করা হয়, ইকলিম মুবারকাবাদের শাসনকর্তা ছিলেন এই খাজা জাহান। এ থেকে গবেষকরা অনেকটা নিশ্চিত হয়েছেন, স্বাধীন সুলতানি বাংলার অন্তর্ভুক্ত মুবারকাবাদ প্রদেশে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ছিল ঢাকার এ অংশে। খাজা জাহান নিজ তত্ত্বাবধানে এখানে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। এতে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়, মোগল অধিকারের অনেক আগে অন্তত পনেরো শতকের মাঝপর্বে ঢাকা ইকলিম মুবারকাবাদের রাজধানীর মর্যাদা পেয়েছিল। আর ঠিক সে সময়ের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উপস্থিত করা যেতে পারে বখত বিনতের মসজিদ আর তার শিলালিপিকে।

আমাদের দুর্ভাগ্য প্রত্নসম্পদের গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদের মধ্যে সচেতনতা খুব কম। অজ্ঞতা ও স্বার্থসিদ্ধির তাড়নায় আমরা ঐতিহ্য সংরক্ষণের বদলে ধ্বংসই করি বেশি। তাই তো ঢাকা শহরের প্রচীনতম মসজিদ নারিন্দার বখত বিনতের মসজিদ এখন বিপন্নপ্রায়। ই-মেইলে পাঠানো বণিক বার্তার আলোকচিত্রী ডমিনিক হালদারের তোলা অনেক আলোকচিত্রে মসজিদটির হতশ্রী দশা দেখে যারপরনাই হতাশ হয়েছি। বিশেষ করে আশপাশের অপরিকল্পিত ভবন, ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ইন্টারনেট-ডিশ লাইনের জঙ্গলে মসজিদটির পুরো কাঠামোর আলোকচিত্র তোলাটাই যেকোনো আলোকচিত্রীর জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে হয়েছে।

এটুকু নিশ্চিত করে বলা যেতেই পারে যে, পনেরো শতকের মাঝপর্বে নির্মিত এ মসজিদ মোগল-পূর্ব যুগে ঢাকায় মুসলিম বসতির সাক্ষ্য বহন করছে। মসজিদটির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করতে গেলে ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতিচারণা জরুরি মনে করছি। বছর কয়েক আগে বহুতল মসজিদ নির্মাণ করতে গিয়ে বখত বিনতের মসজিদ ভাঙা শুরু হয়েছিল। গম্বুজসহ দু’পাশের সম্প্রসারিত অংশ ভাঙাও হয়। সে সময় পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশ হতে থাকে। প্রতিবাদ জানানো হয় নানা দিক থেকে। তখন এ প্রবন্ধের প্রথমোক্ত লেখক মসজিদ কমিটির কয়েকজনের সাথে দীর্ঘ বৈঠকেও অংশ নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ঐতিহ্য ধারণকারী মসজিদটি কালের সাক্ষী হয়ে থাকার গুরুত্ব অনুধাবন করেন মসজিদ কমিটির সম্মানিত সদস্যরা। ঐতিহ্য অনুরাগীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মসজিদ কমিটির সদস্যদের একাত্মতা সে যাত্রায় মসজিদটির রক্ষাকল্পে ভূমিকা রাখে। নানা দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনোক্রমে তখনকার মতো রক্ষা পায় মসজিদের মূল ভবনটি।

স্থানীয় মানুষ কর্তৃক সংস্কারের নামে ঐতিহ্য ধ্বংসের মচ্ছব চালানোর ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। আর এ মসজিদের ওপর একবার নয়, বেশ কয়েকবার সংস্কারের নামে চালানো হয়েছে ঐতিহ্যবিনাশী স্টিমরোলার। মসজিদটি সংস্কারে একেবারে গোড়ার দিক থেকে কোনোবারই প্রত্নইমারত সংস্কারের নিয়ম মানা হয়নি। এমনকি মসজিদটি বড় করার জন্য অতিরিক্ত সংযোজনও করা হয়েছে। আদি মসজিদে পূর্ব দিকে প্রবেশের জন্য তিনটি দরজা ছিল। আর উত্তর ও দক্ষিণে ছিল একটি করে দরজা। সংস্কার করে উত্তর-দক্ষিণের দরজা দুটিকে জানালায় রূপান্তর করা হয়েছে। কয়েক বছর আগে সংস্কার করে মসজিদটিকে বানানো হয়েছে অনেকটা ঝলমলে আধুনিক মসজিদ। সুলতানি যুগের চুন-সুরকির পলেস্তারা ফেলে অনেক আগেই বালি সিমেন্টের আস্তর বসানো হয়েছে এর উপরে। তাই প্রজন্মের পক্ষে মসজিদটিকে পুরোনো মসজিদ ভাবার কোনো সুযোগ নেই। শুধু এর প্রাচীনত্বের প্রমাণ নিয়ে একসারি আদি নকশা কেন্দ্রীয় মিহরাবের উপরে অসহায়ভাবে নিজের অস্তিত্ব প্রকাশ করছে। আর দিন গুনছে নিজের অস্তিত্বের চূড়ান্ত বিলুপ্তির।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s